বাল ঠাকরের আদর্শ অতীত, মহারাষ্ট্রের স‌ংকটে নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ উদ্ধব ঠাকরের

মারাঠা ঐতিহ্যকে ঢাল করে সাগরপাড়ে তর্জন-গর্জন চালিয়ে গেলেও নির্বাচনী রাজনীতিতে নাম লেখাননি পরিবারের কেউ। ষাটের দোরগোড়ায় পৌঁছে আচমকা এমন ‘কু-বুদ্ধি’-র উদয় হলো কেন, প্রশ্ন তুলেছিলেন অনেকেই। তার পর বিগত ৩১ মাস ধরে সিংহের ঘরে মেষশাবক হিসেবেই বারংবার তুলনা হয়েছে তাঁর। তা নিয়ে বাগযুদ্ধে যাওয়ার চেয়ে শাসকের ভূমিকায় নিজেকে ঘষেমেজে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে চরম সংকটের সময়ই নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটল উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরের।

সমাজে মান্যিগন্যি রয়েছে, এমন পরিবারের ছেলে হওয়া এক জিনিস, আর বিখ্যাত বাবার ছেলে হওয়া অন্য জিনিস। প্রথমটির ক্ষেত্রে নিয়মের বেড়াজাল ভাঙা বিদ্রোহের আখ্যা পায়। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে নামের পাশে জুড়ে যায় বাবার অবাধ্য ছেলে তকমা। বিশেষ করে তার সঙ্গে যদি জুড়ে থাকে জাত্যাভিমান, প্রাদেশিকতার প্রশ্ন। তাই বরাবরই বাবার বাধ্য ছেলে হয়ে থেকেছেন উদ্ধব। মাথার ওপর দুই দাদা থাকায়, রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ধরে রাখার তাগিদও অনুভব করেননি কখনও। বরং রাজনৈতিক সংস্রব থেকে দূরে ফোটোগ্রাফি, বিজ্ঞাপনের কাজেই ডুবেছিলেন।

ছোট ছেলের মনের হদিশ রাখতেন বালাসাহেবও। তাই মুখচোরা, স্পর্শকাতর, উদ্ধবের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে যাননি। বরং ভ্রাতুষ্পুত্র রাজ ঠাকরেকেই গড়েপিটে নিচ্ছিলেন। কিন্তু ‘মাতোশ্রী’-তে উদ্ধব-ঘরণী রশমির (পাটানকর) পদার্পণই উদ্ধবকে রাজনীতিতে আগ্রহী করে তোলে। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে হলেও, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-র সদস্য ছিলেন রশমির বাবা। বাড়িতে রাজনৈতিক আবহ পেয়েছেন ছোট থেকে। তাই বালাসাহেবের মারাঠা আদর্শ, হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির সঙ্গে একাত্ম হতে সময় লাগেনি তাঁর।

আরও পড়ুন: ঠিক সিনেমার ক্লাইম্যাক্স! মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিণতি নিয়ে টানটান উত্তেজনা

তাই রাজ নন, উদ্ধবই যে ঠাকরে পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বয়ে নিয়ে যাওয়ার অধিকারী, তা প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন তিনি। স্ত্রীর অনুপ্রেরণাতেই চল্লিশ ছুঁইছুঁই উদ্ধবের রাজনীতির ক্ষেত্রে প্রবেশ। ২০০২ সালে বৃহন্মুম্বই পৌরসভা নির্বাচনে প্রথম শিবসেনার প্রচারকার্যের দায়িত্ব হাতে পান। সসম্মানে তাতে উতরেও যান তিনি। এক বছরের মাথায় শিবসেনার কার্যনির্বাহী সভাপতি। তিন বছরের মাথায় দলের মুখপাত্র ‘সামনা’-র মুখ্য সম্পাদক হিসেবে অবতীর্ণ হন। তবে বাবার মৃত্যুর পরেও রাজনীতিতে থেকেও, রাজনীতি থেকে দূরে থাকাই পছন্দ ছিল। তাই দলীয় দায়দায়িত্বের বাইরে নির্বাচনী রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছিলেন সচেতনভাবেই।

