কংগ্রেসের সঙ্গে আসন ভাগ করবেন? ইন্ডিয়া জোটের অস্তিত্ব নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মমতার

CM Mamata Banerjee : মমতা বলছেন, রাহুলের ন্যায় যাত্রা যে বাংলায় আসবে, ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলের শাসনের রাজ্যে আসবে তা তো তাঁকে জানানোই হয়নি!

inscript
৩ মিনিট
কংগ্রেসের সঙ্গে আসন ভাগ করবেন? ইন্ডিয়া জোটের অস্তিত্ব নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মমতার

মোদিপন্থীরা বারেবারেই একটা প্রশ্ন তুলেছেন। সহজ প্রশ্ন, তা নিয়ে অনেকেই মজা করেন কিন্তু আসলে প্রশ্নের কোনও উত্তর নেই। বিজেপি প্রশ্ন করে, মোদি নেহি তো কৌন? সত্যিই তো দেশে যে দল, যে জোটই জিতুক না কেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ দরকার। আস্ত দল তো প্রধানমন্ত্রী হতে পারে না। কিন্তু মোদির বিরোধিতায় যে পাল্টা কোনও মুখ নেই, তা ফের প্রমাণ করে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির বিরুদ্ধে, গৈরিক শক্তির বিরুদ্ধে সমস্ত বিরোধী দলগুলি একত্রিত হয়ে 'ইন্ডিয়া' জোট গড়েছিল। সেই জোটে এমন বহু বহু বহু দল রয়েছে যারা নিজ নিজ রাজ্যে যুযুধান! রাজ্যে একে অন্যের মুখ দেখেন না, এদিকে লোকসভা ভোটে একই জোটের শরিক! এ কেমন? এই জোট কি আদৌ টিকবে? প্রশ্ন উঠেছিল তখনই। জোট যে টিকবে না তা ক্রমেই স্পষ্ট করে দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা। জানিয়েছেন, বাংলায় কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই।

তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন রাজ্যে তৃণমূল একলা চলো নীতিতেই আস্থা রাখবে। সিপিএম-কংগ্রেসের মতো বিরোধীর সঙ্গে কোনও আসন ভাগাভাগি নেই তাদের। কিন্তু রাহুল তো তেমন বললেন না! রাহুল গান্ধি এখন ন্যায় যাত্রায় বেরিয়েছেন। বাংলাতেও আসবে সেই যাত্রা। অসমে রাহুল গতকালই বলেছিলেন, কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে আসান বোঝাপড়ার প্রক্রিয়া চলছে। মমতা বলছেন, এসব মিথ্যা! ‘‘আমার কারও সঙ্গে কোনও কথা হয়নি। আমার প্রস্তাব প্রথম দিনেই প্রত্যাখ্যান করেছে!”

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
তৃণমূলের সঙ্গে বাংলায় জোট? সিপিএমের চরম সিদ্ধান্তে বিপাকে 'ইন্ডিয়া'

No CPIM-TMC Tie Up : সিপিএম গত সপ্তাহে ইন্ডিয়া সমন্বয় কমিটির বৈঠকেও যোগ দেয়নি। ১৪ সদস্যের প্যানেলে একটি আসন এখনও খালিই রাখা হয়েছে।

হিসেবমতো ইন্ডিয়া জোটেরই অংশ তৃণমূল ও কংগ্রেস। লোকসভা ভোটে বাংলায় কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে তৃণমূল লড়বে, বা সিপিএম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা করবে এই দৃশ্য ভাবাও যায় না। তাহলে ইন্ডিয়া জোট তৈরি হলো কীসের ভিত্তিতে? বিরোধিতার জন্যই বিরোধিতা? প্রকৃত ময়দানে আসলে সকলেই সকলের শত্রুপক্ষ? রাহুল বলছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ও কংগ্রেসের সম্পর্ক ভালো। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভুল বোঝাবুঝি হয় কিন্তু তাতে আসনের ভাগ বাঁটোয়ারায় সমস্যা হবে না। এদিকে মমতা বলছেন, রাহুলের ন্যায় যাত্রা যে বাংলায় আসবে, ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলের শাসনের রাজ্যে আসবে তা তো তাঁকে জানানোই হয়নি!

মমতা স্পষ্ট করে দিলেন ইন্ডিয়া জোটের শরিক হিসেবে তৃণমূল ওই ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রায় অংশ নেবে না। কংগ্রেস কি একা হাঁটবে? না কি সিপিএম জুড়ে যাবে? মানে সিপিএম কংগ্রেসের সঙ্গে আছে জোটে, তৃণমূলের সঙ্গে নেই? জটিল অঙ্ক!

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অধীর-সেলিম না ধুপগুড়ি — কে 'ভেঙে' দিল ইন্ডিয়া জোট?

INDIA Block : শোনা যাচ্ছে যে, আসন সমঝোতা নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তথা তৃণমূলের ফর্মুলা শুনে রাহুল গান্ধী তাতে বিশেষ পাত্তা দেননি।

মমতা বলছেন, তিনি চেয়েছিলেন কংগ্রেস ৩০০ টি আসনে লড়ুক। বাকি যা যা আসন তাতে আঞ্চলিক দলগুলিই লড়ুক। যে রাজ্যে যে দলের দাপট বেশি তারাই সেই রাজ্যে মুখ হয়ে লড়ুক। তাই এই রাজ্যে তৃণমূল একাই লড়বে। পশ্চিমবঙ্গে ইন্ডিয়ার শরিক দন্য দলের সঙ্গে কোনও জোট বা আসন সমঝোতা হচ্ছে না। রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনেই প্রার্থী দেবে তৃণমূল।

কংগ্রেসের এই ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রায় সমস্ত রাজ্যেই ইন্ডিয়া জোটের শরিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কিন্তু আমন্ত্রণ জানানো আর দলেরই সঙ্গী দলের সঙ্গে আলোচনা করা অন্য বিষয়। মমতা বলছেন, কোনও আলোচনা হয়নি। কংগ্রেস কি শরিক মনে করে তৃণমূলকে? সিপিএম মনে করে? সিপিএম যদি রাজ্যে তৃণমূলের সঙ্গে জোট করত তাহলে কোনওভাবেই মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে পারত না। বামেরা বরাবর বলে এসেছে যারা তৃণমূল তাহাই বিজেপি। তাহলে ইন্ডিয়া জোটে একত্রে মোদি বিরোধিতার নামে কাজের কাজ কী হচ্ছে? সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলছেন, তৃণমূল ন্যায় যাত্রায় থাকলে বাম প্রতিনিধি থাকবেন। অর্থাৎ তৃণমূলের সঙ্গে মুখ দেখাদেখি নেই। তাহলে ইন্ডিয়া জোট?

মোদি নেহি তো কৌন? মল্লিকার্জুন খাড়্গে? ইন্ডিয়া জোটে তামাম প্রবীণ রাজনীতিবিদ রয়েছেন। নীতিশ কুমারের মতো মুখ এই সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন? তাহলে দেখা যাচ্ছে, যত দল, তত মত! যত মত তত পথ! কোনও পথই অন্যের সঙ্গে মিশতে রাজি নয়। না তো প্রধানমন্ত্রী মুখ, না তো আসন ভাগাভাগি- কোনওক্ষেত্রেই যেখানে ইন্ডিয়া জোট একমত হতে পারছে না সেখানে নির্বাচন অবধি জোট টিকবে তো?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।