SRFTI-তে পুলিশ মোতায়েন ঘিরে বিতর্ক, হাইকোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি ছাত্রদের

পুলিশ মোতায়েনের আইনি ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ছাত্র সংসদ। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩-এর ১৬৮ থেকে ১৭২ ধারার উল্লেখ করে বলা হয়েছে, পুলিশের প্রতিরোধমূলক ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট আইনগত শর্ত পূরণ করা প্রয়োজন।

inscript
৪ মিনিট
SRFTI-তে পুলিশ মোতায়েন ঘিরে বিতর্ক, হাইকোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি ছাত্রদের

সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে ক্যাম্পাসের ভিতরে পুলিশ মোতায়েন ঘিরে বিতর্ক থামছে না। ক্যাম্পাসে পুলিশকর্মীদের উপস্থিতি, পড়ুয়াদের আমন্ত্রিত অতিথিদের প্রবেশে বাধা এবং পুলিশি নজরদারির অভিযোগ তুলে উপাচার্য সন্তোষ আজমেরাকে চিঠি দিয়েছে ছাত্র সংসদ। চিঠিতে ক্যাম্পাস থেকে পুলিশ প্রত্যাহার, পুলিশ মোতায়েনের কারণ ও অনুমোদন সংক্রান্ত নথি প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ-সহ সমস্ত প্রমাণ সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়েছে। এই দাবিগুলি পূরণ করে লিখিত জবাব দেওয়ার জন্য উপাচার্যকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছে ছাত্র সংসদ। নির্ধারিত সময়ে পদক্ষেপ না করা হলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় ও রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের কাছে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

ছাত্র সংসদের অভিযোগ, গত ২৭ অক্টোবর ক্যাম্পাসে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। ২৭ সেপ্টেম্বরের ঘটনার একমাস পূর্তিতে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতাদের। কিন্তু তাঁদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। কেন অতিথিদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, সে বিষয়ে পড়ুয়া বা আমন্ত্রিতদের কোনও লিখিত নির্দেশ কিংবা স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলে দাবি ছাত্র সংসদের। অথচ একই সময়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে আসা ডেলিভারি কর্মীদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়নি। ফলে প্রবেশদ্বারের দু’পারে থেকে অনুষ্ঠান করতে বাধ্য হন পড়ুয়া ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।

ছাত্র সংসদের চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ওই দিন রাত প্রায় ১২টা নাগাদ পুলিশকর্মীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। উপাচার্যের নির্দেশে অথবা তাঁর অনুমতিক্রমেই এই পুলিশি প্রবেশ ঘটেছে বলে অভিযোগ পড়ুয়াদের। তাঁদের বক্তব্য, পুলিশ মোতায়েনের কারণ হিসেবে উপাচার্যের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কথা জানানো হলেও পড়ুয়ারা কখনও তাঁর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেননি। তাঁরা কেবল প্রশাসনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন। এর পর উপাচার্য প্রশাসনিক ভবন ছেড়ে অতিথিশালায় চলে গেলেও পুলিশকর্মীরা ক্যাম্পাসে থেকে যান। বরং তাঁদের সংখ্যা বেড়েছে বলেও দাবি ছাত্র সংসদের।

পড়ুয়াদের অভিযোগ, পুলিশকর্মীদের উপস্থিতি এখন আর প্রশাসনিক ভবন বা অতিথিশালার আশপাশে সীমাবদ্ধ নেই। তাঁদের একাংশকে বিভাগীয় ভবন ও হোস্টেলের বিভিন্ন অংশে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে। কয়েকজন আধিকারিক নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করছেন না বলেও অভিযোগ। পুলিশকর্মীদের প্রবেশ ও প্রস্থানের সময়, তাঁদের পরিচয়, মোতায়েনের উদ্দেশ্য কিংবা নির্দিষ্ট কার্যক্ষেত্র সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না থাকায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ছাত্র সংসদ। তাদের বক্তব্য, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে অনির্দিষ্টকালের জন্য পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হলে তা পড়ুয়াদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন ও ব্যক্তিগত পরিসরের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
SRFTI: কীভাবে অনুষ্ঠান থেকে পরিস্থিতি গড়াল সংঘর্ষে?

SRFTI Clash: SRFTI-তে ডানপন্থী সংগঠনের অনুষ্ঠান ঘিরে কেন আপত্তি জানালেন পড়ুয়ারা? বক্তৃতায় কী বলা হয়েছিল, যা নিয়ে তৈরি হয় উত্তেজনা? কীভাবে অনুষ্ঠান থেকে পরিস্থিতি গড়াল সংঘর্ষে? পড়ুয়া ও আয়োজকদের পাল্টা অভিযোগের মধ্যে আসল ঘটনা কী?

