হারিয়ে যেতে বসা কাশ্মীরের সেই ঘাসের মাদুর, নতুন করে বাঁচাচ্ছেন এক বাবা-মেয়ে

Waguv Kashmir: ‘ওয়াগুভ’ কাশ্মীরের ঐতিহ্যবাহী এক ধরনের মাদুর বা গালিচা। প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো এই শিল্পে কোনো আধুনিক যন্ত্রপাতির ছোঁয়া থাকে না। পুরোপুরি প্রাকৃতিকভাবে তৈরি এই মাদুর বোনার মূল উপাদান হলো শুকনো ধানের খড় আর কাশ্মীরের বিভিন্ন জলাভূমি থেকে সংগ্রহ করা এক বিশেষ ধরনের লম্বা ঘাস বা নলখাগড়া, যাকে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ‘পেইচ’।

inscript
৬ মিনিট
হারিয়ে যেতে বসা কাশ্মীরের সেই ঘাসের মাদুর, নতুন করে বাঁচাচ্ছেন এক বাবা-মেয়ে

ঘর সাজানো বলতেই আমরা বুঝি চকচকে মার্বেল, ডিজাইনার কার্পেট আর বিদেশি আসবাবের রমরমা। আধুনিকতার এই ঝকমকে আলোয় আমাদের চারপাশ থেকে অনেক ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প নীরবে বিদায় নিচ্ছে। ভূস্বর্গ কাশ্মীরও এর ব্যতিক্রম নয়। যে উপত্যকার ঘরে ঘরে একসময় মাটির মেঝের উপর বিছিয়ে রাখা হতো হাতে বোনা খড় আর ঘাসের চাদর, সেইসব বাড়িগুলিও এখন দিন দিন ঝুঁকছে আধুনিক সব বিকল্পের দিকে।

এর ফলে শুধু যে কাশ্মীরি অন্দরমহলের সাজগোজ বদলে যাচ্ছে তা-ই নয়, বরং হারিয়ে যাচ্ছে শতাব্দী প্রাচীন এক শিল্প-ভাবনা, যা একসময় কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল। তবে এই হারিয়ে যেতে বসা কাশ্মীরের ঘাসের মাদুর ‘ওয়াগুভ’ (বা ‘উগুভ’)-কে আবার নতুন করে ফিরিয়ে আনার এক চেষ্টা শুরু হয়েছে উপত্যকায়।

কী এই ওয়াগুভ? কেন এটি অনন্য?

‘ওয়াগুভ’ কাশ্মীরের ঐতিহ্যবাহী এক ধরনের মাদুর বা গালিচা। প্রায় ৩০০ বছরের পুরনো এই শিল্পে কোনো আধুনিক যন্ত্রপাতির ছোঁয়া থাকে না। পুরোপুরি প্রাকৃতিকভাবে তৈরি এই মাদুর বোনার মূল উপাদান হলো শুকনো ধানের খড় আর কাশ্মীরের বিভিন্ন জলাভূমি থেকে সংগ্রহ করা এক বিশেষ ধরনের লম্বা ঘাস বা নলখাগড়া, যাকে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ‘পেইচ’।

ওয়াগুভের সবচেয়ে বড় জাদু লুকিয়ে রয়েছে এর নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে। কাশ্মীরের তীব্র শীতের দিনগুলিতে (যাকে স্থানীয়রা বলেন ‘চিল্লাই কালান’) এই মাদুর ঘরকে রাখত আরামদায়ক ও গরম। আবার গরমের দিনে এর উপর বসলে মিলত চমৎকার শীতলতা। হালকা, নরম আর স্পঞ্জের মতো আরামদায়ক এই মাদুর শুধু যে মেঝেতে পাতার জন্যই ব্যবহার হতো তা নয়; কাশ্মীরের অনেক বয়স্ক মানুষের মতে, এর উপর বসলে বা শুলে পিঠের ব্যথা কমে, রক্ত চলাচল ভালো হয় এবং ঘুমও চমৎকার আসে। তাছাড়া সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব হওয়ায় এটি মাটির সঙ্গে খুব সহজেই মিশে যায়।

