বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে একবারও হারেনি আর্জেন্টিনা! যে ইতিহাস অক্সিজেন দিচ্ছে মেসিদের

ভারতীয় সময় রাত সাড়ে ১২ টা বাজতে আর কয়েকঘণ্টার অপেক্ষা। কাজ টাজ সেরে নজর রাখা লুসাইল স্টেডিয়ামে। কোয়ার্টার ফাইনালের চাপা উদ্দীপনা, টেনশন, রক্তচাপ বৃদ্ধি আরও একধাপ হয়তো বাড়বে। আর্জেন্টিনা বনাম ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ এমনিতেই ধুন্ধুমার লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে মেসি অন্যদিকে মদরিচ – বর্তমান ফুটবল বিশ্বের সেরা দুই নক্ষত্র পরস্পরের মুখোমুখি।
গত বিশ্বকাপে হারের প্রতিশোধ এবং মেসির স্বপ্নপূরণ, অকালপ্রয়াত মারাদোনাকে স্মরণ সমস্ত কিছু মিলিয়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ লা আলবিসেলেস্তেরা। কিন্তু প্রতিপক্ষের নাম যে ক্রোয়েশিয়া! শক্তিশালী মাঝমাঠ, পোস্টের নিচে লিভাকোভিচের দুরন্ত ফর্ম ও মদরিচ চিন্তা বাড়াচ্ছে মেসিদের। চিন্তা বাড়ছে আপামর আর্জেন্টিনা ভক্তদের।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
FIFA World Cup 2022 : শেষ বিশ্বকাপে কার স্বপ্নভঙ্গ হবে – মেসির না মদরিচের? নানা প্রশ্ন, পরিসংখ্যান, ভবিষ্যৎবাণী আর তত্ত্বের মাঝে রক্তচাপ বাড়ছে ভক্তদের।
কিন্তু ইতিহাসের দিক থেকে দেখলে, সেমি ফাইনাল এলে বরাবরই ভাগ্য কিছুটা ঝুঁকে থাকে নীল-সাদা ব্রিগেডের দিকে। কেন এমন কথা? কারণ বিশ্বকাপের পরিসংখ্যান বলছে, সেমি ফাইনালের মরণ বাঁচন ম্যাচে এখনও অবধি মুখ নিচু করে ফিরতে হয়নি আর্জেন্টিনাকে। প্রতিবারই জিতেছে তারা। এবার এই তথ্যটিও যেন আর্জেন্টিনার ভক্তদের বুকে অক্সিজেন জোগাচ্ছে।
এখনও অবধি মোট পাঁচবার সেমি ফাইনালের দরজায় পা রেখেছে আর্জেন্টিনা। এবং প্রতিবারই জয় এসেছে তাদের ঘরে। বিশ্বকাপের সূচনা থেকেই এই ইতিহাস আর্জেন্টিনার ‘বন্ধু’। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপ শুরু হয়। সে বছরই আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সেমি ফাইনাল খেলে আর্জেন্টিনা। আমেরিকাকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দেয় তারা।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
FIFA World Cup 2022 : কোপ নেমে আসতে পারে আর্জেন্টিনা ব্রিগেডের ওপর। জানা গিয়েছে, শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই ফিফা ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
এরপর আসে ১৯৭৮ এবং ১৯৮৬-র সেই খেলা। এই দু’টি বিশ্বকাপেই চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। ’৭৮-এ মারিও কেম্পেস এবং ’৮৬-এ দিয়েগো মারাদোনা এবং তাঁর ‘হ্যান্ড অফ গড’। গোটা আর্জেন্টিনা এখনও সেই মুহূর্তগুলিকে স্মরণ করে চলেছে। ’৮৬-র সেমি ফাইনালে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে মারাদোনার দানবিক পারফরমেন্স রীতিমতো রূপকথা হয়ে গিয়েছে।
১৯৯০ সালের বিশ্বকাপেও প্রবল বিক্রমে নিজেদের যাত্রা শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা। ইতালির বিরুদ্ধে সেমি ফাইনালের নির্ধারিত সময় ১-১ ড্র হয়। পরে গোলরক্ষক গায়কোচিয়ার অনবদ্য খেলায় পেনাল্টি শ্যুট আউটে জিতে যায় আর্জেন্টিনা। যদিও ফাইনালে জার্মানির সঙ্গে পরাজয় সমস্ত স্বপ্ন ভেঙে দেয়।
প্রায় একই ছবি দেখা যায় ২০১৪-র বিশ্বকাপে। এবার মঞ্চে মারাদোনা স্রেফ দর্শক, রণাঙ্গনে লিওনেল মেসি। তাঁর জাদুর সাক্ষী ছিল গোটা বিশ্ব। কিন্তু সেমি ফাইনালে নেদারল্যান্ড তাঁকে বাক্সবন্দি করে ফেলে। কিন্তু জাদু দেখান রোমেরো। আর্জেন্টিনার গোলরক্ষকের হাত ফের বাঁচিয়ে দেয় পেনাল্টি শ্যুট আউট। আর্জেন্টিনা ফের একবার ফাইনালে যায়। কিন্তু এবারও জার্মানির কাছে পরাজয়। আর ব্যবধান? সেই ১-০।
আরও একবার সেমি ফাইনালের মঞ্চে এসেছেন মেসিরা। পুরনো রেকর্ড কি এখনও অক্ষুণ্ণ থাকবে? বীর দর্পে ফাইনালে যাবেন মেসি, ডি মারিয়ারা? নাকি শেষ পর্যায়ে স্বপ্নভঙ্গ হবে নীল-সাদা জার্সির? আরও কিছুক্ষণ টেনশন থাকুক। ঘড়ির কাঁটা সদা তৎপর। বাঁশি এবার বাজল বলে!







