ট্রাম্পের চাপ, হামাসের শর্ত : গাজায় শান্তি ফিরবে?

Trump Peace Plan & Hamas Response: হামাস জানিয়েছে, তারা গাজায় আটক সব ইজরায়েলি বন্দিকে, জীবিত ও মৃত উভয়কেই, মুক্তি দিতে প্রস্তুত। তবে, হামাস ট্রাম্পের পরিকল্পনার অন্যান্য দিক নিয়ে আরও আলোচনা চায়।

Tanvia Barua
৩ মিনিট
ট্রাম্পের চাপ, হামাসের শর্ত : গাজায় শান্তি ফিরবে?

জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে গাজার কয়েক লক্ষ মানুষ। আশা নিরাশার দোলাচলে যখন দুলছে গোটা প্যালেস্টাইন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঠিক সেই সময় ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা সামনে আনলেন। তাঁর যুক্তি এই পরিকল্পনাই গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি আনার একমাত্র পথ। হামাসও ইতোমধ্যেই আংশিকভাবে সম্মত হয়েছে ট্রাম্পের প্রস্তাবনায়। পাশাপাশি ইজরায়েলকে বলা হয়েছে অবিলম্বে হামলা থামাতে হবে। এ হেন টানাপোড়েনের মধ্যে প্রশ্ন একটাই, গাজায় কি তবে শান্তি ফিরবে?

ট্রাম্পের প্রস্তাবনার মূল বিষয়বস্তু

•ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনায় গাজায় সমঝোতার ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি, বন্দি বিনিময়, গাজার প্রশাসন পরিবর্তন এবং হামাসের অস্ত্রত্যাগ অন্তর্ভুক্ত আছে।

•এই প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, গাজাকে একটি টেকনোক্র্যাটিক (technocratic), অ-রাজনৈতিক পরিষদ দ্বারা চালানো হবে, যেখানে হামাস কোনো শাসন ভূমিকা রাখবে না।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
১৯৬৭ থেকে ২০২৫! যেভাবে গাজায় বারবার নিশানা করা হচ্ছে সাংবাদিকদের

Israel’s killing of journalists: ইজরায়েল ১৯৬৭ সালে দখলদারিত্বের প্রথম দিন থেকেই, মিডিয়া রিপোর্টিংয়ের উপর শক্ত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চেয়েছে। পরে সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণ করতে সেন্সরশিপ আনা হয়।

•যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে ইজরায়েল সেনা প্রত্যাহার করবে এবং বোর্ড অফ পিস (Board of Peace) নামে একটি আন্তর্জাতিক তত্বাবধান বোর্ড থাকবে, যেখানে ট্রাম্প ও অন্যান্য নেতারা দায়িত্বে থাকবেন।

•৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্দিরা ফেরত দেওয়া হবে। হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি পাবে।

তবে সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো বিষয় হল— পরিকল্পনা অনুযায়ী হামাসকে শাসন ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হবে, অর্থাৎ তারা গাজার পরিচালনায় আর থাকবে না।

হামাস জানিয়েছে, তারা গাজায় আটক সব ইজরায়েলি বন্দিকে, জীবিত ও মৃত উভয়কেই, মুক্তি দিতে প্রস্তুত। তবে, হামাস ট্রাম্পের পরিকল্পনার অন্যান্য দিক নিয়ে আরও আলোচনা চায়। বিশেষ করে, গাজায় একটি প্রযুক্তিবিদদের দ্বারা পরিচালিত প্রশাসন গঠনের প্রস্তাব তারা মেনে নিতে রাজি হয়েছে, কিন্তু হামাসের অস্ত্রবিহীন হওয়ার বিষয়টি একটি জাতীয় ফোরামে আলোচনা করতে চায়। অর্থাৎ, হামাস এখনও এই পরিকল্পনায় পুরোপুরি রাজি হয়নি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা থেকে মুনাফা লুটছে মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট?

Gaza: প্রতিবেদনে আরও লেখা হয়, মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট ও অ্যামাজন ইজরায়েলকে তাদের ক্লাউড ও এআই-এর বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ করে দিচ্ছে।

তবে ট্রাম্প হামাসের এই প্রতিক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, "হামাস স্থায়ী শান্তির জন্য প্রস্তুত।" তিনি ইজরায়েলকে গাজায় বোমাবর্ষণ অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে বন্দিদের মুক্তি সম্ভব হয়।

ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, এটি ইজরায়েলের যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণ করবে। তিনি সতর্ক করে আরও বলেন, হামাস যদি এই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে বা তা বাস্তবায়নে বাধা দেয়, তাহলে ইজরায়েল এককভাবে পদক্ষেপ নেবে। যদিও এখনও গাজার কিছু অংশে সামরিক হামলা ও বিমান আক্রমণ চলছেই।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিকল্পনাটি ফিলিস্তিনি স্বায়ত্তশাসন ও সার্বভৌমত্ব বিষয় খুব কম কথা বলেছে।

উল্লেখ্য, শেষমেষ যুদ্ধবিরতি শুরু হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। তবে মানবিক সহায়তা বাড়তে পারে। এর ফলে চিকিৎসা, খাবার, থাকার জায়গা বাড়বে। বন্দি ও মৃতদেহ বিনিময়ও অনেক পরিবারকে স্বস্তি দেবে। গাজা পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে।

তবে হামাসেরও কিছু শর্ত রয়েছে, যা এখনও আলোচনার বিষয়। গাজায় একটি স্বাধীন প্রশাসন গঠনের বিষয়টি এবং হামাসের অস্ত্রসমর্পণ করার শর্তগুলি নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। এই বিষয়গুলি সমাধান না হলে, সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। গাজার প্রশাসনকে কার হাতে তুলে দেওয়া হবে, তা নিয়েও মতবৈষম্য রয়েছে। ইজরায়েলের সত্যিই সেনা প্রত্যাহার করবে কি না, তাতেও সন্দেহ আছে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের পরিকল্পনাটিও মূলত গাজাকে কেন্দ্র করে— পশ্চিম তীর ও জেরুজালেম সংক্রান্ত বিষয়বস্তু প্রায় নেই, যা দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা তৈরি করতে পারে। কম সময়সীমার মধ্যে ও চাপের পরিস্থিতিতে তাড়াহুড়ো করে পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে চাইলে বিরোধও সৃষ্টি হতে পারে।

ট্রাম্পের পরিকল্পনাটি— যুদ্ধবিরতি, বন্দি বিনিময়, গাজার প্রশাসনিক রূপান্তর, অনেক মানুষের জন্য আশার আলো। কিন্তু এটি খুব জটিল ও সংবেদনশীল রাজনৈতিক প্রয়াস। গাজায় শান্তি আসবে কি না, তা নির্ভর করবে নির্ধারিত শর্তের বাস্তবায়ন, হামাস, ইজরায়েল ও আন্তর্জাতিক বাহিনীর আন্তঃসম্পর্কের উপর। তবে বিশ্লেষকরা এও বলছেন, চাপ দিয়ে শান্তি আনা যায় না— শান্তি তখনই ফিরবে, যখন অংশগ্রহণ, স্বীকৃতি ও সমঝোতা থাকবে। গাজায় যুদ্ধের অবসান এবং স্থায়ী শান্তির জন্য আন্তর্জাতিক ভাবে সমর্থনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রসঙ্গত, ট্রাম্পের নতুন গাজা পরিকল্পনা ঘিরে নড়েচড়ে বসেছে মধ্যপ্রাচ্য। কেউ বলছেন এটি যুদ্ধ থামানোর সুযোগ, কেউ বলছেন— এ কেবল রাজনৈতিক চাপের খেলা। একদিকে হামাসের শর্ত, অন্যদিকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি— সব মিলিয়ে গাজায় শান্তির পথে এখনও দীর্ঘ পথ বাকি। যদিও কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তবে চূড়ান্ত শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আরও আলোচনার প্রয়োজন। আশা করা হচ্ছে, আগামী দিনগুলোতে এই আলোচনার ফলস্বরূপ গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

আবের কাওয়াস: প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মুসলিম মহিলা নিউ ইয়র্কের সিনেটে

Aber Kawas: নিউ ইয়র্কের ১২ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন আবের কাওয়াস। নিউ ইয়র্ক স্টেট আইনসভায় তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরিহিত মুসলিম মহিলা প্রতিনিধি।

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।

কেন মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

US Midterm Elections 2026: মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা। কেন ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

রামলীলার পর কী? কী করবেন বিরোধীরা?

INDIA bloc Unity Under strain: ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ২১ দল একজোট হলেও মঞ্চ শেষেই ভেতরের টানাপোড়েন স্পষ্ট। বাম নেতাদের বক্তৃতায় প্রাধান্য, ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী সুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জাতীয় ভূমিকা’র সতর্কবার্তা। প্রিয়াঙ্কা, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত বক্তৃতার সুযোগ না পাওয়ায় শরিক-অসন্তোষ।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বিপাকে ভারতীয়রা, মিডটার্ম নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে?

US Midterm Elections 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের ৬২% ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক নীতির জেরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানাল কার্নেগির সমীক্ষা।