চিত্রঋণ- দ্য বেটার ইন্ডিয়া

একসময় কাশ্মীরের ডাল লেকের হাউজবোট থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মাটির তৈরি ঘর—সব জায়গাতেই ওয়াগুভ ছিল এক অপরিহার্য সঙ্গী। বিখ্যাত ব্রিটিশ সিভিল সার্ভেন্ট ওয়াল্টার আর. লরেন্স তাঁর ‘The Valley of Kashmir’ বইতেও এই ঘাসের মাদুরের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছিলেন। ২০০০ সালের শুরুর দিক পর্যন্তও কাশ্মীরে এমন কোনো বাড়ি খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল, যেখানে অন্তত একটি ওয়াগুভ দেখা যেত না।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
৮ বছর ধরে কোনো অফিস নেই! বিশ্বজুড়ে সফল ব্যবসা গড়ে তুলেছেন বেঙ্গালুরুর এই তরুণ

Remote Work: সংকল্প সিনহা তাঁর ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে শেয়ার করেছেন যে, ২০১৮ সালে তিনি পুরোপুরি রিমোট ওয়ার্কের দুনিয়ায় পা রাখেন। তারপর থেকে আজ ২০২৬ সাল পর্যন্ত কেরিয়ারে তিনি আর কখনো পিছনে ফিরে তাকাননি।

কারিগরদের তাঁত ছেড়ে চলে যাওয়া

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের রুচি বদলাল। বাজারে সস্তায় চলে এলো কারখানায় তৈরি প্লাস্টিক বা সিন্থেটিকের মাদুর ও কার্পেট। আধুনিক লাইফস্টাইলের এই দাপটে ওয়াগুভের চাহিদা কমতে কমতে প্রায় তলানিতে গিয়ে ঠেকল। আগে শ্রীনগরের মালুরা বা খোয়াজবাগের মতো এলাকায় শত শত পরিবার এই বুনন শিল্পের উপর নির্ভর করে বেঁচে থাকত। কিন্তু আয় কমে যাওয়ায় কারিগরেরা তাঁদের তাঁত বন্ধ করে দিতে বাধ্য হলেন এবং পেটের তাগিদে অন্য কাজের খোঁজে চলে গেলেন।

নতুন প্রজন্মও এই খাটুনির কাজ ছেড়ে পড়াশোনা, শহরের চাকরি আর ডিজিটাল কেরিয়ারের দিকে ঝুঁকে পড়ল। ফলে এই প্রাচীন শিল্পটি বাঁচিয়ে রাখার মতো কোনো মানুষই আর অবশিষ্ট ছিল না। এভাবেই আস্তে আস্তে একটি গোটা সংস্কৃতির পরিমণ্ডল হারিয়ে যাওয়ার মুখে এসে দাঁড়িয়েছিল।

নতুন প্রাণের ছোঁয়া

যখন মনে হচ্ছিল ওয়াগুভ হয়তো ইতিহাসের পাতায় চিরতরে হারিয়ে যাবে, ঠিক তখনই শ্রীনগরের দালগেট এলাকার এক পরিবার এই ছবিটা বদলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। গোলাম হাসান এবং তাঁর ২৪ বছর বয়সি কলেজ পড়ুয়া মেয়ে তানজিলা গত কয়েক বছর ধরে এই শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার এক অনন্য লড়াই চালাচ্ছেন।

ছোটবেলা থেকেই তানজিলা তাঁর বাবাকে ঘরে বসে মাদুর বুনতে দেখতেন। দেখতে দেখতেই একসময় কাজটার প্রতি ভালবাসা জন্মে যায় এবং বাবার কাছ থেকেই তিনি এই বুনন শৈলী রপ্ত করেন। ২০২০ সালের পর, যখন করোনা মহামারীর সময়ে চারপাশ থমকে গিয়েছিল, তখন গোলাম হাসান ভাবলেন—এই শিল্পকে এভাবে মরতে দেওয়া যায় না। তিনি নতুন করে আবার ওয়াগুভ বোনা শুরু করলেন।

তানজিলা তাঁর বাবার এই উদ্যোগে শামিল হয়ে শুধু মাদুরই বুনলেন না, বরং একজন আধুনিক তরুণী হিসেবে এর বিপণনের দায়িত্ব নিলেন। তিনি উৎপাদন বাড়ানোর ব্যবস্থা করলেন, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে কাশ্মীরের বাইরের ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করলেন এবং এলাকার অন্য যুবতীদেরও এই কাজে এগিয়ে আসার জন্য অনুপ্রাণিত করলেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ট্রাফিক সিগন্যালই ভারতের সবচেয়ে বড় বইয়ের দোকান!

