সোনাম ওয়াংচুকের অনশন: কী ভাবে দেখছে আন্তর্জাতিক মিডিয়া?

Sonam Wangchuk hunger strike: সোনাম ওয়াংচুকের অনশন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজর কেড়েছে। রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, আল জাজিরা, বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ান এই আন্দোলনকে কীভাবে দেখছে, দিল্লি পুলিশের পদক্ষেপ, আইনি লড়াই, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং সরকারের জবাবদিহির প্রশ্ন কীভাবে উঠে এসেছে?

inscript
৫ মিনিট
সোনাম ওয়াংচুকের অনশন: কী ভাবে দেখছে আন্তর্জাতিক মিডিয়া?

ভারতের শিক্ষক ও সমাজসেবী সোনাম ওয়াংচুকের অনশন এখন আর শুধুমাত্র দেশের একটি আন্দোলনের খবর নয়। গত কয়েক সপ্তাহে এই অনশন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেরও নজর কেড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী সংবাদসংস্থা ও সংবাদপত্র ঘটনাটিকে শুধু একজন ব্যক্তির অনশন হিসেবে দেখেনি; ভারতের গণতান্ত্রিক পরিবেশ, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার, সরকারের জবাবদিহি এবং নাগরিক সমাজের ভূমিকার বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করেছে। একসময় আমির খান অভিনীত থ্রি ইডিয়টস ছবির বাস্তব অনুপ্রেরণা হিসেবে পরিচিত ওয়াংচুক এখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুখ।

অনশনের ২০তম দিনে দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে সোনাম ওয়াংচুককে জোর করে সরিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে দিল্লি পুলিশ। পুলিশের দাবি, চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং আদালতের নির্দেশ মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ওয়াংচুকের পরিবার ও সমর্থকদের অভিযোগ, তাঁর সম্মতি ছাড়াই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলী আমোং। তিনি আরও দাবি করেছেন, ওয়াংচুক হাসপাতালের দেওয়া চিকিৎসা গ্রহণ করতেও অস্বীকার করেছেন।

এই ঘটনাকে ঘিরে ইতোমধ্যেই দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন গীতাঞ্জলী আমোং। তাঁর অভিযোগ, তাঁর স্বামীকে কার্যত বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়েছে। তিনি আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, ওয়াংচুককে দ্রুত কোনো বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হোক। তাঁর বক্তব্য, সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, সরকারি হাসপাতালের উপর তাঁর আস্থা আর নেই।

গীতাঞ্জলীর অভিযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে অসঙ্গতি। তাঁর দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমে জানিয়েছিল ওয়াংচুকের শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা নেমে ২.৯-এ পৌঁছেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কিন্তু পরে হাসপাতালের প্রকাশিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে সেই নির্দিষ্ট তথ্য উল্লেখ করা হয়নি; শুধু বলা হয় পটাশিয়ামের মাত্রা কমছে। অন্য একটি পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে পটাশিয়ামের মাত্রা ৩.৫ পাওয়া যায়, যা স্বাভাবিক সীমার মধ্যে। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, ওয়াংচুককে ছেড়ে দেওয়ার আবেদন করা হলেও হাসপাতাল তা মানেনি এবং সেখানে শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করে তাঁদের গতিবিধিও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স শুরু থেকেই ওয়াংচুকের অনশন নিয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে, তারা শুধুমাত্র অনশনের খবর দেয়নি; বরং আন্দোলনের সামাজিক ও রাজনৈতিক তাৎপর্যও তুলে ধরেছে। তাদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, এই আন্দোলন একজন ব্যক্তির ক্ষোভ নয়, শিক্ষা ব্যবস্থা, পরীক্ষায় অনিয়ম, তরুণ প্রজন্মের উদ্বেগ এবং সরকারের জবাবদিহির প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সোনম ওয়াংচুকের অনশন আমাদের যা মনে করিয়ে দেয়

Sonam Wangchuk: সোনম ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে রাতারাতি জনপ্রিয় হওয়া 'ককরোচ জনতা পার্টি'র ধরণা মঞ্চে উপস্থিত হন। উল্লেখ্য, তিনি লাদাখের অধিকার ও পরিবেশ রক্ষা নিয়েও দীর্ঘ দিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। গত ১৪ মার্চ, ২০২৬ তারিখে তাঁকে যোধপুর সেন্ট্রাল জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

