'তালপাতার সেপাই'! অভিষেকে এত কেন ক্ষুব্ধ 'বিজেপি'র অভিজিৎ?

Abhijt Ganguly vs Abishek Banerjee: দুষ্কৃতীর বেশি কিছু মনে করি না'— নাম না করেই কার্যত অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়কে এই ভাষাতেই আক্রমণ করেছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

Sohini Das
৩ মিনিট
'তালপাতার সেপাই'! অভিষেকে এত কেন ক্ষুব্ধ 'বিজেপি'র অভিজিৎ?

বিচারপতি পদ থেকে মঙ্গলবার শেষপর্যন্ত ইস্তফা দিয়েই দিলেন। একই সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণাও করে দিলেন তাঁর বিজেপিতে যাওয়ার কথা। সব ঠিক থাকলে সম্ভবত আগামী ৭ মার্চ বিজেপিতে যোগ দেবেন প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এদিন পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিক বৈঠক করেন অভিজিৎ। আর সেখানেই নাম না করিয়ে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন প্রাক্তন বিচারপতি।

বরাবরই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে ঝুড়ি ঝুড়ি প্রশংসা করতে শোনা গিয়েছে তাঁকে। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম শুনলেই তেলেবেগুণে জ্বলে ওঠেন অভিজিৎবাবু। দিন কয়েক আগেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনীতিক বলে মানতে অস্বীকার করেছিলেন তিনি। এদিন সংবাদিক সম্মেলনেও একই সুর শোনা গেল প্রাক্তন বিচারপতির মুখে।

'দুষ্কৃতীর বেশি কিছু মনে করি না'— নাম না করেই কার্যত অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়কে এই ভাষাতেই আক্রমণ করেছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। সাংবাদিকদের বারবার জিজ্ঞাসা সত্ত্বেও নাম করতে রাজি হননি প্রাক্তন বিচারপতি। বরং বলেছেন, ওই নামটাকেই নাকি তিনি অপভাষা বলে মবে করেন। মমতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেও কেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের প্রতি তাঁর এত ক্ষোভ। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে একাধিক বার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে 'তালপাতার সেপাই' বলে উল্লেখ করেছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এদিন নারদাকাণ্ডকে গোটাটাই চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, 'একজন তালপাতার সেপাই তৃণমূলের সিনিয়র নেতাদের বিপদে ফেলার জন্য নারদকাণ্ডে চক্রান্ত করেছিল।' বিচারপতি থাকাকালীনই শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষ নিয়ে কথা বলতে শোনা গিয়েছিল তাঁকে। এদিন আরও একবার সেই সুরই শোনা গেল তাঁর মুখে। রাজ্যের বিরোধী নেতা বিজেপি শুভেন্দু অধিকারীকে আরও একবার ক্লিনচিট দিয়ে তিনি জানান, 'তালপাতার সেপাইয়ের চক্রান্তে'ই বিপাকে ফেলা হয়েছিল শুভেন্দুকে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ঘনিষ্ঠতা সত্ত্বেও কেন সিপিএম বা কংগ্রেসে নয়? যা জানালেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

Abhijit Gangopadhyay: না বাম, না কংগ্রেস, মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন করে অভিজিৎ সাফ জানিয়ে দিলেন, শেষপর্যন্ত বিজেপিতেই যাচ্ছেন তিনি।

লোকসভা ভোটে অভিষেক বনাম অভিজিতের মুখোমুখি লড়াইয়ের সম্ভাবনা ঘিরে 'প্রাক্তন' বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘দাঁড়ালে দাঁড়াবেন। আমি কি ভয়ে পালিয়ে যাব? বিজেপি যদি আমায় তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড় করায়, আমি কি ভয়ে পালিয়ে যাব? আমি দেখিয়ে দেব, তাঁর দুর্বৃত্ত দলকে কীভাবে মোকাবিলা করতে হয়। তাঁর পরিষ্কার একটা দুর্বৃত্ত দল আছে ডায়মন্ড হারবারে। তাঁদের মোকাবিলা করেই ডায়মন্ড হারবারে তাঁকে লাখ-লাখ ভোটে হারাব।’

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
গেরুয়া শরণেই অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়! কেন বিজেপিকে বেছে নিলেন প্রাক্তন বিচারপতি?

Justice Abhijit Ganguly: রাজনীতিতে নামার জন্যই তাহলে আদালতকে ব্যবহার করলেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়?

বিচারপতি হিসেবে ইস্তফাপত্র জমা দেওয়ার পরেই এদিন সাংবাদিক বৈঠক করেন অভিজিৎবাবু। সেখানে বিজেপিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগ দেওয়ার খবর দিয়েই তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে দেখা যায় তাঁকে। তাঁর কথায়, 'তৃণমূলের সংস্কৃতিই হল বিচারপতিকে আক্রমণ করা। রায় সম্বন্ধে কোনও আপত্তি থাকলে তা জানানোর আলাদা পথ আছে। আমার মনে হয় এদের পরিবার এবং শিক্ষা-দীক্ষায় সমস্যা আছে।' তৃণমূলের উদ্দেশে কড়া আক্রমণ শানিয়ে অভিজিৎবাবু জানান, তৃণমূলের এই ধরনের মন্তব্যই তাঁকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন বিচারপতি। তিনি বক্তব্য, ২০০৯-এ সিপিএম -এর যে অবস্থা হয়েছিল ২০২৪-এ তৃণমূলের সেই অবস্থা হবে। এমনকী ২০২৬ পর্যন্ত তৃণমূল দলটা আদৌ টিকবে কিনা তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন প্রাক্তন বিচারপতি।

কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, মেদিনীপুরের তমলুক কেন্দ্র থেকেই আগামী লোকসভা ভোটে লড়তে চলেছেন প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তবে এ ব্যাপারে পাকা খবর কিছু কানে আসেনি এখনও। তার মধ্যে এদিন ডায়মন্ডহারবার কেন্দ্র থেকে অভিষেকের বিরুদ্ধে লড়ার ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন অভিজিৎবাবু। আদতে প্রাক্তন বিচারপতি তাসকে লোকসভা ভোটে বাংলায় কোন জায়গায় ব্যবহার করতে চাইছে রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকাতেই কি তা পরিষ্কার হতে চলেছে। তা অবশ্য এখনই স্পষ্ট জানা যাচ্ছে না।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।