নেশা প্রত্নতত্ত্ব, দশ হাজারের বেশি প্রত্নবস্তু দিয়ে সুন্দরবনে সংগ্রহশালা গড়লেন মৎসজীবী

Sundarbans Museum: এই সংগ্রহশালা ঘুরে দেখার জন‍্য তিনি কোনও অর্থ নেননা। নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরে যেটুকু অর্থ উপার্জন হয় তার সবটুকু দিয়েই এই সংগ্রহশালা তৈরি হয়েছে।

subhajit putatunda
২ মিনিট
নেশা প্রত্নতত্ত্ব, দশ হাজারের বেশি প্রত্নবস্তু দিয়ে সুন্দরবনে সংগ্রহশালা গড়লেন মৎসজীবী

পেশায় সুন্দরবনের মৎস্যজীবী হলেও নেশা প্রত্নতাত্ত্বিক জিনিস সংগ্রহ। সুন্দরবনের সুপ্রাচীন ইতিহাসকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে একাই লড়াই করছেন সুন্দরবনের প্রত‍্যন্ত অঞ্চলের এক মৎস‍্যজীবী বিশ্বজিৎ সাহু। সম্পূর্ণ নিজের উদ‍্যোগে সুন্দরবনের বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপ জি প্লটের গোবর্ধনপুরে গড়ে তুলেছেন সংগ্রহশালা। তাঁর সংগ্রহশালায় রয়েছে দশ হাজারেরও বেশি প্রত্নবস্তু। সুন্দরবনের ছোট্ট দ্বীপ গোবর্ধনপুরের সাগরের ধারে টালির বাড়িতে জন্ম বছর ৫০-এর বিশ্বজিৎ সাহুর। বংশ পরম্পরায় জেলের কাজই করে আসছেন তাঁরা। জন্ম থেকে প্রায় তিরিশটি ভয়ঙ্কর বন্যার সম্মুখীন হয়েছেন তিনি। বারবার তলিয়ে গিয়েছে ভিটেমাটি, হয়েছেন সহায় সম্বলহীন। তবুও ছাড়েননি ভিটে , ছাড়ার কথা ভাবেনওনি। তবে বঙ্গোপসাগরের করাল গ্রাসে বাঁধ ভেঙে জল প্রবেশ করেছিল এলাকায়। বাধ‍্য হয়ে একসময় তাই জি প্লটে বুড়োবুড়ির তটে চলে আসেন। অভাবের সংসারে পড়াশোনা ছিল বিলাসিতা। তবে ছোট থেকে অজানাকে জানার আগ্রহ ছিল প্রবল। পড়াশোনার বদলে জাল হাতে সংসারের হাল ধরতে হয়েছিল ১৪ বছর বয়স থেকেই। করতে হয়েছে দিনমজুরের কাজও।

গোবিন্দপুরে এক হাজার হেক্টর জমিতে ছড়িয়ে থাকা একটি বন থেকে বিশ্বজিৎ সাহুর সংগ্রহ অভিযানের শুরু। বিরাট জমিটি একসময় সাগরের বুকে ডুবে ছিল। এরপর সাগরে, সুন্দরবনের নদীতে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে অদ্ভুত অদ্ভুত সব পুরোনো দিনের জিনিস চোখে পড়লে সেগুলোকে তুলে এনে নিজের বাড়িতে রাখতেন তিনি। তখনও সেসবের মাহাত্ম্য বোঝার জ্ঞান হয়নি। ১৬ বছর বয়সে আ্যপেনডিসাইটিসের চিকিৎসার জন‍্য কলকাতার যাওয়ার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সেখানে তিনি জাদুঘর দেখে প্রত্নতত্ত্বের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেন। সেই থেকে শুরু হয় তাঁর সংগ্রহশালা তৈরির স্বপ্ন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
প্রেমেন্দ্র মিত্রের কথায় সুর দিয়েছেন শচীন থেকে সুধীন, তবু অন্তরালেই গীতিকার

