২ ঘণ্টার পারিশ্রমিক ১১ কোটি! কাদের থেকে, কী কাজের জন্য নিয়েছিলেন প্রশান্ত কিশোর?

Prashant Kishor’s ₹11 Crore Controversy:প্রশান্ত কিশোর যে সংস্থার কথা বলছেন, তার নাম নাভায়ুগা ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (Navayuga Engineering Company)।

inscript
৩ মিনিট
২ ঘণ্টার পারিশ্রমিক ১১ কোটি! কাদের থেকে, কী কাজের জন্য নিয়েছিলেন প্রশান্ত কিশোর?

বিহার নির্বাচনের আগে ফের আলোচনায় ভোটকৌশলী তথা জন সুরজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর। সম্প্রতি তাঁর একটি মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছিল জোর বিতর্ক— তিনি নাকি বলেছিলেন, মাত্র দুই ঘণ্টার পরামর্শের জন্য এক সংস্থা তাঁকে ১১ কোটি টাকা দিয়েছে। ভোটকৌশলী থেকে রাজনীতিবিদ— এই পথচলায় তাঁর আর্থিক উৎস নিয়ে প্রশ্ন ছিল অনেকের। সেই প্রশ্নের উত্তর তিনি নিজেই দিলেও, ফের শুরু হয়েছে জলঘোলা।

পিকের কথায়, তাঁর বক্তব্যের কিছু অংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়, যেখানে দাবি করা হয়— তিনি মাত্র দু-ঘণ্টায় দেওয়া পরামর্শের জন্য ১১ কোটি টাকা নিয়েছেন। প্রশান্ত কিশোর একটি সংবাদমাধ্যমে বলেন, “মিডিয়া আমার বক্তব্য এমন ভাবে ঘুরিয়ে দিয়েছে, যা একেবারেই ভুল।” পিকে আরও বলেন, “আমি কখনও বলিনি যে দু-ঘণ্টার জন্য ১১ কোটি টাকা নিয়েছি। আমি দু’ঘন্টার কথা উল্লেখ করিনি।” তবে ভিডিওটিতে পিকে-কে দু’ঘন্টার কথা স্পষ্ট বলতে শোনা গিয়েছে। যদিও ইনস্ক্রিপ্ট ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
প্রশান্ত কিশোরের নতুন রাজনৈতিক দলকে বিশ্বাস করে ঠকবেন বিহারবাসীরা?

Prashant Kishor Jan Suraaj Party: প্রশান্ত কিশোরের নতুন বিহারের স্বপ্ন দেখতে গিয়ে মানুষদের স্মৃতি থেকে কী করে মুছে যাবে গণহত্যার স্মৃতি?

পিকে ব্যাখ্যা দেন, “একটি সংস্থা তাদের তৈরি করা অ্যান্টি-এজিং পণ্যের প্রচার ও বিপণন নিয়ে তাঁর কাছে পরামর্শ চেয়েছিল; সেই পরামর্শ দিতে রাজি হই কারণ আমার জন সুরজের জন্য টাকার প্রয়োজন ছিল।” পিকে ওই সংবাদমাধ্যমে নিজেই বলেন, এখনও ওই পণ্য নাকি লঞ্চই করেনি; তিনি সংস্থাকে বলেছেন, পণ্যটি বাজারে আসলে তার প্রচারে সাহায্য করবেন। এর বদলে সংস্থাটি জন সুরজ পার্টিকে সহায়তা করেছে।

প্রশান্ত কিশোর যে সংস্থার কথা বলছেন, তার নাম নাভায়ুগা ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (Navayuga Engineering Company)। দক্ষিণ ভারতের এই সংস্থাটি ভারতীয় জনতা পার্টিকে ইলেকটোরাল বন্ডের মাধ্যমে মোট ৫৫ কোটি টাকা দান করেছিল। কোনো একটি সংস্থা যদি ক্ষমতাসীন দলকে এত বড় অঙ্কের টাকা অনুদান দেয়, তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে— এই অর্থ লগ্নির নেপথ্যে কি কোনো অন্য স্বার্থ রয়েছে? এই বিষয়টি নিয়ে আগেও বহু বিতর্ক হয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মিমকে টেক্কা দিয়ে বিহারী মুসলিমদের মনদখল করতে চাইছেন পিকে?

Political strategist Prashant Kishor: পিকের দাবি, মুসলিম ভোটারা প্রতি বার একপাক্ষিকভাবে আরজেডিকে ভোট দেন, কিন্তু বিনিময়ে তেমন কিছু পান না। উন্নয়ন, শিক্ষা বা চাকরির সুযোগ— কোনো ক্ষেত্রেই মুসলিম সমাজের বিশেষ উন্নতি হয়নি।

আইন অনুযায়ী ইলেকটোরাল বন্ডের মাধ্যমে দান করা বৈধ হলেও, অনেকেই মনে করেন এতে নীতি ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন থেকেই যায়— বিশেষ করে যখন সংস্থার আয়-ব্যয়ের হিসাব পরিষ্কার নয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে এই বিপুল অনুদান সাধারণ মানুষকে অবাক করে দিয়েছিল। আর এখন যখন জানা যাচ্ছে, জন সুরজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর ওই সংস্থার কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন, তখন আবারও ইলেকটোরাল বন্ড নিয়ে জালিয়াতি ও অস্বচ্ছতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে। প্রশ্ন উঠছে, কেন এবং কী উদ্দেশ্যে এই অর্থ নিয়েছিলেন প্রশান্ত কিশোর? যারা ভারতীয় জনতা পার্টিকে সাহায্য করেছে, তারাই প্রশান্ত কিশোরকে সাহায্য করছে তাহলে কি তিনটি পক্ষেরই স্বার্থ একে অন্যের সঙ্গে জড়িত? এই প্রশ্নও উঠছে।

