আপনার একটা টি-শার্ট তৈরিতে লাগে ২,৭০০ লিটার জল!

মাত্র একটা কটন টি-শার্ট তৈরি করতে জল লাগে প্রায় ২,৭০০ লিটার! খুব সহজ হিসাবে—আপনি সারাদিনে যে পরিমাণ জল পান করেন, সেই হিসাবে আপনার পুরো আড়াই থেকে তিন বছরের (প্রায় ৯০০ দিনের) খাওয়ার জল স্রেফ একটা টি-শার্টের পিছনে শেষ হয়ে যায়।

inscript
৬ মিনিট
আপনার একটা টি-শার্ট তৈরিতে লাগে ২,৭০০ লিটার জল!

আলমারিটা খুললেই মনটা ভালো হয়ে যায়, তাই না? লাল, নীল, কত রঙের জামাকাপড়! শনি-রবিবারের ডেটিং হোক বা অফিসের মিটিং—নতুন একটা পোশাক না হলে ঠিক জমে না। আর এখন তো অনলাইন শপিং অ্যাপগুলির কল্যাণে সস্তায় চোখের পলকে ট্রেন্ডি জামা ঘরের দরজায় হাজির। কিন্তু কোনোদিন কি জামাটা গায়ে দেওয়ার সময় ভেবে দেখেছেন, এই এক-একটা সস্তার কাপড়ের পিছনে আমাদের এই নীল গ্রহটা ঠিক কতটা চড়া দাম চোকাচ্ছে?

ধরা যাক, একটা সাধারণ সুতির টি-শার্টের কথা। যেটা আপনার আলমারিতে রয়েছে, প্রায়ই বেরোয় জিন্সের সঙ্গে পরে টুকটাক কোথাও বেরিয়ে পড়ার সময়। সুতো দিয়ে বোনা ছিমছাম একটা জামা। এটি তৈরি করতে ঠিক কতখানি জল লাগতে পারে বলে আপনার মনে হয়? এক বালতি? দু-বালতি?

পরিবেশবিজ্ঞানীরা হিসাব কষে যে সংখ্যাটা বের করেছেন, তা শুনলে আপনি বেশ অবাক হবেন। মাত্র একটা কটন টি-শার্ট তৈরি করতে জল লাগে প্রায় ২,৭০০ লিটার! খুব সহজ হিসাবে—আপনি সারাদিনে যে পরিমাণ জল পান করেন, সেই হিসাবে আপনার পুরো আড়াই থেকে তিন বছরের (প্রায় ৯০০ দিনের) খাওয়ার জল স্রেফ একটা টি-শার্টের পিছনে শেষ হয়ে যায়।

আর ওই টি-শার্টের সঙ্গের জিন্সের প্যান্টটা? সেটার জন্য খরচ হবে ৭,৫০০ থেকে ১০,০০০ লিটার জল। এই পরিমাণ জল দিয়ে ৪,৭৫০ জন তৃষ্ণার্ত মানুষের একটা পুরো দিনের পানীয় জলের অভাব মিটিয়ে দেওয়া সম্ভব।

জলের এই বিশাল হিসাবটা কোথা থেকে আসে জানেন?

  • প্রথমত, তুলো গাছ বড় করতে মাঠে যে জল সেচ দিতে হয়।

  • দ্বিতীয়ত, সেই তুলো থেকে সুতো কেটে কাপড়ে নানারকম রাসায়নিক ও রংকরণ (Dyeing & Finishing) করার প্রক্রিয়ায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কয়লা রমরমায় কী ভাবে পাব কার্বনমুক্ত বাংলা?

West Bengal energy transition: কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতির মাঝেই পশ্চিমবঙ্গে বাড়ছে কয়লাভিত্তিক বিনিয়োগ। সবুজ শক্তির লক্ষ্যমাত্রা, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও কর্মসংস্থানের ভারসাম্য রেখে কি সম্ভব হবে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি রূপান্তর?

