বাল ঠাকরের আদর্শ অতীত, মহারাষ্ট্রের স‌ংকটে নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ উদ্ধব ঠাকরের

উদ্ধবকে মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়তে হবে কি না, তা সময়ই বলবে। কিন্তু মারাঠা পরিচয়কে সামনে রেখে একটি দল চালানোর গণ্ডি পেরিয়ে, চরম সংকটের মুহূর্তেই নেতা হয়ে উঠলেন তিনি।

pampii adhikari
৬ মিনিট
বাল ঠাকরের আদর্শ অতীত, মহারাষ্ট্রের স‌ংকটে নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ উদ্ধব ঠাকরের

মারাঠা ঐতিহ্যকে ঢাল করে সাগরপাড়ে তর্জন-গর্জন চালিয়ে গেলেও নির্বাচনী রাজনীতিতে নাম লেখাননি পরিবারের কেউ। ষাটের দোরগোড়ায় পৌঁছে আচমকা এমন ‘কু-বুদ্ধি’-র উদয় হলো কেন, প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। তার পর বিগত ৩১ মাস ধরে সিংহের ঘরে মেষশাবক হিসেবেই বারংবার তুলনা হয়েছে তাঁর। তা নিয়ে বাগযুদ্ধে যাওয়ার চেয়ে শাসকের ভূমিকায় নিজেকে ঘষেমেজে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে চরম সংকটের সময়ই নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটল উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরের।

সমাজে মান্যিগন্যি রয়েছে, এমন পরিবারের ছেলে হওয়া এক জিনিস, আর বিখ্যাত বাবার ছেলে হওয়া অন্য জিনিস। প্রথমটির ক্ষেত্রে নিয়মের বেড়াজাল ভাঙা বিদ্রোহের আখ্যা পায়। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে নামের পাশে জুড়ে যায় বাবার অবাধ্য ছেলে তকমা। বিশেষ করে তার সঙ্গে যদি জুড়ে থাকে জাত্যাভিমান, প্রাদেশিকতার প্রশ্ন। তাই বরাবরই বাবার বাধ্য ছেলে হয়ে থেকেছেন উদ্ধব। মাথার ওপর দুই দাদা থাকায়, রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ধরে রাখার তাগিদও অনুভব করেননি কখনও। বরং রাজনৈতিক সংস্রব থেকে দূরে ফোটোগ্রাফি, বিজ্ঞাপনের কাজেই ডুবেছিলেন।

ছোট ছেলের মনের হদিশ রাখতেন বালাসাহেবও। তাই মুখচোরা, স্পর্শকাতর, উদ্ধবের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে যাননি। বরং ভ্রাতুষ্পুত্র রাজ ঠাকরেকেই গড়েপিটে নিচ্ছিলেন। কিন্তু ‘মাতোশ্রী’-তে উদ্ধব-ঘরণী রশমির (পাটানকর) পদার্পণই উদ্ধবকে রাজনীতিতে আগ্রহী করে তোলে। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে হলেও, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-র সদস্য ছিলেন রশমির বাবা। বাড়িতে রাজনৈতিক আবহ পেয়েছেন ছোট থেকে। তাই বালাসাহেবের মারাঠা আদর্শ, হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির সঙ্গে একাত্ম হতে সময় লাগেনি তাঁর।

তাই রাজ নন, উদ্ধবই যে ঠাকরে পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বয়ে নিয়ে যাওয়ার অধিকারী, তা প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন তিনি। স্ত্রীর অনুপ্রেরণাতেই চল্লিশ ছুঁইছুঁই উদ্ধবের রাজনীতির ক্ষেত্রে প্রবেশ। ২০০২ সালে বৃহন্মুম্বই পৌরসভা নির্বাচনে প্রথম শিবসেনার প্রচারকার্যের দায়িত্ব হাতে পান। সসম্মানে তাতে উতরেও যান তিনি। এক বছরের মাথায় শিবসেনার কার্যনির্বাহী সভাপতি। তিন বছরের মাথায় দলের মুখপাত্র ‘সামনা’-র মুখ্য সম্পাদক হিসেবে অবতীর্ণ হন। তবে বাবার মৃত্যুর পরেও রাজনীতিতে থেকেও, রাজনীতি থেকে দূরে থাকাই পছন্দ ছিল। তাই দলীয় দায়দায়িত্বের বাইরে নির্বাচনী রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছিলেন সচেতনভাবেই।