Pirated Books in India: প্রকাশকদের মাথায় হাত পড়লেও লেখকদের জন্য কিন্তু এটা এক অদ্ভুত আনন্দের বিষয়। ভারতের রাস্তায় যদি কোনো লেখকের বইয়ের নকল বা সস্তা কপি দেদার বিক্রি হতে দেখা যায়, তবে বুঝতে হবে তিনি সাধারণ মানুষের ড্রয়িংরুম পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছেন।

চিত্রঋণ- দ্য বেটার ইন্ডিয়া

আজ গোলাম হাসান ও তানজিলার বাড়িটি কেবল একটি ঘর নয়, এটি হয়ে উঠেছে একটি সমাজভিত্তিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যেখানে প্রতিদিন এলাকার মানুষ এসে কাজ শিখছেন। শুধু তাঁরাই নন, দাল লেকের মির বেহরি এলাকার জমীর হুসেইন ভাট (যাঁকে অনেকেই ভালোবেসে ‘ওয়াগুভ ম্যান’ বলেন) ও তাঁর স্ত্রী রুখসানা অথবা গোলাম হুসেইনের মতো কারিগরেরাও এখন এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে কাঁধে করে টেনে নিয়ে চলেছেন।

কীভাবে তৈরি হয় ওয়াগুভ?

একটি ওয়াগুভ মাদুর তৈরি করা মোটেও সহজ কাজ নয়, এর পিছনে থাকে পুরো পরিবারের কঠোর পরিশ্রম। প্রথমে পুরুষেরা নৌকায় করে দাল লেক বা আনচার লেকের মতো জলাভূমি থেকে চার-ছয় ফুট লম্বা ‘পেইচ’ ঘাস কেটে আনেন। তারপর মহিলারা সেই ঘাসগুলিকে ভালো করে রোদে শুকিয়ে নেন। শুকানোর পর সেগুলিকে বেছে ও পরিষ্কার করে আবার জল দিয়ে সামান্য ভিজিয়ে নরম করা হয়, যাতে বুননের সময় ভেঙে না যায়। ধানের খড় দিয়ে প্রথমে লম্বা লম্বা দড়ি তৈরি করা হয়। তারপর কাঠের তৈরি বিশেষ ফ্রেম বা খুঁটির সাহায্যে খড় আর ঘাসের সারি সাজিয়ে আড়াআড়িভাবে হাতের আঙুলের জাদুতে বুনে নেওয়া হয়।

সাধারণ মাপের একটি ৬x৪ ফুটের মাদুর তৈরি করতে দুজন অভিজ্ঞ কারিগরের প্রায় তিন থেকে চার দিন সময় লাগে। তবে কাজটির মূল কৌশল দ্রুত শিখে নেওয়া গেলেও, এর ভিতরে সূক্ষ্ম ও জটিল নকশা ফুটিয়ে তুলতে প্রয়োজন হয় বছরের পর বছরের অভিজ্ঞতা আর অপরিসীম ধৈর্য।

ওয়াগুভ শিল্পের এই দ্বিতীয়বার ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পের নেপথ্যে আসল কারিগর কিন্তু কাশ্মীরের মহিলারা। ঐতিহ্যগতভাবেই গ্রামীণ কাশ্মীরে মহিলারা ঘরের কাজের পাশাপাশি এই মাদুর বুনতেন। এখন এই শিল্পটি আবার ফিরে আসায়, তাঁদের ঘরে বসে স্বাধীনভাবে উপার্জনের একটা মস্ত বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।

চিত্রঋণ- দ্য বেটার ইন্ডিয়া

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এক বামহাতি সাংবাদিকের জেদে যেভাবে জন্ম নিয়েছিল ডট পেন