মজার বিষয় হলো, পুরো জল খরচের ৬০ শতাংশই চলে যায় মাঠ থেকে তুলো তোলার আগে। আর আমাদের দক্ষিণ বা মধ্য এশিয়ার দেশগুলিতে এখনও জমি ভাসিয়ে 'ফ্লাড ইরিগেশন' পদ্ধতিতে জল সেচ দেওয়া হয় বলে এখানে জলের অপচয় আরও অনেক বেশি।

তুলো চাষে 'ফ্লাড ইরিগেশন'

এই তুলো চাষের তীব্র তৃষ্ণা যে কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো 'আরাল সাগর' (Aral Sea)। আজ থেকে বছর ষাট আগেও এটি ছিল পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম নোনা জলের হ্রদ। প্রায় ৬৮,০০০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে নীল জল থইথই করত সেখানে। কিন্তু ১৯৬০-এর দশকে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এক মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত নেয়। তারা হ্রদে এসে মেশা দুটি প্রধান নদীর গতিপথ কৃত্রিমভাবে ঘুরিয়ে দেয়। লক্ষ্য কী ছিল? উজবেকিস্তান ও আশেপাশের মরুপ্রায় এলাকায় তুলো চাষের জন্য জল সেচ দেওয়া।

নদী শুকাল, সঙ্গে সঙ্গে শুকিয়ে গেল আস্ত একটা সমুদ্র। আজ নাসার উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিতে দেখা যায়, সেই বিশাল হ্রদের মাত্র ১০ শতাংশ জল এখন আছে। বাকি ৯০ শতাংশ এলাকা আজ এক বিষাক্ত ধূধূ মরুভূমি, যার নাম দেওয়া হয়েছে 'আরলকুম মরুভূমি'। কয়েক দশক ধরে চাষের জমি থেকে ধুয়ে আসা রাসায়নিক সার আর কীটনাশক মিশে আছে এই মরুভূমির ধুলোয়। ফলে সেখানে এখন প্রায়ই বিষাক্ত ধুলোঝড় হয়, যা আশেপাশের মানুষের ফুসফুসে ক্যানসার আর শ্বাসকষ্টের বীজ বুনে দিচ্ছে। রাতারাতি জীবিকা হারিয়েছেন প্রায় ৪০,০০০ থেকে ৬০,০০০ মৎস্যজীবী।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, যে আরাল সাগরকে বলি দিয়ে তুলো চাষ হলো, সেই তুলো কিন্তু ওই দেশেই থাকেনি। তা জাহাজে করে চলে এসেছে বাংলাদেশ, চিন, ভিয়েতনাম বা ভারতের মতো বড় বড় পোশাক তৈরির কারখানায়। সেখানে প্রসেসিং হয়ে তা টি-শার্ট হয়ে জায়গা করে নিয়েছে ইউরোপ বা আমেরিকার শৌখিন মানুষের আলমারিতে। ভাবলেই অবাক হতে হয়—একসময়ের একটা আস্ত জ্যান্ত সমুদ্র আজ বাষ্প হয়ে বাতাসে উবে গিয়েছে, বিষাক্ত হয়ে মাটিতে মিশেছে, আর বাকিটা কাপড়ের টুকরো হয়ে আমাদের আলমারিতে বন্দি হয়ে আছে!

এই প্রক্রিয়ায় শুধু যে জল শুষে নেওয়া হয়, তা নয়, জলকে বিষাক্ত করে ফিরিয়ে দেওয়াও হয়।

বাংলাদেশ, চিন, ভিয়েতনাম কিংবা ভারত-পাকিস্তানের টেক্সটাইল মিলগুলিতে কাপড়ে রং করার পর যে নোংরা রাসায়নিক মিশ্রিত বর্জ্য জল বের হয়, তা কিন্তু আর আগের মতো পরিষ্কার হয়ে নদীতে ফেরে না। শুধু বাংলাদেশেই প্রতি বছর পোশাক কারখানাগুলিতে প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন (দেড় লাখ কোটি) লিটার জল ব্যবহার করা হয়। আর এই প্রক্রিয়াকরণে ব্যবহার করা হয় প্রায় ১৫,০০০ রকমের মারাত্মক রাসায়নিক (যার মধ্যে অন্যতম হলো ক্ষতিকর PFAS)।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
তামাকের ধোঁয়ায় ঢাকা ভবিষ্যৎ: পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের সংকট

সিগারেটের ফিল্টার পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি পরিমাণে ফেলে দেওয়া একক বর্জ্যপণ্যের মধ্যে অন্যতম। প্রতিবছর আনুমানিক ৪.৫ ট্রিলিয়নেরও বেশি সিগারেটের ফিল্টার পরিবেশে নিক্ষিপ্ত হয়।

কারখানার এই বিষাক্ত বর্জ্য জল কোনো রকম শোধন ছাড়াই সরাসরি মিশে যাচ্ছে স্থানীয় নদী, নালা আর মাটির নিচের ভূগর্ভস্থ জলে। সেই জল দিয়ে চাষের জমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে, সেই জল গিয়ে মিশছে সমুদ্রে। ফলে আমাদের অজান্তেই সেই বিষাক্ত ভারী ধাতু আর কীটনাশক শাকসবজি ও মাছের মাধ্যমে ঢুকে পড়ছে আমাদের নিজেদেরই খাদ্যশৃঙ্খলে।

ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি যে শুধু জল শেষ করছে তা নয়, এটি আমাদের বাতাসকেও মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। প্রতি বছর এই জামাকাপড় তৈরির কারখানাগুলি থেকে বাতাসে প্রায় ১২০ কোটি টন কার্বন-ডাই-অক্সাইডের সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস ছড়ায়। এই দূষণের মাত্রাটা ঠিক কতটা জানেন? সারা পৃথিবীতে যত আন্তর্জাতিক বিমান ওড়ে এবং সমুদ্রপথে যত মালবাহী জাহাজ চলে, তারা সবাই মিলে যৌথভাবে যা দূষণ ছড়ায়, কাপড়ের ফ্যাক্টরিগুলি একাই তার চেয়ে বেশি বিষ ছড়াচ্ছে বাতাসে!

আর এই আগুনে ঘি ঢালছে গত কয়েক বছরে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠা 'আল্ট্রা-ফাস্ট-ফ্যাশন' (Ultra-Fast-Fashion)-এর ট্রেন্ড। 'শিন' (Shein) বা 'টেমু' (Temu)-র মতো কিছু চিনা অনলাইন অ্যাপ আজ ক্রেতাদের সস্তায় বিদ্যুৎ গতিতে নিত্যনতুন জামাকাপড় কেনার নেশা ধরিয়ে দিয়েছে। স্রেফ দুই বছরের ব্যবধানে 'শিন' কোম্পানির কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১৭০ শতাংশ! এই একটি মাত্র কোম্পানি বছরে যে পরিমাণ দূষণ ছড়ায়, তা একটা আস্ত ছোট উন্নত দেশের মোট বার্ষিক দূষণের সমান।

আমরা সুতির কাপড়ের গল্প তো জানলাম, কিন্তু আমাদের পরনের সিংহভাগ পোশাকই তো এখন তৈরি হয় সিন্থেটিক বা কৃত্রিম সুতো (যেমন পলিয়েস্টার বা নাইলন) দিয়ে। ১৯৬০ সালেও দুনিয়ায় মাত্র ৩ শতাংশ পোশাকে সিন্থেটিক সুতো থাকত, আজ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৮ থেকে ৭৬ শতাংশে।

এই কৃত্রিম জামাকাপড়গুলি যখন আমরা বাড়িতে ওয়াশিং মেশিনে বা বালতিতে কাচি, তখন তা থেকে ক্ষয়ে ক্ষয়ে কোটি কোটি অতি সূক্ষ্ম প্লাস্টিকের কণা বা 'মাইক্রোপ্লাস্টিক' জলের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। প্রতি বছর এভাবে প্রায় ৫ লক্ষ টন মাইক্রোপ্লাস্টিক গিয়ে জমা হচ্ছে সমুদ্রে, যা কিনা ৫০ বিলিয়ন প্লাস্টিক বোতল সমুদ্রের জলে ফেলে দেওয়ার সমান! এই প্লাস্টিক কণাগুলি কখনও প্রাকৃতিকভাবে পচে নষ্ট হয় না। ফল যা হওয়ার তাই হচ্ছে—সমুদ্রের মাছ সেই প্লাস্টিক খাচ্ছে, আর সেই মাছ ঘুরে যখন আমাদের পাতে আসছে, তখন প্লাস্টিক ঢুকে যাচ্ছে আমাদের শরীরে। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে মানুষের রক্তে এবং গর্ভস্থ শিশুর প্লাসেন্টা বা জরায়ুর টিস্যুতেও এই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পেয়ে চমকে উঠছেন।

এরপর আসে ফেলে দেওয়া কাপড়ের বর্জ্য বা 'টেক্সটাইল ওয়েস্ট'। আমরা এখন ১৫ বছর আগের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি কাপড় কিনি, কিন্তু তা ব্যবহার করি আগের চেয়ে অর্ধেক সময়। একটু পুরনো হলেই ফেলে দিই। ফলে বছরে প্রায় ৯ কোটি ২০ লক্ষ টন কাপড়ের বর্জ্য তৈরি হচ্ছে দুনিয়ায়।

এই বাতিল কাপড়গুলি যায় কোথায়?

