ঝোপ বুঝে নীতীশ কোপ, ২৪-এ পদ্মঝড় আটকে দেবে 'পল্টুরামের' চাণক্যবুদ্ধি?
ঘ্রাণশক্তিই কাজে লাগিয়েছেন নীতীশ। বিজেপি-র সঙ্গে জোট গড়ে নিজভূমেই নামমাত্র মুখ্যমন্ত্রী হয়ে ছিলেন তিনি। তাঁকে টপকে দিল্লি থেকে অমিত শাহের অঙ্গুলিহেলনে প্রশাসন চালাচ্ছিলেন বিজেপি-র নেতা-মন্ত্রীরা। তাই বেরনোর রাস্তা খুঁজছিলেন নীতীশ। মাসখানেক আগে দরজা খুঁজে পান তিনি।

রাজনীতিক মানেই সুযোগসন্ধানী। নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হলেও, রাজনীতিতে কারবারের মূলমন্ত্রই এটি। কিন্তু সুযোগ পেলেও, তার সদ্ব্যবহার করতে পারেন ক’জন, তা নিয়ে লিখে ফেলা যায় আস্ত থিসিস। নিঃসন্দেহে তাতে ফুলমার্কস পেয়ে উতরে যাবেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। কারণ সুযোগের অপেক্ষায় বসে থাকা নয়, স্থান-কাল-পাত্র বুঝে সুযোগ তৈরি করাতেও
সিদ্ধহস্ত তিনি। তাই রাজনীতিতে নীতীশ অস্তাচলে বলে যখনই গুঞ্জন শোনা গিয়েছে, বিড়ালের ন’টি জন্ম প্রবাদ সত্য করে নতুন রূপে আবির্ভূত হয়েছেন তিনি। অতীতের ট্র্যাকরেকর্ড, প্রতিপক্ষের বিদ্রূপ, এমনকী বিবেকের দংশন, কোনও কিছুই টলাতে পারেনি তাঁকে। বরং প্রখর ঘ্রাণশক্তিকেই ভরসা করেছে এসেছেন, বরাবর যা ক্ষমতায় পৌঁছতে সাহায্য করেছে
তাঁকে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিক বার পক্ষ বদল করেছেন নীতীশ। ১৯৯৪ সালে জনতা দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে জর্জ ফার্নান্ডেজের সঙ্গে সমতা দলের প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯৬ সালে আবার বিজেপি-র সঙ্গে সমঝোতা করে অটলবিহারি বাজপেয়ী
সরকারের মন্ত্রী হন। ২০০৩ সালে সমতা দল এবং জনতা দলের একত্রীকরণ কটিয়ে সংযুক্ত জনতা দল তৈরি করেন। ১৭ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে ২০১৩ সালে এনডিএ থেকে বেরিয়ে আসেন নীতীশ। ২০১৫ সালে লালুপ্রসাদ যাদবের রাষ্ট্রীয় জনতা দল এবং কংগ্রেসের সঙ্গে ‘মহাজোট’ গড়েন নীতীশ। কিন্তু রাতারাতি জোট ভেঙে বেরিয়ে এসে ২০১৭ সালে ফের বিজেপি-র হাত
ধরেন। ২০২২-এর অগাস্ট মাসে ফের ‘মহাজোট’-এর প্রত্যাবর্তন ঘটল তাঁর।
ছাত্রজীবন থেকেই লালুপ্রসাদের সঙ্গে সখ্য নীতীশের। কিন্তু নীতীশের একবার এই ডাল, তার পরের বার ওই ডালে বসার এই অভ্যাসকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি লালু। স্বভাবসিদ্ধ ঢংয়ে প্রকাশ্যেই নীতীশকে ‘পল্টুরাম’ বলে সম্বোধন করতে শুরু করেন তিনি। তাঁর থেকে ধার করে ওই নামে তার পর থেকে নীতীশকে ডাকতে শুরু করেন অন্যরাও। এখন যদিও পুরনো ক্ষত
খুঁচিয়ে ঘা করতে নারাজ দুই পক্ষই। তবে এখানেও নীতীশের সেই ঘ্রাণশক্তিই কাজে লাগিয়েছেন নীতীশ। বিজেপি-র সঙ্গে জোট গড়ে নিজভূমেই নামমাত্র মুখ্যমন্ত্রী হয়ে ছিলেন তিনি। তাঁকে টপকে দিল্লি থেকে অমিত শাহের অঙ্গুলিহেলনে প্রশাসন চালাচ্ছিলেন বিজেপি-র নেতা-মন্ত্রীরা। তাই বেরনোর রাস্তা খুঁজছিলেন নীতীশ। মাসখানেক আগে দরজা খুঁজে পান তিনি।