কিন্তু ২০১৯-এর বিধানসভা নির্বাচন যাবতীয় হিসেবনিকেশ পাল্টে দেয় শিবসেনার। বালাসাহেবের মারাঠা আদর্শ, হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিকে কাজে লাগিয়ে, শিবসেনার ঘাড়ে বসে যে ঘরের মাঠে বিজেপি সন্তর্পণে আখের গুছিয়ে চলেছে, তা বোঝা কষ্টকর ছিল না। তত দিনে সহযোদ্ধা হিসেবে পাশে পেয়ে গিয়েছেন ছেলে আদিত্য ঠাকরেকেও। মায়ের কথায় আদিত্যই প্রথম পারিবারিক প্রথা ভেঙে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাই বিজেপি-র নামমাত্র শরিক হয়ে থাকার বদলে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে শিবসেনাকে চালকের আসনে নিয়ে আসতে উদ্যোগী হন দু’জনে মিলে। আড়াই বছর পালা করে হলেও, সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী পদ দাবি করেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ঠিক সিনেমার ক্লাইম্যাক্স! মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিণতি নিয়ে টানটান উত্তেজনা

পরিস্থিতি আরও জটিল করেছেন শিবসেনার সঞ্জয় রাউত। এক ট‍্যুইটে চরম পরিণতির ইঙ্গিত দিয়েছেন। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেই মহারাষ্ট্র বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন রাউত।

তাতেই গোল বাধে। নির্বাচনের আগে শিবসেনার প্রস্তাবে নিমরাজি হলেও, নির্বাচন মিটে যেতেই স্বমূর্তি ধারণ করে বিজেপি। দেবেন্দ্র ফড়নবিসই পূর্ণমেয়াদি মুখ্যমন্ত্রী হবেন বলে জানিয়ে দেওয়া হয় দলের তরফে। নির্বাচন-পূর্ব প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করায় তাই বিজেপি-র সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কে ইতি টেনে সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শে দীক্ষিত ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি এবং কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে সরকার গঠনের পথে এগোন। তবে শুরুতে ‘মহাবিকাশ অঘাড়ি’ জোটের প্রধান হয়ে উঠলেও, শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী হতে আগ্রহী ছিলেন না উদ্ধব। শরদ পাওয়ার এবং কংগ্রেস নেতৃত্বকে মিলে রাজি করাতে হয় তাঁকে। শেষমেশ ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করেন উদ্ধব। কয়েক মাস পর বিধান পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ডিসেম্বরে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দেন ছেলে আদিত্যকে।

সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর বাসিন্দা, তিন দলের এই জোট সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে গোড়া থেকেই সন্দিহান ছিল রাজনৈতিক মহল। বিশেষ করে পওয়ারের ভ্রাতুষ্পুত্র তথা উদ্ধবের ডেপুটি অজিত পওয়ারের নাম দুর্নীতি কাণ্ডে উঠে আসার পর, জোট প্রায় ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়। মন্ত্রিত্ব হোক, চাপের মুখে পড়েই হোক বা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, উদ্ধব শপথ নেওয়ার দিনকয়েক পরেই দলের বিধায়কদের সই সংগ্রহ করে বিজেপি-র সঙ্গে হাত মিলিয়ে ফড়নবিসের সরকারে যোগ দেন অজিত। কিন্তু মাত্র ৮০ ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছিল সেই মন্ত্রিত্ব। ডিসেম্বর মাসে ফের উদ্ধব সরকারেরই ডেপুটি হন অজিত।

