খেলার টিকিটকে ঘিরে প্রেম! বিচ্ছেদের মুখে শোয়েব-সানিয়া অথচ প্রেম হার মানাত সিনেমাকেও
Shoaib Malik-Sania Mirza Divorce: শোনা যায়, ছোটবেলার বন্ধু সোহরাব মির্জার সঙ্গে বাগদান সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল সানিয়ার। কিন্তু শোয়েবের প্রেমে মাতোয়ারা সানিয়া সেই সম্পর্ক ভেঙে দেন এবং শোয়েবকেই বিয়ে করেন।

বর্তমানে বিভিন্ন সংবাদপত্রের হেডলাইন দখল করে রয়েছেন সানিয়া মির্জা ও শোয়েব মালিক। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে গুঞ্জন, সানিয়া মির্জার সঙ্গে তাঁর বিয়ে ভাঙতে বসেছে! আর তার অন্যতম কারণ, তৃতীয় ব্যক্তি। অতঃপর প্রশ্ন উঠছে, কে সেই তৃতীয় ব্যক্তি, যিনি এই জনপ্রিয় জুটির মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছেন? আপাতত শোয়েবের সঙ্গে বিতর্কে নাম জড়িয়েছে দু’জনের। এই দু’জনের মধ্যে প্রথম জন হলেন পাকিস্তানি অভিনেত্রী আয়েশা ওমর। ২০২১ সালে একটি ম্যাগাজ়িনের জন্য ফটোশুটে এক সঙ্গে দেখা গিয়েছিল শোয়েব ও আয়েশাকে। দু’জনেই বেশ ঘনিষ্ঠভাবে ফটোশুট করেছিলেন। তারপর থেকেই অভিনেত্রীর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে পাক ক্রিকেটারের নাম। এছাড়া আরও এক অভিনেত্রীর সঙ্গে নাম জড়িয়েছে শোয়েব মালিকের। তিনি হলেন জনপ্রিয় পাকিস্তানি অভিনেত্রী মাহিরা খান। মাহিরার সঙ্গে ইনস্টাগ্রাম লাইভে একবার কথাবার্তায় বসেছিলেন শোয়েব। সেই আড্ডায় কার্যত সকলের সামনেই অভিনেত্রীর সঙ্গে ‘ফ্লার্ট’ করছিলেন শোয়েব মালিক।
বর্তমানে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম দাবি করছে শোয়েব এবং সানিয়া বর্তমানে একসঙ্গে থাকছেন না। সোশ্যাল মিডিয়াতেও একে অপরকে আনফলো করে দিয়েছেন তাঁরা। সরাসরি কিছু না বললেও সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে বেশ কয়েকটি তাৎপর্যপূর্ণ পোস্টও করেছেন সানিয়া। ১২ বছরের সুখী দাম্পত্যে বিচ্ছেদের মেঘ ঘন্নাচ্ছে বলেই মত সকলের। তবে ভাবতেও অবাক লাগে, সীমান্ত পেরিয়ে যাঁদের ভালোবাসা সিনেমার গল্পকেও হার মানায়, সেই জুটিই নাকি বিচ্ছেদের পথে হাঁটতে চলেছে। ২০১০ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন পাকিস্তানি ক্রিকেটার শোয়েব মালিক এবং ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ টেনিস খেলোয়াড় সানিয়া মির্জা। এঁদের আলাপও কিন্তু হয়েছিল খেলার কারণেই, বলা ভালো খেলার টিকিটের কারণে।
