এভাবেও ফিরে আসা যায়! তারেক রহমানের জয়ে বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা
Tarique Rahman election victory: ১৭ বছরের নির্বাসন, ১৮ মাস কারাবাস, রাজনীতিতে বিরোধীদের স্বজনপোষণের অভিযোগ; একাধিক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে খালেদা জিয়া-পুত্র তারেক রহমান।
বাংলাদেশ ত্রয়োদশ জাতীয় নিবার্চনে তারেক রহমানের জয়, দেশে এবং আন্তর্জাতিক মহল থেকে সমর্থন, শুভেচ্ছা বার্তা মনে করাচ্ছে এক প্রবাদ বাক্য— এভাবেও ফিরে আসা যায়। ১৭ বছরের নির্বাসন, ১৮ মাস কারাবাস, রাজনীতিতে বিরোধীদের স্বজনপোষণের অভিযোগ; একাধিক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে খালেদা জিয়া-পুত্র তারেক রহমান। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি (২০৯) আসন পেয়ে দুই যুগ পর ক্ষমতায় আসছে বিএনপি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটিতেই জয় পেয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ উভয় আসনেই তাঁর বিজয় নিশ্চিত হয়েছে।
ঢাকা-১৭ আসনে ৪ হাজার ৩৯৯ ভোটে জয়ী হয়েছেন তারেক রহমান। ঢাকা-১৭ আসনের ফলাফল অনুযায়ী তারেক রহমান পেয়েছেন ৭২ হাজার ৬৯৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী স. ম. খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৩০০ ভোট। ফলে ৪ হাজার ৩৯৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন তিনি।
শুক্রবার ভোর চারটার দিকে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ফল ঘোষণা করেন। এ আসনে পোস্টাল ভোট-সহ মোট ১২৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়। ঢাকা-১৭ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৩ জন। এর মধ্যে ভোট পড়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮৮৮টি। বাতিল হয়েছে ২ হাজার ২১১টি ভোট। বৈধ ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৭৭।
অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ উল্যাহ (হাতপাখা) পেয়েছেন ১ হাজার ৭৬৮ ভোট এবং জাতীয় পার্টির আতিক আহমেদ (লাঙ্গল) পেয়েছেন ১ হাজার ১৬৮ ভোট।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Bangladesh Elections 2026: বাংলাদেশের নির্বাচন পরবর্তী সময়ে একটি বড় চমক হলো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্রুততম প্রতিক্রিয়া। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল আসার আগেই তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে মোদি স্পষ্ট করে দিলেন, নয়াদিল্লি এখন আর বাংলাদেশে কোনো নির্দিষ্ট একটি দলের উপর নির্ভরশীল থাকতে চায় না।
বগুড়া-৬ আসনেও নির্বাচিত হয়েছেন তারেক রহমান। ১৫০টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট। এ আসনে বড় ব্যবধানেই জয় নিশ্চিত হয় তাঁর।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিনন্দন
নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর দেশ-বিদেশ থেকে অভিনন্দন বার্তা আসতে শুরু করে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানান, তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি লেখেন, বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে তারেক রহমানের প্রতি শুভকামনা ও সমর্থন জানিয়েছেন এবং দুই দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য ভারতের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এর আগে টুইট বার্তাতেও অভিনন্দন জানান তিনি।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও তারেক রহমান ও বিএনপিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বিবিসির খবরে জানানো হয়, জারদারি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি সমর্থন জানিয়ে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
শাহবাজ শরিফ এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চান তিনি, যাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হয় এবং দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া যায়।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Bangladesh Election Results 2026: বাংলাদেশের নির্বাচন ফল দক্ষিণ এশীয় ভূরাজনীতির দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন— সবাই ফলাফল গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে।
এ ছাড়া ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক ফেসবুক পোস্টে বাংলাদেশের জনগণকে সফল নির্বাচন আয়োজনের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে বিএনপি ও তারেক রহমানকে তাঁদের ঐতিহাসিক বিজয়ের শুভেচ্ছা জানিয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার অভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী বলে জানানো হয়েছে।
চিনের দূতাবাসও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
জনগণের বার্তা
জয়ের পর শুক্রবার জুমার নামাজ পড়ার জন্য ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে নৌবাহিনী সদর দপ্তর মসজিদে যান তারেক রহমান। এ সময় তাঁর বাসভবনের সামনে উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা যায়। নামাজে যাওয়ার আগে গাড়ি থামিয়ে উপস্থিত জনতার সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
গাড়ি থেকে নেমে কয়েকজনের পরিচয় জানতে চান তারেক রহমান। এ সময় উপস্থিত অনেকে বলেন,
নতুন বাংলাদেশ গড়তে আমরা আপনার সঙ্গে থাকতে চাই।
জবাবে তাঁদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন,
আমার প্রতি আপনারা যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমার জন্য দোয়া করবেন।
দুই আসনে জয় এবং আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া
সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের বিজয় দেশের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত। ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি তাদের পায়ের তলার মাটি শক্ত করেছে বলেও মনে করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনি, তাই বিএনপি বাড়তি সুবিধাও পেয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। এখন দেখার, বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সফল ভূমিকা পালন করতে পারেন কিনা তারেক রহমান।






