ঘনিষ্ঠতা সত্ত্বেও কেন সিপিএম বা কংগ্রেসে নয়? যা জানালেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়
Abhijit Gangopadhyay: না বাম, না কংগ্রেস, মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন করে অভিজিৎ সাফ জানিয়ে দিলেন, শেষপর্যন্ত বিজেপিতেই যাচ্ছেন তিনি।

সমস্ত জল্পনার অবসান। বিচারপতির পদ থেকে ইতিমধ্যেই ইস্তফা দিয়েছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তবে মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন করে সাফ জানিয়ে দিলেন, শেষপর্যন্ত বিজেপিতেই যাচ্ছেন তিনি। না বাম, না কংগ্রেস, গেরুয়া শিবিরেই যোগ দিতে চলেছেন তিনি। তবে কোন কেন্দ্র থেকে লড়তে চলেছেন আসন্ন নির্বাচনে, তা ভেঙে বললেন না প্রাক্তন বিচারপতি।
কয়েকদিন ধরেই চর্চায় অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। নিয়োগ-দুর্নীতি নিয়ে শাসকদলের বিরুদ্ধে তাঁর একাধিক সিদ্ধান্ত কার্যত চমকে দিয়েছিল বাংলাকে। নিয়োগ-দুর্নীতির জেরে ক্ষতিগ্রস্তরা কার্যত নিজেদের মসিহা খুঁজে নিয়েছিলেন তাঁর মধ্যেই। তবে বিচারপতির আসন ছেড়ে এবার তিনি নামতে চান সংসদীয় রাজনীতিতে। যতদূর জানা যাচ্ছে, আগামী ৭ মার্চ বিজেপিতে যোগদান করতে চলেছেন তিনি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Justice Abhijit Ganguly: রাজনীতিতে নামার জন্যই তাহলে আদালতকে ব্যবহার করলেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়?
অভিজিৎ জানিয়েছেন, বিজেপিই একমাত্র সর্বভারতীয় দল। তৃণমূলের মতো দুর্নীতিগ্রস্ত দলের সঙ্গে লড়ার ক্ষমতা রয়েছে তাদেরই। এখানে আর কোনও সর্বভারতীয় দল নেই বলেই মনে করছেন অভিজিৎ। ফলে বিজেপিই যে এই মুহূর্তে একমাত্র গন্তব্য হতে পারে, সে ব্যাপারে সংশয় নেই তার। সেই সঙ্গেই তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন, কেন তিনি সিপিএম বা কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন না।
বিচারপতি পদে থাকাকালীন বামদলের সঙ্গে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠতা দেখে অনেকেই মনে করেছিলেন, রাজনীতিতে এসে তাঁর পক্ষ ঝুঁকে থাকবে বেশি বামেদের দিকেই। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে ঠিক উল্টোটাই। বামের বদলে রামের দিকেই গিয়েছে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের দাঁড়িপাল্লা। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে তিনি এ-ও স্পষ্ট করেছেন, কেন তিনি সিপিএম বা কংগ্রেসের প্রতি আস্থা রাখছেন না। অভিজিতের দাবি, তিনি সিপিএমে যোগ দেবেন না, কারণ তিনি ঈশ্বরবিশ্বাসী, তিনি ধর্মে বিশ্বাস করেন। তাই তাদের সঙ্গে অভিজিৎবাবুর মিল হবে না বলেই মনে করেন তিনি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Judges in Politics : সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি বহরুল ইসলাম অবসর নেওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে পদত্যাগ করে বরপেটা থেকে লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের হয়ে লড়েন।

একই সঙ্গে এদিন কংগ্রসকেও তোপ দেগেছেন প্রাক্তন বিচারপতি। তাঁর মতে, কংগ্রেস হল পারিবারিক জমিদারির একটা দল। ফলে সেখানে যোগ দেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। তিনি আরও জানান, জয়রাম রমেশের মতো শিক্ষিত মানুষেরা কংগ্রেসে থাকেন। কিন্তু তাঁরা কোনও পদ পান না। নেপথ্যেই থেকে যান। বরং রাহুল গান্ধীর মতো নেতাদের পিছনে থেকে যেতে হয় তাঁদের।
মঙ্গলবার সকাল ১০টার কিছু সময় পর কলকাতা হাইকোর্টে পৌঁছন অভিজিৎ। তার পরেই রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগপত্র পাঠান বলে সূত্রের খবর। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকেও তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে খবর। বিচারপতি হিসেবে পদত্যাগের পর তার পরবর্তী পদক্ষেপ যে বিজেপিতে যোগ। তবে কোন আসন থেকে লড়তে চলেছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, তা খোলসা করেননি তিনি। যদিও কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, তমলুক থেকেই ভোটে লড়তে চলেছেন তিনি। তবে তাঁর বক্তব্য, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বিজেপির শীর্ষনেতৃত্ব। অভিজিৎবাবুর দাবি, তিনি টিকিট পান বা না পান, বিজেপির নীতি রূপায়ণের কাজ করবেন প্রাক্তন এই 'মসিহা'।







