দেশ জুড়ে ‘বাঙালি খেদাও’, একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির ক্ষেত্রেই কি প্রযোজ্য?

Citizenship under suspicion : লক্ষ্য করা উচিত, বাঙালি ছাত্রদের, বাঙালি ডাক্তারদের, বাঙালি ইঞ্জিনিয়ারদের, বাঙালি শিক্ষকদের ওপর কিংবা অন্যান্য জীবিকার সঙ্গে সংযুক্ত বাঙালিদের ওপর  কিন্তু এই আক্রমণ ঘটছে না।

Pabitra Sarkar
২ মিনিট
দেশ জুড়ে ‘বাঙালি খেদাও’, একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির ক্ষেত্রেই কি প্রযোজ্য?

সারা দেশে বাঙালির প্রতি একটা ‘অপর’ মনোভাব সব সময়ই ছিল। শুধু বাঙালিদের বাঙালিদের প্রতিই নয়, তেলুগুদের প্রতিও ছিল। তবে বাঙালির প্রতি ‘অপর’ মানে বাঙালিরা নিকৃষ্ট, বাঙালিরা খারাপ, এই সমীকরণটা আমি মেনে নিতে পারছি না। আমার যতটুকু জ্ঞানবুদ্ধি, আমি এই বিষয়টিকে 'বাঙালি খেদাও' হিসেবে দেখছিই না। যদিও আসামে এই বাঙালি খেদাও বিষয়টি বেশ ব্যাপক। সেখানে শ্রেণি নির্বিশেষে বাঙালিদের সম্পর্কে অস্বস্তি ও বৈষম্য ভালোভাবেই লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু ভারতের অন্যান্য জায়গায় বাঙালি মাত্রই আক্রমণের শিকার হচ্ছে, এমনটা বললে হয়তো ভুল বলা হবে। হ্যাঁ, কোথাও-কোথাও বাঙালি বিদ্বেষ ও সে-সম্পর্কিত ঘটনার কথা জানতে পারা গেছে। কিন্তু সারা দেশের নিরিখে, সব ক-টি রাজ্যের প্রেক্ষিতে ‘বাঙালি খেদাও’ কথাটি যথাযথ নয়।

গুরুগ্রাম, গুজরাট

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ক্ষুদ্র হিন্দুত্ব ও ক্ষুদ্র সেকুলারের বিতর্কে বিবেকানন্দকে ফেলা যাবে না

Swami Vivekananda: যেহেতু বাগ্মী সন্ন্যাসী হিসেবে নানা সময় নানা নিদান দিতে হয় সেহেতু কখনও একথা, কখনও ওকথা। যেন নিরুপায় হয়েই পথ অনুসন্ধান করছেন।

আসলে, ‘বাঙালি খেদাও’ বলে আমরা সম্পূর্ণ বাঙালি জাতিকেই নির্দেশ করতে চাইছি। কিন্তু ভারতের বিভিন্ন জায়গায়, ভিন্ন-ভিন্ন রাজ্যগুলিতে প্রধানত বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদেরই বেশি পরিমাণে আক্রমণের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। লক্ষ্য করা উচিত, বাঙালি ছাত্রদের, বাঙালি ডাক্তারদের, বাঙালি ইঞ্জিনিয়ারদের, বাঙালি শিক্ষকদের ওপর কিংবা অন্যান্য জীবিকার সঙ্গে সংযুক্ত বাঙালিদের ওপর কিন্তু এই আক্রমণ ঘটছে না। আক্রমণ ঘটছে প্রধানত বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে। অর্থাৎ এই বিষয়টির একটি নির্দিষ্ট শ্রেণি চরিত্র আছে। এই শ্রেণি চরিত্র থাকার অনেকগুলি কারণ আছে বলে আমার মনে হয়। তার মধ্যে একটা কারণ হল, ভিন্ন রাজ্যের স্থানীয় শ্রমিকেরা বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের ভয় পায়, তারা মনে করে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য তাদের কাজ চলে যাবে। তাদের জীবিকাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