রয়টার্স ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতির বিষয়টিও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছে। দীর্ঘ অনশনের ফলে দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, চিকিৎসকদের উদ্বেগ এবং তাঁর শারীরিক ঝুঁকির কথা যেমন প্রতিবেদনে রয়েছে, তেমনই প্রশাসনের বক্তব্যও সমান গুরুত্ব পেয়েছে। অনশনের ২০তম দিনে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে পুলিশের ব্যাখ্যা এবং তাঁর পরিবারের আপত্তি—দুই পক্ষের বক্তব্যই আন্তর্জাতিক পাঠকের সামনে সমানভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) বিষয়টিকে আরও বিস্তৃত মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ একটি গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ। ওয়াংচুককে হাসপাতালে স্থানান্তরের ঘটনাকে তাঁর সমর্থকেরা জোরপূর্বক হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য, তাঁর জীবন রক্ষার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফলে ঘটনাটি শুধুমাত্র একটি চিকিৎসাজনিত সিদ্ধান্ত নয়; বরং রাষ্ট্রের ক্ষমতা এবং নাগরিক অধিকারের সীমারেখা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় পরিণত হয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা শুরু থেকেই এই আন্দোলনের ধারাবাহিক কভারেজ করেছে। তারা আন্দোলনের পেছনের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেছে। ১৪ জুলাই প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিভিন্ন মহল থেকে ওয়াংচুককে অনশন ভাঙার আহ্বানের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এরপর ১৮ জুলাই প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে অনশনের ২০তম দিনে দিল্লি পুলিশ সোনাম ওয়াংচুককে জোর করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি তুলে ধরা হয়। একই দিনে তাদের ভিডিও প্রতিবেদনে দেখানো হয়, ওয়াংচুককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহের পাশাপাশি পুলিশের পদক্ষেপ, জনমতের প্রতিক্রিয়া এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতিও সমান গুরুত্ব পেয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান এই ঘটনাকে আরও বিশ্লেষণাত্মকভাবে উপস্থাপন করেছে। ১৭ জুলাই প্রকাশিত প্রতিবেদনে অনশনের ১৯তম দিনে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, দীর্ঘ অনশনের ফলে তিনি এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন যে ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিলেন না। পরদিন আবারও গার্ডিয়ান এই ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে পুলিশের বক্তব্য এবং আন্দোলনকারীদের অভিযোগ—দুই দিকই তুলে ধরা হয়। গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শিক্ষা, পরিবেশ ও সামাজিক পরিবর্তনের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করা সোনাম ওয়াংচুকের এই অনশন এখন সরকারের জবাবদিহি, নাগরিকের প্রতিবাদের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশে ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে বৃহত্তর আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

বিবিসি বাংলা, বিবিসি হিন্দি, বিবিসি নিউজ ইন্ডিয়াতে ধারাবাহিক লিখিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বিবিসি নিউজ ইন্ডিয়া ভিডিও প্রতিবেদনের মাধ্যমে ওয়াংচুকের অনশন, তাঁর পরিচয় এবং শারীরিক অবস্থার অবনতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় বিবিসির উপস্থিতি থাকলেও, রয়টার্স, আল জাজিরা বা গার্ডিয়ানের মতো বিশ্লেষণ সেখানে দেখা যায়নি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলির কভারেজে একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়। প্রায় সব সংবাদমাধ্যমই সোনাম ওয়াংচুককে শুধুমাত্র একজন আন্দোলনকারী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়নি। তাঁকে একজন শিক্ষাবিদ, উদ্ভাবক এবং পরিবেশকর্মী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ, তাঁর দীর্ঘদিনের সামাজিক কাজের ধারাবাহিকতার মধ্যেই বর্তমান আন্দোলনকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের উপস্থাপনায় এই আন্দোলন ব্যক্তিকেন্দ্রিক না থেকে বৃহত্তর সামাজিক উদ্যোগের অংশ হিসেবেই ধরা পড়েছে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলি ঘটনাটিকে কেবল রাজনৈতিক সংঘাত হিসেবেই দেখেনি। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং নাগরিক সমাজের ভূমিকার আলোকে ব্যাখ্যা করেছে। প্রায় সব প্রতিবেদনে প্রশাসনের বক্তব্যের পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পরিবারের দাবি এবং চিকিৎসকদের মতামতও তুলে ধরা হয়েছে। ফলে একপাক্ষিক বয়ানের পরিবর্তে তুলনামূলকভাবে একটি ভারসাম্যপূর্ণ চিত্র আন্তর্জাতিক পাঠকের সামনে এসেছে।

