একশো বছরে টেলিভিশন আমাদের যে পথে নিয়ে গেল

ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে আজ বুঝতে অসুবিধে হয় না যে, যার কাছে টিভি আছে আর যার কাছে নেই—এই দুই শ্রেণির মানুষকেই নিয়ন্ত্রণ করছিল এই যন্ত্রটি। এই নিয়ন্ত্রণ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার যেন কোনো উপায় ছিল না। আমাদের মনের মধ্যে এক ধরনের বিক্ষিপ্ততা ও অস্থিরতা তৈরির সেই তো শুরু।

Ayan Santra
৭ মিনিট
একশো বছরে টেলিভিশন আমাদের যে পথে নিয়ে গেল

টেলিভিশন নামক আশ্চর্য বস্তুটির আবিষ্কারক হিসেবে একক কোনো ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা কঠিন হলেও, জন লগি বেয়ার্ডের হাত ধরেই আজ থেকে ঠিক একশো বছর আগে প্রকাশ্য জনসমাবেশে এর প্রথম সার্থক আবির্ভাব ঘটে। আজ এটি সর্বজনস্বীকৃত সত্য। তবে এই বিপ্লবের নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘ এক ইতিহাস, যা শুরু হয়েছিল উনিশ শতক থেকেই।

দুই শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ১৯০০ সালে কনস্টানটিন পারস্কি সর্বপ্রথম তাঁর পঠিত একটি প্রবন্ধে ‘টেলিভিশন’ শব্দটি উল্লেখ করেন। পারস্কি যখন এই নামটির প্রস্তাব দিচ্ছেন, তখনো দূরবর্তী কোনো ছবিকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার বিষয়টি ছিল সম্পূর্ণ পরীক্ষাধীন। এই লক্ষ্য পূরণে তখন বহু বিজ্ঞানী নিরলস সাধনায় যুক্ত ছিলেন।

এই তালিকায় বিশেষভাবে স্মরণীয় লি দ্য ফরেস্ট কিংবা আর্থার কর্নের নাম। তবে এডোয়ার্ড বেলিনের অবদান অনস্বীকার্য, যিনি ১৯২১ সাল নাগাদ সর্বপ্রথম বেতার তরঙ্গ ব্যবহার করে ছবি পাঠানোর প্রক্রিয়াটি বাস্তবে রূপদান করেছিলেন। বিজ্ঞানীদের এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টাই আজকের আধুনিক দৃশ্যমাধ্যমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে।

বিশ শতকের বিশের দশকেই টেলিভিশনের আবিষ্কারক হিসেবে জন বেয়ার্ডের নামের সঙ্গে উঠে আসে আরও অনেকের নাম। জন বেয়ার্ড যে বছর প্রকাশ্য সমাবেশে টেলিভিশনের প্রদর্শনী করলেন, ঠিক সেই একই বছর ইলেকট্রনিক টেলিভিশন ডিজাইন করে তার পেটেন্ট করিয়েছিলেন হাঙ্গেরির বিজ্ঞানী কালমান তিহানি।

এই তালিকায় ফিলো ফার্নসওয়ার্থ বা আরও কয়েকজনের নাম যুক্ত করা যায়। তবে মূল কথা হলো, টেলিভিশন নামক চার দেয়ালের মধ্যে নানা দৃশ্য দেখার এই বিস্ময়কর যন্ত্র আবিষ্কারের এক শতক আজ পূর্ণ হতে চলেছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
যন্ত্র ও মানবের সহাবস্থানের গল্প বলে ফুজিকো ফুজিওর ডোরেমন

Doraemon: আমরা দেখেছি নোবিতা ছিল সমাজ থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন। তার অত্যধিক 'ঘুমে চোখ বুজে থাকা', যেন এই বহমান অশান্ত পৃথিবীর থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকা।

বিবিসি কর্তৃক প্রথম পাবলিক সম্প্রচারের ইতিহাসকেও যদি নজরে রাখি, তবে দেখা যাবে সেটিও গত শতকের বিশের দশকেরই ঘটনা; অর্থাৎ তারও একশো বছর হতে চলল। এরপর সেই স্কটিশ বিজ্ঞানী জন বেয়ার্ডই ক্রমশ সাদাকালো ছবিকে রঙিন করার জাদুকরী কৌশল দেখালেন। মাঝে বিশ্বযুদ্ধের বিরতি। তারপর থেকে রমরমিয়ে শুরু হলো ‘পুরো দুনিয়া’-কে চোখের সামনে নিয়ে আসার এক নতুন খেলা।

সে এমনই এক আকর্ষণ, যা দেখে একদিকে মেতে উঠলেন আমজনতা, আর অন্যদিকে প্রমাদ গুনলেন সাহিত্যিকরা। প্রযুক্তি মাঝে মাঝেই সাহিত্যকে এমন একেকটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করায়। সাহিত্যিকদেরও বোধহয় তখন মনে পড়ে যে, সাহিত্য বিনোদনেরও বস্তু বটে।