এই বিতর্কের সূত্রপাত সেপ্টেম্বরের শেষ ও অক্টোবরের গোড়ায় ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর এবং ৪ অক্টোবরের হিংসার ঘটনার পর থেকেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন পড়ুয়ারা। ৪ অক্টোবর রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) ঘনিষ্ঠ বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যদের মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় বলে অভিযোগ। সেই সময় বোতল ও ইট ছোড়ার অভিযোগও ওঠে। এরপর ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বাড়ানো এবং ঘটনার জন্য জবাবদিহির দাবিতে আন্দোলনে নামেন পড়ুয়ারা। গত ১২ অক্টোবর থেকে উপাচার্যের দফতরের বাইরে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান বিক্ষোভ চলছে। ১৬ অক্টোবর প্রশাসনের তরফে পড়ুয়াদের হোস্টেল ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও আন্দোলনকারীরা তা মানতে অস্বীকার করেন।

এই পরিস্থিতিতে ২৭ অক্টোবর পড়ুয়াদের মশাল মিছিলকে ঘিরেও দুইপক্ষের বক্তব্য সামনে এসেছে। SRFTI কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রায় ৫০ জন পড়ুয়া আগাম অনুমতি বা বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই মিছিল করেন। অতিথিশালার কাছাকাছি আবাসিক এলাকা-সহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশ দিয়ে মিছিলটি যায়। হাতে মশাল এবং স্লোগানের কারণে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ক্যাম্পাসে ভয় ও উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল বলে দাবি প্রতিষ্ঠানের এক আধিকারিকের। তাঁর বক্তব্য, এই ঘটনাকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ বলা যায় না এবং পড়ুয়ারা নিজেরা আইন হাতে তুলে নিতে পারেন না।

অন্যদিকে, ছাত্র সংসদের দাবি, মিছিলটি সন্ধ্যা প্রায় ৬টা ৩০ মিনিটে শেষ হয়ে যায়। অথচ রাত প্রায় ১১টা ৩০ মিনিটে ১০ থেকে ১৫ জন পুলিশকর্মী ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন এবং উপাচার্যের অতিথিশালার কাছে যান। অর্থাৎ মিছিল শেষ হওয়ার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পরে পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে অভিযোগ পড়ুয়াদের। তাঁদের প্রশ্ন, পরিস্থিতি যদি মিছিলের কারণে তৈরি হয়ে থাকে, তা হলে মিছিল শেষ হওয়ার এতক্ষণ পরে পুলিশ কেন এল? পুলিশ মোতায়েনের প্রকৃত কারণ এবং তার অনুমোদন সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের দাবিও জানিয়েছে ছাত্র সংসদ।

পুলিশ মোতায়েনের কারণ জানতে পড়ুয়াদের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে আলোচনার আবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু উপাচার্য তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, ক্যাম্পাসে মোতায়েন অধিকাংশ পুলিশকর্মীর পোশাকে দৃশ্যমান পরিচয়পত্র ছিল না বলেও দাবি পড়ুয়াদের। প্রশাসনিক ভবন ও অতিথিশালার সামনে পুলিশ মোতায়েনের কথা জানানো হলেও পুলিশকর্মীরা ক্যাম্পাসের অন্যান্য অংশে ঘোরাফেরা করছেন, অবস্থান বিক্ষোভের কাছে বসে থাকছেন এবং বিশেষত ছাত্রীদের ভিডিও রেকর্ড করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কিছু পুলিশকর্মী সাধারণ পোশাকেও ক্যাম্পাসে রয়েছেন বলে দাবি ছাত্র সংসদের। আন্দোলনস্থলের সামনে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ ভ্যান দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নাৎসি জার্মানি থেকে FTII–SRFTI: ফিল্ম স্কুল কেন ক্ষমতার চোখে এত গুরুত্বপূর্ণ?