এর বিপরীতে ভারতের মূলধারার সংবাদমাধ্যমের একটি অংশের কভারেজে ভিন্ন প্রবণতা দেখা গিয়েছে। অনেক টেলিভিশন চ্যানেলে আন্দোলনের দাবি বা অনশনের কারণ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা না হয়ে বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা বিদেশি প্রভাবের সম্ভাবনা নিয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। ১৭ জুলাই একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের শিরোনাম ছিল, "চিন ও ককরোচ জনতা পার্টির মধ্যস্থতা! অনশন মঞ্চ থেকেই চিনের হাই কমিশনে বাম নেতা!" একই দিনে আরেকটি অনুষ্ঠানের শিরোনাম ছিল, "সোনাম ওয়াংচুকের আন্দোলনের নেপথ্যে চিন?" অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম যেখানে গণতান্ত্রিক অধিকার, আন্দোলনের দাবি এবং প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়ার উপর গুরুত্ব দিয়েছে, সেখানে ভারতের সংবাদমাধ্যমের একটি অংশ আন্দোলনের সম্ভাব্য রাজনৈতিক বা ভূরাজনৈতিক দিককেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ জুন থেকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র পাশে দাঁড়িয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি এবং NEET পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে অনশনে বসেন সোনাম ওয়াংচুক। দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশের পর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও, হাসপাতাল থেকেই একটি হাতে লেখা বার্তায় তিনি দেশবাসীকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সেই বার্তায় তিনি এই আন্দোলনকে দেশের ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন’ বলেও উল্লেখ করেছেন। সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর দিন সংসদ ভবন অভিযানের কর্মসূচি ছিল তাঁর। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি থাকায় এবার সেই কর্মসূচির নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলী আমোং।

বলা যায়, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কভারেজে সোনাম ওয়াংচুকের অনশন ভারতের গণতান্ত্রিক পরিবেশ, নাগরিকের প্রতিবাদের অধিকার এবং সরকারের জবাবদিহি নিয়ে বৃহত্তর আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, আল জাজিরা এবং দ্য গার্ডিয়ানের ধারাবাহিক প্রতিবেদন দেখাচ্ছে, এই অনশন এখন ভারতের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদপরিসরেও একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কভারেজের পার্থক্যও সংবাদ উপস্থাপনার দৃষ্টিভঙ্গি এবং অগ্রাধিকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

তিন মাসে ২৬ নির্যাতনের ঘটনা, খ্রিস্টানদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে কে?

মুখ্যমন্ত্রী ও সংখ্যালঘু দফতরের মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বঙ্গীয় খ্রিস্টীয় পরিষেবা। স্মারকলিপিতে গত তিন মাসে অন্তত ২৬টি নির্যাতনের ঘটনা এবং ১১টি এফআইআর নথিভুক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনের অভিযোগ, আরও বেশ কিছু ঘটনা ভুক্তভোগীদের ভয় বা নানা কারণে পুলিশের কাছে নথিভুক্ত হয়নি। অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে প্রার্থনা সভায় হামলা, উপাসনাস্থলে ভাঙচুর, ধর্মীয় সামগ্রী নষ্ট করা এবং খ্রিস্টান ধর্মযাজক ও উপাসকদের হেনস্থা।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।

কর্নওয়ালিস স্ট্রিট থেকে বিধান সরণি, ধর্মতলা থেকে লেনিন সরণি: যেভাবে ক্ষমতাসীনরা বদলেছে কলকাতার রাস্তার নাম

Renaming politics of kolkata's street: লটারি কমিটির কর্নওয়ালিস স্ট্রিট নির্মাণ থেকে বামফ্রন্টের লেনিন সরণি, হো চি মিন সরণি—কলকাতার রাস্তার নামকরণ প্রথম থেকেই রাজনৈতিক ছিল। ২০২৬ সালে, বিজেপি সরকারের উৎসাহে দশ সদস্যের কমিটি গঠিত হয়েছে লেনিন, কার্ল মার্কস ও হো চি মিন সরণির নাম বদলের সুপারিশ করতে। কিন্তু নাম বদলালেই কি মানুষের স্মৃতি বদলায়?

