মানুষ বন্ধুবান্ধব মিলে মদ্যপান করতে শিখেছে শিম্পাঞ্জিদের থেকেই?

Wild chimpanzees & Alcohol: গবেষণা বলছে, এই যে একসঙ্গে বসে মানুষের খানাপিনা, বনভোজন এর উত্তরাধিকার সম্ভবত শিম্পাঞ্জির থেকেও এসে থাকতে পারে।

inscript
৩ মিনিট
মানুষ বন্ধুবান্ধব মিলে মদ্যপান করতে শিখেছে শিম্পাঞ্জিদের থেকেই?

একটা বয়সের পর, বন্ধুবান্ধবরা একসঙ্গে বসা মানেই, সেই বসা, সেই আড্ডা নেহাত শুষ্ক আড্ডা নয়। হাজার হাজার বছর ধরেই মানুষ একসঙ্গে মিলে খাওয়াদাওয়া করতে ভালোবাসে। বনভোজনের শিকড়ে যে মানুষের একজোট হয়ে খাওয়ার আদিম গন্ধ মাখানো আছে, সেই দাবি নেহাতই অস্বীকার করা যায় না। শুধু খানা নয়, পিনা-তেও মানুষ জোট বাঁধতে ভালোইবাসে। তবে গবেষণা বলছে, এই যে একসঙ্গে বসে খানাপিনা, এর উত্তরাধিকার সম্ভবত শিম্পাঞ্জির থেকেও এসে থাকতে পারে। গবেষকরা সদ্য দেখেছেন, শিম্পাঞ্জিরাও একসঙ্গে বসে 'মদ' খেতে ভালোইবাসে।

পশ্চিম আফ্রিকায় দেখা গেছে, বন্য শিম্পাঞ্জিরা অ্যালকোহলযুক্ত ফল ভাগাভাগি করে খাচ্ছে। হ্যাঁ সেই ফল খেয়ে বেহেড মাতাল হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি হয় না ঠিকই তবে, হালকা ঝিমঝিম নেশা যে হয় তা স্পষ্ট। মার্কিন যুক্তরাজ্যের এক্সেটার ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে গবেষকরা গিনি-বিসাউয়ের ক্যান্টানহেজ জাতীয় উদ্যানে কিছু শিম্পাঞ্জিদের ভিডিও করেন। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, শিম্পাঞ্জিরা একসঙ্গে বসে গাঁজানো কাঁঠাল ভাগ করে খাচ্ছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মানুষ আর শিম্পাঞ্জির মিলনের ফল! ১৯২০ সালের যেভাবে তৈরি হয়েছিল হিউম্যানজি!

Humanzee : রাশিয়ান জীববিজ্ঞানী লিয়া ইভানোভিচ সম্ভবত সবচেয়ে খারাপ উপায়ে হিউম্যানজি তৈরির চেষ্টা করেছিলেন।

কর্নওয়ালের এক্সেটারের পেনরিন ক্যাম্পাসের পরিবেশ ও সংরক্ষণ কেন্দ্রের অ্যানা বোল্যান্ড বলছেন, "মানুষের ক্ষেত্রে, আমরা জানি যে অ্যালকোহল খাওয়ার ফলে ডোপামিন এবং এন্ডোরফিন নিঃসৃত হয় এবং এর ফলে মন ভালো লাগে, বিশ্রামের অনুভূতি হয়। আমরা এও জানি যে একসঙ্গে বসে খাবার এবং মদ খাওয়ার ঐতিহ্যের নেপথ্যে আছে সামাজিক সংযোগ গঠনের চেষ্টা, সামাজিক যোগাযোগ শক্তিশালী করতে সাহায্য করে এই ধরনের আয়োজন। এখন আমরা দেখছি যে বন্য শিম্পাঞ্জিরা গেঁজে যাওয়া ফল ভাগ করে খাচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে, ওদেরও কি মানুষের মতোই অনুভূতি হচ্ছে?”

মোশন-অ্যাক্টিভেটেড ক্যামেরা ব্যবহার করে, গবেষকরা ১০টি এমন খানাপিনার আয়োজনে শিম্পাঞ্জিদের বড় এবং আঁশযুক্ত গেঁজে যাওয়া ফল ভাগ করে খাওয়ার ছবি তোলেন। ওই ফলে অ্যালকোহল কতখানি আছে তা পরীক্ষা করা হয়েছিল। সর্বোচ্চ মাত্রা পাওয়া গেছে ০.৬১%।

এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের কিম্বারলি হকিংস বলছেন, "শিম্পাঞ্জিরা কিন্তু সব সময় খাবার ভাগ করে খায় না, তাই এমন গেঁজে যাওয়া ফল বিশেষভাবে খাওয়ার আচরণটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।" অ্যালকোহলের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম ঠিকই, তবে যেহেতু শিম্পাঞ্জিরা প্রতিদিন প্রচুর ফল খায় তাই ঠিকঠাক পরিমাণেই অ্যালকোহল শরীরে যায় তাদের। প্রতিদিন প্রায় এক কেজির উপর এমন ফল তারা খায়। সব মিলিয়ে বিষয়টা খানিক আমাদের হালকা বিয়ারে চুমুক দেওয়ার মতোই।

হকিংস এবং তাঁর সহকর্মীরা পশ্চিম আফ্রিকার শিম্পাঞ্জিরা কীভাবে মানুষের তৈরি পাম স্যাপ অ্যালকোহল চুরি করে খায় সেই উল্লেখও করেছেন। ২০১৫ সালে এই নিয়ে একটি গবেষণাপত্রও প্রকাশ করেছিলেন তাঁরা। এই মদ খেয়ে অনেক শিম্পাঞ্জিই মাতলামিও করেছে, নানা ধরনের বিরক্তিকর আচরণ, অন্যদের ঘুমোতে না দেওয়ার মতো কাজ শিম্পাজিরা করেছে, কিঞ্চিৎ মাতাল হয়ে।

