কারা ছিল পিএফআই-এর মূল চক্রী? 'নিষিদ্ধ' এই সংগঠনের নেতাদের পরিচয় এক নজরে

Popular Front of India: প্রকাশ্যে এসেছে গ্রেফতার হওয়া নেতাদের বিস্তারিত পরিচয়। কারা এঁরা? কী তাঁদের পরিচয়?

Ramen Das
৩ মিনিট
কারা ছিল পিএফআই-এর মূল চক্রী? 'নিষিদ্ধ' এই সংগঠনের নেতাদের পরিচয় এক নজরে

পপুলার ফ্রন্ট অফ্ ইন্ডিয়া। অর্থাৎ পিএফআই। উৎসবের মরশুমে ফের শোরগোল ফেলেছে এই একটি নাম। দেশের সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে এই সংগঠনের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়তেই দেশজুড়ে অভিযানে নামে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) এবং এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট (ইডি)। সেই অভিযানে বাদ যায়নি কলকাতাও। দেশের একাধিক জায়গায় হানা দিয়ে একাধিক তথ্য উদ্ধারের সঙ্গেই গ্রেফতার করা হয়েছে ওই সংগঠনের অন্যতম নেতাদের। অভিযোগ, যাঁদের অঙ্গুলিহেলনেই সন্ত্রাসমূলক কাজে ইন্ধন যোগায় পিএফআই। এবার প্রকাশ্যে এসেছে গ্রেফতার হওয়া নেতাদের বিস্তারিত পরিচয়। কারা এঁরা? কী তাঁদের পরিচয়?

ওএমএ সালাম, পপুলার ফ্রন্ট অফ্ ইন্ডিয়া-র চেয়ারম্যান

কেরল সরকারের বিদ্যুৎ পর্ষদের স্থায়ী কর্মচারী সালাম। মূলত, সংগঠনের নীতি নির্ধারিত হত সালামের নির্দেশেই। তিনি 'রিহাব ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনে'র সঙ্গেও জড়িত বলে জানা গিয়েছে। এই সংগঠন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে একাধিকবার। সালামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি, তাঁকে সাসপেন্ড করেছে বিদ্যুৎ পর্ষদ।

আনিস আহমেদ, জাতীয় সাধারণ সম্পাদক, পিএফআই

তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী আনিস আহমেদ বিখ্যাত এক টেলিকম সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে পড়াশুনা তাঁর। বরাবরের মেধাবী আনিস এই সংগঠনের প্রযুক্তিগত দিকে নজর রাখতেন। সংগঠনের প্রচার থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া, মুখপাত্রদের বয়ান, সংগঠনের অবস্থান। সব ক্ষেত্রেই দেশজুড়ে মূল নেটওয়ার্ক থাকত তাঁর নাগালে।

পি কোয়া, জাতীয় কার্যকরী কমিটির কাউন্সিল সদস্য, পিএফআই

পেশায় অধ্যাপক। একটা সময় বিদেশে চাকরি করেছেন কোয়া। ১৯৮৬ নাগাদ কাতারে গিয়ে তিন বছর চাকরি করেন। তারপর অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন কোঝিকোর বিশ্ববিদ্যালয়ে। কোয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল আগে থেকেই। তিনি এদেশের আর এক নিষিদ্ধ সংগঠন সিমি-র সক্রিয় সদস্য ছিলেন। ওই সংগঠন নিষিদ্ধের পর থেকেই চাপে পড়েন পি কোয়া।

সংখ্যালঘু, বিশেষত মুসলিম সম্প্রদায়ের নীতি, আদর্শ এবং তাদের ভুল বুঝিয়ে ভিন্ন পথে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে কোয়ার বিরুদ্ধে। তিনি এই সংক্রান্ত কাজের জন্য গঠিত সংগঠন 'ইসলামিক যুব কেন্দ্রে'র প্রধান বলেও জানা যায়। বলা হয়, এই সংগঠনের শিক্ষিত নেতাদের মধ্যে কোয়া অন্যতম।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সন্ত্রাসে উসকানির অভিযোগে নিষিদ্ধ! কোন লক্ষ্যে চলত পিএফআই? নেপথ্যে কারা

PFI Ban: পিএফআই কারা, এদের ইতিহাসই বা কী? কেন নিষিদ্ধ এই সংগঠন?

