ক্ষুদ্র হিন্দুত্ব ও ক্ষুদ্র সেকুলারের বিতর্কে বিবেকানন্দকে ফেলা যাবে না

Swami Vivekananda: যেহেতু বাগ্মী সন্ন্যাসী হিসেবে নানা সময় নানা নিদান দিতে হয় সেহেতু কখনও একথা, কখনও ওকথা। যেন নিরুপায় হয়েই পথ অনুসন্ধান করছেন।

Biswajit Ray
৪ মিনিট
ক্ষুদ্র হিন্দুত্ব ও ক্ষুদ্র সেকুলারের বিতর্কে বিবেকানন্দকে ফেলা যাবে না

হ্যাঁ ঊনচল্লিশ বছরে প্রয়াত যুবক-সন্ন্যাসীর কথা পাশাপাশি রাখলে স্ববিরোধ খুঁজে পাওয়া যাবে। যাঁরা বিবেকানন্দের লেখা মন দিয়ে পড়েছেন তাঁরা জানেন, তাঁর লেখার মধ্যে ভীষণ ছটফটে-টগবগে প্রাণবন্ত ভাব। মানুষটি বাগ্মী। বাগ্মী মানুষটি ইংরেজি চমৎকার বলেন, এছাড়া হিন্দি-সংস্কৃত-বাংলা তো আছেই। উর্দুও জানেন খানিক আর ফরাসিও কিছু রপ্ত করেছিলেন। এই টগবগে মানুষটি ধর্মের বস্ত্র ধারণ করেছিলেন, সন্ন্যাস নামক মার্গটিকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করছিলেন। সন্ন্যাস তাঁর কাছে কাজ করার উপায়, নিজের জন্য নয় দেশের জন্য কাজ। আর বিপত্তি সেখানেই। দেশের রূপ কেমন হবে? সংসার-পরিবার এসবের চেহারাই বা হবে কেমন? উনিশ শতকে হিন্দু ছাড়া অন্য ধর্মাবলম্বীদের অবস্থা ও অবস্থান সম্পর্কে কী তাঁর মতামত? মেয়েদের কেমন করে দেখতে চান তিনি? এসব নানা বিষয়ে নানা সময়ে নানা ভাবনা – বলেছেন, লিখেছেন। লিখেছেন বাংলায়, বলেছেন ইংরেজিতে। ইংরেজি বলাগুলির লেখরূপ নির্মিত হয়েছে। এছাড়া আছে বাংলার মতো ইংরেজিতে লেখা চিঠিপত্র। তাঁকে বুঝতে গেলে এই যাবতীয় লেখাপত্র কালানুক্রমে সাজিয়ে নেওয়া উচিত। তারপর চিন্তাসূত্র বিচার করা জরুরি। অর্থাৎ আগে যা বলছেন পরে তা শুধরে নিচ্ছেন কি? রবীন্দ্রনাথ যেমন দীর্ঘজীবনের অধিকারী ছিলেন বলে আগের অনেক বলা পরে শুধরে নিয়েছেন। নিজের অনেক কাজ পরে সংশোধনে সচেষ্ট হয়েছেন। গান্ধী বলতেন তিনি আধ্যাত্মিক নৈরাজ্যবাদী। তাঁর আগের বলা কথা নয় পরের বলা কথাই গ্রহণ করতে হবে। তাঁর অন্তরের অনুভূতিই তাঁর পথ প্রদর্শক।