২০০৬ সাল, আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেকে সবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সানিয়া মির্জা। সেই সময় মোহালির এক হোটেলে তাঁর সঙ্গে আলাপ হয় শোয়েব মালিকের। সেবার পাকিস্তান ভারত সফরে এসেছিল, এবং সানিয়া কোনও একটি টুর্নামেন্টের কারণে মোহালিতেই ছিলেন। ঘটনাচক্রে পাকিস্তান টিম এবং সানিয়া একই হোটেলে থাকায়, ব্রেকফাস্ট লাউঞ্জে তাঁর সঙ্গে আলাপ হয় শোয়েবের। এর কয়েকদিন আগে অবশ্য মোহালিরই এক জিমে দু’জনের মধ্যে কয়েক মিনিটের সাক্ষাৎ হয়। তবে এবার হোটেলের লাউঞ্জে শোয়েবকে দেখে ম্যাচের টিকিটের দাবি জানিয়ে বসেন সানিয়া। শোয়েব রাজি হয়ে যান তবে একটি শর্ত দেন। শোয়েব সানিয়াকে জানান, তিনি সানিয়াকে টিকিট দেবেন যদি সানিয়া তাঁকে নিজের ম্যাচের একটি টিকিট দেন। শোয়েব সানিয়াকে ক্রিকেট ম্যাচের টিকিট অ্যারেঞ্জ করে দিলেন এবং সানিয়াও শোয়েবকে নিজের টেনিস ম্যাচের টিকিট অ্যারেঞ্জ করে দিলেন। এই ছিল তাঁদের প্রথম সাক্ষাৎ।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Saheli Contraceptive Pill: প্রথম দিকে কুকুর, বিড়াল, ইদুর এবং বাঁদরদের দেহে পরীক্ষা করা হয় এই ওষুধ। পরবর্তীকালে বহু মহিলার শরীরেও সেন্টক্রোম্যানের গবেষণা করা হয়। ১৯৯০ সালে ভারত ড্রাগ রেগুলেটরি বোর্ডের মান্যতা পায় এই ওষুধ।

শোয়েব-সানিয়ার দ্বিতীয় সাক্ষাৎ হয় তিন বছর পরে হোবার্টে। ২০০৯ সালে ২৩ বছরের সানিয়া তখন আন্তর্জাতিক স্তরে কামব্যাক করার চেষ্টা করছেন। তাঁর লক্ষ্য হোবার্টে অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ভালো পারফর্ম করা। সানিয়া, তাঁর বাবা এবং প্রশিক্ষকের সঙ্গে মুনস্টোন নামের একটি হোটেলে থাকছিলেন। সেই হোটেলের উল্টোদিকেই ছিল একটি জনপ্রিয় ভারতীয় রেস্তোরাঁ। তাঁরা সেখানেই খেতে যান। সেই সময় পাকিস্তান অস্ট্রেলিয়া সফরে ছিল। পাকিস্তানি ক্রিকেটাররাও সেই ভারতীয় রেস্তোরাঁতেই খাচ্ছিলেন। সানিয়াদের দেখেই উঠে আসেন শোয়েব। সানিয়া এবং তাঁর বাবার সঙ্গে কথা বলেন শোয়েব। এই সময় শোয়েব মালিককে পরের দিন ওই একই রেস্তোরাঁয় খেতে আসার জন্য নেমন্তন্ন করেন সানিয়ার বাবা। যথারীতি শোয়েব পরদিনও আসেন। দু’জনের মধ্যে ফোন নম্বর আদান-প্রদান হয়, কথাবার্তাও শুরু হয়ে যায়, বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে প্রেম এখনও দূরে ছিল।
একমাস পর দুবাই ওপেন খেলতে যাচ্ছিলেন সানিয়া। এই সময় পাকিস্তান টিম ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ খেলছিল দুবাইতে এবং দলের অধিনায়ক ছিলেন শোয়েব মালিক। এই সময় শোয়েবের আলাপ হয় সানিয়ার মা-র সঙ্গে। সিরিজ এবং দুবাই ওপেন শেষ হতে হতে সানিয়াকে মন দিয়ে বসেন শোয়েব। দু'মাস পর টুর্নামেন্টের শেষে শোয়েব সানিয়াকে প্রপোজ করেন এবং বিয়ের কথা বলেন। সানিয়ার এতে কোনও আপত্তি ছিল না। নিজের আত্মজীবনী ‘Ace Against The Odds’-এ সানিয়া লিখেছেন,