এর আগে এক সাংবাদিক বৈঠকে প্রশান্ত কিশোর জানান, গত তিন বছরে তিনি মোট ২৪১কোটি টাকা আয় করেছেন। মূলত রাজনৈতিক পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেই এই অর্থ এসেছে বলে দাবি তাঁর। পিকের বলেন, “আমরা বিভিন্ন সংস্থা, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পরামর্শমূলক কাজ করি। তার জন্য আমরা পারিশ্রমিক পাই। এই কাজ থেকেই আয়।” তিনি আরও জানান, এই আয় পুরোপুরি বৈধ উপায়ে হয়েছে, এবং সরকারের কাছে করও দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “এই তিন বছরে প্রায় ৫১ কোটি টাকা কর হিসেবে সরকারকে দিয়েছি— এর মধ্যে জিএসটি ও আয়কর দুটোই আছে।” তাঁর দাবি, আয় থেকে প্রশান্ত কিশোর ৯৯কোটি টাকার বেশি দান করেছেন নিজের দল ‘জন সুরজ’-কে। পিকের কথায়, “আমরা চাই, আমাদের দল বাইরের কারও টাকায় না চলুক। সমাজের পরিবর্তনের জন্য আমরা নিজেদের উপার্জন থেকেই দলের খরচ চালাব।”

তবে ভোটের আগে এমন আর্থিক বিতর্ক অনেক সময় সাধারণ ভোটারের মনে সংশয় তৈরি করে। প্রশান্ত কিশোরের দাবি অনুযায়ী, তিনি স্বচ্ছভাবে আয় করেছেন, কর দিয়েছেন এবং দলের কাজের জন্য অর্থ ব্যয় করেছেন— এটি যদি প্রমাণসাপেক্ষ হয়, তাহলে তার ভালো ফল হলেও হতে পারে। কিন্তু অন্যদিকে, বিরোধীরাও এই ঘটনাকে নিজের মতো করে ব্যবহার করতে পারে। তারা বলতে পারে— প্রশান্ত কিশোর একদিকে পেশাদার পরামর্শদাতা, আবার অন্যদিকে জননেতা; এই দুই ভূমিকায় তিনি ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন, তা স্পষ্ট নয়। সত্যিই কি প্রশান্ত কিশোর ২ ঘণ্টার জন্য ১১ কোটি টাকা নিয়েছিলেন? পিকের দাবি অনুযায়ী, জন সুরজ পার্টিকে যে অর্থ দেওয়া হয়েছে, তা কতটা স্বচ্ছ? জন সুরজের ‘স্বচ্ছ রাজনীতি’র বার্তা কি এখনও বিশ্বাসযোগ্য থাকবে? সেই প্রশ্নও উঠছেই।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সরবোন থেকে যন্তরমন্তর: যে আগুন বারবার বদলে দেয় পৃথিবীকে

May 1968 France student protests: এই যে ছেলেমেয়েরা যন্তরমন্তরের রাস্তায় স্লোগান দিচ্ছে, ধারাশ্রাবণের ভয় পিছনে ফেলে পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে এগিয়ে গেল, দক্ষিণী এক বৃদ্ধ তার ধুতি সামলাতে সামলাতে ছুটছেন তাদের সঙ্গে—কী মনোরম এই বারিপাত! কেমন যেন একটা দুর্দান্ত ফ্ল্যাশব্যাকে ঘুরে গেল সময়।

অঙ্কিতা ভাণ্ডারী মামলা: তিন অভিযুক্তের সাজা হয়েও মেটেনি ‘ভিআইপি’ রহস্য

Ankita Bhandari case highlights :অঙ্কিতার বাবা-মা অভিযোগ করেছেন, গৌতমই সেই ভিআইপি, যিনি তাঁদের মেয়েকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে গৌতমের রাজ্যপাল নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে গিয়েছেন, এই যুক্তিতে যে এই ‘ভিআইপি’কে কোনো পদে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়ার আগে সিবিআই তদন্ত শেষ হওয়া উচিত।

জিডিপির বাইরে উন্নয়নের হিসাব, ভারতের অর্থনীতিকে অন্য চোখে দেখতে শিখিয়েছেন জঁ দ্রেজ

Economist Jean Drèze: দিল্লিতে সিজেপি বিক্ষোভের সময় পুলিশ আটক করল অর্থনীতিবিদ জঁ দ্রেজকে। অমর্ত্য সেনের সহযোগী এই অর্থনীতিবিদ MGNREGA ও জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ২০২৬- এ পেয়েছেন গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন: তারুণ্য যা শেখালো ইন্ডিয়া জোটকে

Youth Protests and Opposition Unity: সংসদীয় রাজনীতিতে যেখানে প্রবীণ নেতারা ঐক্যের পথ খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছিলেন, সেখানেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা ও বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত ক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজপথে নামা তরুণ প্রজন্ম বিরোধীদের নতুন করে এক ছাতার তলায় আসার পথ তৈরি করছে।

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।