তার পরেও একাধিকবার সংকট পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মহাবিকাশ অঘাড়ি জোটে। কিন্তু মিলেমিশে সবকিছুই সামাল দিয়েছেন উদ্ধব। করোনাকালে দক্ষ হাতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য প্রশংসিতও হন। বালাসাহেবের ছত্রছায়া থেকে বেরিয়ে ক্রমশই নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলতে থাকেন উদ্ধব। বিজেপি-র মোকাবিলায় রাম মন্দির আন্দোলনে বাবার ভূমিকার কথা বারবার তুলে ধরলেও, সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ধার মাড়াতে দেখাতে যায়নি তাঁকে। বরং বিজেপি যত বার বালাসাহেবের হিন্দুরাষ্ট্রের স্বপ্ন উসকে দিয়েছে, ততবার দেশের সংবিধানকে ঢাল করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। তাতে উদ্ধব আচমকা ধর্মনিরপেক্ষ হয়ে গেলেন কি না, এমন কটাক্ষভরা চিঠি জুটেছে রাজ্যপালের কাছ থেকেও। কিন্তু তাঁকেও সংবিধানে হাত রেখে শপথের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন উদ্ধব। এই পরিবর্তন এতটাই দৃশ্যমান যে, উদ্ধবকে যত দেখছেন, জানছেন, অবাক হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাও।

হালফিলে মসজিদে লাউডস্পিকার বাজানো বন্ধ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে, খুড়তুতো ভাইকেও ছেড়ে কথা বলেননি উদ্ধব এবং তাঁর ছেলে আদিত্য। বিজেপি-র প্রাক্তন নেত্রী নুপুর শর্মার পয়গম্বর বিতর্কে যখন উত্তাল গোটা দেশ, চাঁচাছোলা ভাষায় কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছিলেন। বিজেপি-র দায়িত্বজ্ঞানহীনতার দায় কেন গোটা দেশকে বইতে হবে, কেন গোটা বিশ্বের সামনে দেশের মাথা নত হবে, বিজেপি-র নেত্রীর জন্য কেন গোটা দেশকে ক্ষমা চাইতে হবে, প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। হিন্দুত্বের চাদর সরিয়ে শিবসেনা প্রধানের এহেন পরিবর্তন, স্বাভাবিকভাবেই বিঁধতে শুরু করে এককালের শরিক বিজেপি এবং শিবসৈনিকদের একাংশকে। নতুন প্রজন্মের মুখ আদিত্যর পাল্লায় পড়েই উদ্ধব বাবার হিন্দুত্ব আদর্শকে বিসর্জন দিচ্ছেন বলে রব ওঠে।

বালাসাহেবের সেই হিন্দুত্ব উত্তরাধিকারের প্রশ্নেই আজ উদ্ধবকে বধ করতে নেমেছেন বিদ্রোহী শিবসেনা নেতা একনাথ শিন্ডে। শিবসেনার অন্যতম অভিজ্ঞ নেতা একনাথ। নিজের সরকারে একনাথের হাতে নগরোন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব তুলে দেন উদ্ধব। বাণিজ্যনগরীতে নগরোন্নয়ন দপ্তর থেকেই সবচেয়ে বেশি আয়। একনাথের সম্পত্তির ওপর সাম্প্রতিক কালে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের নজর পড়েছে বলে শিবসেনা সূত্রে খবর। তাই আড়াই বছর উদ্ধবের সরকারে থাকার পর আচমকা বালাসাহেবের আদর্শের দোহাই দিয়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করা একনাথ আসলে বিজেপি-র সঙ্গে সমঝোতা করতে উদ্যত হয়েছেন বলে অভিযোগ। বিদ্রোহী বিধায়কদের একাংশের বিরুদ্ধেও আর্থিক তছরুপের অভিযোগ রয়েছে বলে খবর।

তাই উদ্ধব-নেতৃত্বাধীন শিবসেনার বিরোধিতা করতে একনাথ যে বেছে বেছে বিজেপি-শাসিত গুজরাত এবং পরে অসমকেই ঘাঁটি গাড়বেন, তাতে অস্বাভাবিক কিছু নেই বলে মনে করছেন শিবসেনা নেতৃত্ব। এসবের মধ্যে বারবার বালাসাহেবের আদর্শ স্মরণ করানোর নেপথ্যে আসলে বিজেপি-র বোনা কৌশল বলেই মনে করছেন তাঁরা, যাতে উদ্ধবের স্বতন্ত্র পরিচয়কে ছেঁটে ফেলা যায়। এনসিপি-কংগ্রেসের সঙ্গে জোটকে ‘অনাসৃষ্টি’ বলে অভিহিত করা হোক, বা বিজেপি-র সঙ্গে পুরনো সম্পর্ক ঝালিয়ে নেওয়ার পক্ষে সওয়াল, প্রতিটি মন্তব্য বিজেপি-র সঙ্গে একনাথের আঁতাতের প্রমাণ বলে মনে করছেন শিবসেনা নেতৃত্ব।

