জলের তলায় চলে যাবে পুরো কলকাতা? যে ভয়ংকর বিপদের ইঙ্গিত দিল আন্তর্জাতিক সমীক্ষা

Sea Level Rise Kolkata in Risk : ডুবে যাবে পৃথিবীর বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। আশঙ্কাজনক ব্যাপার হল, সেই খাদের একেবারে ধারেই দাঁড়িয়ে রয়েছে কলকাতা!

inscript
২ মিনিট
জলের তলায় চলে যাবে পুরো কলকাতা? যে ভয়ংকর বিপদের ইঙ্গিত দিল আন্তর্জাতিক সমীক্ষা

যত দিন যাচ্ছে, বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রকোপ তত বাড়ছে। ফেব্রুয়ারি মাসেই ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা দেখে ফেলেছে ভারত। কখনও প্রবল তুষারপাত, ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোন, টর্নেডো, কখনও মাত্রাতিরিক্ত গরম, তীব্র তাপপ্রবাহ – আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা বেড়েই চলেছে। পরিবেশ দূষণ আর বিশ্ব উষ্ণায়নের দাপটের জেরে কপালে ভাঁজ বাড়ছে বিজ্ঞানীদের। ভয়াওহ সংকট যে ক্রমশই কাছে আসছে, তার ইঙ্গিতও দিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা, সমুদ্রের জলস্তর যত দিন যাচ্ছে বেড়েই চলেছে। আর এরকম চলতে থাকলে আর কয়েক বছরের মধ্যেই ডুবে যাবে পৃথিবীর বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ও শহর। আরও আশঙ্কাজনক ব্যাপার হল, সেই খাদের একেবারে ধারেই দাঁড়িয়ে রয়েছে কলকাতা!

আন্তর্জাতিক জার্নাল নেচার ক্লাইমেট চেঞ্জে (Nature Climate Change) সম্প্রতি বিশ্ব উষ্ণায়ন সংক্রান্ত একটি বিশেষ গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। আর সেখানেই বলা হয়েছে, গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনের পরিমাণ যথেষ্ট পরিমাণে বেড়ে গিয়েছে। তার ফলে বাড়ছে গ্রিনহাউজ এফেক্ট, যার অবশ্যম্ভাবী ফলাফল বিশ্ব উষ্ণায়ন। পৃথিবীর গড় উষ্ণতা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। যার ফলে জলবায়ুর ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, খামখেয়ালি হচ্ছে ঋতুগুলি। সম্প্রতি আরও একটি গবেষণা বিজ্ঞানীদের সামনে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, অ্যান্টার্কটিকার বিশালাকার ‘ডুমসডে’ হিমবাহের তলদেশ ক্ষয়ে যাচ্ছে। হিমবাহের ভেতরে ফাটল দেখা দিচ্ছে, আর সেখান দিয়ে ঢুকছে গরম জল। এভাবেই দুই মেরু অঞ্চলের বরফ, হিমবাহ গলে যাচ্ছে। যার ফলে সমুদ্রের জলস্তর বাড়ছে।

কীরকম বাড়ছে? এনিয়ে একটি বিশেষ পরিসংখ্যানও সামনে রেখেছেন বিজ্ঞানীরা। ওয়ার্ল্ড মেটেরোলজিকাল অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯০১ থেকে ১৯৭১ সাল অবধি সমদ্রের জলস্তর প্রতি বছরে ১.৩ মিলিমিটার করে বেড়েছে। ১৯৭১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই পরিসংখ্যান বেড়ে হয়েছে বছরে ১.৯ মিলিমিটার। আর ২০০৬ থেকে ২০১৮ সালে প্রতি বছরে ৩.৯ মিলিমিটার জলস্তর বেড়েছে। আর এই পরিসংখ্যান থেমে নেই, বেড়েই চলেছে।

এসবেরই প্রভাব পড়ছে পরিবেশে। আর বিজ্ঞানীরা সেখানেই লাল সংকেত দেখিয়ে দিয়েছে ভারতকে। বিশেষ করে কলকাতার মতো উপকূলবর্তী শহরগুলিতে। ঝড়-জল যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে বন্যার পরিমাণ। আগামী কয়েক বছরে এই পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের। জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়া মানে এই উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলি আরও বন্যার সম্মুখীন হবে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ২১০০ সালের মধ্যে কলকাতা, চেন্নাইয়ের মতো শহরগুলি জলের তলায় চলে যেতে পারে। তেমনই সম্ভাবনা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বিশ্ব উষ্ণায়ন এখনই না রোখা গেলে এমন ছবিই দেখতে চলেছে ভবিষ্যৎ পৃথিবী।