History of Film school's against Fasicsm: ১৯৩৩ সালে নাৎসিরা ভাঙচুর করেছিল বার্লিনের ফিল্ম স্কুল টনফিল্মশুলে। ১৯৩৫ সালে মুসোলিনি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে এনেছিলেন ইতালির ফিল্ম স্কুল সিএসসি। ২০১৫ সালে ভারতে পুনের এফটিআইআইতে মোদী সরকারের নিয়োগ বিষয়ক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১৩৯ দিনের ধর্মঘট হয়েছিল। ২০২৬-এ কলকাতার এসআরএফটিআইতে, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের ইট-পাথরের হামলা সেই ইতিহাসকেই পুনরাবৃত্ত করল। হামলার পদ্ধতি বদলেছে, কিন্তু ফ্যাসিবাদের উদ্দেশ্য আজও একই, স্বাধীন সাংস্কৃতিক চর্চাকে নিয়ন্ত্রণ করা। যদিও ইতিহাস বলে, ফিল্ম স্কুল কেবল একটি ভবন নয়, একটি ধারণা, একটি মতাদর্শিক বলয়।

বুধবার বৃষ্টির সময় প্রশাসনিক ভবনের নীচে আশ্রয় নিতে যাওয়া পড়ুয়াদের সেখানে বসতে বা দাঁড়াতে বাধা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। এমনকি সরকারি চিঠি জমা দেওয়া কিংবা প্রতিষ্ঠানের বৈধ কাজে প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশের ক্ষেত্রেও পুলিশ বাধা দিচ্ছে বলে দাবি ছাত্র সংসদের। পড়ুয়াদের বক্তব্য, নিরাপত্তার নামে পুলিশ মোতায়েনের ফলে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক কাজকর্ম এবং তাঁদের চলাফেরার স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, ৩০ জনেরও বেশি অধ্যাপক ও কর্মী পুলিশ মোতায়েনের বিরোধিতা করে বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, অধ্যাপকদের একাংশ উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে পুলিশ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানালেও সমস্যার সমাধান হয়নি।

উপাচার্য মশাল মিছিলের কারণে ভীত বোধ করেছেন বলে যে দাবি সামনে এসেছে, তারও বিরোধিতা করেছে ছাত্র সংসদ। পড়ুয়াদের বক্তব্য, মিছিলের সময় অতিথিশালার আশপাশের এলাকা ফাঁকা রাখা হয়েছিল। এই দাবি প্রতিষ্ঠা করতে ওই এলাকার ছবি ও ভিডিও দেখাতেও তারা প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। ছাত্র সংসদের প্রশ্ন, উপাচার্যের নিরাপত্তার যুক্তিতে পুলিশ মোতায়েন করা হলেও সেই ব্যবস্থা কতটা প্রয়োজনীয়, কত দিন তা বজায় থাকবে এবং পুলিশকর্মীরা ঠিক কোন পরিসরে কাজ করবেন, তা স্পষ্ট করা হচ্ছে না কেন?

পুলিশ মোতায়েনের আইনি ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ছাত্র সংসদ। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩-এর ১৬৮ থেকে ১৭২ ধারার উল্লেখ করে বলা হয়েছে, পুলিশের প্রতিরোধমূলক ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট আইনগত শর্ত পূরণ করা প্রয়োজন। কোনও আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনের পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য বা জ্ঞান থাকলে এবং তা যথাযথভাবে নথিভুক্ত হলে তবেই সংশ্লিষ্ট ক্ষমতা প্রয়োগের প্রশ্ন উঠতে পারে বলে তাদের বক্তব্য। কিন্তু এমন কোনও তথ্য বা কারণ প্রতিষ্ঠানের তরফে প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ ছাত্র সংসদের।

একই সঙ্গে সংবিধানের ১৪, ১৯(১)(ক), ১৯(১)(খ) এবং ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে। ছাত্র সংসদের বক্তব্য, আমন্ত্রিত অতিথিদের প্রবেশে বাধা দিয়ে অথচ ডেলিভারি কর্মীদের প্রবেশ করতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বৈষম্যমূলক। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও মতপ্রকাশের অধিকার যেমন সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত, তেমনই হোস্টেলের মতো আবাসিক পরিসরে পড়ুয়াদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মর্যাদার অধিকারও গুরুত্বপূর্ণ। নির্দিষ্ট কারণ, পরিচয় ও দায়িত্বের সীমা ছাড়া পুলিশকর্মীদের হোস্টেলে প্রবেশ এবং ঘোরাফেরার অভিযোগ সেই অধিকার নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বলে দাবি পড়ুয়াদের।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হামলার অভিযোগের এক মাস পরেও বিচার অধরা? যে যে প্রশ্ন তুলছেন SRFTI-র পড়ুয়ারা

