বিলুপ্তির ৭০ বছর পর ফের ভারতের মাটিতে এক ডজন চিতা, ভারসাম্য রক্ষায় যে পদক্ষেপ করল ভারত

12 cheetahs at kuno National park : ভারতীয় বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে চিতাদের আজই কুনো ন্যাশনাল পার্কে নিয়ে আসা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে ট্যুইটার বার্তায়।

inscript
৩ মিনিট
বিলুপ্তির ৭০ বছর পর ফের ভারতের মাটিতে এক ডজন চিতা, ভারসাম্য রক্ষায় যে পদক্ষেপ করল ভারত

ভারতে আজ প্রায় ৭০ বছর ধরে নেই হয়ে যাওয়া পশুদের আবারও সংরক্ষণের পথে হাঁটছে সরকার। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে দুবার বেশ কিছু সংখ্যায় চিতা আনা হল মধ্যপ্রদেশের কুনো ন্যাশনাল পার্কে। এর আগে নামিবিয়া থেকে আটটি চিতা আনা হয়েছিল এখানে। আজ সেই তালিকায় জুড়তে চলেছে আরও এক ডজন চিতা। ভারতীয় বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে চিতাদের আজই কুনো ন্যাশনাল পার্কে নিয়ে আসা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে ট্যুইটার বার্তায়।

High Commissioner of India: HE Mr Jaideep Sarkar together with the Indian delegation have arrived at

and prepare to load the Galaxy Globemaster C17 transport from the Indian Air Force which will be transporting the cheetahs

— Environmentza (@environmentza)

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আরও ১০০ চিতা আসছে ভারতে! কেন এই চিতা আনার হিড়িক পড়ল দেশে?

Cheetah: নামিবিয়া থেকে ভারতে যে চিতা পাঠানো হলো তা প্রথম আন্তঃমহাদেশীয় স্থানান্তর।

এখানেই শেষ নয় আগামী পাঁচ বছরে বিভিন্ন ধাপে মোট পঞ্চাশটি চিতাবাঘ নামিবিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এ দেশে নিয়ে আসা হবে বলেই জানানো হয়েছে। একটা সময় এদেশেও চিতাদের সংখ্যা নেহাৎ কম ছিল না। পরবর্তীতে জলবায়ু পরিবর্তন এবং আরও বেশ কিছু কারণের জেরে আজ প্রায় সত্তর বছর হল বিলুপ্তির তালিকায় এরা। এখন দেশের হাতে গোনা কয়েকটি চিড়িয়াখানার খাঁচা ছাড়া আর দেখা যেত না চিতাকে। তাই এই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতেই আবারও নতুন করে এ দেশকে চিতাদের বাসযোগ্য করে তোলার সফর শুরু হয়েছে। এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব বলেন, ‘আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ১২টি চিতাকে ভারতে আনা হচ্ছে। ভারতীয় বায়ুসেনার গ্যালাক্সি গ্লোবমাস্টার C17-এ ১২টি চিতা দেশে আনা হচ্ছে। ১৯৫২ সালে ভারত সরকার চিতাদের বিলুপ্ত ঘোষণা করেছিল’।

WATCH: The 12 cheetahs are loaded onto the Galaxy Globemaster C17 transport from the Indian Air Force and are safely secured for the journey to their new home.

— Environmentza (@environmentza)

এই বিষয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বন বিভাগও একটি দীর্ঘ টুইটার থ্রেড শেয়ার করেছে, যাতে বলা হয়েছে, “১২টি চিতা আফ্রিকা ভারতে আসতে চলেছে, আগামী আট থেকে ১০ বছরের জন্য বার্ষিক আরও ১২টি করে চিতা হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।” জানা গিয়েছে, এই বারোটি চিতার মধ্যে পাঁচটি মহিলা এবং সাতটি পুরুষ। একটি আইএএফ C-17 গ্লোবমাস্টার বিমান 12টি চিতা বহন করে এমপির গোয়ালিয়রে অবতরণ করেছে। আরও জানা গিয়েছে, কাস্টমস এবং অন্যান্য ছাড়পত্রের পরে, তাদের M-17 চপারে সকাল 11 টার দিকে কুনো জাতীয় উদ্যানে নিয়ে যাওয়া হবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সুন্দরবনে কত বাড়ল বাঘের সংখ্যা, গণনায় উঠে আসবে যে তথ্য

Tiger : ক্যামেরা ফাঁদ পদ্ধতিতে আগামী তিন মাস চলবে বাঘ গণনা

An

C-17 aircraft carrying the second batch of 12

landed at AF Station Gwalior today, after a 10 hour flight from Johannesburg, South Africa.

These Cheetahs will now be airlifted in IAF helicopters and released in the

.

— Indian Air Force (@IAF_MCC)

ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। এই প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকা দেশটি চিতার মেটা-জনসংখ্যা সম্প্রসারণের উদ্যোগের অংশ হিসাবে চিতাকে ভারতে স্থানান্তর করবে এবং স্তন্যপায়ী প্রাণীদের পুনঃপ্রবর্তন করছে বলেই সূত্রের খবর।

ট্যুইটার বার্তায় জানা গিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে চিতাগুলিকে কুনো ন্যাশনাল পার্কে আনার পরে, তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে এবং তারপরে তাদের এক মাসের জন্য কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। সমস্ত চিতার গলায় রেডিও কলার লাগানো হবে বলেও জানা গিয়েছে। পাশাপাশি স্যাটেলাইট অভসারভেশনে রাখা হবে চিতাগুলিকে। সূত্রের খবর, এই ১২টি দক্ষিণ আফ্রিকান চিতা যেগুলি এদেশে পাঠানো হবে বলে নির্ধারণ করা হয়েছিল সেগুলিকে গত ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে ‘বিচ্ছিন্ন’ করেই রাখা হয়েছিল, যাতে নতুন দেশের নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। জানা যায়, আন্তর্জাতিক চিতা বিশেষজ্ঞ, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক এবং বন কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি পরামর্শমূলক কর্মশালা আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি কুনোতে অনুষ্ঠিত হবে।

| Indian Air Force’s (IAF) C-17 Globemaster aircraft carrying 12 cheetahs from South Africa lands in Madhya Pradesh’s Gwalior.