তবে কেবল ভারত নয়, ইয়াঙ্গন, ব্যাংকক, ম্যানিলার মতো এশিয়ান শহরগুলোর ওপরও একই সতরকবারতা জারি করা হয়েছে। যত দিন যাবে, এই অঞ্চলগুলিতে বন্যার পরিমাণ বাড়বে। আর সেটাই জলস্তর বৃদ্ধির অন্যতম সংকেত। কিছু কিছু জায়গায় বর্তমান অবস্থা থেকে ২০-৩০ শতাংশ বেশি বৃদ্ধি পাবে জলস্তর। ২০৫০ সালের মধ্যেই একটু একটু করে প্রভাব দেখা দিতে শুরু করবে। তাই সলিল সমাধি হওয়ার আগেই এখন থেকে সতর্ক করা হচ্ছে সবাইকে। নয়তো সময় পেরিয়ে গেলে, ভয়ংকর বিপদ ধেয়ে আসবে তিলোত্তমার বুকে। ‘২০১২’ সিনেমার দৃশ্যগুলি হয়তো সত্যি হয়ে উঠবে!

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।

নেপাল বিপর্যয়ের ক্ষতিপূরণ দেবে কে?

Climate Justice for nepal: ২৬ অগাস্ট লাংটাং লিরুং-এর হিমবাহ ধসে নেপালের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়—নিহত ১,৩৪৪, নিখোঁজ ৪,৮৮৭। পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৪-৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডে আছে মাত্র ৮২২ মিলিয়ন ডলার।নেপালের দাবি, চিন-ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দায় আছে। জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক কাঠগড়ায়।

নেপালের হড়পা বান থেকে বেঁচে ফিরলেন যাঁরা, তাঁদের চোখে ২৬ অগাস্ট

Nepal flash floods 2026: ২৬ অগাস্ট, ২০২৬-এ নেপালের হড়পা বানে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও কিছু মানুষ বেঁচে ফিরেছেন। কেউ এক কাপ চায়ের বিরতির জন্য, কেউ গাড়ির একটা রিভার্স গিয়ারের কারণে, কেউ ডালপালা ছড়ানো একটা আমগাছ আঁকড়ে ধরে, আবার কেউ কেবল ১৫ সেকেন্ডের দৌড়ে ছিনিয়ে এনেছেন নিজের শ্বাস। মৃত্যু খুব কাছ থেকে অনুভব করে ফেরা সেই মানুষগুলির অভিজ্ঞতায় রইল রাসুয়া আর নুয়াকোটের সেই সকালের কথা।

হিমালয়ের বরফ গলছে দ্বিগুণ হারে, নেপালের বিপর্যয়ের বিজ্ঞান কী বলছে?

Nepal Flood 2026: বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছিলেন, ৪৫০০ থেকে ৬০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে থাকা হিমবাহ অঞ্চলের অন্তত ৭৮ শতাংশ উচ্চতা-নির্ভর উষ্ণায়নের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাঁচ মাস পর সেই সতর্কবাণীই যেন সত্যি হয়ে উঠল নেপালের উপত্যকায়।

ছয় দশকে কতটা সফল ভারত-নেপাল গান্ডাকচুক্তি?

Gandak dam history: নেপালের হিমবাহ থেকে পাথর ধসের পর জল নেমেছে ত্রিশূলী-কালীগণ্ডক হয়ে বিহারে। বাল্মীকিনগর বাঁধের ৩৬টি গেট খুলে প্রাণ বাঁচল বহু মানুষের। কিন্তু, ১৯৫৯ সালের গান্ডাক চুক্তি কি সত্যিই নেপাল ভারত দুই দেশের ‘সমন্বিত স্বার্থ’ রক্ষা করল? নেপালের তরাইয়ে জল মেলে না, ক্ষতিপূরণ মেলে না কৃষকদের। ৬০ বছরের পুরনো বাঁধ প্রকল্পকে নিয়েও নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

নেপালের বন্যায় সবচেয়ে বেশি বিপন্ন মহিলারাই, ঝুঁকিতে ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন

Nepal Flash Floods: নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে প্রায় ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন ঝুঁকিতে। বন্যার পর তাঁদের সামনে কী কী স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, খাদ্য ও জীবিকার সংকট তৈরি হয়েছে? রাষ্ট্রপুঞ্জের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, নারীদের সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ জরুরি?