শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দু'দেশের সম্পর্কের বাধা হবে না: আর যা বললেন মির্জা ফখরুল

Bangladesh-India Relations: ফখরুল আলমগীর বলেন, বিএনপি’র ৩১-পয়েন্ট কর্মসূচি ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য, ব্যবসা, দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করবে।

inscript
৩ মিনিট
শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দু'দেশের সম্পর্কের বাধা হবে না: আর যা বললেন মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশের পরবর্তী সরকার গঠনের দোরগোড়ায় এসে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক সূচনাকে কেন্দ্র করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে— এ নিয়ে যথেষ্ট জল্পনা চলছিল। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) ক্ষমতা গ্রহণ করতে যাওয়া বিএনপি’র নেতৃত্বের প্রধান নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকায় দলীয় সদর দফতরে দ্য হিন্দু-র সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করলেন, বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক কোনো একক বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে না, এবং দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতের থাকা সম্পর্কে কোনো বাধা তৈরি করবে না।

ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ এমন প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নেবে যা দেশের স্বার্থে এবং ভারতের সঙ্গে উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন,

আমরা বিশ্বাস করি, হাসিনা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত ছিলেন। জনগণের তাঁর শাস্তির তুলেছে। আমরা মনে করি, ভারতের উচিত তাঁকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা। তবে হাসিনাকে বাংলাদেশে না দেওয়া ভারতের সঙ্গে ব্যবসা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ার পথে বাধা হবে না। আমরা আরও ভালো সম্পর্ক গড়তে চাই।

তিনি বারবার উল্লেখ করলেন যে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে শুধু একটি ইস্যুতে বন্দি করা উচিত নয়।

গত ১৭ মাস ধরে বাংলাদেশ আন্তর্বর্তীকালীন সরকার বারবার ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে শেখ হাসিনা ও ২০২৪ সালের বিপ্লবের পর দেশত্যাগ করা আওয়ামী লীগের অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের হস্তান্তরের জন্য। তবে ভারত এই অনুরোধে সাড়া দেয়নি। ফখরুল বলেন, শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রিসভা ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যে হত্যাকাণ্ড ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আছে, তার জন্য আইনগত প্রক্রিয়া চালু থাকবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
প্রথম এত ভোটে জয়! কোন সমীকরণে বাড়ল জামায়াতের সমর্থন?

Bangladesh Jamaat vote share: বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে জামায়াত বহু বছর ধরে সীমিত প্রভাবসম্পন্ন হলেও, সুসংগঠিত একটি দল হিসেবেই বিবেচনা করা হয়েছে। তারা কখনও এককভাবে বড় জয় পায়নি; জোটের অংশীদার হিসেবেই সংসদে উপস্থিত থেকেছে। তবে এবারের নির্বাচনে যে পরিমাণ সমর্থন তারা অর্জন করেছে, তা তাদের অতীতের ফলাফলের তুলনায় অনেক বেশি।

ফখরুল আলমগীর, বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির নেতা,বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বেশ কিছু জটিল বিষয় রয়েছে। কিন্তু এই জটিলতা এতটা বড় হওয়া উচিত নয় যে যেখানে সহযোগিতার সুযোগ আছে, তা বন্ধ হয়ে যায়। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন,

আমেরিকা ও চিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও অনেক সমস্যা আছে, তবুও তারা একে অপরের সঙ্গে কাজ করছে। আমরা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে এক ইস্যুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে পারি না।

ফখরুল ইতিহাসও স্মরণ করিয়ে দেন। ১৯৭৫ সালের অগাস্টে শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর যখন শেখ হাসিনা এবং তাঁর পরিবার ভারতে ছিলেন, তখন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ভারতে গিয়ে মরারজি দেশাইকে ঢাকায় আপ্যায়ন করেছিলেন। ১৯৮০ সালের জানুয়ারিতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দিল্লি গিয়ে ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন, তখন হাসিনা দেশে ফিরে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ফখরুল বলেন,