Premendra Mitra: ‘প্রতিশোধ’ (১৯৪১) সিনেমায় শচীন দেববর্মনের সুরে ‘‘জানি না কোথায় আছি— রাশিয়া কিংবা রাঁচি” (শিল্পী: রমলা দেবী) গানটি লেখেন প্রেমেন্দ্র মিত্র

দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে তিনি প্রত্নবস্তু সংগ্রহের কাজ করছেন। নিজের বাড়িকেই তিনি সংগ্রহশালায় রূপান্তরিত করেছেন। নাম দিয়েছেন “গোবর্ধনপুর সুন্দরবন প্রত্ন সংগ্রহশালা।” এই সংগ্রহশালা রক্ষণাবেক্ষণ করেন তিনি ও তাঁর স্ত্রী। ধীরে ধীরে তাঁর সংগ্রহশালায় যুক্ত হয়েছে দশ হাজারেরও বেশি প্রত্নবস্তু। জরাজীর্ণ বাড়িতে থরে থরে সাজানো রয়েছে হাজার হাজার বছরের পুরোনো অমূল্য সম্পদ। মৌর্য, গুপ্ত, কুষাণ যুগের বিভিন্ন ধরনের ভাস্কর্য, পাথরের ব্যবহারিক দ্রব্য, পাথরের হাতিয়ার, নানা আকারের ভাঙা আসবাবপত্র, টেরাকোটার দ্রব্য, শত শত নানা ধরনের মূর্তি, মূর্তির ভাঙা অংশ রয়েছে সংগ্রহে। বিভিন্ন হাতিয়ার, পোড়ামাটির বস্তু, সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রাণীর হাড়ের সংগ্রহ- সবই তিনি উদ্ধার করেছেন সাগর থেকে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Karim's vs Kareem's: এ বলে আমায় দেখ, ও বলে আমায়! পুজোয় কোথায় কোন বিরিয়ানি সেরা?

Kolkata Biriyani: মুম্বইয়ের করিম ধনানির হাতে তৈরি করিমস রেঁস্তোরার সঙ্গে অনেকেই দিল্লির জামা মসজিদ এলাকার করিমসকে গুলিয়ে ফেললেও দু’টি কিন্তু একবারে আলাদা রেঁস্তোরা।

এই সংগ্রহশালা ঘুরে দেখার জন‍্য তিনি কোনও অর্থ নেননা। নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরে যেটুকু অর্থ উপার্জন হয় তার সবটুকু দিয়েই এই সংগ্রহশালা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই ভারত সরকার পুরাতাত্ত্বিক বিভাগের স্মারক দিয়ে সম্মানিত করেছে তাঁকে। বর্তমানে চরম আর্থিক দুরবস্থার মধ‍্যেই দিন কাটছে বিশ্বজিৎ সাহুর পরিবারের। স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ের সংসার টানতে কলকাতায় পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করে সেই পয়সায় কোনওরকমে চলছে সংসার। বিভিন্ন রোগব‍্যাধিও বাসা বেঁধেছে শরীরে।

বিশ্বজিৎ জানান, বিশ্বের দরবারে সুন্দরবনের ইতিহাসকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু অর্থের অভাবে এই সংগ্রহশালার রক্ষণাবেক্ষণের অভাব দেখা দিয়েছে। ভারতের অ্যান্টিক ও শিল্প নিদর্শন আইন ১৯৭২-অনুযায়ী, কোনও প্রাচীন নিদর্শন ব্যক্তিগত সংগ্রহে রাখা যায় না। এর জন্য প্রয়োজন এএসআইয়ের বিশেষ অনুমতির। প্রয়োজন সংগ্রহের সুবিন্যস্ত তালিকা ও সংরক্ষণের নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ। যা সম্ভবই নয় বিশ্বজিৎ সাহুর পক্ষে। তাই সরকারি অথবা বেসরকারি সহযোগিতায় এই সংগ্রহশালা রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে তাঁর স্বপ্ন সার্থক হবে।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।