সেমি ফাইনালে অনিশ্চিত মেসি? ফিফার যে সিদ্ধান্ত ভয়াবহ রক্তচাপ বাড়াচ্ছে আর্জেন্টিনার
FIFA World Cup 2022 : কোপ নেমে আসতে পারে আর্জেন্টিনা ব্রিগেডের ওপর। জানা গিয়েছে, শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই ফিফা ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

হাতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময়। কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামের পড়ায় ৮০ হাজার দর্শকাসনও কানায় কানায় ভর্তি হওয়ার অপেক্ষায়। ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপ প্রায় শেষ লগ্নে। গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে প্রথম সেমিফাইনাল; মুখোমুখি আর্জেন্টিনা আর ক্রোয়েশিয়া। কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলকে পেনাল্টি শ্যুট আউটে হারানোর পর লুকা মদরিচদের উত্তেজনা তুঙ্গে।
অন্যদিকে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের সঙ্গে হারের পর একটু একটু করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে আর্জেন্টিনা। মেসিও নিজের ম্যাজিক ছড়িয়েছেন মাঠে। তাঁকে সঙ্গত দিয়েছেন এমি মার্তিনেজ, ডি মারিয়া, এঞ্জো ফার্নান্ডেজ, আলভারেজরা। সব মিলিয়ে কেবল কাতার নয়, গোটা ফুটবল বিশ্বই প্রথম সেমি ফাইনালের মহারণের উন্মাদনায় ফুটছে।
কিন্তু… এতো সবের পরেও এই শব্দটি বারবার এসে যাচ্ছে। যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে গোটা আর্জেন্টিনা দলটিই। সেমি ফাইনালের আগে হঠাৎই নেমে এল আশঙ্কার মেঘ। আর্জেন্টিনার বেশকিছু ফুটবলার গত ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখেছেন। স্বয়ং লিওনেল মেসিও সেই তালিকা থেকে বাদ যাননি। তবে তারও আগে ফিফার কোপ নেমে আসতে পারে আর্জেন্টিনা ব্রিগেডের ওপর। জানা গিয়েছে, শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই ফিফা ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
FIFA World Cup 2022 : বিশ্বের কিংবদন্তি দুই ফুটবল তারকার শেষ বিশ্বকাপ। এবার তাই নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করার লক্ষ্যে ঝাঁপিয়ে পড়বেন দু’জনেই।
সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ কথা, এই বিষয়টি নিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন স্বয়ং মেসি। তাঁর সঙ্গেই রয়েছেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমি মার্তিনেজ। ফিফা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলে হয়তো আজ মাঠে নামতে পারবেন না এই দু’জন। সেক্ষেত্রে প্রবল বিপদে পড়বে আর্জেন্টিনা। তাই ম্যাচ শুরুর আগেই কপালে ভাঁজ নীল-সাদা ব্রিগেডের।
ঘটনাটি ঠিক কী? সমস্ত কিছুর মূলে রয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালের সেই ম্যাচটি। নেদারল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনার সেই ম্যাচ শুরুর আগেই দু’পক্ষের ঠাণ্ডা লড়াই চলছিল। মাঠে রেফারির বাঁশি বাজার পর সেই উত্তাপ যেন আরও কয়েকগুণ বেড়ে গেল। কখনও সামান্য দৃষ্টি বিনিময়, কখনও আবার হাতাহাতি – গোটা ম্যাচের ছবিটাই ছিল এমন। রেফারি অ্যান্টনিও মাতেও লাহোজের বাঁশিও বারবার ম্যাচ থামিয়ে দিচ্ছিল।
এই সময়ই বল নিয়ে বাঁ দিক ধরে ওঠার সময় একটি ফাউল করে বসেন আর্জেন্টিনার ফুটবলার মার্কোস অ্যাকুনা। রেফারি থামানোর পরই তিনি বলটি সজোরে মারেন নেদারল্যান্ডের রিজার্ভ বেঞ্চের দিকে। ব্যস, আগুনে ঘি পড়াটাই কেবল বাকি ছিল। নেদারল্যান্ডের রিজার্ভ বেঞ্চের খেলোয়াড়, কোচ, কোচিং স্টাফ সবাই ক্ষেপে ওঠেন। দু’পক্ষের খেলোয়াড়দের মধ্যে শুরু হয় প্রবল হাতাহাতি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