বিবেকানন্দের বাজার-চলতি যে লেখাপত্র পাওয়া যায় তা কালানুক্রমে সাজানো নয়। এই কাজটি তাঁকে অনুসরণ করার জন্য সবার আগে করা চাই। তারপরেও দেখা যাবে একটা কথার সঙ্গে আরেকটা কথার যেন দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে। একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। তখনও তিনি শিকাগো ধর্ম মহাসভায় উপনীত হননি। চিঠিতে লিখছেন, "তুমি দাসী কেন লিখিয়াছ? বৈশ্য ও শূদ্রেরা দাস ও দাসী লিখিবে, ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয় দেব ও দেবী লিখিবে। ... কে কাহার দাস? সকলেই হরির দাস।" শোলাপুর প্রবাসিনী জনৈক বাঙালিনী শিষ্যাকে লেখা এই চিঠির বয়ান যদি খেয়াল করা যায়, তার মধ্যে কি একরকম স্ববিরোধিতা নেই! আছে তো! বর্ণাশ্রমের বিচারে কারা দাসী আর কারা দেবী লিখবেন তা নির্দেশ করছেন। পরক্ষণেই লিখছেন সকলেই হরির দাস। চৈতন্যদেব হরিভক্তিপরায়ণ চণ্ডালকে ব্রাহ্মণের থেকে শ্রেষ্ঠ বলে নির্দেশ করেছিলেন। এখানে বিবেকানন্দ হরির দাস কথাটি বলেছেন। গান্ধী পরে ব্যবহার করবেন হরিজন শব্দটি। ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে বিবেকানন্দ যখন প্রয়াত হলেন তখন রবীন্দ্রনাথের ব্রহ্মচর্যাশ্রম সবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেখানেও রবীন্দ্রনাথ বর্ণব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার মতো বিপ্লব তখন ঘটাতে পারেননি। ক্রমে শান্তিনিকেতনের ব্যবস্থা উদার হয়েছে। বিবেকানন্দ কায়স্থ সন্ন্যাসী, এ-বিষয়ে তাঁকে নানা কটুকথা শুনতে হয়েছে। তার উপরে আবার কালাপানি অতিক্রম করেছেন। ফলে ভারতবর্ষের সমস্ত মন্দিরে তাঁর প্রবেশাধিকার ছিল না। যে বিবেকানন্দ নিজেই বর্ণভেদের শিকার তিনি তাহলে ব্রাহ্মণ-ক্ষত্রিয়, বৈশ্য-শূদ্র ইত্যাদি ভাগ করছেন কেন? যিনি, মহেন্দ্রনাথ দত্তের লেখার সূত্রে জানা যাচ্ছে, বিভিন্ন জাতির হুঁকোয় মুখ দিয়ে জাত-বিচার আছে কি নেই কিম্বা জাত যায় কি না তা বুঝতে চাইছেন তাঁর কেন এমন পত্র!

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাংলায় রেনেসাঁসের ধারাকে আটকে দিয়েছিলেন বিবেকানন্দ | মুখোমুখি আশীষ লাহিড়ী

Swami Vivekananda Contradiction: বিবেকানন্দের শিকাগোর বক্তৃতাও তো নারীবিদ্বেষে ভরা! মানে ওঁর নিজেরই তো কথা, "স্বর্গস্ত পিতার মতো পুণ্য হওয়াই হিন্দুধর্ম..."

বিবেকানন্দের স্ববিরোধ সেই সময়ের ও এই সময়ের অনেকের মতোই সমাজ নামক সংগঠনটিকে কতটা ভাঙা যায় বা যায় না এই প্রশ্নের উপরে দাঁড়িয়ে। যেহেতু বাগ্মী সন্ন্যাসী হিসেবে নানা সময় নানা নিদান দিতে হয় সেহেতু কখনও একথা, কখনও ওকথা। যেন নিরুপায় হয়েই পথ অনুসন্ধান করছেন। এর মধ্যে মতলববাজি নেই, সময়ের নিরুপায়ত্ব আছে। আধ্যাত্মিক গুরু হিসেবে তাঁকে আমরা পুজো করি এবং আধ্যাত্মিক গুরুর কাছ থেকে আপ্তবাক্য শুনতে চাই বলে তাঁর চিত্তের টানাপড়েনটিকে গুরুত্ব না দিয়ে তাঁকে ভণ্ড সাধু বলে চিহ্নিত করার নানা অপপ্রয়াস। কথা ও কাজের মধ্যে মিল নেই বলে দাগিয়ে দেওয়া।