আজকের দিনে বলপয়েন্ট বা ডট পেন ব্যবহারের সময় এই সমস্যায় আমাদের খুব একটা পড়তে হয় না। কিন্তু গত শতাব্দীর তিরিশের দশকেও এই একটা যন্ত্রণায় দুনিয়ার সমস্ত লেখক, সাহিত্যিক আর সাংবাদিকদের রাতের ঘুম উড়ে যেত। ঠিক এই সাধারণ বিরক্তি থেকেই জন্ম নিয়েছিল ডট পেন।

গোলাম হাসানের সেন্টারে গত কয়েক বছরে ২০ জনেরও বেশি স্থানীয় মহিলাকে এই কাজের নিখুঁত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাঁদেরই একজন ৪৩ বছর বয়সি, তিন সন্তানের মা শামীমা। প্রতিদিন সকাল সকাল সংসারের সমস্ত দায়িত্ব সামলে শামীমা এখন তাঁর এলাকার প্রায় ডজনখানেক মহিলাকে এই বুনন শিল্প শেখান। ঘরে বসে দিনে মাত্র পাঁচ ঘণ্টা কাজ করে তিনি প্রতি মাসে ১০,০০০ থেকে ১২,০০০ টাকা পর্যন্ত উপার্জন করছেন।

শামীমার মতো অনেক মহিলার কাছেই ওয়াগুভ বোনা এখন শুধু আয়ের পথ নয়, এটি তাঁদের এনে দিয়েছে আর্থিক স্বাধীনতা, আত্মসম্মান এবং নিজেদের বংশানুক্রমিক দক্ষতাকে বাঁচিয়ে রাখার এক পরম আনন্দ।

আধুনিক ড্রইংরুমে প্রাচীন মাটির গন্ধ

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টিকে থাকতে গেলে যে খোলস বদলাতে হয়, তা ভালোই বুঝেছেন কাশ্মীরের এই নতুন যুগের কারিগরেরা। তাই তাঁরা এখন শুধু মেঝেতে পাতার সাধারণ চাট্টি বা মাদুর তৈরি করেই খান্ত হচ্ছেন না। আধুনিক ক্রেতাদের রুচির কথা মাথায় রেখে এখন ওয়াগুভ দিয়ে তৈরি হচ্ছে টেবিল রানার, সুন্দর ডোরম্যাট, দেওয়াল সাজানোর ওয়াল হ্যাঙ্গিং, কোস্টার, এমনকী ইয়োগা ম্যাট বা যোগাসনের মাদুরও।

নকশাতেও এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। তানজিলা যেমনটা বলছিলেন, আগেকার দিনে শুধু একরকমের চাদরই বোনা হতো, কিন্তু এখনকার তরুণ প্রজন্ম সবকিছুর মধ্যেই একটু নতুনত্ব আর সৃজনশীলতা খোঁজে। কারিগরদের এই নতুন কিছু করার মানসিকতাই আজ ওয়াগুভ-কে আধুনিক শহুরে মানুষের কাছে প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে।

বর্তমানে এই জিনিসগুলির দামও বেশ ভালো পাওয়া যায়। একটি ছোট ডোরম্যাটের দাম যেখানে ৩০০ টাকা থেকে শুরু হয়, সেখানে বড় এবং নিখুঁত নকশার গালিচার দাম দাঁড়ায় ২,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত। ফলে কারিগরদের ঘরে এখন লক্ষ্মী ফিরছে।

সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, এই পণ্যগুলি এখন আর শুধু কাশ্মীরের স্থানীয় বাজারেই আটকে নেই। বিভিন্ন হস্তশিল্প মেলা, প্রদর্শনী এবং সোশ্যাল মিডিয়া পেজের মাধ্যমে দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরুর মতো বড় বড় শহরের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের ড্রইংরুমে জায়গা করে নিচ্ছে ওয়াগুভ। বিশেষ করে পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ায়, বড় বড় নামী হোটেল, ক্যাফে এবং বুটিক হোমস্টেগুলি এখন এই ঘাসের তৈরি জিনিসপত্রের অন্যতম প্রধান ক্রেতা হয়ে উঠেছে।

চিত্রঋণ- দ্য বেটার ইন্ডিয়া

ওয়াগুভ নতুন করে জীবন ফিরে পেলেও, এর ভবিষ্যৎ কিন্তু পুরোপুরি নিষ্কণ্টক নয়। কারিগরদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে কাঁচামালের অভাব।