— ANI (@ANI)

ভারতে চিতা বিলুপ্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয় বেশ কিছু বছর আগে থেকেই। ২০০৯ সালে প্রথম আফ্রিকান চিতা আমার পরিকল্পনা করা হয় যদিও তার বাস্তবায়নে এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছিল। ২০২১ সালে নভেম্বর মাসের চিতা প্রবর্তনের পরিকল্পনা করা হলেও করোনা মহামারীর কারণে আবারও পিছিয়ে যায় কাজ। অবশেষে শুরু হল এই প্রক্রিয়া। আবারও ভারতে চিতাদের চরাচর নিয়ে এখন আশাবাদী দেশের বন বিভাগ।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জলবায়ু বদলেছে, নদীর প্রবাহ বদলেছে: ৩০ বছরের পুরনো ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তিতে কোন কোন পরিবর্তন দরকার?

A Flawed Pact of Farakka: ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ। বাংলাদেশের নদী বিশেষজ্ঞ মনজুর এ চৌধুরীর মতে, চুক্তিটি 'ত্রুটিপূর্ণ', এতে নেই গ্যারান্টি ক্লজ, নেই পরিবেশগত প্রবাহের হিসাব, নেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিধান। তাঁর প্রস্তাব, তিন বছরের নতুন অন্তর্বর্তী চুক্তি হোক, তারপর নেপালকে যুক্ত করে তৈরি করা হোক ত্রিপাক্ষিক কাঠামো।

থালায় খাবার, নাকি বিষ? খাদ্যব্যবস্থার ভিতরে যেভাবে ঢুকছে কীটনাশক ও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ

Poison on the Plate: বায়ার-মনসান্টো ও সিনজেনটার মতো 'বিগ সিক্স' কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বিশ্বের বীজ বাজার। ২০২৩ সালে ভারতে ১০,৭৮৬ জন খাদ্য উৎপাদক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৮ শতাংশ খাদ্য নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত গ্লাইফোসেটকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্ষতিকারক ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও এর ব্যবহার থামেনি। অন্যদিকে, প্রচারের অন্তরালে সিকিম আমাদের দেশের প্রথম শতভাগ জৈব কৃষির রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সারা বিশ্বজুড়ে কৃষিবিদ বন্দনা শিবার ‘পয়জন-ফ্রি ফুড অ্যান্ড ফার্মিং ২০৩০’ অভিযানের ডাক আমাদের খাবারের থালাকে বিষমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

তেলের বদলে বিদ্যুৎ! আরব সাগরের তলায় ভারত-সৌদির ৯ বিলিয়ন ডলারের মহাপ্রকল্প

India Saudi Arabia submarine power link: আরব সাগরের তলদেশ দিয়ে ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রস্তাবিত ২১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সাবমেরিন বিদ্যুৎ সংযোগের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হচ্ছে, যার ক্ষমতা থাকবে ৩ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের। প্রযুক্তি হিসাবে ব্যবহৃত হবে HVDC, এর ফলে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ বিলিয়ন ডলার। আজ, ৫ অক্টোবর, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা হবে প্রকল্পটির ব্যয় কমানো, অর্থায়ন মডেল ও ঝুঁকি ভাগাভাগি নিয়ে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ভারতের ওয়ান সান ওয়ান ওয়ার্ল্ড ওয়ান গ্রিড প্রকল্প ও জি-২০ তে প্রস্তাবিত ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এই প্রকল্পটিকে চিনের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভের বিকল্প হিসেবে দেখা যেতে পারে।

কয়লার দেশ হয়েও কেন বিদ্যুৎ সংকটে ভারত?

India's energy crisis 2026: হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায়, ভারতের ৮০ শতাংশের বেশি জ্বালানি আমদানি ধাক্কা খেয়েছে। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এক সময় জ্বালানিক্ষেত্রে ‘ঘাটতি নেই’ বললেও সেপ্টেম্বরে স্বীকার করলেন, জ্বালানির পরিস্থিতি বর্তমানে ‘টানটান’। ৭৬টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংকটজনক ভাবে মজুত করা কয়লায় চলছে। চলছে এলপিজির কালোবাজারি। ডিসকমগুলির বকেয়া জমে রয়েছে প্রায়, ৩,৩৩০ কোটি টাকা।

প্রকৃতির কোলে পিকনিক, শেষে প্লাস্টিকের পাহাড়: মানুষ কি সত্যিই প্রকৃতিকে ভালোবাসে?

Environmental Pollution: প্রশাসনের তরফে অতিরিক্ত দূষণ ছড়ানো কলকারখানা সিল করে দেওয়ার মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ হয়তো নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এতেই কি সমস্যার সমাধান মিলবে? কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যক্তিগত যানবাহনের দাপট এবং বৈদ্যুতিন বর্জ্য। শ্রমবিমুখ হয়ে সবকিছু প্রস্তুত পাওয়ার মানসিকতা এবং দেশে সংস্কারের লড়াই না করে সহজে অন্য দেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতাও স্পষ্ট। এই দায় এড়িয়ে কি সার্বিক সমাধান সম্ভব?

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।