ইএম আব্দুর রহমান, জাতীয় সহ-সভাপতি, পিএফআই

প্রাক্তন গ্রন্থাগারিক। কেরলের এরনাকুলামের কোচিন বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন তিনি। উচ্চশিক্ষিত আব্দুর, অবসরের আগে থেকে এই সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন সিমি-র সভাপতি ছিলেন। বরাবর মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ভুল বোঝানোর চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে। যিনি পিএফআই-র অন্যতম নীতি নির্ধারক এবং সমর্থকদের মধ্যে প্রভাবশালী বলেও দাবি করা হয়।

আফসার পাশা, পিএফআই-র জাতীয় সম্পাদক

২০০৬ সাল থেকে সংগঠনের অন্যতম নেতা এই ব্যক্তি। মূলত, ব্যবসায়ী তিনি। সংগঠনের আর্থিক দিকে এঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলেই দাবি।

আব্দুল ওয়াহিত সেইত, জাতীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য, পিএফআই

বেঙ্গালুরুর শিবাজীনগরে 'কুটচি মেমন কমিউনিটি'-র মুখ্য ভূমিকা পালন করতেন আব্দুল। এর সঙ্গেই অন্যতম নেতা হিসেবে কাজ করতেন এই সংগঠনের সঙ্গেও। জনসংযোগ, সংগঠনের বিস্তারের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা ছিল সেইতের। দাবি করছেন গোয়েন্দারা।

মহম্মদ শাকিফ ওরফে শাকিব, জাতীয় সম্পাদক, সংবাদমাধ্যম এবং জনসংযোগ বিভাগ, পিএফআই

সংবাদমাধ্যমের বিষয়টি দেখতেন এই সংগঠনের হয়ে। এছাড়া তিনি রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত।

মিনারুল শেখ, সভাপতি, পিএফআই, পশ্চিমবঙ্গ

আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র। পিএইচডি করেন ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই। একাধিক কোচিং সেন্টারে পড়াতেন তিনি। গবেষণার পাশাপাশি এই সংগঠনের জন্য কাজ করতেন শাকিব, উঠেছে অভিযোগ। সমগ্র রাজ্যে সংগঠনের বীজ ছড়িয়ে দিতে প্রধান ভূমিকা ছিল তাঁর।

মহম্মদ আসিফ, সভাপতি, পিএফআই, রাজস্থান

কলেজের পাঠ সম্পূর্ণ করেই আসিফ যোগ দেন 'ক্যাম্পাস ফ্রন্ট অফ্ ইন্ডিয়া'য়। যেটি পপুলার ফ্রন্ট অফ্ ইন্ডিয়া-র সঙ্গে জড়িত। এরপর ২০১৩-২০১৪ সাল নাগাদ, পিএফআই-র সংগঠনের রাজস্থানের রাজ্য সহ-সভাপতি হিসেবে কাজ শুরু করেন। অভিযোগ, রাজ্যজুড়ে এই সংগঠনের হয়ে প্রচার এবং সংগঠন বৃদ্ধিতে সক্রিয় ভূমিকা ছিল তাঁর।

প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহেই দক্ষিণ ভারতের বিজেপি শাসিত রাজ্য কর্নাটক-সহ দেশের প্রায় ১০টি রাজ্যে অভিযান চালান এনএআইএ এবং ইডি-র আধিকারিকরা। সন্ত্রাসবাদে উসকানি, জঙ্গিদের অর্থ জোগান দেওয়ার পাশাপাশি মুসলিমদের ভুল বুঝিয়ে জঙ্গিবাদে মদত-সহ একাধিক অভিযোগে ‘পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া’-র (পিএফএআই) প্রায় ১০০ জন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। একাধিক রাজ্যের পিএফআই আস্তানায় হয় তল্লাশি। সেখানেই উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সিমি-র পর ফের এই মুসলিম মৌলবাদী সংগঠনকে ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে কেন্দ্র।

মূলত, সিমি-র নিষিদ্ধ হওয়ার সূত্রেই দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে, দলীয় রাজনীতির বাইরে কাজ করার অঙ্গীকার নিয়ে গজিয়ে ওঠে এই সংগঠন। যা ২০০১ সাল নাগাদ 'স্টুডেন্ট ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অফ্ ইন্ডিয়া' বা সিমি-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পর থেকেই সক্রিয় কাজ শুরু করতে থাকে পরোক্ষভাবে। ৬ বছর কাটে। এরপর ২০০৭ সাল নাগাদ তিনটি মুসলিম সংগঠন কেরলের ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট, কর্নাটক ফোরাম ফর ডিগনিটি ও তামিলনাড়ুর মানিথা নীতি পাসারাই মিলে তৈরি হয় পপুলার ফ্রন্ট অফ্ ইন্ডিয়া। ২০০৭ এর ফেব্রুয়ারি নাগাদ বেঙ্গালুরুতে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে এই সংগঠন। মূলত, সিমি-র সদস্যরা এবং শিক্ষিত মুসলিম সমপ্রদায়ের যোগসাজশে বেড়ে ওঠে এই সংগঠন।

লিখেছেন
Ramen Das
Ramen Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।