সানিয়া-শোয়েব বিচ্ছেদে পরকীয়া যোগ! কে শোয়েব-হৃদয়ের নতুন মালিক
Sania Mirza-Shoaib Malik: ক্রিকেটার শোয়েবের জীবনে অভিনেত্রী আয়েশার হঠাৎ উপস্থিতি চাপ বাড়ায় টেনিস সুন্দরী সানিয়া মির্জার জীবনে।

যদিদং হৃদয়ং মম, তদিদং হৃদয়ং তব! কবুল হ্যায়, কবুল হ্যায়, কবুল হ্যায়...
সেদিন চৈত্রমাস। গ্রীষ্মের দাবদাহে ভালবাসার স্পর্শে শীতল হয়েছিলেন ওঁরা। দেশ-কাল-পাত্রের অযাচিত বিভেদ সরিয়ে নজির স্থাপন করেছিলেন। বিশ্ব কাঁপিয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন দু'জন। কিন্তু আজ! ভালবাসার প্রায় এক যুগ কাটিয়ে, প্রাতিষ্ঠানিক বিবাহের ১২টি বসন্ত পেরিয়ে ফের নতুন নজির সৃষ্টির পথে সেই ওঁরাই! আবারও খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন সানিয়া মির্জা এবং শোয়েব মালিক। প্রত্যেক মুহূর্তে চলছে কাটাছেঁড়া। সম্পর্কের মায়াজালের ময়নাতদন্তে আবারও ব্যতিব্যস্ত হচ্ছেন দুই তারকা।
কিন্তু কেন? কেন এই পরিস্থিতির মুখোমুখি এই তারকা জুটি? সেই কারণের বিশ্লেষণে আমরা যাব। কিন্তু তার আগে দেখে নেওয়া যাক, সানিয়া-হৃদয় হরণের শোয়েব-ইতিহাস।
'তোমায় আমায় মিলে...'
সানিয়া মির্জা। দুর্দমনীয় ভারতীয় টেনিস-সুন্দরী তখন সবেমাত্র ২৩। কেরিয়ারের মধ্যগগনে খানিকটা কালো মেঘ! টেনিস-জীবনে সাফল্য ক্রমশ এগোনোর সময়েও খানিকটা যেন বিধ্বস্ত তিনি।
আর শোয়েব মালিক। মাত্র ২৮ বছরে পা দিয়েছেন তখন। একদা পাকিস্তানের ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্যের সামনেও খানিকটা কঠিন পথ! আন্তর্জাতিক কেরিয়ার অল্পদিনেই শেষ হওয়ার আশঙ্কায় জর্জরিত তিনি। ঠিক এই সময়ে দাঁড়িয়েই 'তোমায় আমায় মিলে'-র পথের শরিক হলেন ওঁরা।
২০১০। বিদেশ-বিভূঁইয়ে দেখা হল দু'জনের। অস্ট্রেলিয়ার হোবার্ট। শীতের দেশে প্রথম দেখা বিশ্বের উষ্ণতম দুই ক্রিকেট তারকার। আর বেশি সময় নেননি দু'জন। প্রেমে হাবুডুবু অবস্থায় দাম্পত্যের অতল সমুদ্রে ঝাঁপ দিলেন খ্যাতনামা দুই খেলোয়াড়।
'কবুল হ্যায়...'
সমস্ত বিভাজন-রেখাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে, হায়দরাবাদের সানিয়া হলেন শিয়ালকোটের বৌমা! আর সুদর্শন শোয়েব হয়ে গেলেন হায়দরাবাদের জামাই!