ধনী দেশগুলি এই আবর্জনা নিজেদের দেশে না রেখে জাহাজে করে পাঠিয়ে দেয় গরিব দেশগুলির দিকে। দক্ষিণ আমেরিকার চিলির বিখ্যাত 'আতাকামা মরুভূমি' আজ বিশ্বের কাপড়ের ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। সেখানে হাজার হাজার টন অবিক্রিত ও ফেলে দেওয়া পোশাক স্তূপাকার করে রাখা হয়েছে। কাপড়ের সেই পাহাড় আজ এতটাই বিশাল যে, মহাকাশে থাকা উপগ্রহের ক্যামেরাতেও মরুভূমির বুকে সেই জামাকাপড়ের স্তূপ স্পষ্ট দেখা যায়!

এই যে এত সব ভয়ঙ্কর পরিসংখ্যান আমরা জানলাম, এগুলি কিন্তু কোম্পানিগুলি নিজেরা জানায়নি। বড় বড় ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলি তাদের পরিবেশের ক্ষতির আসল খতিয়ান (Sustainability Report) সবসময়ই আড়াল করে যায়। একে বলা হয় 'ডিসক্লোজার গ্যাপ' বা তথ্যের লুকোচুরি।

তারা দেখাবে কাপড় তৈরিতে কত জল লেগেছে, কিন্তু সেই কাপড় দোকানে পৌঁছতে বা আপনার বাড়িতে কাচতে কত জল অপচয় হচ্ছে, তা কায়দা করে চেপে যাবে। কোনো একটি কোম্পানি বছরে মোট কত জল খরচ করল, সেই মস্ত বড় সংখ্যাটি দিয়ে তারা আসল সত্যিটা ঢেকে রাখে। যার কারণে সাধারণ মানুষ বুঝতেই পারে না যে, বাংলাদেশের কোনো এক খরাপ্রবণ এলাকায় তাদেরই বসানো কোনো ডাইং মিল ওখানকার গরিব মানুষের মাটির তলার জলটুকু শুষে নিয়ে তাদের তৃষ্ণার্ত রাখছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষক ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলি (যেমন UN, WWF, Earth.org) অনেক কষ্ট করে পর্দার পিছন থেকে এই সত্যগুলি আমাদের সামনে এনেছে।

আজ পৃথিবীতে প্রায় ২২০ কোটি মানুষ এক ফোঁটা নিরাপদ পানীয় জলের জন্য হাহাকার করছেন। অথচ এই ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি এক বছরে যে পরিমাণ মিষ্টি জল স্রেফ শৌখিনতার পিছনে নষ্ট করে, তা দিয়ে ওই ২২০ কোটি মানুষের প্রত্যেকের দৈনিক খাওয়ার জলের ন্যূনতম প্রয়োজন অনায়াসে কয়েক দশক ধরে মিটিয়ে দেওয়া সম্ভব ছিল।

সমস্যাটা বিশাল, কিন্তু সমাধানটা লুকিয়ে আছে আমাদের নিজেদের অভ্যাসের মধ্যেই। পৃথিবী বাঁচাতে আমাদের জীবনযাত্রা থেকে পুরোপুরি ফ্যাশন বাদ দেওয়ার দরকার নেই, শুধু দরকার একটু সচেতনতা:

  • কম কিনুন, বেশি দিন পরুন (Buy Less, Wear Longer): প্রতি সপ্তাহে জামা কেনার অভ্যাস বদলাতে হবে। একটা জামা কেনার আগে ভাবুন, এটা আপনি অন্তত ৩০ বার পরবেন তো?

  • সিন্থেটিক কমানো: পলিয়েস্টারের বদলে সুতি, লিনেন বা পাটের মতো প্রাকৃতিক তন্তুর তৈরি পোশাক ব্যবহারে জোর দেওয়া উচিত।

  • রিসাইকেল ও পুনর্ব্যবহার: পুরনো কাপড় ফেলে না দিয়ে তা অন্য কাউকে দিয়ে দেওয়া বা নতুন কোনো কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।

  • পরিবেশ বান্ধব ব্র্যান্ড বাছাই: যেসব ব্র্যান্ড পরিবেশের ক্ষতি না করে কাপড় তৈরি করে (যেমন Better Cotton Initiative বা পরিবেশবান্ধব ডাইং পদ্ধতি), তাদের থেকে পোশাক কেনার চেষ্টা করা।

একটি মাত্র টি-শার্ট আলাদাভাবে দেখলে খুব ছোট মনে হতেই পারে, কিন্তু পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের সেই একটি করে টি-শার্টই যখন একসঙ্গে যোগ হয়—তখনই তা হয়ে ওঠে এক বিশাল মহাসমুদ্র। সিদ্ধান্ত এখন আমাদের হাতে—আমরা কি আমাদের আলমারি সাজাব, নাকি আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য একটু বিশুদ্ধ জল আর বাতাস বাঁচিয়ে রেখে যাব?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জলবায়ু বদলেছে, নদীর প্রবাহ বদলেছে: ৩০ বছরের পুরনো ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তিতে কোন কোন পরিবর্তন দরকার?