যেই জলাভূমি ও হ্রদগুলি থেকে একসময় প্রচুর পরিমাণে নলখাগড়া ও ঘাস পাওয়া যেত, অনিয়ন্ত্রিত দূষণ, প্লাস্টিকের বর্জ্য আর বেআইনি জবরদখলের কারণে সেই জলাশয়গুলি দিন দিন শুকিয়ে ছোট হয়ে যাচ্ছে। ফলে কারিগরদের এখন অনেক দূরান্তের গ্রাম থেকে চড়া দামে ঘাস আনিয়ে কাজ করতে হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে তাঁদের উৎপাদন খরচের উপর। কারিগরদের স্পষ্ট কথা—ওয়াগুভ শিল্পকে যদি দীর্ঘমেয়াদে বাঁচিয়ে রাখতে হয়, তবে সবার আগে কাশ্মীরের জলাভূমিগুলিকে বাঁচাতে হবে। প্রকৃতি না বাঁচলে এই শিল্পও কিন্তু বাঁচবে না।

তাছাড়া, যদিও জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের ‘কারখানদার স্কিম’-এর মতো কিছু প্রকল্পের অধীনে ল্যাঙ্গুইশিং ক্রাফট বা হারিয়ে যেতে বসা শিল্পগুলিকে বাঁচানোর চেষ্টা হচ্ছে এবং মেলা ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে কারিগরদের বিক্রির সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে, তবুও কারিগরদের দাবি—কাঁচামাল সরবরাহ এবং সরাসরি বিপণনের জন্য আরও স্থায়ী একটি সরকারি পরিকাঠামো প্রয়োজন।

ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখা মানে এই নয় যে, পুরনোকে এক জায়গায় বরফের মতো জমিয়ে রেখে দেওয়া। বরং আসল সার্থকতা হলো, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুরনো ঐতিহ্যের ভিতরের আসল রূপটিকে বজায় রেখে তাকে নতুন রূপে মানুষের সামনে পরিবেশন করা।

আধুনিক জীবনযাত্রার ইঁদুরদৌড়ে যখন আমাদের শিকড়গুলি আলগা হয়ে যাচ্ছে, তখন কাশ্মীরের এই খড়-ঘাসের মাদুর বুনে চলা মানুষগুলি প্রমাণ করে দিচ্ছেন যে—সমাজ ও সাধারণ মানুষ যদি একটুখানি তাগিদ দেখায়, তবে শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যও আধুনিক বুটিক ক্যাফের আলোয় সমান উজ্জ্বলতায় টিকে থাকতে পারে।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কালীচর্চার সেকাল একাল শ্যামাসংগীত থেকে ফিউশনে

The Changing goddess: বিংশ শতকে শ্যামাসঙ্গীতের রেকর্ডিং-বিপ্লব থেকে একবিংশ শতকে ‘প্রজেক্ট মায়া’র ফিউশন, রক্তলোলুপ কালী থেকে সৌম্যদর্শন ‘স্যানিটাইজড’ মূর্তি। কালীচর্চার চেহারা বদলেছে বারংবার। তবুও পার্থপ্রতিম কাঞ্জিলালের মত কবির কবিতা ‘রাত্রি চতুর্দশী’-তে ফিরে এসেছে শ্মশানের আদিম, অপরিশোধিত কালীক্ষেত্র। গগনেন্দ্রনাথের ছবি থেকে ডিজিটাল আর্ট, কালীচর্চা আজও বহুরুপে বহমান।

রামপ্রসাদের মাতৃসাধনা থেকে নজরুলের বিপ্লবী কালী, যেভাবে বদলে গেল শ্যামাসংগীতের ভাষা

Kazi Nazrul Islam Shyama Sangeet: নজরুলের শ্যামাসংগীত কোনো নিষ্ক্রিয় বৈরাগ্যের কথা বলে না; তা বলে সক্রিয় কর্মযোগ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র বিদ্রোহের কথা। নজরুলের কাছে কালী হলেন ‘রুদ্রাণী’, তিনি শ্মশানের চিতাভস্ম থেকে জেগে ওঠা এক বৈপ্লবিক শক্তি।

কালীপুজোর নৈবেদ্যে কেন ছানার মিষ্টি নয়, কদমা-বাতাসারই এত কদর?