এটাই রাজনীতিবিদদের(statesmanlike) সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি।

তিনি ভবিষ্যতের দ্বিপাক্ষিক চ্যালেঞ্জের কথাও উল্লেখ করেন,

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এভাবেও ফিরে আসা যায়! তারেক রহমানের জয়ে বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা

Tarique Rahman election victory: ১৭ বছরের নির্বাসন, ১৮ মাস কারাবাস, রাজনীতিতে বিরোধীদের স্বজনপোষণের অভিযোগ; একাধিক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে খালেদা জিয়া-পুত্র তারেক রহমান।

পরবর্তী বছরে ফারাক্কার জল সংক্রান্ত বিষয় আবার আলোচনার হবে, গঙ্গা জল চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনার সময়। এছাড়াও সীমান্ত হত্যাকাণ্ড নিয়ে আমাদের আলোচনার প্রয়োজন আছে। আমরা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারি না। আলোচনা করতে হবে। যারা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের কথা বলছে, তারা পাগলের মতো কথা বলছে।

ফখরুল জানান, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে পুনর্মিলন ও সুসম্পর্কে বিশ্বাসী। তিনি বলেন,

প্রত্যাঘাত ও সহিংসতা বাংলাদেশের সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ গঠনের জন্য ক্ষতিকর।

তাই তাঁরা রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) জামায়াতে ইসলামী ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

ফখরুল আলমগীর বলেন, বিএনপি’র ৩১-পয়েন্ট কর্মসূচি ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য, ব্যবসা, দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করবে। তাঁর কথায়,

ভারতের প্রযুক্তি শিক্ষা সম্পদ আছে, আর আমাদের অনেক বেকার তরুণ আছে। তাদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে গালফে কাজ পাওয়ার সুযোগ দেওয়া দরকার।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকারকে আগের আওয়ামী লীগ সরকারের ঋণ বোঝা মোকাবেলা করতে হবে এবং বিভিন্ন প্রকল্পের পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। তিনি জানান,

যে প্রকল্পগুলি বাংলাদেশের স্বার্থে সেবা করবে, সেগুলি আমরা রাখব

ফখরুল আলমগীরের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে একটি ইস্যুর ফাঁদে ফেলা হবে না। নতুন সরকারের প্রয়াস থাকবে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব, এবং প্রযুক্তি ও সক্ষমতা উন্নয়নের মাধ্যমে দু’দেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পুনর্মিলন ও সুস্থ গণতন্ত্রের পরিবেশ গড়তেও তারা মনোনিবেশ করবে।

বাংলাদেশের রাজনীতির এই নতুন অধ্যায়ে ফখরুলের অবস্থান স্পষ্ট: অতীতের দ্বন্দ্ব ও ব্যক্তিগত বিরোধ ভুলে যাওয়া, পরিস্থিতি অনুযায়ী কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

আবের কাওয়াস: প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মুসলিম মহিলা নিউ ইয়র্কের সিনেটে

Aber Kawas: নিউ ইয়র্কের ১২ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন আবের কাওয়াস। নিউ ইয়র্ক স্টেট আইনসভায় তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরিহিত মুসলিম মহিলা প্রতিনিধি।

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।

কেন মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

US Midterm Elections 2026: মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা। কেন ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

রামলীলার পর কী? কী করবেন বিরোধীরা?

INDIA bloc Unity Under strain: ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ২১ দল একজোট হলেও মঞ্চ শেষেই ভেতরের টানাপোড়েন স্পষ্ট। বাম নেতাদের বক্তৃতায় প্রাধান্য, ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী সুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জাতীয় ভূমিকা’র সতর্কবার্তা। প্রিয়াঙ্কা, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত বক্তৃতার সুযোগ না পাওয়ায় শরিক-অসন্তোষ।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বিপাকে ভারতীয়রা, মিডটার্ম নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে?

US Midterm Elections 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের ৬২% ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক নীতির জেরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানাল কার্নেগির সমীক্ষা।