‘বাঙালি খেদাও’-র ক্ষেত্রে পরিযায়ী শ্রমিকদের যে আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে তার আরেকটি কারণ হল, সারা ভারতে যে ‘হিন্দুত্ববাদ’ জেগে উঠেছে এবং ক্রমাগত হিন্দি ভাষাকে প্রধান ভাষা হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে, এর একটা প্রভাব বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপরেও পড়েছে। এখানে দুটি বিষয় বলা দরকার। বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলা ভাষার জন্য যেমন আক্রমণের সম্মুখীন হতে হচ্ছে, তেমনই ভারতে বসবাসকারী বাঙালি মুসলমানদের ‘বাংলাদেশি’ বলে ধরে নিয়ে তাদেরকে আক্রমণ করা হচ্ছে। দেশে হিন্দুত্ববাদের বাড়তে-থাকা প্রভাব এর একটা অন্যতম কারণ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কোনও পক্ষকে রেয়াত করেননি, হিন্দুত্বকে দূরে ঠেলে কেন বৌদ্ধধর্ম বেছেছিলেন আম্বেদকর?

Ambedkar and Buddhism: আম্বেদকর ব্রিটিশ সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছিলেন, দলিতদের সংখ্যালঘু ঘোষণা করা হোক।

জে জে কলোনি দিল্লি

পেটের খিদের জন্য কেউ নিজের রাজ্য ছেড়ে দেশের যেখানে খুশি যেতেই পারে। সে-অধিকার তাদের আছে। বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকরাও সেভাবেই অন্য রাজ্যে যায়। কিন্তু ভাববার মতো বিষয় হল, সারা দেশে ছড়িয়ে-থাকা বিভিন্ন জীবিকার বাঙালিদের মধ্যে কেন বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপরেই প্রধানত অত্যাচার চলছে! এর একটা সহজ উত্তর হল, পরিযায়ী শ্রমিকরা দুর্বল এবং তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। তাদের অনায়াসেই তাই আক্রমণ করা যায়। এবং যেহেতু বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে অধিকাংশই মুসলমান তাই বাংলাদেশি সন্দেহে তাদের আরও বেশি পরিমাণে হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে। আসলে সারা দেশে এখন মুসলমানরা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক, এমন একটা আবহ তৈরি হয়েছে। এই আবহ-ই, বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের অত্যাচারের কারণগুলির সঙ্গে জড়িত।

আমার মনে হয়, এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকারের উচিত দেশে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এই সচেতনতা তৈরি করা যে এ-দেশের মুসলমান বাঙালিরাও ভারতেরই নাগরিক। সংবিধান অনুযায়ী তারা দেশের মধ্যে যে-কোনো রাজ্যে গিয়ে নিজের রুজি-রুটির ব্যবস্থা করতে পারে। এ তাদের রাষ্ট্রগত অধিকার, এ-কথা যেন কেউ ভুলে না যাই।

লিখেছেন
Pabitra Sarkar
Pabitra Sarkar
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘মহাকাব্য যদি কোথাও জন্মে থাকে, তবে তা ফুটপাতে’—কৃষ্ণপ্রিয় দাশগুপ্তের সঙ্গে 'আড্ডা'য় অত্রি ভট্টাচার্য

The Other Kolkata of krishnapriya Dasgupta: কলকাতার সেই অচেনা ফুটপাতের মানুষরা কীভাবে বেঁচে থাকেন? সাংবাদিকতার দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় আজকালের প্রাক্তন সাংবাদিক কৃষ্ণপ্রিয় দাশগুপ্ত কী দেখেছেন? আর আজকের সংবাদমাধ্যম কেন বদলে গেল তাঁদের দেখার চোখে? তাঁর স্মৃতি, সাংবাদিকতা ও আজকের বদলে যাওয়া শহর নিয়েই তাঁর সঙ্গে আলাপচারিতায় অত্রি ভট্টাচার্য।

১৯৭১ থেকে ২০১১: কলকাতার ফুটপাথে থাকা মানুষদের রোজনামচা কেমন ছিল?