বিশ্বজুড়ে ঝড় উঠেছিল সেদিন। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই আমেরিকা থেকে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কা থেকে নিউজিল্যান্ড। কেঁপেছিল উত্তেজনায়! কারণ, এই প্রেমিক-যুগলের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিল সর্বদা বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা সম্পর্কের দুই উপজীব্য ভারত আর পাকিস্তানের নাম।
২০১০। ১২ এপ্রিল
একাধিক বিতর্কের মধ্যেও থামেননি ওঁরা। মাত্র পাঁচ মাসের প্রেমজ সম্পর্কের পর, হায়দরাবাদের তাজ হোটেলে, বিরাট অনুষ্ঠানে, সানিয়া আর শোয়েব 'কবুল হ্যায়' বাণীতে জড়িয়ে নিলেন নিজেদের। বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন ওঁরা। এরপর পাকিস্তান। শিয়ালকোট। সেখানেও মহাসমারোহে পালিত হলো ওঁদের 'নিকাহ'।
৩০ অক্টোবর। ২০১৮
সাত পাকে বাঁধা-র ৮ বছরের দাম্পত্যে মালিক-মির্জার ঘরে এল ইজাহন। ফুটফুটে পুত্র সন্তানের জন্ম দিলেন সানিয়া। আনন্দে ভাসলেন ওঁরা। ততদিনে পাকিস্তান বা ভারত নয়, দু'জনে উঠেছেন দুবাইয়ে। কোটি টাকার প্রসাদ কিনেছেন মরুশহরের পাম জুমেইরায়। তারপর?
২০২০
করোনা-কাল। একের পর এক দেশে লকডাউনের কালো ছায়া। সানিয়া আর শোয়েবের দাম্পত্যের দূরত্ব বাড়ল তখনই। দু'জনেই ফিরলেন নিজের নিজের দেশে। ভারতে এলেন সানিয়া। সঙ্গে দু'বছরের সন্তান। কিন্তু সম্পর্ক রয়েছে তখনও। সানিয়া বললেন, 'বাবাকে ছেড়ে খুব কষ্ট হচ্ছে ছেলের।' বাবা শোয়েবও ছেলের জন্য ব্যতিব্যস্ত তখন।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Shoaib Malik-Sania Mirza Divorce: শোনা যায়, ছোটবেলার বন্ধু সোহরাব মির্জার সঙ্গে বাগদান সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল সানিয়ার। কিন্তু শোয়েবের প্রেমে মাতোয়ারা সানিয়া সেই সম্পর্ক ভেঙে দেন এবং শোয়েবকেই বিয়ে করেন।
২০২১
কমেছে করোনা। খানিকটা স্বাভাবিক হচ্ছে পরিস্থিতি। ততদিনে মালিক আর মির্জার সঙ্গে খেলার দূরত্ব বেড়েছে বেশ। একদিকে সন্তান পালন আর আর অন্যদিকে দূরত্ব বাড়ছে দম্পত্তির মধ্যেও। বাড়ছে সাংসারিক অশান্তিও।
২০২২
ছেলের জন্মদিনে সানিয়া আর শোয়েবের দেখা হলেও সম্পর্ক আর জোড়েনি। বরং বেড়েছে দূরত্ব। গত দু'বছরে আরও দূরে সরে গিয়েছেন দু'জনে।
নভেম্বর। ২০২২
চূড়ান্ত হলো সব! সানিয়া আর শোয়েবের ১২ বছরের সম্পর্কে বিচ্ছেদের আভাসে পাকাপাকি সিলমোহরের দিকে এগোলেন ওঁরা। বিচ্ছেদের পথে এগিয়ে গেলেন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রায়। ফের উত্তাল হল দুনিয়া। আবার পাকিস্তান ভারতের চিরকালীন উত্তেজনায় উঠে এল বিতর্ক। জল্পনা আর একাধিক কথকথার মিশেল!
আর পরকীয়া!
সানিয়া আর শোয়েবের দূরত্বে হাজির হলেন এক তৃতীয় চরিত্র! শোনা গেল, শোয়েবের নয়া মালকিন নাকি হয়েছেন তিনি! দাবি, শোয়েব-সানিয়ার বিখ্যাত দাম্পত্যের রঙ্গমঞ্চে হাজির হয়েছেন সেই মায়াবিনী! সেখানেই নাকি ভেঙেছে সবটা। তিনি...
