অনিকেতের কর্মকাণ্ড দুঃখ দিয়েছে, মজা নিচ্ছে তৃণমূল! মুখ খুললেন অভয়ার বাবা-মা
Aniket Mahato: “যারা ভয় পেয়েছিল, তারা এখন মজা নিচ্ছে। অনিকেত খুবই দুঃখজনক ঘটনা ঘটিয়েছে।” বলেন অভয়ার বাবা।
অনিকেত মাহাতোর কর্মকাণ্ডে দুঃখিত অভয়ার বাবা-মা। WBJDF থেকে অনিকেতের সরে আসার ঘটনায় মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানালেন অভয়ার বাবা। বছরের প্রথম দিনই আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ অনিকেত মাহাতো পশ্চিমবঙ্গ জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের বোর্ড অফ ট্রাস্ট থেকে ইস্তফা দেন। কেন আচমকা এই পদত্যাগ, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অনিকেত তাঁর চিঠিতে ট্রাস্টের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের ইঙ্গিত দেন। বিশেষ করে জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের এক্সিকিউটিভ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ট্রাস্টের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তাঁর সংঘাত তৈরি হয় বলে দাবি করেন। অনিকেতের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া ‘অগণতান্ত্রিক’ এবং আরজি কর-কাণ্ডে নির্যাতিতার ন্যায়বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। অনিকেতের দাবি, তিনি একাধিকবার নিজের আপত্তির কথা ট্রাস্টকে জানালেও তা গুরুত্ব পায়নি।
অন্যদিকে, ১৪ জানুয়ারি বুধবার ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের সদস্যরা সাংবাদিক বৈঠক করে অনিকেতের অভিযোগ খারিজ করেন। দেবাশিস হালদার, আসফাকুল্লা নাইয়া এবং অর্ণব মুখোপাধ্যায় জানান, অনিকেতকে একাধিকবার ই-মেল করা হয়েছিল এবং দশ দিনের মধ্যে ইস্তফার কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর তরফ থেকে কোনো সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়ায় সংগঠন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, অনিকেতের সঙ্গে তাদের আর কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগে প্রশ্ন উঠছে, রাজনীতিই মুখ্য হয়ে উঠল? অভয়ার ন্যায়বিচারের দাবি কি তবে আজ হারিয়ে যেতে বসেছে?
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Junior Doctor's at Nabanna Meet: কার্যত ঠান্ডা মাথায়, শান্তভাবে, স্পষ্ট কথায় একের পর এক নিজেদের দাবি একঘর লোকের সামনে তুলে ধরলেন জুনিয়র ডাক্তারেরা।
অভয়ার বাবা ইনস্ক্রিপ্টকে জানান, “অনিকেত মাহাতোর WBJDF পছন্দ না। সংগঠনের ভিতরে বলতে পারত, চুপচাপ সরে আসতে পারত। প্রথমে বিষয়টাকে সাধারণভাবেই নিয়েছিলাম, ভেবেছিলাম কোনো সমস্যা হয়েছে; পরে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু এই যে কাদা ছোড়াছুড়ি, এটা আমাদের দুঃখ দিয়েছে। তাই মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছি।” অভয়ার ন্যায় বিচারের দাবিতে এবং স্বাস্থ্যক্ষেত্রে স্বচ্ছতার দাবিতে জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনের চাপে কার্যত শাসকের ভিত নড়ে গিয়েছিল। “যারা ভয় পেয়েছিল, তারা এখন মজা নিচ্ছে। অনিকেত খুবই দুঃখজনক ঘটনা ঘটিয়েছে।” বলেন অভয়ার বাবা।
পদত্যাগের পর আলাদা করে সাংবাদিক বৈঠক করেন অনিকেত মাহাতো। সেখানে তিনি জানান, তিনি আর সিনিয়র রেসিডেন্ট পদ গ্রহণ করবেন না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই পদ নিতে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার প্রয়োজন ছিল, যা জোগাড় করতে তিনি ক্রাউড ফান্ডিংয়ের আবেদন জানিয়েছেন। তবে এই বিষয়টি ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেবাশিস হালদার ও আশফাকুল্লা নাইয়া জানিয়েছেন, ক্রাউড ফান্ডিংয়ের আর্জিকে তাঁরা সমর্থন করেন না। অভয়ার বাবা অনিকেতের সিনিয়র রেসিডেন্ট পোস্টিং না নেওয়া নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ক্রাউড ফান্ডিংয়ের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, "আমার মেয়ের নাম করে ব্যক্তিগত স্বার্থে কেন টাকা তুলবে? WBJDF-কে মানুষ টাকা দিয়েছে অভয়া যাতে জাস্টিস পায়", বলেন আরজি করের নির্যাতিতার বাবা। অনিকেত মাহাতো বনাম জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের পুরো ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অভয়ার মা বলেন, "প্রথম থেকেই প্রতিটা রাজনৈতিক দলই আমার মেয়ের মৃত্যুকে কাজে লাগিয়ে তাদের পায়ের তলার জমি শক্ত করার চেষ্টা করেছে।"
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
RG Kar Medical College and Hospital : এই আন্দোলনের সীমাবদ্ধতার জায়গা যেমন আছে, ঠিক সেইরকম আন্দোলনের প্রাপ্তির জায়গাও আছে। এবং সেই প্রাপ্তি এক অনন্য নজির গড়ে ছিল।
ইতিমধ্যেই অনিকেত মাহাতোর একইসঙ্গে WBJDF ও সিনিয়র রেসিডেন্ট পদ ছেড়ে দেওয়ায় গুঞ্জন শুরু হয়েছে তিনি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না? আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ দেবাশিস হালদারও সেই সম্ভাবনা উস্কে দিয়ে জানান, অনিকেত যদি ভোটে লড়ার জন্য এগুলো করে থাকে, তাহলে তাঁকে শুভেচ্ছা। তবে অনিকেতের কর্মকাণ্ডে সংগঠনের (WBJDF) ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে এবং অভয়া আন্দোলন ব্যাকফুটে গেছে বলে তাঁর মত।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট আরজি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে যে জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন শুরু হয়, তার প্রথম সারিতে ছিলেন অনিকেত মাহাতো। ন্যায়বিচারের দাবি ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো সংস্কারের দাবিতে তিনি অনশনেও বসেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের বৈঠকে অনিকেতকে সরাসরি প্রশ্ন তুলতেও দেখা গিয়েছিল। যদিও আন্দোলনের সময় ফ্রন্টের একাংশের সঙ্গে তাঁর কৌশলগত মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। তবে অতীতের সংঘাত মনে রাখতে চান না বলেই জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন, আরজি কর-কাণ্ডে নির্যাতিতার ন্যায়বিচারের দাবিতে তাঁর লড়াই চলবে।






