কেন রেগে আগুন হলেন? রেফারিকে ঠিক কী বলেছিলেন মেসি
Fifa WorldCup 2022: সামনের ম্যাচগুলিতে যেন এরকম কোনও রেফারিকে না দেখা যায়, আশা করছে আর্জেন্টিনা

লিওনেল মেসি, ভাউট বেগহোস্ট, ইমিলিয়ানো মার্টিনেজের পাশাপাশি নেদারল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা ম্যাচে আরও একজন ছিলেন আলোচনায়। তিনি হলেন স্প্যানিশ রেফারি আন্তনিও মাতেও লাহজ। রুদ্ধশ্বাস সেমি ফাইনালে শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানের ডাচদের পরাস্ত করে সেমিফাইনালে পৌঁছেছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচটি যেমন ছিল রুদ্ধশ্বাস তেমনি ম্যাচের পরেও রয়ে গিয়েছে প্রচুর বিতর্ক। শেষ মুহুর্তে এক্সট্রা টাইমের ফ্রি কিক থেকে শুরু করে রেফারির সিদ্ধান্ত, ভ্যান গালের সঙ্গে মেসির বাদানুবাদ থেকে শুরু করে ফাউলের সময় নেদারল্যান্ডের রিজার্ভ বেঞ্চে থাকা খেলোয়াড়দের মাঠে ঢুকে আর্জেন্টিনাকে আক্রমণ, সবকিছুই দেখা গিয়েছে এই ম্যাচে। এই ম্যাচের পরিস্থিতি ছিল এতটাই উত্তপ্ত যে, লিওনেল মেসির মতো একজন খেলোয়াড় পর্যন্ত নিজের সংযম স্থির রাখতে পারলেন না।
এমনকি পোস্ট ম্যাচ ইন্টারভিউ-এর সময় নেদারল্যান্ডের তরফের একজন সাংবাদিককে পর্যন্ত কড়া কথা শোনালেন লিওনেল মেসি। সেই সাংবাদিক হয়তো নিজের ক্যামেরা অন্যদিকে ঘুরিয়ে রেখেছিলেন। সে বিষয়টি পছন্দ হয়নি লিওনেল মেসির। সেই সময় সেই ক্যামেরাম্যানকে লক্ষ্য করে মেসি বলেন, 'আরে আপনি বোকার মত কোথায় তাকিয়ে? এদিকে তাকান!' মেসির মতো একজন ঠান্ডা মাথার খেলোয়াড় যে এইভাবে নিজের সংযম নষ্ট করবেন এটা হয়তো কেউ ভাবতেও পারেননি। তবে এই সংযম ভঙ্গের কারণ ছিল অনেক।
Messi 🤬😂
“Que miras bobo”
“What are you looking at you fool”
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
FIFA World Cup 2022: বিশ্বকাপে এর আগেও পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছে এই দু’টি দল। লাতিন আমেরিকা আর ইউরোপের এই যুদ্ধও হয়েছে সেয়ানে সেয়ানে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
World Cup Football 2022: এমনিতে তিনি যেকোনও পজিশনেই খেলতে পারেন, কিন্তু আমার দলে মারাদোনাকে রাখব অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে।
এই পোস্ট ম্যাচ ইন্টারভিউতেই মেসি অভিযোগ জানিয়েছেন, নেদারল্যান্ডের কোচ লুইস ভ্যান গালের বিরুদ্ধে। ম্যাচের আগে ভ্যান গালের করা অপমানের কথা বলেছেন মেসি। "ভ্যান গাল এবং অন্যান্য ডাচ খেলোয়াড়রা ম্যাচের সময়ে অনেক বেশি কথা বলছিলেন, এবং বিশেষ করে আমাকে টার্গেট করে, বিষয়টা আমার মোটেও ভালো লাগেনি।" তবে, এই সমস্ত বিতর্ক তো প্রত্যেক ম্যাচেই কমবেশি থাকে। কিন্তু, গতকালের নেদারল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা ম্যাচে যা নিয়ে সবথেকে বেশি বিতর্ক হয়েছে, সেটা হল রেফারির সিদ্ধান্ত।
পেনাল্টিতে ৪-৩ ব্যবধানে নেদারল্যান্ডকে পরাস্ত করলেও, রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রথম থেকেই অসন্তুষ্ট উভয় দলই। পুরো ম্যাচে তিনি এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা নিয়ে অসন্তুষ্ট অনেকেই। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা। আন্তনিও পুরো ম্যাচে ১৮ টি হলুদ কার্ড দেখিয়েছেন, যা এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ। নেদারল্যান্ড এবং আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের কার্ড দেখিয়েছেন সমান ৮টি করে। এমনকি হলুদ কার্ড দেখিয়েছেন আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালনি এবং সহকারি ওয়াল্টার স্যামুয়েলকেও। ফলে তাকে নিয়ে বিতর্ক তো হতোই।
বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে এখনো পর্যন্ত সবথেকে জঘন্যতম ম্যাচ ছিল 'ব্যাটেল অফ সান্তিয়াগো'। ১৯৬২ সালে চিলি আয়োজিত বিশ্বকাপে চিলি বনাম ইতালির একটি ম্যাচে, এতটাই সহিংসতা হয়েছিল যে, সেই ম্যাচের রেফারি কেন অ্যাস্টন বলতে বাধ্য হয়েছিলেন, 'আমি কোন ফুটবল ম্যাচ পরিচালনা করছিলাম না, আমি যেন মিলিটারি অপারেশনে আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলাম।' কিন্তু সেই ম্যাচেও এতগুলি হলুদ কার্ড দেখানো হয়নি যতটা হল নেদারল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা ম্যাচে।
বিবিসি সাংবাদিক ডেভিড কোলম্যান সেই ম্যাচটিকে আখ্যা দিয়েছিলেন ফুটবল ইতিহাসের সব থেকে অর্থহীন, আতঙ্কজনক, মর্যাদাহানিকর প্রদর্শনী হিসেবে। সেই ম্যাচেও যখন এতগুলি হলুদ কার্ড দেখানো হয়নি, তাহলে নেদারল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা ম্যাচে তো সেরকম কোনও ঘটনাই ঘটে নি। তাহলে এতগুলি হলুদ কার্ডের প্রয়োজন পড়ল কেন। স্বাভাবিকভাবেই স্প্যানিশ রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
স্প্যানিশ লা-লিগা থেকেই লাহোজের সঙ্গে মেসির একটা খারাপ সম্পর্ক। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক মেসিও তাই চুপ থাকলেন না। রীতিমতো ধুয়ে দিলেন এই স্প্যানিশ রেফারিকে। মেসি বললেন, "রেফারি সম্পর্কে কোন কথা বলতে চাই না। মানুষ দেখেছে আজকের ম্যাচে কি হয়েছে। ফিফার এটা পুনঃবিবেচনা করা উচিত এবং এমন কোন রেফারিকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত যিনি নিজের কাজটা ভালোভাবে জানেন। আমরা হয়তো খুব একটা ভালোভাবে খেলতে পারিনি। প্রত্যেক ম্যাচেই এরকম ঘটনা ঘটতে পারে। এতগুলি হলুদ কার্ড , এতগুলি ফাউল ফুটবল ইতিহাসে কোনদিন দেখানো হয়নি এর আগে। রেফারির কারণেই অতিরিক্ত সময়ে খেলা পৌঁছেছে। এমনকি যে গোলটি দিয়ে সমতায় ফিরেছে ওরা, সেটাও ফাউল ছিল না।"
টাইব্রেকারে পেনাল্টি সেভ করে আর্জেন্টিনার নায়ক হয়ে যাওয়া মার্টিনেজ মেসির সুরে সুর মিলিয়েছেন। সামনের ম্যাচগুলিতে যেন এরকম কোনও রেফারিকে না দেখা যায়, এমনটাই আশা করেছেন তিনিও। বলছেন, "রেফারি ডি বক্সের সামনে কয়েকবার ফ্রি কিক দিয়েছেন। তিনি চেয়েছিলেন যেন নেদারল্যান্ডস গোল করে। আশা করছি এই ধরনের রেফারি সামনের ম্যাচে আর পাব না। আমার মনে হয় স্পেন বিদায় নিয়েছে ইতিমধ্যেই। সেই কারণেই আমাদের বিদায়টাও খুব করে চেয়েছিলেন ওই রেফারি। সে একটা অপদার্থ।"
ম্যাচ জেতার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মেসি বলেন, "অনেক আনন্দ, অনেক খুশি লাগছে। ম্যাচটা অতিরিক্ত সময় কিংবা পেনাল্টিতে যাওয়ার কথা ছিল না। আমাদের ভুগতে হতো এরপর। আমরা যে বেরিয়ে আসতে পেরেছি, এটা দারুণ।"
সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হতে চলেছে ক্রোয়েশিয়া, যারা কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের মতো দলকে হারিয়ে দিয়েছে। সেমিফাইনালের প্রতিপক্ষ নিয়ে আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছেন মেসি। তিনি বলেছেন, "ক্রোয়েশিয়া দেখিয়ে দিয়েছে, তারা ভালো দল। একসময় তারা ব্রাজিলের সঙ্গে সমান তালে খেলেছে। এই দল একই কোচের অধীনে অনেক দিন ধরে খেলছে। তারা একে অপরকে খুব ভালোভাবে চেনে।"