আয়েশা ওমর
পাকিস্তানি অভিনেত্রী। সমসাময়িক অভিনয় প্রেক্ষাপটে বেশ জনপ্রিয়। শোনা যায়, ছবি করে এই মুহূর্তে নাকি তিনিই সর্বাধিক টাকা পান পাকিস্তানের অভিনেত্রীদের মধ্যে। তাঁর নিজের নামেই রয়েছে একটি ইউটিউব চ্যানেলও।
আয়েশা-বৃত্তান্ত
সবসময় বহু ভক্তের সমাগমে থাকেন এই লাস্যময়ী। ছিপছিপে গঠন। টানা টানা চোখ। যুবমহলে আয়েশার বেশ কদর। কে তিনি? কী তাঁর বৃত্তান্ত? কেরিয়ার, খ্যাতি, বিতর্ক এবং শোয়েব-সংযোগ। দেখে নিন সবটা।
১৯৮১ সালের ১২ অক্টোবর, পাকিস্তানের লাহোরে জন্ম নেন আয়েশা ওমর। মাত্র ১ বছর যখন তাঁর বয়স, তখনই হারান বাবাকে। কঠিন শৈশব আর লড়াইয়ের উপর ভর করে প্রথমে লাহোর গ্রামার স্কুল। পরে, ন্যাশনাল কলেজ অব আর্টস থেকে স্নাতক হন। সঙ্গে চলে অভিনয়। থিয়েটার।
মডেলিং দিয়ে শুরু হয় কেরিয়ার। তার আগে মাত্র ৮ বছর বয়সেই পিটিভি-র 'মেরা বচপন কা দিন' অনুষ্ঠানের সঞ্চালক হন। কেরিয়ারের দ্বিতীয়পর্বে মডেলিং আর এর সঙ্গেই একাধিক সংস্থার বিজ্ঞাপনে দেখা যায় আয়েশাকে। একাধিক টেলিভিশন শোয়ে সঞ্চালনা। টেলিভিশনে ধারাবাহিকে সুযোগ তারপর সিনেমা। আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি আয়েশাকে।
সফল আয়েশা
২০১৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত পাকিস্তানের ছবি 'করাচি সে লাহোর', ২০১৭-য় 'ইয়ালঘার', ২০১৯-এ 'কাফ কঙ্গনা' ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। এমনকী, পাকিস্তানের মহিলা স্টাইল আইকন হিসেবেও উচ্চারিত হয় তাঁর নাম!
২০১৮ সালে নিউ ইয়র্কের ফ্যাশন উইকে ডাক পড়ে তাঁর। এর মধ্যে বিপুল জনপ্রিয় ধারাবাহিক 'বুলবুলে' দিয়ে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়েছে দেশে। 'লেডিস পার্কে'র মতো ধারাবাহিক ততদিনে তাঁর কেরিয়ারের ঝুলিতে। একাধিক সিনেমায় অভিনয় তখন তাঁকে প্রবেশ করিয়েছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। 'কাফকা কঙ্গনা' (Kaafka Kangana) সিনেমা বক্স অফিসে বিরাট ব্যবসাও করে ফেলেছে।
একাধিক মিউজিক ভিডিওতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। ২০১২-১৩ সালে প্রকাশিত তাঁর একাধিক অ্যালবাম তখন আলোচনায়। গানও গেয়েছেন তিনি। ২০১১-১৫ পর্যন্ত একাধিক গানে আইটেম নাচ করেও বিখ্যাত হন আয়েশা।
ভালো আঁকতে পারেন ওমর। এমনকি 'এনসিএ' থেকে আঁকার ওপরে পড়াশুনা করেন তিনি।
বিতর্কিত আয়েশা
সম্পর্কের ক্ষেত্রে সহ-অভিনেতা আজফর রহমানের সঙ্গে নাম জড়ায় তাঁর। এছাড়াও একাধিক কানাঘুষো শোনা গিয়েছে তাঁর নামে।
২০১৫ সালে আজফরের সঙ্গেই একটি গাড়ি দুর্ঘটনার মুখোমুখি হন তিনি। মারাত্মক চোট পান সেদিন। কর্মজীবনে যৌন অত্যাচার সহ্য করেছেন, এমনও ২০২০ সালের একটি সাক্ষাৎকারে খোলসা করেন আয়েশা। এমনকি একাধিক গানে তাঁর আইটেম নাচ এবং পোশাক নিয়েও বিতর্কে জড়িয়েছেন এই অভিনেত্রী।