FIFA World Cup 2022 : রেফারিং নিয়ে বিতর্ক বরাবরই ফুটবলের অন্যতম অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালের ওই ম্যাচটিতে সেই পারদ যেন একটু বেশিই উত্তপ্ত হয়েছিল।
এই সময় দেখা যায় এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। খেলার মাঠে বা মাঠের বাইরে লিওনেল মেসিকে সাধারণত শান্ত, চুপচাপ থাকতেই দেখা যায়। উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়, রণং দেহি মূর্তি খুব একটা দেখা যায়নি তাঁর। নেদারল্যান্ডের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে সেই ‘ব্যতিক্রমী’ মেসিকেই দেখা গেল। ডাচদের কোচ লুই ভ্যান গলের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। কেবল তাই নয়, ওই ম্যাচে হলুদ কার্ডও দেখেন মেসি। তখন রেফারি অ্যান্টনিও লাহোজের সঙ্গেও বচসায় জড়িয়ে পড়েন মেসি। ম্যাচের পরও সেই বিতর্ক জারি রাখেন তিনি। রেফারির সমালোচনাও করেছিলেন তিনি।
একই ছবি দেখা যায় এমি মার্তিনেজের ক্ষেত্রেও। তেকাঠির নিচে তাঁর হাত আর্জেন্টিনার অন্যতম ভরসা। নেদারল্যান্ড ম্যাচেও সেই ভরসার প্রমাণ রেখেছেন তিনি। টাই ব্রেকারে ডাচদের প্রথম দু’টি শটই রুখে দেন এমি। কিন্তু বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনিও। ডাচদের কোচ লুই ভ্যান গলের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করেন তিনি। সেইসঙ্গে রেফারি লাহোজকেও একহাত নেন।
খেলোয়াড়দের এমন আচরণ ও শৃঙ্খলারক্ষার বিষয়টি নিয়েই তাই নড়েচড়ে বসেছে ফিফা। জানা গিয়েছে, ফুটবল নিয়ামক সংস্থা তাদের ১২ ও ১৬ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের বিষয় নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। যদি প্রমাণিত হয় মেসি এবং মার্তিনেজ এই অনুচ্ছেদ ভেঙেছেন, তবে তাঁদের শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। সেক্ষেত্রে সেমি ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি খেলতে পারবেন না তাঁরা। যদি তাই হয়, তবে তা আর্জেন্টিনার জন্য যথেষ্ট চিন্তার কারণ। বিশেষ করে মেসির না থাকা চরম বিপদের মুখে ফেলতে পারে নীল-সাদা ব্রিগেডকে।
তবে এর বাইরেও হলুদ কার্ডের সংখ্যা অনেক। আর্জেন্টিনার মোট আটজন খেলোয়াড় সেদিন কার্ড দেখেছিলেন। তাঁদের মধ্যে গঞ্জালো মন্ত্রিয়েল এবং মার্কোস অ্যাকুনা সেমি ফাইনাল খেলতে পারবেন না। বাকিরা খেলার সুযোগ পেলেও অতিরিক্ত সাবধানতা নিয়ে খেলতে হবে। যদিও ফিফার নতুন সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের আগে অবধি ফুটবলের স্বাভাবিক নিয়মই চলবে। সেমি ফাইনাল থেকে সম্পূর্ণ নতুন একটি পর্যায় শুরু হবে। তাই কোয়ার্টার ফাইনালে কেউ যদি হলুদ কার্ড দেখে থাকেন, সেটি সেমি ফাইনালের খাতায় জায়গা পাবে না। তাই এই যাত্রায় কিছুটা চাপ কমেছে আর্জেন্টিনার।
তবে কোচ স্কালোনি নিজেদের আশা ধরে রেখেছেন। ক্লোজ ডোর প্র্যাকটিস থেকে শুরু করে ট্যাকটিকাল পরিবর্তন - সবই চলছে নিজের গতিতে। ক্রোয়েশিয়ার ক্যাপ্টেন লুকা মদরিচকেও সমীহ করছেন তিনি। অন্যদিকে, ক্রোয়েশিয়ার কোচও ভরসা রাখছেন তাঁর দলের প্রধান স্তম্ভের প্রতি। নিজেদের মাঝমাঠই যে প্রধান শক্তি, সেই কথাও সাংবাদিক সম্মেলনে উল্লেখ করেছেন তিনি।
আপাতত এসবেরও আগে আর্জেন্টিনা টিম ও ভক্তরা তাকিয়ে ফিফার দিকে। এখনও মেসি, মার্তিনেজের খেলা নিয়ে কিছু বলেনি তারা। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মেসি আদৌ নামতে পারবেন কিনা, সেই প্রশ্নই তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে গোটা বিশ্বকে। আগেও বার্সেলোনা বনাম রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচে বহুবার দু'জনের মুখোমুখি হয়েছেন মেসি এবং মদরিচ। এল ক্লাসিকোর সেই উত্তাপ কি শেষ বিশ্বকাপে নিয়ে আসবেন? আপাতত মেসি আর ফিফার দিকেই তাকিয়ে স্কালোনিরা।