Kolkata pavement dwellers survey: ১৯৭১ থেকে ২০১১—এই চার দশকে কলকাতার ফুটপাথবাসীর সংখ্যা ৫০ হাজার থেকে বেড়ে প্রায় ৭০ হাজারে পৌঁছেছে। ফুটপাথবাসীদের নির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা নেই। কেউ থাকেন উড়ালপুলের নীচে, কেউ রেললাইনের পাশে, আবার কেউ পরিত্যক্ত পাইপের ভিতরে। শহরের অসংগঠিত অর্থনীতিতে ফুটপাথবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের জীবনযাপন, কাজ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি নিয়ে অতীতে বেশ কিছু গবেষণা ও সমীক্ষাও হয়েছে।

শুধু আমেরিকা বা আফ্রিকাতেই নয়, বাংলাতেও ছিল দাসপ্রথা

International Day for the Remembrance of the Slave Trade and its Abolition: ২৩ আগস্ট আন্তর্জাতিক দাসব্যবসা স্মরণ দিবস। হাইতির দাসবিদ্রোহের পাশাপাশি স্মরণ করতে হবে, বাংলার মাটি থেকে লক্ষাধিক মানুষকে বলপূর্বক নির্বাসিত করার ইতিহাস। চট্টগ্রাম, হুগলি, সুন্দরবন হয়ে আরব, আফ্রিকা, মরিশাসে পৌঁছেছেন বাংলার দাসেরা। শুধু ইতিহাসে নয়, আজও বাঙালির আন্তর্জাতিকতা চর্চায় দাসেদের উল্লেখ প্রাসঙ্গিক।

ঘাড়ধাক্কা খেয়ে ওপারে, বাংলাদেশে যেভাবে বেঁচে আছেন সাইদা ফকির

Saida Fakir Deportation: বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগের পর কী ভাবে দিন কাটছে সাইদা ফকিরের? বাংলাদেশের কোথায় আছেন? কারা আশ্রয় দিল তাঁকে?

সোনালি সুইটির পর এবার সাইদা, 'ঘাড়ধাক্কা'র তালিকায় নতুন নাম যে প্রশ্ন তুলছে

Saida Fakir Case: সাইদা ফকিরকে বাংলাদেশি সন্দেহে সীমান্ত পার করে দেওয়ার অভিযোগ নতুন করে নাগরিকত্ব যাচাই ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সোনালি খাতুন ও সুইটি বিবির ঘটনারই যেন পুনরাবৃত্তি। কাউকে দেশছাড়া করার আগে যথাযথ তদন্ত ও সাংবিধানিক সুরক্ষা কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, সেই বিতর্ক ফের উঠে এসেছে।

ফিরে দেখা: সোনালি-সুইটিদের নরক যাত্রা

Sonali Khatun, Sweety Bibi: দু'দশক দিল্লিতে থাকার পরও কেন সোনালি খাতুন ও সুইটি বিবিদের ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে সীমান্ত পেরিয়ে পাঠানো হলো? নাগরিকত্বের নথি থাকা সত্ত্বেও কেন জেল, পুশব্যাক ও অপমানের শিকার হতে হলো তাঁদের? সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ কি প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও মানবাধিকার প্রশ্নকে আরও সামনে এনে দিল?

উচ্চমাধ্যমিকে রাজ্যে নবম, তবু ফল প্রকাশের দিন হোটেলে কাজে ব্যস্ত সাগর

Sagar Mondal: উচ্চমাধ্যমিকে রাজ্যে নবম। মোট ৪৮৮ নম্বর। কিন্তু ফল প্রকাশের দিন বাড়িতে নয়, গুজরাটের আমেদাবাদের একটি হোটেলে কাজে ব্যস্ত ছিল পূর্ব বর্ধমানের সাগর মণ্ডল। পরিযায়ী শ্রমিকের ছেলে সাগরের স্বপ্ন আইএএস হওয়ার।