এর বাইরে গিয়ে বিবেকানন্দের কথা বলা ও লেখা যদি কালানুক্রমে পড়ি তাহলে টের পাওয়া যাবে, মানুষটি হৃদয়বান। শরৎচন্দ্রের উপন্যাসে এমন অনেক নারীর পরিচয় পাওয়া যায় যাঁরা এক অর্থে উদার-মানবিক, অন্যদিকে আবার রক্ষণশীল। শরৎচন্দ্র সামাজিক কাঠামোকে ভেঙে ফেলতে চাননি, তার মধ্যে থেকেই কাঠামোটিকে সম্প্রসারিত করতে চেয়েছিলেন। সে ভূমিকা বিবেকানন্দও গ্রহণ করেছিলেন। উৎসাহের এই আতিশয্য ও তীব্রতা নজরুলের মানবিকতার মধ্যেও দেখা যায়। প্রসঙ্গত মনে রাখতে হবে, বিবেকানন্দ কোনও হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম গ্রহণ করেননি। বরং তাঁর কথার মধ্যে এমন অনেক উপাদান আছে যা মানবিকতার সত্যকে তুলে ধরে। বিবেকানন্দের ভাই ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত সেই বিষয়গুলি খেয়াল করিয়ে দিয়েছেন। বিবেকানন্দ ও বঙ্কিমচন্দ্রকে এখনকার উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির অংশীদাররা নিজেদের কাজে ব্যবহার করতে চাইবেন। তাঁদের সেই কাজে আমরা সুবিধে করে দেওয়ার জন্য বিবেকানন্দকে ছেড়ে দেব না। বরং আরও মন দিয়ে তাঁর লেখা পড়া উচিত। কোনও প্রতিষ্ঠানের সূত্রে নয় – বিবেকানন্দের লেখার শর্তেই তাঁকে তাঁর যাবতীয় স্ববিরোধ ও মানবিক আবেগ নিয়ে পড়তে হবে। কুয়োর ব্যাঙের হিন্দুত্ব ও কুয়োর ব্যাঙের ধর্মনিরপেক্ষতার বাইরে গিয়ে তাঁর চিন্তার ইঙ্গিত ও ইশারা পড়া দরকার। ১৯০২। তাঁর প্রয়াণ বছর। ভারতীয় চিন্তকদের চিন্তাপ্রণালী লক্ষ্য করলে দেখা যাবে উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে এই মানুষটি পাশ্চাত্যে ভারতবর্ষের আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা নিয়েছেন – দেশ-কালের সূত্রে বিদেশে নিজের দেশকে ইতিবাচকভাবে প্রকাশ করতে গিয়ে কিছু কৌশলের সাহায্যও নিয়েছিলেন। ধর্মজীবন তাঁর অঙ্গাঙ্গী হয়ে উঠেছিল বলেই বোঝাপড়া কঠিনতর হয়ে পড়ে।

সবচেয়ে বড় কথা এই হৃদয়বান, উদ্যমশীল মানুষটি সেই সময় স্বাদেশিক আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সফল হয়েছিলেন। ক্ষুদ্র হিন্দুত্ব ও ক্ষুদ্র সেকুলারের বিতর্কে তাঁকে ফেলে সাধারণ সামাজিক মানুষের ক্ষতি হবে। বিশেষত তাঁর শেষ জীবনের যাপনদৃশ্য যা চিঠিতে ধরা পড়েছে তা পড়লে বোঝা যায় তিনি যেন নিজেই নিজের কাজের পুনর্বিচার করছেন। তখন তো সময় ফুরিয়ে গেল। প্রিয় হাঁস আর ছাগল, মঠের শ্রমিকদের সঙ্গ ফেলে চলে গেলেন। নিবেদিতার কেঁদে কেঁদে চোখ লাল হয়ে গেল। এ দেশেই থেকে গেলেন। এদেশের স্বাদেশিক মর্যাদাবোধের জাগরণে আত্মনিয়োগ করলেন।

লিখেছেন
Biswajit Ray
Biswajit Ray
6 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।