কিন্তু ২০১৯-এর বিধানসভা নির্বাচন যাবতীয় হিসেবনিকেশ পাল্টে দেয় শিবসেনার। বালাসাহেবের মারাঠা আদর্শ, হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিকে কাজে লাগিয়ে, শিবসেনার ঘাড়ে বসে যে ঘরের মাঠে বিজেপি সন্তর্পণে আখের গুছিয়ে চলেছে, তা বোঝা কষ্টকর ছিল না। তত দিনে সহযোদ্ধা হিসেবে পাশে পেয়ে গিয়েছেন ছেলে আদিত্য ঠাকরেকেও। মায়ের কথায় আদিত্যই প্রথম পারিবারিক প্রথা ভেঙে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাই বিজেপি-র নামমাত্র শরিক হয়ে থাকার বদলে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে শিবসেনাকে চালকের আসনে নিয়ে আসতে উদ্যোগী হন দু’জনে মিলে। আড়াই বছর পালা করে হলেও, সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী পদ দাবি করেন।

তাতেই গোল বাধে। নির্বাচনের আগে শিবসেনার প্রস্তাবে নিমরাজি হলেও, নির্বাচন মিটে যেতেই স্বমূর্তি ধারণ করে বিজেপি। দেবেন্দ্র ফড়নবিসই পূর্ণমেয়াদি মুখ্যমন্ত্রী হবেন বলে জানিয়ে দেওয়া হয় দলের তরফে। নির্বাচন-পূর্ব প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করায় তাই বিজেপি-র সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কে ইতি টেনে সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শে দীক্ষিত ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি এবং কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে সরকার গঠনের পথে এগোন। তবে শুরুতে ‘মহাবিকাশ অঘাড়ি’ জোটের প্রধান হয়ে উঠলেও, শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী হতে আগ্রহী ছিলেন না উদ্ধব। শরদ পাওয়ার এবং কংগ্রেস নেতৃত্বকে মিলে রাজি করাতে হয় তাঁকে। শেষমেশ ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করেন উদ্ধব। কয়েক মাস পর বিধান পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ডিসেম্বরে মন্ত্রিসভায় ঠাঁই দেন ছেলে আদিত্যকে।

সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর বাসিন্দা, তিন দলের এই জোট সরকারের স্থায়িত্ব নিয়ে গোড়া থেকেই সন্দিহান ছিল রাজনৈতিক মহল। বিশেষ করে পওয়ারের ভ্রাতুষ্পুত্র তথা উদ্ধবের ডেপুটি অজিত পওয়ারের নাম দুর্নীতি কাণ্ডে উঠে আসার পর, জোট প্রায় ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়। মন্ত্রিত্ব হোক, চাপের মুখে পড়েই হোক বা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, উদ্ধব শপথ নেওয়ার দিনকয়েক পরেই দলের বিধায়কদের সই সংগ্রহ করে বিজেপি-র সঙ্গে হাত মিলিয়ে ফড়নবিসের সরকারে যোগ দেন অজিত। কিন্তু মাত্র ৮০ ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছিল সেই মন্ত্রিত্ব। ডিসেম্বর মাসে ফের উদ্ধব সরকারেরই ডেপুটি হন অজিত।

তার পরেও একাধিকবার সংকট পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মহাবিকাশ অঘাড়ি জোটে। কিন্তু মিলেমিশে সবকিছুই সামাল দিয়েছেন উদ্ধব। করোনাকালে দক্ষ হাতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য প্রশংসিতও হন। বালাসাহেবের ছত্রছায়া থেকে বেরিয়ে ক্রমশই নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলতে থাকেন উদ্ধব। বিজেপি-র মোকাবিলায় রাম মন্দির আন্দোলনে বাবার ভূমিকার কথা বারবার তুলে ধরলেও, সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ধার মাড়াতে দেখাতে যায়নি তাঁকে। বরং বিজেপি যত বার বালাসাহেবের হিন্দুরাষ্ট্রের স্বপ্ন উসকে দিয়েছে, ততবার দেশের সংবিধানকে ঢাল করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। তাতে উদ্ধব আচমকা ধর্মনিরপেক্ষ হয়ে গেলেন কি না, এমন কটাক্ষভরা চিঠি জুটেছে রাজ্যপালের কাছ থেকেও। কিন্তু তাঁকেও সংবিধানে হাত রেখে শপথের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন উদ্ধব। এই পরিবর্তন এতটাই দৃশ্যমান যে, উদ্ধবকে যত দেখছেন, জানছেন, অবাক হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাও।

