কেন কাতারেই হামলা চালাল ইরান?

Qatar: ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর ইরানে এটাই ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সরাসরি হামলা। ইরানের কর্মকর্তারা এই হামলার জন্য অপ্রত্যাশিত পরিণতি ভোগ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।

inscript
২ মিনিট
কেন কাতারেই হামলা চালাল ইরান?

উত্তর দেওয়া হবে, ফোর্দো-সহ একাধিক পারমাণবিক ঘাঁটিতে মার্কিন আক্রমণের পরই বলেছিল তেহরান। মার্কিন হানাদারির প্রত্যাঘাত নেমে এল এই বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি কাতারের আল উদেইদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইরান। কাতারের রাজধানী দোহার কাছে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। এই হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। প্রশ্ন হলো, কেন দোহার এই ঘাঁটিই বেছে নিল ইরান? কতটা সফল এই প্রত্যাঘাতের চেষ্টা?

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা আল উদেইদে ধ্বংসাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই অভিযানের নাম দিয়েছে বিজয়ের ঘোষণা। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান থেকে ছোড়া স্বল্প এবং মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কাতার ও মার্কিন বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে। কাতার সরকারও বলেছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতিকে বুড়ো আঙুল! ইজরায়েলে কেন হামলা অব্যহত ইরানের?

Iran Israel Ceasefire: ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনও চুক্তিই হয়নি

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি এই হামলাকে "কাতারের সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন" বলে নিন্দা করেছেন। তিনি বলেন, "আমরা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাই এবং এই ঘটনাকে আমাদের দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছি।" এই ঘটনার পর কাতার তাদের আকাশসীমা কিছু সময়ের জন্য বন্ধ করে দেয়, যদিও পরে তা আবার চালু করা হয়েছে।

আল উদেইদ বিমানঘাঁটি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের সামরিক অভিযানের প্রধান কেন্দ্র। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঘাঁটিতে মার্কিন বিমান বাহিনী, কাতারের এমিরি বিমান বাহিনী এবং যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের সদস্যরা সক্রিয়। এটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ চুম্বক। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, ইরানের হামলার আগে মার্কিন বাহিনী এই ঘাঁটি থেকে বেশিরভাগ বিমান সরিয়ে নিয়েছিল, এই তৎপরতাই হতাহতের ঘটনা এড়াতে সাহায্য করেছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
১৯৫৩ থেকে ২০২৫! মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক কেন রক্তাক্ত হলো?

US-Iran Relations : ট্রাম্প দাবি করেন, এই হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। তবে,এই দাবির পক্ষে স্থায়ী কোনো প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি।

গত শনিবার মার্কিন বি-২ বোমারু বিমান ইরানের তিনটি পরমাণু ঘাঁটিতে হামলা চালায়। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর ইরানে এটাই ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সরাসরি হামলা। ইরানের কর্মকর্তারা এই হামলার জন্য অপ্রত্যাশিত পরিণতি ভোগ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। আল উদেইদে হামলা তারই একটি প্রতিক্রিয়া বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলাকে "খুবই দুর্বল প্রতিক্রিয়া" বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরান আগে থেকে হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিল, ফলে কোনো প্রাণহানি হয়নি। তিনি আরও বলেন, "ইরান ক্ষোভ প্রকাশ করেছে, এখন আশা করছি এর পর আর আর ঘৃণার এই আবহ থাকবে না।" তবে এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ইতিমধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের এই হামলা প্রতীকী হলেও এটি মার্কিন সামরিক উপস্থিতির জন্য একটি সতর্কবাণী। ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে তাদের প্রতিশোধের টার্গেট হিসেবে দেখছে এবং তারা প্রস্তুত। এদিকে,কাতারের মতো উপসাগরীয় দেশগুলো এখন তাদের মাটিতে মার্কিন ঘাঁটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

উল্লেখ্য এই ঘটনার পর থেকেই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার হয়েছে। ট্রাম্প ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে একটি "সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত" যুদ্ধবিরতির কথা বলেছেন, যদিও ইরান ও ইজরায়েলের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি আসেনি। যদি মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথামতো সত্যিই যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে নেয় ইজরায়েল-ইরান দুই যুযুধান পক্ষ, তবে উত্তেজনা খানিকটা প্রশমিত হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকট কোন দিকে যায়, তা নির্ভর করছে খোমেনি-নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তর উপর।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

EXCLUSIVE: কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদে ভোট না-করানো তৃণমূলের বড় ভুল, নিজের ভুল নিয়েও আলোচনার দরকার ছিল: কুণাল

Kunal Ghosh on Mamata Banerjee: ইনস্ক্রিপ্টে ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে তিনি একদিকে যেমন দাবি করেছেন মমতাকে ভয় পেয়েই তাঁকে বারবার নিশানা করা হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে দলের ভুলত্রুটি স্বীকার করে আত্মসমালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন।

EXCLUSIVE: শেষদিকে দল পরিচালনায় গ্যাপ ছিল, অভিষেকের অফিসও ঠিকঠাক ম্যানেজ করা হয়নি: কুণাল

Kunal Ghosh on Abhishek Banerjee: ইন্সক্রিপ্টের ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে অভিষেক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কুণাল জানিয়েছেন, শেষ পর্যায়ের দল পরিচালনায় আরও ‘সতর্কতা’ প্রয়োজন ছিল। তাঁর দাবি, অভিষেকের অফিসও সব সময় ঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।

মমতা-অভিষেকের দল পরিচালনায় বিরাট গ্যাপ তৈরি হয়েছিল: ইনস্ক্রিপ্ট পডকাস্টে আর কী বললেন কুণাল?

Kunal Ghosh Interview: বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পরে প্রতীক, নাম হারিয়ে কার্যত দিশাহারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। তার মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই জারি রয়েছে। যদিও দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহে মমতার কাছাকাছির বৃত্ত ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়েছে। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে মুখ পুড়েছে। এই প্রেক্ষিতে আসন্ন পুরভোটে কেমন করবে তৃণমূল? ঘুরে দাঁড়ানোর কোনও সম্ভাবনা আছে? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী? বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে যা বললেন দলের বিধায়ক এবং অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।