দূরত্ব রেখে বার্তা দিতে চাইছেন? কেন ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যেতে নারাজ মমতা?
Mamata Banerjee: ১ জুন ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক। সেই বৈঠকেও যোগ দেবেন না তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

লোকসভা ভোটের আগে বিজেপি বিরোধিতার সুরকে চড়া করে হাত মিলিয়েছিল দেশের একগুচ্ছ বিজেপি বিরোধী দল। শুরুটা ধূমধাম করে হলেও ভোট যত কাছে আসে, ততই মতানৈক্য বাড়তে থাকে ইন্ডিয়া জোটে। ভোট প্রায় শেষের দিকে। বাকি মাত্র এক দফা ভোট। বিভেদ মিটিয়ে এখনও এক সুর শোনা গেল না ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলির মধ্যে। ১ জুন ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক। সেই বৈঠকেও যোগ দেবেন না তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু কেন? তবে কি ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন মমতা? সেই প্রশ্নটাই ঘুরছে এখন রাজনৈতিক মহলে।
এই প্রথম নয়, এর আগেও একাধিক বার ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের ডাক এড়িয়েছেন মমতা। কখনও অভিযোগ জানিয়েছেন, তাঁকে বৈঠক সম্পর্কে জানানো হয়নি। কখনও আবার অন্য কাজ আছে বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন আমন্ত্রণ। ফের আরও একবার আমন্ত্রণ উড়িয়ে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে হাজির থাকবেন না বলে জানিয়ে দিলেন মমতা। জোটে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার কথা বললেও জোটের অধিকাংশ সিদ্ধান্তেরই বিরোধিতা করেছেন মমতা।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Lok Sabha Election 2024: ভোটে জিতে ক্ষমতায় এলে দেশে ইন্ডিয়া জোটের তরফে একগুচ্ছ বদল আনার কথা ইতিমধ্যেই ঘোষণা করে দিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি। রাঁচির শহীদ ময়দানে সমাবেশে এসে ইন্ডিয়া জোটের হয়ে ঘোষণা করে দিলেন রাহুল।
বাংলায় আসন সমঝোতা নিয়ে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর সঙ্গে বনিবনা হয়নি মমতার। গোড়া থেকেই মমতার বিষয়ে বিরোধিতা করেছেন অধীর। এ জন্য কিছুদিন আগেই দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের কাছে কটাক্ষও শুনতে হয়েছিল অধীরকে। কিন্তু যে মমতার জন্য দলের বিশ্বস্ত কর্মীর উপর চটলেন খাড়্গে, সেই মমতাই জানিয়ে দিলেন তিনি ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে পারবেন না।
সূত্রের খবর, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতেই ১ তারিখ ওই বৈঠক ইন্ডিয়া জোটের। নির্বাচনে নিজেদের কর্মক্ষমতা, পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করতে শেষ দফার ভোটের দিন বৈঠকে বসবেন নেতারা। ভোটের রেজাল্ট ৪ জুন। আর তার আগে জোটের পারফর্ম্যান্স মূল্যায়ণ করা প্রয়োজন বলেই মনে করছেন জোট নেতৃত্ব। এই লোকসভা ভোটে ইন্ডিয়া জোটের হয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখ করা হয়েছিল খাড়্গেকে। খাড়্গের নাম প্রস্তাব অবশ্য করেছিলেন মমতাই। রাহুল গান্ধির হাত থেকে ক্ষমতা কাড়তেই মমতা এই চাল চেলেছিলেন বলে অনেকের মত। ১ জুন দিল্লিতেই ওই বৈঠকে বসার কথা ইন্ডিয়া জোটের।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
CM Mamata Banerjee : মমতা বলছেন, রাহুলের ন্যায় যাত্রা যে বাংলায় আসবে, ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলের শাসনের রাজ্যে আসবে তা তো তাঁকে জানানোই হয়নি!