২০২২-এর জুলাই মাসে আচমকা স্বাস্থ্যের অবনতি হয় লালুর। তড়িঘড়ি পাটনার বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয় তাঁকে। খবর পেয়েই হাসপাতালে ছুটে যান নীতীশ। সরকারি খরচে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস-এ লালুকে চিকিৎসা করাতে পাঠান তিনি। আর সেখান থেকেই শুরু হয় বিহারের মসনদ থেকে পদ্মকে সরানোর কৌশল। একে একে এইমস-এ আনাগোনা বাড়ে নীতীশের দলের নেতা-মন্ত্রীদের। লালুর দলের নেতা, কংগ্রেসের লোকজনও অসুস্থতার চিকিৎসা করাতে লাইন দিতে শুরু করেন এইমস-এ। এমনকী বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জিতন রাম মাঝিও আচমকা এইমস-এ চেকআপ করাতে যেতে শুরু করেন। পাটনা থেকে এইমস, এইমস থেকে পাটনা, নীতীশের নেতা-মন্ত্রীদের ফোন ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
তার পর আর কী, একমাসের মাথায় দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে নরেন্দ্র মোদির ডাকা বৈঠক এড়িয়ে যান নীতীশ। বরং নিজের দলের সাংসদ-বিধায়কদের নিয়ে পৃথক বৈঠকের ঘোষণা করে দেন। ৯ অগাস্ট সকালে বৈটক শুরু হওয়ার পর সাকুল্যে এক
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, ঘন ঘন ইউ টার্নের জন্য নীতীশের জনপ্রিয়তা কমেছে। ২০১৩ সালে বিহারে যে দাপট ছিল তাঁর, আজ ২০২২-এ এসে সেই জায়গায় নেই তিনি।
ঘণ্টাও কাটেনি, বিহারের জোট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেন নীতীশ। রাজভবন থেকে গাড়ি ঘুরিয়ে সোজা গিয়ে উপস্থিত হন লালুপত্নী রাবড়ি দেবীর বাড়ি। তার পর ‘ভ্রাতুষ্পুত্র’ তেজস্বী যাদবকে নিয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজভবনে ফিরে গিয়ে ‘মহাজোট’-এর সরকার গড়ার প্রস্তাব দেন। পরদিনই অষ্টমবারের জন্য বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ। ইস্তফা দেওয়া থেকে নয়া সরকার গঠনের প্রস্তাব জমা পড়া, মাত্র ছ’ঘণ্টায় পাল্টে যায় বিহারের রাজনৈতিক সমীকরণ। মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে নীতীশ ফিরে যান ২৪ ঘণ্টার মধ্যে।
কিন্তু শুধুই কি নিজভূমের দখল হাতে রাখতে এত ঝক্কি নীতীশের? নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোও পরিকল্পনা? স্পষ্ট করে দেন নীতীশ নিজেই। ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির নাম উঠে আসার পরই এনডিএ থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন নীতীশ। সাফ জানিয়েছিলেন, মোদি নন, দেশের জন্য স্বচ্ছ এবং ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তির কাউকেই প্রধানমন্ত্রী দেখতে চান তিনি। বিজেপি-র সঙ্গ ত্যাগ করে এ বারও সরাসরি মোদিকেই নিশানা করেছেন নীতীশ। ২০১৪-য় যা হয়েছে, ২০১৪-এ মোদির সেই জয়ের পুনরাবৃত্তি হওয়া সহজ নয় বলে জানিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে গোটা দেশে বিরোধী ঐক্যের সপক্ষেও সওয়াল করেছেন। আর নীতীশের এই ঘোষণা এবং বিরোধী শিবিরে তাঁর প্রত্যাবর্তনই বিজেপি-কে ভাবিয়ে তুলেছে।
২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে গেমচেঞ্জার হতে পারে বিহার
গৌতম বুদ্ধের সিদ্ধিলাভ হোক বা দিল্লিতে পালাবদলের, বিহার থেকেই আগাগোড়া ভারতের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হয়ে এসেছে এ যাবৎ। সাতের দশকে জয়প্রকাশ নারায়ণের হাত ধরে বিহার থেকে সরকারবিরোধী যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তদানীন্তন ছাত্রনেতা তাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। জেলও খেটেছিলেন ১৯ মাস। ২০১৪-র পর থেকে ক্রমশ ছত্রখান হয়ে পড়া