SRFTI Student Protest: আন্দোলনের এক মাসে ছাত্রদের অভিযোগ, তাঁদের দাবি পূরণের পরিবর্তে প্রশাসনিক পদক্ষেপের মুখে পড়তে হচ্ছে। শোকজ নোটিশ, বহিষ্কার এবং এফআইআরের মাধ্যমে আন্দোলন দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।

এই পরিস্থিতিতে উপাচার্যের কাছে আট দফা দাবি জানিয়েছে ছাত্র সংসদ। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে পুলিশ মোতায়েনের অনুমতি বা অনুরোধ প্রত্যাহার করে কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে লিখিতভাবে জানানোর দাবি জানানো হয়েছে। ২৭ অক্টোবর থেকে প্রতিষ্ঠান ও পুলিশের মধ্যে হওয়া সমস্ত যোগাযোগের অনুলিপি, পুলিশ মোতায়েনের উদ্দেশ্য, সদস্যসংখ্যা, কার্যক্ষেত্র ও সময়সীমা এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের অনুমোদনকারী আধিকারিকের পরিচয় প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। আমন্ত্রিত অতিথিদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার নির্দেশ কে দিয়েছিলেন এবং কোন নিয়মের ভিত্তিতে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তারও ব্যাখ্যা চেয়েছে ছাত্র সংসদ।

পাশাপাশি, ভবিষ্যতে পড়ুয়াদের আমন্ত্রিত অতিথিদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হলে তার কারণ জানিয়ে লিখিত নির্দেশ দেওয়া এবং আগাম ছাত্র সংসদকে সেই নির্দেশের অনুলিপি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ জমায়েত ছত্রভঙ্গ বা সীমাবদ্ধ করতে পুলিশি সহায়তা চাওয়া হবে না এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে কোনও পড়ুয়ার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না; এই মর্মে লিখিত নিশ্চয়তাও চেয়েছে ছাত্র সংসদ। পুলিশকর্মীদের প্রবেশ ও প্রস্থানের সময়, নাম, পদমর্যাদা এবং পরিচিতি নম্বর নথিভুক্ত করার জন্য গেট রেজিস্টার চালু রাখার দাবিও জানানো হয়েছে।

শুধু লিখিত ব্যাখ্যা নয়, সমস্ত প্রাসঙ্গিক নথি ও প্রমাণ সংরক্ষণেরও দাবি জানিয়েছে ছাত্র সংসদ। এর মধ্যে রয়েছে মূল প্রবেশদ্বার, ক্যাম্পাসের সীমানা ও প্রশাসনিক ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ, দর্শনার্থী ও গেট রেজিস্টার, ডেলিভারি কর্মীদের প্রবেশের নথি, পুলিশ ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আদানপ্রদান হওয়া চিঠি, ইমেল ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক যোগাযোগ, অভ্যন্তরীণ নির্দেশ, ফাইলের নোট, বৈঠকের কার্যবিবরণী এবং ২৭ ও ২৮ অক্টোবরের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত অডিও-ভিডিও রেকর্ডিং। এই নথি নষ্ট করা, পরিবর্তন করা কিংবা পুরনো রেকর্ড মুছে ফেলার ঘটনা ঘটলে তা আদালতে তোলা হবে বলেও চিঠিতে জানানো হয়েছে।

ছাত্র সংসদের স্পষ্ট বক্তব্য, তারা ক্যাম্পাসের মূল প্রবেশদ্বার ও সীমানা বরাবর নিরাপত্তার ব্যবস্থার বিরোধিতা করছে না। বরং ৪ অক্টোবর বহিরাগতদের হামলার পর পড়ুয়ারাই নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিলেন। আপত্তি ক্যাম্পাসের ভিতরে এমন পুলিশি উপস্থিতি নিয়ে, যার উদ্দেশ্য, সদস্যসংখ্যা, কার্যক্ষেত্র ও সময়সীমা নির্দিষ্ট নয় এবং যার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের পরিচয়ও স্পষ্ট করা হচ্ছে না। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পড়ুয়াদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, মতপ্রকাশ, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখাই এই মুহূর্তে প্রধান প্রশ্ন বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।