'আয়েশার শোয়েব-যোগ'
ঠিক এর পরপরই তাঁর সঙ্গে সম্পর্কে নাম উঠে আসে পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার, সানিয়া মির্জার স্বামী শোয়েব মালিকের।
বছরখানেক আগের কথা। তখনও সানিয়া আর শোয়েব বিভিন্ন কারণে দূরে দূরেই থাকছেন। এমন সময়, প্রাক্তন ক্রিকেটারের সঙ্গে উষ্ণ ফটোশুটের জন্য ডাক পড়ে আয়েশার। সেখান থেকেই শুরু আলাপ। জানা যায়, সেই আলাপই একসময় পরিণত হয় ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বে। একে অপরের ব্যক্তিগত নম্বর আদানপ্রদান থেকে শুরু হয় দীর্ঘক্ষণ কথা।

সেই উষ্ণ ফটোশুটের মুহূর্তে আয়েশা ওমর ও শোয়েব মালিক
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, আয়েশা আর শোয়েবের সম্পর্ক ভালো থেকে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে ২০২২-এর প্রথম দিকে। যা ২০২১ সাল থেকেই চলছিল। এমনকী, আয়েশার সঙ্গে নাকি গোপনে 'ডেট' করছিলেন শোয়েব! মাঝে মাঝে রেস্তোরাঁ, নিজেদের ব্যক্তিগত জায়গায় দেখাও হচ্ছিল দু'জনের! ভালো বন্ধুর অন্তরালে অন্য কিছু রয়েছে? এই প্রশ্ন উঠছিল তখন থেকেই।
'সানিয়ার আয়েশা-অস্বস্তি'
ক্রিকেটার শোয়েবের জীবনে অভিনেত্রী আয়েশার হঠাৎ উপস্থিতি চাপ বাড়ায় টেনিস সুন্দরী সানিয়া মির্জার জীবনে। বহুদিন স্বামীর থেকে আলাদা থেকে সেই বিষয়টি প্রথমে নাকি আঁচ করতে পারেননি তিনি! পরে যখন বুঝলেন, তখন দেরি হয়ে গিয়েছে অনেক। দাবি, ততদিনে সানিয়া নয়, আয়েশায় মন দিয়ে ফেলেছেন শোয়েব। ১২ বছর পর নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছেন তিনি। এই নিয়েই শুরু হয় বিবাদ। দাম্পত্যে লাগে চরম অস্বস্তির রঙ। শোয়েব প্রকাশ্যে কিছু না বললেও তাঁর ঘনিষ্ঠরা বলছেন, দু'জনের মধ্যে অর্থাৎ সানিয়ার সঙ্গে শোয়েবের ভুলবোঝাবুঝি হয়েছে, শোয়েব এই কাজ করতে পারেন না। তিনি আয়েশার ভালো বন্ধু। এইটুকুই! কিন্তু, জল্পনা চলছে অন্যকিছু নিয়েই। আয়েশা আর শোয়েব যে প্রেম করছেন, একথাও বলছেন অনেকেই।
সানিয়া-শোয়েবের এই বিচ্ছেদের সম্ভাবনায় মনোবিদরা কী বলছেন?
"মাত্র ১২ বছর কেন, একটা সম্পর্কের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে ৫০ বছর পরেও। বন্ধুত্ব, ভালবাসা সবটাই কাছাকাছি থাকার ওপরেও খানিকটা নির্ভর করে! শারীরিক সম্পর্ক নয়, আপনি আমার কতটা কাছে আছেন। এই সংযোগ, মানসিক বন্ধন প্রয়োজন হয়। সেই অবস্থায় দাঁড়িয়ে তৃতীয়পক্ষের উপস্থিতির তারতম্য বিবর্তিত হয়। এই ক্ষেত্রেও আয়েশার উপস্থিতি সেই রকম কোনও স্থানে হতে পারে!'' একটি সমীক্ষা বলছে, প্রায় ৮২ শতাংশ দাম্পত্য সম্পর্ক ভাঙে পরকীয়ার কারণে। অর্থাৎ দুই পক্ষের মধ্যে তৃতীয় পক্ষের উপস্থিতি নষ্ট করে সম্পর্ক। এখানেও কি তাহলে তাই?