হালফিলে মসজিদে লাউডস্পিকার বাজানো বন্ধ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে, খুড়তুতো ভাইকেও ছেড়ে কথা বলেননি উদ্ধব এবং তাঁর ছেলে আদিত্য। বিজেপি-র প্রাক্তন নেত্রী নুপুর শর্মার পয়গম্বর বিতর্কে যখন উত্তাল গোটা দেশ, চাঁচাছোলা ভাষায় কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছিলেন। বিজেপি-র দায়িত্বজ্ঞানহীনতার দায় কেন গোটা দেশকে বইতে হবে, কেন গোটা বিশ্বের সামনে দেশের মাথা নত হবে, বিজেপি-র নেত্রীর জন্য কেন গোটা দেশকে ক্ষমা চাইতে হবে, প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। হিন্দুত্বের চাদর সরিয়ে শিবসেনা প্রধানের এহেন পরিবর্তন, স্বাভাবিকভাবেই বিঁধতে শুরু করে এককালের শরিক বিজেপি এবং শিবসৈনিকদের একাংশকে। নতুন প্রজন্মের মুখ আদিত্যর পাল্লায় পড়েই উদ্ধব বাবার হিন্দুত্ব আদর্শকে বিসর্জন দিচ্ছেন বলে রব ওঠে।

বালাসাহেবের সেই হিন্দুত্ব উত্তরাধিকারের প্রশ্নেই আজ উদ্ধবকে বধ করতে নেমেছেন বিদ্রোহী শিবসেনা নেতা একনাথ শিন্ডে। শিবসেনার অন্যতম অভিজ্ঞ নেতা একনাথ। নিজের সরকারে একনাথের হাতে নগরোন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব তুলে দেন উদ্ধব। বাণিজ্যনগরীতে নগরোন্নয়ন দপ্তর থেকেই সবচেয়ে বেশি আয়। একনাথের সম্পত্তির ওপর সাম্প্রতিক কালে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের নজর পড়েছে বলে শিবসেনা সূত্রে খবর। তাই আড়াই বছর উদ্ধবের সরকারে থাকার পর আচমকা বালাসাহেবের আদর্শের দোহাই দিয়ে বিদ্রোহ ঘোষণা করা একনাথ আসলে বিজেপি-র সঙ্গে সমঝোতা করতে উদ্যত হয়েছেন বলে অভিযোগ। বিদ্রোহী বিধায়কদের একাংশের বিরুদ্ধেও আর্থিক তছরুপের অভিযোগ রয়েছে বলে খবর।

তাই উদ্ধব-নেতৃত্বাধীন শিবসেনার বিরোধিতা করতে একনাথ যে বেছে বেছে বিজেপি-শাসিত গুজরাত এবং পরে অসমকেই ঘাঁটি গাড়বেন, তাতে অস্বাভাবিক কিছু নেই বলে মনে করছেন শিবসেনা নেতৃত্ব। এসবের মধ্যে বারবার বালাসাহেবের আদর্শ স্মরণ করানোর নেপথ্যে আসলে বিজেপি-র বোনা কৌশল বলেই মনে করছেন তাঁরা, যাতে উদ্ধবের স্বতন্ত্র পরিচয়কে ছেঁটে ফেলা যায়। এনসিপি-কংগ্রেসের সঙ্গে জোটকে ‘অনাসৃষ্টি’ বলে অভিহিত করা হোক, বা বিজেপি-র সঙ্গে পুরনো সম্পর্ক ঝালিয়ে নেওয়ার পক্ষে সওয়াল, প্রতিটি মন্তব্য বিজেপি-র সঙ্গে একনাথের আঁতাতের প্রমাণ বলে মনে করছেন শিবসেনা নেতৃত্ব।