মাছে-ভাতে বাঙালি, দুর্গাপুজোর ভোগেও আমিষের চল, কী বলছে শোভাবাজার রাজবাড়ির ২৭০ বছরের ইতিহাস?

Durga Puja non vegetarian food: পুজোর দিনগুলিতে সকালে রাজবাড়ির সদস্যরা উপোস করে অঞ্জলি দেন এবং পুজোর কাজে অংশ নেন। দিনের সেই সময়ে তাঁরা নিরামিষ খাবারই গ্রহণ করেন। কিন্তু সন্ধ্যার পর আমিষ খাবার খাওয়ার রীতি রয়েছে। অর্থাৎ পুজোর প্রত্যেক দিনই পরিবারের সদস্যরা মাছ-মাংস খান।

পেরিয়ারের মৃত্যু নেই, যে লড়াই আজও চলছে

Periyar’s 148th Birth Anniversary: পেরিয়ারের ১৪৬তম জন্মদিনেও এক শতাব্দী আগে তিনি যে প্রশ্নগুলি তুলেছিলেন, সেগুলিই নতুন করে সামনে আনতে হচ্ছে। কেন বারবার জাতের পরিচয় হিংসার কারণ হয়ে ওঠে? কেন সংবিধান ও আইন থাকা সত্ত্বেও জাতিভেদ, সামাজিক ক্ষমতা এবং বৈষম্যের এই কাঠামো এখনও ভাঙা যায়নি?

গণতন্ত্রের আলো প্রতিফলিত হয় ব্যক্তির চরিত্রে, শিখিয়েছিলেন সুমিত সরকার

Historian Pradip Kumar Datta on Sumit Sarkar's historiographical legacy: ‘হিস্ট্রি ফ্রম বিলো’ থেকে আখ্যান বিশ্লেষণ, সাম্প্রদায়িকতার ইতিহাস থেকে হিন্দুত্বের উত্থান—সুমিত সরকারের চিন্তার নানা পর্বের সঙ্গে দীর্ঘ বৌদ্ধিক সম্পর্ক রয়েছে ইতিহাসবিদ প্রদীপ কুমার দত্তের। ‘কারভিং ব্লকস’ ও ‘হেটেরোজিনিয়েটিস’-এর সূত্র ধরে ইতিহাস, সাম্প্রদায়িকতা ও মিথ-হিস্ট্রির রাজনীতি নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলাপচারিতায় অত্রি ভট্টাচার্য।

রাজনীতির অভিধানে ‘পিতৃতন্ত্র’ ঢুকছে? রাহুলের বক্তৃতা কি নতুন কোনো শুরু?

Rahul Gandhi patriarchy: পুনের ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধীর বক্তৃতা সম্পূর্ণ নতুন বয়ান তৈরি করল। এই প্রথম কোনো মূলধারার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সরাসরি “পিতৃতন্ত্র নিপাত যাক” এই স্লোগান তুললেন। লক্ষ্য করার মতো বিষয়, এই কথাগুলি তিনি বলেছিলেন সরাসরি তরুণী জেন জি শ্রোতাদের সামনে দাঁড়িয়ে।

এআইয়ের বাড়বাড়ন্তে বিপদে চিনের কমিউনিস্ট পার্টি?

AI Threat to China’s Communist Party: এআই শুধু প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ বদলাবে, নাকি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও রাজনীতিতেও তৈরি করবে নতুন সংকট? কেন চিনের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্তা এআইকে কমিউনিস্ট পার্টির ক্ষমতার জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখছেন? বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হাতে এআই গেলে কী ধরনের বিপদ তৈরি হতে পারে? আর কেন শি জিনপিং এআইকে মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা বলছেন?