A Flawed Pact of Farakka: ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ। বাংলাদেশের নদী বিশেষজ্ঞ মনজুর এ চৌধুরীর মতে, চুক্তিটি 'ত্রুটিপূর্ণ', এতে নেই গ্যারান্টি ক্লজ, নেই পরিবেশগত প্রবাহের হিসাব, নেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিধান। তাঁর প্রস্তাব, তিন বছরের নতুন অন্তর্বর্তী চুক্তি হোক, তারপর নেপালকে যুক্ত করে তৈরি করা হোক ত্রিপাক্ষিক কাঠামো।

থালায় খাবার, নাকি বিষ? খাদ্যব্যবস্থার ভিতরে যেভাবে ঢুকছে কীটনাশক ও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ

Poison on the Plate: বায়ার-মনসান্টো ও সিনজেনটার মতো 'বিগ সিক্স' কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বিশ্বের বীজ বাজার। ২০২৩ সালে ভারতে ১০,৭৮৬ জন খাদ্য উৎপাদক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৮ শতাংশ খাদ্য নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত গ্লাইফোসেটকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্ষতিকারক ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও এর ব্যবহার থামেনি। অন্যদিকে, প্রচারের অন্তরালে সিকিম আমাদের দেশের প্রথম শতভাগ জৈব কৃষির রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সারা বিশ্বজুড়ে কৃষিবিদ বন্দনা শিবার ‘পয়জন-ফ্রি ফুড অ্যান্ড ফার্মিং ২০৩০’ অভিযানের ডাক আমাদের খাবারের থালাকে বিষমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

তেলের বদলে বিদ্যুৎ! আরব সাগরের তলায় ভারত-সৌদির ৯ বিলিয়ন ডলারের মহাপ্রকল্প

India Saudi Arabia submarine power link: আরব সাগরের তলদেশ দিয়ে ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রস্তাবিত ২১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সাবমেরিন বিদ্যুৎ সংযোগের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হচ্ছে, যার ক্ষমতা থাকবে ৩ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের। প্রযুক্তি হিসাবে ব্যবহৃত হবে HVDC, এর ফলে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ বিলিয়ন ডলার। আজ, ৫ অক্টোবর, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা হবে প্রকল্পটির ব্যয় কমানো, অর্থায়ন মডেল ও ঝুঁকি ভাগাভাগি নিয়ে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ভারতের ওয়ান সান ওয়ান ওয়ার্ল্ড ওয়ান গ্রিড প্রকল্প ও জি-২০ তে প্রস্তাবিত ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এই প্রকল্পটিকে চিনের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভের বিকল্প হিসেবে দেখা যেতে পারে।

কয়লার দেশ হয়েও কেন বিদ্যুৎ সংকটে ভারত?

India's energy crisis 2026: হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায়, ভারতের ৮০ শতাংশের বেশি জ্বালানি আমদানি ধাক্কা খেয়েছে। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এক সময় জ্বালানিক্ষেত্রে ‘ঘাটতি নেই’ বললেও সেপ্টেম্বরে স্বীকার করলেন, জ্বালানির পরিস্থিতি বর্তমানে ‘টানটান’। ৭৬টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংকটজনক ভাবে মজুত করা কয়লায় চলছে। চলছে এলপিজির কালোবাজারি। ডিসকমগুলির বকেয়া জমে রয়েছে প্রায়, ৩,৩৩০ কোটি টাকা।

প্রকৃতির কোলে পিকনিক, শেষে প্লাস্টিকের পাহাড়: মানুষ কি সত্যিই প্রকৃতিকে ভালোবাসে?

Environmental Pollution: প্রশাসনের তরফে অতিরিক্ত দূষণ ছড়ানো কলকারখানা সিল করে দেওয়ার মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ হয়তো নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এতেই কি সমস্যার সমাধান মিলবে? কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যক্তিগত যানবাহনের দাপট এবং বৈদ্যুতিন বর্জ্য। শ্রমবিমুখ হয়ে সবকিছু প্রস্তুত পাওয়ার মানসিকতা এবং দেশে সংস্কারের লড়াই না করে সহজে অন্য দেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতাও স্পষ্ট। এই দায় এড়িয়ে কি সার্বিক সমাধান সম্ভব?

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।