যেখানে উপস্থিত থাকতে পারছেন না মমতা। সোমবার বড়বাজারে সভা করতে গিয়ে সেই মঞ্চ থেকেই এ কথা জানিয়ে দেন তৃণমূল সুপ্রিমো। অবশ্য বৈঠকে যোগ না দেওয়ার পিছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে তাঁর। তিনি দলের সুপ্রিমো, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও। ১ জুন রাজ্য জুড়ে শেষ দফার লোকসভা ভোট। কলকাতা ও তৎসংলগ্ন বেশিরভাগ এলাকাতেই ভোট রয়েছে এদিন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে এমন একটা জরুরি ভোটের দিন রাজ্য ছেড়ে কোনও বৈঠকে যোগ দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় বলেই জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি সেদিন ভোট রয়েছে তাঁরও। নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ না করে দিল্লিতে বৈঠক করতে যাওয়ার যে প্রশ্ন ওঠে না, সে কথাও বুঝিয়ে দিয়েছেন মমতা।
তবে শুধু ভোট নয়। ভোট ছাড়াও দ্বিতীয় কারণ রয়েছে তাঁর কাছে। রবিবারই রাজ্যের উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল। সেই রেমালের ধাক্কায় কলকাতা থেকে শুরু করে রাজ্যের বড় অংশ বিপর্যয়গ্রস্ত। ইতিমধ্যেই বিপর্যস্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস মিলেছে মমতার তরফে। দেওয়া হয়েছে আর্থিক সহায়তার আশ্বাসও। রেমালের দাপটে যাদেঁর মৃত্যু হয়েছে বাংলায়, তাঁদের পরিবারের হাতে আর্থিক সাহায্য ও ক্ষতিপূরণ তুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই। বহু জায়গাই এখনও বিপদসংকূল। বিদ্যুতের তার ছিড়ে ব্য়হত জনজীবন। এখনও ঠিক করে চালু হয়নি ট্রেন-বাস-মেট্রো। উপকূলসংলগ্ন বহু এলাকায় ভিটামাটি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে এসে উঠেছেন বহু মানুষ। এই পরিস্থিতিতে মানুষের জন্য ত্রাণ নিশ্চিত না করে কোনও রকম বৈঠকে যেতে পারবেন না বলেই জানান মমতা।
মমতার সিদ্ধান্ত থেকে অনেকেই ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গে দূরত্ব বৃদ্ধির আশঙ্কার কথা আঁচ করেছেন। সেক্ষেত্রে বিজেপি বিরোধী জোটের আদতে কী হতে চলেছে, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন ওয়াকিবহাল মহলের কেউ কেউ। সোমবার বিহারের পালিগঞ্জে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশে মঞ্চ ভেঙে বেশ বড়সড় বিপত্তি ঘটে। মঞ্চের পাটাতন ভেঙে পা আটকে যায় রাহুল গান্ধীর। অল্প সময়ের জন্য ভারসাম্যও হারান তিনি। কিন্তু তবু মঞ্চ থেকে সরানো যায়নি রাহুলকে। অনেকেই বলছেন, শুধু সমাবেশের মঞ্চে নয়, বাস্তবেও ইন্ডিয়া জোটের হাল একা হাতেই ধরে থাকার চেষ্টা করছেন রাহুল। একমাত্র কংগ্রেসের ইস্তেহারেই স্পষ্ট ভাবে ইন্ডিয়া জোটের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। মমতার মতোই অধিকাংশ জোটসঙ্গীরাই যেন আড়োআড়ো ছাড়োছাড়ো ভাব রাখছেন জোটের সঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে আদৌ কি লোকসভা ভোটে মাটি পাবে জোট ইন্ডিয়া। নাকি ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের ভবিষ্যদ্বাণীই ফলে যাবে হাতেনাতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই জোটের বৈঠক এড়ানোর সিদ্ধান্ত কি সেই দূরত্বকেই আরও স্পষ্ট করল না? একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, ১ তারিখ বাংলায় জরুরি ভোট জানা সত্ত্বেও জোটই বা কেন বৈঠক রাখল ওই দিনই? তবে কি শুধু মমতার তরফেই না, জোটের দিক থেকেও এ এক কৌশল? লোকসভা ভোটের ফলপ্রকাশের থেকে সামান্য দূরে দাঁড়িয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠে গিয়েছে ইন্ডিয়া জোট নিয়ে।