চিঠিতে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ প্রত্যাহার, নথি প্রকাশ এবং লিখিত নিশ্চয়তার দাবি পূরণ না হলে ছাত্র সংসদ সংবিধানের ২২৬ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবে। ক্যাম্পাসের ভিতরে পুলিশ মোতায়েনের আইনি ভিত্তি খতিয়ে দেখা, পুলিশ প্রত্যাহারের নির্দেশ, নথি প্রকাশ ও সংরক্ষণ, শান্তিপূর্ণ জমায়েতের অধিকার রক্ষা এবং ২৭ সেপ্টেম্বরের ঘটনা ও তার পরবর্তী আন্দোলন পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে স্বাধীন তদন্তের আবেদন জানানো হবে বলে জানিয়েছে ছাত্র সংসদ। পাশাপাশি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও পশ্চিমবঙ্গ মানবাধিকার কমিশনের কাছেও যাওয়ার কথা জানিয়েছে তারা। বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এবং কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের কাছেও তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

SRFTI-কে ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। ছাত্রদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠার পর, বেশ কিছু ছাত্র গুরুতর আহত হওয়ার পরও ছাত্রদের দাবিগুলো কর্তৃপক্ষ যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না বলে অভিযোগ তুলছেন ছাত্ররা। পরিবর্তে ক্যাম্পাসের ভিতরে পুলিশ মোতায়েন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপরেও SRFTI ক্যাম্পাসে নতুন করে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রায় ৪০ জন পুলিশ মোতায়েন হয়েছে বলে ছাত্রদের অনুমান। এখন দেখার, শেষমেশ আদালতের দ্বারস্থ হতে হয় কিনা SRFTI-এর ছাত্রদের।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কর্পোরেট যুদ্ধ: আদানি-আম্বানির থেকে টাটারা পিছিয়ে পড়ছেন কীভাবে?

Tata group crisis 2026: নোয়েল টাটা সত্তর বছর বয়সে ছ'টি পর্ষদ ছাড়ছেন। সাম্প্রতিককালে তাঁদের ব্যবসায় ক্ষতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭,৮৫৪ কোটি টাকা। রাহুল গান্ধী অভিযোগ করছেন, আদানি আম্বানিকে বেশি সুবিধা দিয়ে সরকার, টাটাদের ধ্বংস করছে।

কেন ফের শাস্তির মুখে জাফর পানাহি?

Panahi on Trial: কান-জয়ী ইরানি পরিচালক জাফর পানাহিকে তেহরানের রেভোলিউশনারি কোর্ট নতুন মামলায় পাঁচ বছর এক মাসের কারাদণ্ড ও সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছে। দু'বছরের বিদেশ ভ্রমণ ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।

ট্রাম্পের পরীক্ষা, বিশ্ব রাজনীতিতে ঠিক কী প্রভাব ফেলবে মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচন?

US Midterm Elections: মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনের ফল ট্রাম্পের ক্ষমতার সমীকরণ বদলে দিতে পারে? ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ, ইজরায়েলের নিরাপত্তা এবং বিশ্ব অর্থনীতির গতিপথ নির্ধারিত হবে এই ভোটেই?

সংখ্যাগরিষ্ঠতার গরিমা অধরা, নেতানিয়াহুর দল কী কী অভিযোগ করছে?

Israel election: ইজরায়েলের সাম্প্রতিক নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়ে আরব দলগুলির বিরুদ্ধে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনেছে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ।

ইজরায়েল নির্বাচন: আরব ইজরায়েলি কারা? কেন এত ভোট পেল আরব দলগুলি?

Israel elections: আরব ইজরায়েলি কারা? বৈষম্য ও অপরাধের প্রতিবাদে তাঁদের রেকর্ড ভোট আরব দলগুলোকে ইজরায়েলের নেসেটে সরকার গঠনের মূল চাবিকাঠি বানিয়ে দিল?

কেমন হলো বাংলাদেশের দুর্গাপুজো?

Durga Puja Bangladesh: পুজোর আগে ভাঙচুর ও নিরাপত্তা উদ্বেগের অভিযোগ সত্ত্বেও, ব্যাপক নজরদারি এবং সর্বধর্মের সহযোগিতায় বাংলাদেশে দুর্গাপুজো কতটা শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিময় পরিবেশে সম্পন্ন হতে পেরেছে?

ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে ২১ সংবাদমাধ্যম, কেন আপত্তি প্রকাশকদের?

Silencing the Newsroom: ভারত সরকারের তথ্য সুরক্ষা আইনের বিরুদ্ধে ২১টি সংবাদমাধ্যমের প্রাইভেসি বনাম সাংবাদিকতার লড়াই পৌঁছল সুপ্রিম কোর্টে। মামলাকারীদের মধ্যে রয়েছে আম্বানির নেটওয়ার্ক১৮, আদানির এনডিটিভি।