'খেলা হবে'-এর ডাক মেসি-মদরিচদের, প্রথম সেমিফাইনালে পাল্লা ঝুঁকে কোন দিকে?
FIFA World Cup 2022 : বিশ্বের কিংবদন্তি দুই ফুটবল তারকার শেষ বিশ্বকাপ। এবার তাই নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করার লক্ষ্যে ঝাঁপিয়ে পড়বেন দু’জনেই।

৯ ডিসেম্বর, শুক্রবারের রাতটি পেরিয়ে গিয়েছে অনেকক্ষণ। টাই ব্রেকারে শক্তিশালী ব্রাজিলকে হারিয়ে সেমি ফাইনালের প্রস্তুতই শুরুও করে দিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। সেই সময় রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ক্রোট ডিফেন্ডার জসিপ জুরানোভিচ। হাতে গোনা কয়েক ঘণ্টা পেরলেই তাঁদের সামনে মেসির আর্জেন্টিনা। কী ভাবছেন তাঁরা? জুরানোভিচের সোজা সাপ্টা বক্তব্য, “আপাতত কাউকে ভয় পাচ্ছি না আমরা। এখন নিজেদের নিয়েই ভাবছি। আমাদের একতাই আসল শক্তি। সবাই একসঙ্গে আছি, প্র্যাকটিস করছি। আমরা একটা পরিবারের মতোই একজোট হয়ে লড়াই চালিয়ে যাব।”
প্রথম সেমি ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার মেসি নির্ভরতার দিকেই কি ইঙ্গিত করলেন ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডার? সেই বিশ্লেষণ ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা করবেন। আপাতত প্রথম সেমি ফাইনালের বল গড়ানোর আগেই উত্তাপ ছড়িয়েছে কাতারে। বুধবার ভারতীয় সময় সাড়ে ১২ টায় লুসাইল স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ক্রোয়েশিয়া। দুই দলের মধ্যেই বেশকিছু সাদৃশ্য চোখে পড়ে। ২০১৪-র বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে গিয়েছিল মেসিরা। ট্রফি জয়ের স্বপ্ন সেবার অধরা থেকে গিয়েছিল নীল-সাদা ব্রিগেডের।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
FIFA World Cup 2022 : রেফারিং নিয়ে বিতর্ক বরাবরই ফুটবলের অন্যতম অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালের ওই ম্যাচটিতে সেই পারদ যেন একটু বেশিই উত্তপ্ত হয়েছিল।
অন্যদিকে, ক্রোয়েশিয়াও শেষবার, ২০১৮-র রাশিয়া বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কাছে ফাইনালে দুরমুশ হয়েছিল। পাশাপাশি, দুই টিমেই আছেন ‘এলএম ১০’। একদিকে লিওনেল মেসি, অন্যদিকে লুকা মদরিচ। বিশ্বের কিংবদন্তি দুই ফুটবল তারকার শেষ বিশ্বকাপ। এবার তাই নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করার লক্ষ্যে ঝাঁপিয়ে পড়বেন দু’জনেই। তার প্রমাণ ইতিমধ্যেই দেখে ফেলেছে কাতারের ময়দান।
সৌদি আরবের সঙ্গে হারের ধাক্কা ধীরে ধীরে সামলে নিয়েছেন মেসি, ডি মারিয়া, ডে পলরা। এবারের সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে কিলিয়ান এমবাপ্পের ঠিক পরেই রয়েছেন মেসি। এছাড়াও বিশ্বকাপে গোল সংখ্যার বিচারে বাতিস্তুতার সঙ্গেই এক নম্বরে রয়েছেন তিনি। আর একটি গোল তৈরি করবে নতুন রেকর্ড। জীবনের শেষ বিশ্বকাপে এসে কি নিজের স্বপ্ন পূরণ হবে মেসির? ডি মারিয়া, ডে পল, এমি মার্তিনেজরাও নিজেদের কাজটি করে চলেছেন। খুঁত রয়েছে বিস্তর, সেটা জেনেও লড়াইয়ের রাস্তা ছাড়েননি কেউ। নেদারল্যান্ডের বিরুদ্ধে টাই ব্রেকারের পারফর্মেন্সও নীল-সাদা ব্রিগেডকে আশায় রাখছে। আর্জেন্টিনার ভক্তরাও আশা রাখছেন দশ নম্বর জার্সির দিকে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Fifa WorldCup 2022: সামনের ম্যাচগুলিতে যেন এরকম কোনও রেফারিকে না দেখা যায়, আশা করছে আর্জেন্টিনা
অন্যদিকে গতবারের বিশ্বকাপের অধরা স্বপ্ন পূরণ করতে মাঠে নামবেন ক্রোটরাও। মেসির মতো লুকা মদরিচও তাঁর দলের স্তম্ভ। ব্রাজিল ম্যাচে ১২০ মিনিট যেভাবে গোটা মাঠ দাপিয়ে বেড়ালেন, তা দেখে রীতিমতো মুগ্ধ ফুটবল বোদ্ধারা। ৩৭ বছরের ‘বৃদ্ধ’ মদরিচ নিজেই গোটা টিমকে সাহস জোগাচ্ছেন। সেইসঙ্গে গোলের নিচে রয়েছে ডমিনিক লিভাকোভিচের ভরসার হাত। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে টাই ব্রেকার ছাড়াও গোটা বিশ্বকাপেই নিজের জাত চেনাচ্ছেন তিনি। সেইসঙ্গে রয়েছে ক্রোয়েশিয়ার টিমগেম। সব মিলিয়ে, তাঁরাও চনমনে।
ফুটবল বিশ্বকাপের বিচারে দেখলে, এখনও অবধি মোট দু’বার পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছে ক্রোয়েশিয়া আর আর্জেন্টিনা। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ১-০ গোলে ক্রোয়েশিয়াকে হারায় লা আলবিসেলেস্তেরা। গতবার অর্থাৎ ২০১৮-র বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ফের মুখোমুখি হন মেসি-মদরিচ। সেই ম্যাচে অবশ্য ৩-০ গোলে লাতিন শক্তিকে উড়িয়ে দেয় ক্রোটরা। এছাড়াও তিনটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে দু’টি দলের মুখোমুখি হয়েছে – ১৯৯৪, ২০০৬, ২০১৪। তাতে একটি করে ম্যাচে জয়লাভ করে দু’পক্ষই। ১৯৯৪-এর প্রথম সাক্ষাৎটি গোলশূন্য ড্র হয়।
উল্লেখ্য, কাতার বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত অপরাজিত ক্রোয়েশিয়া। সেইসঙ্গে রয়েছে টাই ব্রেকারে তাদের অভূতপূর্ব রেকর্ড। সমস্তটা মিলিয়ে টগবগে পেরিসিচ, লিভাকোভিচরা। অন্যদিকে, টাই ব্রেকারে ভরসা জোগাচ্ছেন আর্জেন্টিনার এমি মার্তিনেজ। প্রথমে কোপা আমেরিকা, তারপর বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ড – তাঁর হাতকে ভরসা করেন মেসিরা। তবে ক্রোয়েশিয়াকে যে হালকাভাবে নিচ্ছেন না মেসিরা, সেটা বুঝিয়ে দিয়েছেন বারবার। ক্লোজ ডোর ট্রেনিং শুরু হয়েছে তাঁদের। সব মিলিয়ে কাতারের মাটি নতুন স্বপ্নের দিকে তাকিয়ে।