বিরোধী শিবিরকে চাঙ্গা করার শুভ ক্ষণ দেখেই তিনি ফের একবার পক্ষ বদল করলেন বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ কেন্দ্র্রের এনডিএ জোট এখন নাম সর্বস্ব হয়ে রয়ে গিয়েছে। শিরোমণি অকালি দল, এআইএডিএমকে, উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনার পর নীতীশের দলও বেরিয়ে আসায় এই মুহূর্তে কার্যতই একা বিজেপি। সঙ্গী বলতে উত্তর-পূর্বের কিছু শরিক দল, তাও গুনতে
গেলে দুই সংখ্যা ছুঁতে পারবে কিনা ধন্দ রয়েছে। সেই তুলনায় বিজেপি বিরোধী শিবিরে কংগ্রেস, তৃণমূল, উদ্ধবের শিবসেনা, জনতা দল (সেক্যুলার), বাম শিবির, সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে লালু-নীতীশের দল রয়েছে। এমনকি আম আদমি পার্টিকেও গোনা যেতে পারে এই তালিকায়। তাই একমাস আগে পর্যন্ত ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনকে একরকম কুক্ষিগত রয়েছে
বলে মনে করলেও, মুঠো যে আলগা হয়ে গিয়েছে, তা বুঝতে পারছেন বিজেপি নেতৃত্ব। তাতেই দুশ্চিন্তা বাড়ছে তাঁদের।
আম আদমি পার্টির প্রাক্তন নেতা তথা ‘জয় কিসান আন্দোলন’ এবং ‘স্বরাজ ইন্ডিয়া’র প্রতিষ্ঠাতা যোগেন্দ্র যাদব বর্তমানে জাতীয় রাজনীতির যে সরল পাটিগণিত তুলে ধরেছেন, তাতে ২০২৪-এ বিজেপি-র জয়যাত্রার সম্ভবনা ক্ষীণ বলেই চোখে
পড়ছে। যোগেন্দ্রর হিসেব অনুযায়ী, বাংলা থেকে কেরল, পূর্বের উপকূলীয় রাজ্যগুলির কোথাও ক্ষমতায় নেই বিজেপি। পাঞ্জাবে কার্যত অস্তিত্বই নেই তাদের। কাশ্মীরের পরিস্থিতি সকলেরই জানা। এই রাজ্যগুলিতে থেকে লোকসভায় ১৯০টি আসন রয়েছে। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে এর মধ্যে ৩৬টিতেই জয়লাভ করেছিল বিজেপি। শরিকদলের আসন সংখ্যা ধরলে ৪২। এর
মধ্যে বাংলা থেকে ১৮টি আসন পেয়েছিল বিজেপি। কিন্তু ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়ার পর, সেই সংখ্যক আসন বিজেপি আদৌ পাবে কিনা, সন্দেহ রয়েছে। তেলঙ্গানা, ওড়িশাকে ধরে বিজেপি যদি ২৫টি আসনও পেয়ে যায়, বাকি ৩৫৩ আসনের মধ্যে ২৫০টি পেতেই হবে তাদের।
মূলত হিন্দি বলয়েই আধিপত্য বিজেপি-র। এর মধ্যে গুজরাত যুক্ত হবে। তবে বাদ যাবে বিহার এবং ঝাড়খণ্ড। ২০১৯-এ এই রাজ্যগুলি থেকে ১৮২টি আসনে জয়ী হয়েছিল বিজেপি। এই মুহূর্তে হরিয়ানা, হিমাচলপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যে বিজেপি-র ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে বিরোধীরা। উত্তরপ্রদেশেও ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছে সমাজবাদী পার্টি। কংগ্রেস যদি সামান্য উঠতে পারে, তাহলেও নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব পড়বে। এই রাজ্যগুলিতে যদিকোনও রকমে বিজেপি-র আসন কমিয়ে ১৫০-য় আনা যায়, সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পৌঁছতে আরও ১০০ আসনের প্রয়োজন পড়বে তাদের। সে ক্ষেত্রে বাকি রইল কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড, বিহার, অসম, ত্রিপুরা, মণিপুর, মেঘালয়ের মতো রাজ্য। সেখানে বিরোধীর উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। একার জোরে ২০১৯-এ এই সমস্ত রাজ্য থেকে ৮৮টি আসন জিতেছিল বিজেপি। শরিক মিলিয়ে ১৩০।
সে বার বিজেপি-র পাশে উদ্ধব, নীতীশ এবং লোক জনশক্তি পার্টির রামবিলাস পাসোয়ান ছিলেন। তাঁদের কাছ থেকে যথাক্রমে ১৮, ১৬ এবং ৬টি আসন এনডিএ-তে যোগ হয়। উদ্ধব, নীতীশ বেরিয়ে গিয়েছেন। রামবিলাসের মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে
চিরাগ পাসোয়ানের সঙ্গে সম্পর্কে তিক্ত হয়েছে বিজেপি-র। কর্নাটকে থেকেও আগের ২৫টি আসন ফিরে পাওয়া দুষ্কর বিজেপি-র, বিশেষ করে দেবগৌড়া যেখানে নীতীশের সিদ্ধান্তের সমর্থনে সরব হয়েছেন এবং কংগ্রেস-জেডিএস বোঝাপড়ার দিকে এগোচ্ছে। মহারাষ্ট্রে সরকার উল্টে দেওয়ার পর এখন উদ্ধবের শিবসেনা, শরদ পওয়ারের ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি
এবং কংগ্রেস একদিকে। ফলে দেবেন্দ্র ফড়নবীস এবং একনাথ শিন্দের হাতে ২০১৯-এর পুনরাবৃত্তি ঘটার সম্ভাবনাও ক্ষীণ। অসেম ফল যদি ভালও করে, বিরোধী জোটের আসন সংখ্যা ২৫-এর কাছাকাছি থাকবে। সেই হিসেবে লোকসভার ৫০৩ আসন যদি ধরা হয়, তার মধ্যে ২৩৫টি পার করা অসম্ভব বিজেপি-র পক্ষে।
আর এখানেই বিহার গেম চেঞ্জারের ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মত যোগেন্দ্রর। তাঁর হিসেব অনুযায়ী, এই মুহূর্তে বিহারের রাজনীতিতে একদিকে রাষ্ট্রীয় জনতা দল, সংযুক্ত জনতা দল, কংগ্রেস এবং বামেরদের ‘মহাজোট’। তাদের জোট সরকারে ছোট ছোট আরও কয়েকটি দল এবং নির্দলরা রয়েছেন। অন্য দিকে, বিজেপি এবং লোকশক্তি জনতা পার্টি (যদি চিরাগ রাজি হন)। সেই নিরিখে ‘মহাজোট’-র প্রাপ্ত ভোটের হার ৪৫ শতাংশ। বিজেপি এবং চিরাগের দলের মিলিয়ে ৩৫ শতাংশ, যা গেরুয়া শিবিরের জন্য
সুখকর নয় মোটেই। বিহারে বিজেপি এবং তাদের শরিকের আসনসংখ্যা যদি ৫ থেকে ১০-এর মধ্যে থাকে, সে ক্ষেত্রে হিন্দি বলয়ে তাদের প্রাপ্ত আসনসংখ্যা ১৩০ থেকে কমে ৭৫-এ এসে ঠেকবে। তেমন হলে ২৭২-এর ম্যাজি সংখ্যা ছোঁয়া হবে না বিজেপি-র। তাই বিহার থেকে যাতে কোনও ভাবেই বিজেপি ৩০টি আসন না পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে বিরোধীদের।
বিহারের ঘাটতি পোষাতে বাংলায় চাপ বাড়াবে বিজেপি!
২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে এখনও ২১ মাস বাকি। তাই আর একটি বালাকোট না হলে বিজেপি-র জয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে মনে করছেন যোগেন্দ্র। তাই নীতীশের বিরোধী শিবিরে প্রত্যাবর্তন ২০২৪-এর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তিনি। অন্য দিকে, বিহার হাতছাড়া হওয়ার পর আগামী কয়েক মাসে বাংলার উপর বিজেপি গুরুত্ব বাড়াবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ। বিশেষ করে তৃণমূলের একের পর এক নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পর বর্তমানে যা পরিস্থিতি, তাতে বিজেপি সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইবে না বলে মত তাদের। তার উপর সদ্য সমাপ্ত রাষ্ট্রপতি এবং উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান নিয়ে বিরোধী শিবিরেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হিন্দি বলয় থেকে নীতীশের মতো অভিজ্ঞ নেতা বিরোধী শিবিরের তুরুপের তাস হয়ে উঠতে পারেন। ছত্রখান অবস্থা থেকে কোনও ভাবে যদি বিরোধী শিবিরকে তিনি একছাতার নীচে আনতে সমর্থ হন, সত্যিই যদি ২০২৪-এ বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, সে ক্ষেত্রে জাতীয় রাজনীতিতে নীতীশের উচ্চতাও বাড়বে। দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নপূরণের পথ সুগম হবে অনেকটাই। তাই সমস্ত হিসেব নিকেশ করেই নীতীশ সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে নেমেছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।