Bengali Kali Puja sweets: কালীপুজোর সময়ে ময়রাদের ব্যস্ততা বাড়ে বহুগুণ। মূলত চিনির তৈরি কদমা, বাতাসা, চিনির খেলনা ও মঠ এই পুজোয় অত্যন্ত জনপ্রিয় নৈবেদ্য।

কেন মানবাজারে জোট বাঁধল আদিবাসী সমাজ?

Adivasi Mahasamavesh in Purulia's Patharkata: পুরুলিয়ার মানবাজার মহকুমার পাথরকাটায় ‘ভারত জাকাত মাঝি পরগনা মহল’-এর ডাকে প্রায় ২০টি আদিবাসী সংগঠনের মহাসমাবেশ ঘটে গেল। কুড়মিদের এসটি তালিকাভুক্তি করার রাজনৈতিক উদ্যোগের বিরোধিতা, বন অধিকার আইন ২০০৬-এর বাস্তবায়ন, ২০২৩ বন সংরক্ষণ আইন বাতিল, অষ্টম তফসিলে আদিবাসী ভাষা অন্তর্ভুক্তির দাবি নিয়ে তারা জমায়েত করলেন এই মহাসমাবেশে।

শহরজুড়ে ভূতের গল্পের আসর

Bhoot Chaturdashi: ভূত চতুর্দশীর সন্ধ্যায় বাঙালিকে তার নিজের ভূত, সাহিত্য আর ছেলেবেলার স্মৃতির কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে ‘কলকাতা ৯ ক্যাফে’ (Kolkata 9 Cafe)। সেখানে আয়োজন করা হয়েছে ভূতের গল্প পাঠের আসর। আর সেই সন্ধ্যায় বাঙালির প্রিয় অতিপ্রাকৃত সাহিত্যকে পাঠকদের সামনে জীবন্ত করে তুলতে হাজির হচ্ছেন প্রখ্যাত কবি জয় গোস্বামী।

ভূত চতুর্দশীর দেশে হ্যালোউইনের দাপট, কোথায় হারাল বাঙালির ভূতেরা?

Bengali ghosts: ইদানীং শুনছি কলকাতার উঁচু উঁচু আবাসনে ‘হ্যালোউইনে’র প্রতাপ খুব। ভূত চতুর্দশীর ‘দেশীয়’ ঐতিহ্য ভুলে কাছাখোলা বাঙালি ‘ভদ্রবিত্ত’ ‘উচ্চবিত্ত’ বাবুসমাজ এখন হ্যালোউইনে ‘স্বাধিকার প্রমত্ত’!

তান্ত্রিকের স্বপ্নাদেশে প্রতিষ্ঠা, আজও চলছে প্রাচীন রীতি! শিবপুরের হাজার হাত কালীর ইতিহাস

Hazaar Haath Kali: হাওড়ার শিবপুরের হাজার হাত কালীমন্দিরের ইতিহাস প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো। কথিত আছে, তান্ত্রিক আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্নাদেশেই এই মন্দির প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ শুরু হয়। প্রায় ২৫ ফুট উঁচু দেবীমূর্তির হাজার হাত ঘিরে রয়েছে নানা লোকবিশ্বাস। তন্ত্রমতে পুজো হলেও এখানে নেই পশুবলির রীতি। কীভাবে শুরু হয়েছিল এই মন্দিরের ইতিহাস?

কালীপূজার আলোয় সোহরাইয়ের ছায়া, আদিবাসী লোকধর্মের সঙ্গে শাক্ত ঐতিহ্যের সম্পর্ক কতটা গভীর?

Tribal Folk Religion in Bengal: কার্তিক মাসের অমাবস্যায় বাংলার বহু অঞ্চলে যখন দীপাবলি ও শ্যামাপূজা উদ্‌যাপিত হয়, তখন রাঢ়বাংলা ও ছোটনাগপুর মালভূমির বিভিন্ন জনপদে কৃষিজীবন, গৃহপালিত পশু এবং প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে সোহরাই বা বাঁদনা পরব পালিত হয়।