সাম্প্রতিক গবেষণার গবেষকরা অবশ্য বলেছেন, শিম্পাঞ্জিদের গাঁজানো কাঁঠাল খেয়ে 'মাতাল' হওয়ার সম্ভাবনা কমই। তবে ভাগাভাগি করে খাওয়ার বিষয়টি সব বয়স এবং সব লিঙ্গের শিম্পাঞ্জিদের মধ্যেই দেখা যায় বলে মনে করা হচ্ছে। চিপ এবং আটে নামে দু'টি প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী শিম্পাঞ্জিকে দেখা গেছে, বড়সড় কাঁঠাল ফেলে তারা ছোট গাঁজানো টুকরোটিই খাচ্ছে।

মান্ডজাম্বে এবং গ্যারি নামে দুই প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ শিম্পাঞ্জিকে বেশ যুদ্ধং দেহি মনোভাব নিয়েই গাঁজানো ফলের কাছে আসতে দেখা গেছে। মান্ডজাম্বে একটি টুকরো নিয়ে আগে খেতে শুরু করে। অন্য একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ শিম্পাঞ্জি ববি গ্যারিকে দূরে সরিয়ে রাখে। পরে অবশ্য সবাই মিলেই ওই ফল খায়।

বন্য শিম্পাঞ্জিদের এমন গাঁজানো ফল ভাগ করে খাওয়া থেকে স্বাভাবিকভাবেই তাই একটি প্রশ্ন জাগে, মানুষের এই সবাই মিলে খানাপিনার আসর বসানোর শিকড়ে কি শিম্পাঞ্জিরাই আছে? হকিংস বলছেন, "শিম্পাঞ্জিরা ইচ্ছাকৃতভাবেই গাঁজানো ফল খোঁজে। তবে সেটি কীভাবে তারা হজম করে সে সম্পর্কে আমাদের আরও গবেষণা করতে হবে, তবে হতেই পারে শিম্পাঞ্জিদের থেকেই মানুষ 'ফিস্ট' করতে শিখেছে। তবে নির্দিষ্ট উপসংহারে পৌঁছতে আরও গবেষণার প্রয়োজন।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।

নেপাল বিপর্যয়ের ক্ষতিপূরণ দেবে কে?

Climate Justice for nepal: ২৬ অগাস্ট লাংটাং লিরুং-এর হিমবাহ ধসে নেপালের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়—নিহত ১,৩৪৪, নিখোঁজ ৪,৮৮৭। পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৪-৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডে আছে মাত্র ৮২২ মিলিয়ন ডলার।নেপালের দাবি, চিন-ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দায় আছে। জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক কাঠগড়ায়।

নেপালের হড়পা বান থেকে বেঁচে ফিরলেন যাঁরা, তাঁদের চোখে ২৬ অগাস্ট

Nepal flash floods 2026: ২৬ অগাস্ট, ২০২৬-এ নেপালের হড়পা বানে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও কিছু মানুষ বেঁচে ফিরেছেন। কেউ এক কাপ চায়ের বিরতির জন্য, কেউ গাড়ির একটা রিভার্স গিয়ারের কারণে, কেউ ডালপালা ছড়ানো একটা আমগাছ আঁকড়ে ধরে, আবার কেউ কেবল ১৫ সেকেন্ডের দৌড়ে ছিনিয়ে এনেছেন নিজের শ্বাস। মৃত্যু খুব কাছ থেকে অনুভব করে ফেরা সেই মানুষগুলির অভিজ্ঞতায় রইল রাসুয়া আর নুয়াকোটের সেই সকালের কথা।

হিমালয়ের বরফ গলছে দ্বিগুণ হারে, নেপালের বিপর্যয়ের বিজ্ঞান কী বলছে?

Nepal Flood 2026: বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছিলেন, ৪৫০০ থেকে ৬০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে থাকা হিমবাহ অঞ্চলের অন্তত ৭৮ শতাংশ উচ্চতা-নির্ভর উষ্ণায়নের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাঁচ মাস পর সেই সতর্কবাণীই যেন সত্যি হয়ে উঠল নেপালের উপত্যকায়।

ছয় দশকে কতটা সফল ভারত-নেপাল গান্ডাকচুক্তি?

Gandak dam history: নেপালের হিমবাহ থেকে পাথর ধসের পর জল নেমেছে ত্রিশূলী-কালীগণ্ডক হয়ে বিহারে। বাল্মীকিনগর বাঁধের ৩৬টি গেট খুলে প্রাণ বাঁচল বহু মানুষের। কিন্তু, ১৯৫৯ সালের গান্ডাক চুক্তি কি সত্যিই নেপাল ভারত দুই দেশের ‘সমন্বিত স্বার্থ’ রক্ষা করল? নেপালের তরাইয়ে জল মেলে না, ক্ষতিপূরণ মেলে না কৃষকদের। ৬০ বছরের পুরনো বাঁধ প্রকল্পকে নিয়েও নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

নেপালের বন্যায় সবচেয়ে বেশি বিপন্ন মহিলারাই, ঝুঁকিতে ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন

Nepal Flash Floods: নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে প্রায় ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন ঝুঁকিতে। বন্যার পর তাঁদের সামনে কী কী স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, খাদ্য ও জীবিকার সংকট তৈরি হয়েছে? রাষ্ট্রপুঞ্জের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, নারীদের সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ জরুরি?