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Virat Kohli: অনেকেই বলেন, মাঠের আগ্রাসী মনোভাব আর ব্যক্তিগত জীবনে মাটির কাছাকাছি থাকা বিরাটের জীবন নিয়ে তৈরি হবে ইতিহাস।
“পাকিস্তান দলের অধিনায়ক হওয়া সত্ত্বেও শোয়েবের মধ্যে কোনও অহংকার বোধ ছিল না। শোয়েবের সাধাসিধে স্বভাব আমায় ওঁর দিকে আকর্ষিত করত। কীভাবে মনের কথা বলব ভাবছিলাম, কিন্তু শোয়েব যখন নিজের থেকেই প্রস্তাব দেয় তখন আর না করার কিছু ছিল না।”
এরপর ১২ এপ্রিল ২০১০ সালে গাঁটছড়া বাঁধেন স্পোর্টসের দুনিয়ার এই পাওয়ার কাপল।

সেই সময় শোয়েব-সানিয়ার বিয়ে নিয়ে বেশ চাপানউতোর হয়েছিল দুই দেশেই। ভারত পাকিস্তান কূটনৈতিক সম্পর্ক কারও অজানা নয়। এই অবস্থায় দুই দেশের স্পোর্টস আইকন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন তা নিঃসন্দেহে বিতর্ক ছড়িয়েছিল দুই দেশে। সানিয়া মির্জাকে সেই সময় কটাক্ষ করে প্রশ্ন করা হত, তিনি কোন দেশের হয়ে টেনিস খেলবেন। এমনকী প্রাণনাশের হুমকিও পেয়েছিলেন শোয়েব মালিক এবং সানিয়া মির্জা। এই প্রসঙ্গে শোয়েব মালিক বলেছিলেন, “ভালবাসলে আপনার সঙ্গী কোন দেশের, দুই দেশের সম্পর্ক কেমন, এই সবের চেয়েও বড় বিষয় হল ভালোবাসা।” বিয়ের আট বছর পর, ২০১৮ সালে জন্ম হয় দু’জনের পুত্র ইজহান মির্জা মালিকের।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দাবি, তাঁদের দাম্পত্য বর্তমানে ভাঙনের মুখে। এর মাঝেই উঠে আসছে শোয়েব এবং সানিয়ার পূর্ববর্তী সম্পর্কগুলির কথাও। সানিয়াকে বিয়ে করার আগেও একবার বিয়ে করেছিলেন শোয়েব। প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়ে সানিয়াকে বিয়ে করেন তিনি। ২০০২ সালে টেলিফোনেই আয়েশা সিদ্দিকী নামক এক মহিলার সঙ্গে নিকাহ করেন শোয়েব। কিন্তু ২০১০ সালে সানিয়াকে বিয়ে করার আগে তাঁকে ডিভোর্স দিয়ে দেন পাকিস্তানি ক্রিকেটার। ঘটনাচক্রে আয়েশাও ছিলেন হায়দরাবাদেরই মেয়ে। আয়েশার পরিবারের তরফের দাবি করা হয়, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের চাপে এক প্রকার বাধ্য হয়েই ডিভোর্স দিতে রাজি হন তাঁরা। একইসঙ্গে শোনা যায়, ছোটবেলার বন্ধু সোহরাব মির্জার সঙ্গে বাগদান সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল সানিয়ার। কিন্তু শোয়েবের প্রেমে মাতোয়ারা সানিয়া সেই সম্পর্ক ভেঙে দেন এবং শোয়েবকেই বিয়ে করেন। এরপর সুদীর্ঘ ১২ বছর তাঁরা সংসার করলেও বর্তমানে দাম্পত্য দাঁড়িয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তার মুখে। এর ভবিষ্যৎ কী হবে তা নিয়েই জল্পনা চলছে সব মহলে।