কিন্তু বাবার রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার তাড়িয়ে বেড়াবে জেনেও উদ্ধব যেভাবে নিজের আত্মমর্যাদা আঁকড়ে থেকেছেন, শিবসেনা নেতৃত্বই শুধু নন, শিবসৈনিকরাও তা না মেনে পারছেন না। তাই ভার্চুয়াল ভাষণে, সর্বসমক্ষে উদ্ধব যখন জানালেন, শরিক দলের কেউ নন, নিজের লোক বিদ্রোহ করাতেই সবচেয়ে বেশি ব্যথিত তিনি, তখন থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে জমা হতে শুরু করে ভিড়। সংখ্যায় কিছু যায় আসে না, এক জনও তাঁর বিরুদ্ধে হলে পদ ছেড়ে দেবেন বলে ঘোষণা করে দেন উদ্ধব। সেই কথা রেখেই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে স্ত্রী, দুই ছেলেকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন থেকে তল্পিতল্পা গুটিয়ে বেরিয়ে পড়েন ‘মাতোশ্রী’-র উদ্দেশে। মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে তখন থিকথিক করছে ভিড়। গাড়ি আটকে দাঁড়িয়ে শিবসৈনিক, সাধারণ মানুষ। অসুস্থ শরীরে হাত জোড় করে বেরিয়ে আসতে দেখা যায় তাঁকে। রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। ‘মাতোশ্রী’ পৌঁছে ছেলে আদিত্য সকলকে অভিবাদন জানালেও, বিনা বাক্যব্যয়ে ভেতরে ঢুকে যান উদ্ধব। এও তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত।

উদ্ধবের মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে তিন দশক আগের বালাসাহেবের সঙ্গে মিল পাচ্ছেন অনেকে। ১৯৯২ সালের জুলাই মাসে একইরকম বিদ্রোহের মুখে পড়েছিলেন তিনি। তাঁর কাজের ধরন নিয়ে আপত্তি ওঠে দলের অন্দরে। সেই সময় প্রকাশ্যে পদ ছাড়ার পাশাপাশি দলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা করেছিলেন বালাসাহেবও। তাঁর বক্তব্য ছিল, 'একজন শিবসৈনিকেরও যদি আপত্তি থাকে, দলের একজন কর্মীও যদি চান আমি সরে যাই, আমার দ্বারা যদি একজনও আহত হয়ে থাকেন, তাহলে সিবসেনার দায়িত্ব থেকে এই মুহূর্তে সরে দাঁড়াব আমি।’ বাবার সেই মন্তব্যই উদ্ধবের মুখে উঠে এসেছে বলে মত অনেকের। কিন্তু তিন দশক আগে লক্ষ লক্ষ মানুষ শিবসেনা ভবনের বাইরে জড়ো হয়ে বালাসাহেবের সিদ্ধান্ত পাল্টে দিতে পেরেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা না দিলেও, পিছুটান উপেক্ষা করে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ছেড়ে বেরিয়ে যেতে পেরেছেন উদ্ধব। হতে পারে, নিজের আত্মমর্যাদাকে চেয়ারের থেকে এগিয়ে রেখেছেন তিনি, অথবা এই সিদ্ধান্ত তাঁর রাজনৈতিক কৌশলেরই অংশ। তিন দশক আগে বালাসাহেবকে শিবসেনার নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে হয়নি। আমৃত্যু কখনও আর বিদ্রোহের মুখেও পড়তে হয়নি তাঁকে। উদ্ধবকে মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়তে হবে কি না, তা সময়ই বলবে। কিন্তু মারাঠা পরিচয়কে সামনে রেখে একটি দল চালানোর গণ্ডি পেরিয়ে, চরম সংকটের মুহূর্তেই নেতা হয়ে উঠলেন তিনি।

 

 

More Articles

;