কিন্তু বাবার রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার তাড়িয়ে বেড়াবে জেনেও উদ্ধব যেভাবে নিজের আত্মমর্যাদা আঁকড়ে থেকেছেন, শিবসেনা নেতৃত্বই শুধু নন, শিবসৈনিকরাও তা না মেনে পারছেন না। তাই ভার্চুয়াল ভাষণে, সর্বসমক্ষে উদ্ধব যখন জানালেন, শরিক দলের কেউ নন, নিজের লোক বিদ্রোহ করাতেই সবচেয়ে বেশি ব্যথিত তিনি, তখন থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে জমা হতে শুরু করে ভিড়। সংখ্যায় কিছু যায় আসে না, এক জনও তাঁর বিরুদ্ধে হলে পদ ছেড়ে দেবেন বলে ঘোষণা করে দেন উদ্ধব। সেই কথা রেখেই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে স্ত্রী, দুই ছেলেকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন থেকে তল্পিতল্পা গুটিয়ে বেরিয়ে পড়েন ‘মাতোশ্রী’-র উদ্দেশে। মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে তখন থিকথিক করছে ভিড়। গাড়ি আটকে দাঁড়িয়ে শিবসৈনিক, সাধারণ মানুষ। অসুস্থ শরীরে হাত জোড় করে বেরিয়ে আসতে দেখা যায় তাঁকে। রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। ‘মাতোশ্রী’ পৌঁছে ছেলে আদিত্য সকলকে অভিবাদন জানালেও, বিনা বাক্যব্যয়ে ভেতরে ঢুকে যান উদ্ধব। এও তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত।

উদ্ধবের মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে তিন দশক আগের বালাসাহেবের সঙ্গে মিল পাচ্ছেন অনেকে। ১৯৯২ সালের জুলাই মাসে একইরকম বিদ্রোহের মুখে পড়েছিলেন তিনি। তাঁর কাজের ধরন নিয়ে আপত্তি ওঠে দলের অন্দরে। সেই সময় প্রকাশ্যে পদ ছাড়ার পাশাপাশি দলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা করেছিলেন বালাসাহেবও। তাঁর বক্তব্য ছিল, 'একজন শিবসৈনিকেরও যদি আপত্তি থাকে, দলের একজন কর্মীও যদি চান আমি সরে যাই, আমার দ্বারা যদি একজনও আহত হয়ে থাকেন, তাহলে সিবসেনার দায়িত্ব থেকে এই মুহূর্তে সরে দাঁড়াব আমি।’ বাবার সেই মন্তব্যই উদ্ধবের মুখে উঠে এসেছে বলে মত অনেকের। কিন্তু তিন দশক আগে লক্ষ লক্ষ মানুষ শিবসেনা ভবনের বাইরে জড়ো হয়ে বালাসাহেবের সিদ্ধান্ত পাল্টে দিতে পেরেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা না দিলেও, পিছুটান উপেক্ষা করে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ছেড়ে বেরিয়ে যেতে পেরেছেন উদ্ধব। হতে পারে, নিজের আত্মমর্যাদাকে চেয়ারের থেকে এগিয়ে রেখেছেন তিনি, অথবা এই সিদ্ধান্ত তাঁর রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ। তিন দশক আগে বালাসাহেবকে শিবসেনার নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে হয়নি। আমৃত্যু কখনও আর বিদ্রোহের মুখেও পড়তে হয়নি তাঁকে। উদ্ধবকে মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়তে হবে কি না, তা সময়ই বলবে। কিন্তু মারাঠা পরিচয়কে সামনে রেখে একটি দল চালানোর গণ্ডি পেরিয়ে, চরম সংকটের মুহূর্তেই নেতা হয়ে উঠলেন তিনি।

লিখেছেন
pampii adhikari
pampii adhikari
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।