ভোটের আগে বিপাকে কংগ্রেস! কেন পর পর দল ছাড়ছেন গৌরব বল্লভ, নিরুপমেরা?

Lok Sabha Election 2024: শিয়রে ভোট। ঘরে-বাইরে চাপে হাত শিবির। সে সময়েই দলের সমস্ত পদ থেকে এমনকী প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন কংগ্রেসের অন্যতম সর্বভারতীয় মুখপাত্র গৌরব বল্লভ।

Sohini Das
৩ মিনিট
ভোটের আগে বিপাকে কংগ্রেস! কেন পর পর দল ছাড়ছেন গৌরব বল্লভ, নিরুপমেরা?

বিজেপি-বিরোধী 'ইন্ডিয়া' জোটের সবচেয়ে বড় মুখ কংগ্রেস। এমনিতেই আয়কর বিভাগের চাপে দিশেহারা কংগ্রেস। সব মিলিয়ে ৩,৫৬৭ কোটি টাকা জরিমানা দাবি করেছে আয়কর বিভাগ। যদিও ভোট না মেটা পর্যন্ত সময় পেয়েছে কংগ্রেস। আগামী ১ জুন শেষ হচ্ছে লোকসভার ভোট। তার আগে ওই মামলা নিয়ে আয়কর দফতর অগ্রসর হবে না বলেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তাতেও কি চাপ কমছে কংগ্রেসের। তার উপর আবার দল ছেড়ে চাপ বাড়াচ্ছে একের পর এক কংগ্রেস নেতা।

শিয়রে ভোট। ঘরে-বাইরে চাপে হাত শিবির। সে সময়েই দলের সমস্ত পদ থেকে এমনকী প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন কংগ্রেসের অন্যতম সর্বভারতীয় মুখপাত্র গৌরব বল্লভ। তাঁর বিরুদ্ধেই যে বিজেপি বিরোধিতার ভার। এদিকে, তিনিই বলে বসেছেন, কংগ্রেস নাকি সনাতনধর্মবিরোধী দল। ফলে তাদের সঙ্গে একত্রবাস সম্ভব নয় গৌরবের। শুধু তাই নয়, দল যে ভাবে দিশাহীনতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়েও সমস্যা রয়েছে গৌরবের। এমনটাই জানিয়েছেন প্রাক্তন এই কংগ্রেস নেতা।

কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দিয়ে রাহুল গান্ধী-মল্লিকার্জুন খড়্গের দলের বিরুদ্ধে হিন্দুবিরোধী আচরণের অভিযোগ তুলেছিলেন গৌরব। লিখেছেন, ‘‘আমি সনাতন ধর্মের বিরোধী স্লোগান তুলতে পারি না। দেশের সম্পদ সৃষ্টিকারীদের গালি দিতে পারি না। আমি কংগ্রেস পার্টির সমস্ত পদ এবং প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছি।’’ এমনকী রামমন্দির ইস্যুতে দলের অবস্থান নিয়েও বিরক্ত তিনি বলে জানিয়েছেন। দল থেকে ইস্তফা দিতে গিয়ে গৌরব যা যা বলেছেন, তাতে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ মনে করছে, বিজেপিতে যোগ দিতেই এত কিছু। আর তা যে মিথ্যে নয়, তা প্রমাণ হয়ে গিয়েছে গৌরবের ইস্তফার কিছুক্ষণের মধ্যেই। বৃহস্পতিবারই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাড়ি নেই, গাড়ি নেই! তবু কত টাকার সম্পত্তির মালিক রাহুল গান্ধি?

Rahul Gandhi Asset: রাহুল গান্ধি হলফনামায় জানিয়েছেন, প্রায় ৯.২৪ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে তাঁর।

২০১৯ সালে ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুর পূর্ব কেন্দ্র দিয়ে ভোটে দাঁড়ানো শুরু গৌরবের। প্রায় ১৮ হাজার ভোট ঝুলিতে পুরলেও তৃতীয় স্থানে এসে থামেন সেখানে কংগ্রেস নেতা। ২০২৩ সালে উদয়পুর কেন্দ্র থেকে রাজস্থান বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। তবে জয় আসেনি। প্রায় ৩২ হাজার ভোটে তাঁকে পিছনে ফেলে জিতে যায় বিজেপি প্রার্থী। ব্যালটের লড়াইয়ে একবারও না জিততে পারা সেই গৌরব বল্লভকে তবু দলের সর্বভারতীয় মুখপাত্রের পদে এনে বসিয়েছিল কংগ্রেস। বিজেপির বিভিন্ন পদক্ষেপের বিরোধিতা করার ভার দেওয়া হয়েছিল যার উপরে, তার উপর যে হিন্দুত্ববাদের ছায়া এত চড়া, তা কি আদৌ বুঝতে পেরেছিল কংগ্রেস নেতৃত্ব।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আরএসএস, বিজেপি নেতা, হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর হাতে ৬২% সৈনিক স্কুল তুলে দিল বিজেপি!

Sainik School Now Run by RSS-BJP Leaders: অন্তত ৬২% সৈনিক স্কুল আরএসএস এবং এর সহযোগী সংগঠন, ভারতীয় জনতা পার্টি ও বিজেপির রাজনৈতিক মিত্রশক্তি, হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিবিদদের সঙ্গে যুক্ত।

তবে শুধু গৌরব বল্লভই নয়। ভোটের আগে গৌরবের পথে হেঁটেছেন মুম্বই উত্তরের প্রাক্তন সাংসদ সঞ্জয় নিরুপমও। দল ছাড়ছেন তিনিও। তবে তাঁর অভিযোগ, তাঁর পদত্যাগপত্র জমা করার পরেই দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। দলের শৃঙ্খলাভঙ্গ ও পার্টিবিরোধী বক্তব্যের অভিযোগে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে নিরুপমকে ৬ বছরের জন্য় দল থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছেন। নিরুপমের অবশ্য দাবি, তাঁর পদত্যাগপত্র পাওয়ার পরেই তাঁকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয় দল। এ নিয়ে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে দলের প্রতি ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন তিনি।

খড়্গেকে লেখা চিঠিতে নিরুপম সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। সূত্রের খবর, মুম্বইয়ের উত্তর-পশ্চিম লোকসভা কেন্দ্রটিতে তাঁকে দল টিকিট দেবে, এমনই প্রত্যাশা ছিল। তবে বাস্তবে তেমনটা হয়নি। উদ্ধবের শিবসেনাকেই সেই আসনটি ছেড়ে দিয়েছে কংগ্রেস। তার পরেই মুম্বইয়ের কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রবল সমালোচনা করে বসেন নিরুপম। আর তাতেই দলের চক্ষুশূল হন তিনি। এমনকী দলের তারকাপ্রচারকারীদের তালিকা থেকেও বাদ পড়ে তাঁর নাম। আর তাতেই রুষ্ট নিরুপম কংগ্রেসকে কড়া ভাষার আক্রমণ করে বসেন। এমনকী তাতে উঠে এসেছিল দলের আয়কর সংক্রান্ত সংকটের কথাও।

যে শিবসেনার সঙ্গে কংগ্রেসের আসন ভাগাভাগি নিয়ে এতটা ক্ষোভ নিরুপমের, একসময় সেই শিবসেনারই অংশ ছিলেন তিনি। ২০০৫ সালে শিবসেনা থেকে ইস্তফা দেন তিনি। পরবর্তী কালে যোগ দেন কংগ্রেসে। ২০০৯ সালে মুম্বইয়ের উত্তর আসলে কংগ্রেসের হয়ে দাঁড়ান, এবং জিতেও যান নিরুপম। তবে ২০১৪ সালে বিজেপির গোপাল শেঠির কাছে হেরে যান নিরুপম ওই আসনেই। ভোটের আগে কংগ্রেস থেকে তবে কি পদ্মশিবিরেই এবার নাম লেখাতে চলেছেন মুম্বইয়ের এই নেতা। সেটা অবশ্য সময় হলেই জানা যাবে। তবে একের পর এক কংগ্রেস নেতার এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পদত্যাগ কি আসলে বিপদে ফেলতে চলেছে হাতশিবিরকে! নাকি বিপজ্জনক আগাছা উপড়ে ফেলার সুফলই পাবে শেষপর্যন্ত কংগ্রেস— সেটাই দেখার।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।

হুথিরা যেভাবে স্থানীয় বিদ্রোহী থেকে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিতে পরিণত হলো

Houthi Expansion in Yemen: ইয়েমেনে ফের কেন যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে? হুথিরা কীভাবে স্থানীয় জায়দি আন্দোলন থেকে শক্তিশালী সামরিক-রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হল? ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কতটা গভীর? মোখা ও হানিশ দ্বীপপুঞ্জ দখলের পর কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাব আল-মান্দাব? এই সংঘাতের প্রভাব কি শেষ পর্যন্ত বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহণ ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে পড়বে?