এই প্রসঙ্গে রোয়াল্ড ডাল ১৯৬৪ সাল নাগাদ একটি আস্ত কবিতাই লিখে ফেললেন, যেখানে টেলিভিশনকে ‘বোকা বাক্স’ (Idiot Box) অভিধা দেওয়া হলো। এই তকমাটি অবশ্য আগে থেকেই লোকমুখে ঘুরছিল, রোয়াল্ড ডাল তাতে চূড়ান্ত সিলমোহর লাগালেন।

ছয় এবং সাতের দশকের মধ্যে টেলিভিশন যখন পাকাপাকিভাবে পৃথিবীজুড়ে প্রায় সব দেশেই নিজের ঘাঁটি গেড়ে ফেলল, তখন থেকেই শুরু হলো এক নতুন অধ্যায়। এই অধ্যায় হলো ছোট্ট ঘরে বসে দুনিয়াকে হাতের মুঠোয় আনার অধ্যায়। আজকের ইন্টারনেটের যুগে আঙুলের ছোট্ট একটি চাপে যে খুলে যাচ্ছে একের পর এক ভার্চুয়াল জগতের পাতা, তার বীজ বোধহয় লুকিয়ে ছিল টেলিভিশনের মধ্যেই।

আমরা এখন ডিজিটাল যুগে কোনো এক স্থানে থেকেও হাজারো স্থান ও সময়ের মধ্যে বসবাস করি; আমাদের এই বহু স্থানিক ও বহু মাত্রিক যাপনের ভিত তো টেলিভিশনই গড়ে দিয়েছিল। ছাদে বীরদর্পে দাঁড়িয়ে থাকা সেই অ্যান্টেনা যেন মানব সভ্যতার টিকি বেঁধে ফেলেছিল। একটি নতুন প্রজন্ম তৈরি হচ্ছিল যারা বেড়ে উঠছিল টিভির সঙ্গে সঙ্গে, আর তাদের চোখের সামনে পুরো পৃথিবীটা অন্য ভাষায় অনূদিত হচ্ছিল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মাল্টিভার্স সত্যিই আছে? ২২৫ বছরের প্রাচীন পরীক্ষার আধুনিক ব্যাখ‍্যা যা বলছে

Double Slit Experiment: মাল্টিভার্স তত্ত্ব বলে যে আমাদের মহাবিশ্বই একা নয়, এর অনেকগুলো দোসর রয়েছে, যারা একে অপরের সঙ্গে সমান্তরালভাবে থাকতে পারে

কী আশ্চর্য সমাপতন! বিংশ শতাব্দী ছিল খ্রিস্ট পরবর্তী হাজার বছরের শেষ শতক, আর সেই শতকের শুরুতেই ‘টেলিভিশন’ শব্দটির প্রথম ব্যবহার হলো। সেই টেলিভিশনই আজ আমাদের বর্তমান ভার্চুয়াল বিশ্বের সঙ্গে অচ্ছেদ্য সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে।

এটি ছিল এক নতুন সময়ের সূচনা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী পৃথিবীতে নতুন করে তৈরি হওয়া রাজনীতির আঙিনা, নতুন অর্থনৈতিক চিন্তা এবং ব্যক্তিমানসের আত্মজিজ্ঞাসা—এই সবকিছুর কেন্দ্রে চলে এল একটি নতুন ইলেকট্রনিক গ্যাজেট: দূরদর্শন।

ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে আজ বুঝতে অসুবিধে হয় না যে, যার কাছে টিভি আছে আর যার কাছে নেই—এই দুই শ্রেণির মানুষকেই নিয়ন্ত্রণ করছিল এই যন্ত্রটি। এই নিয়ন্ত্রণ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার যেন কোনো উপায় ছিল না। আমাদের মনের মধ্যে এক ধরনের বিক্ষিপ্ততা ও অস্থিরতা তৈরির সেই তো শুরু।

রোজনামচার মধ্যে হাজার মাইল দূরের খবর থেকে শুরু করে নানা দেশের সংস্কৃতি ও বিনোদন—সবই যেমন ঘরের জিনিস হয়ে উঠতে শুরু করল, তেমনই শুরু হলো ‘তথ্য বিস্ফোরণ’। তথ্যের বিকৃতি চিরকালই ছিল, তবে টেলিভিশন আসার পর থেকে এর ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটে; যা আজকের দিনে প্রতি সেকেন্ডে অজস্র তথ্য বিকৃতিতে এসে ঠেকেছে। এই তথ্য বিস্ফোরণ আমাদের মস্তিষ্কে এক নতুন প্রবণতা তৈরি করেছে—নিমেষের মধ্যে সব জেনে ফেলতে না পারলে বা সব তথ্য ধারন করতে না পারলেই যেন এক ধরণের পরাজয়বোধ কাজ করে। মূলত ‘আপ-টু-ডেট’ থাকার এই তীব্র প্রতিযোগিতার যুগ শুরু হলো তখন থেকেই।

ইন্টারনেট এই মানসিক অবস্থাকে পরিপূর্ণ রূপ দিলেও এর প্রাথমিক ধারক ছিল সেই টেলিভিশন। একই ছাদের তলায় একাধিক মানুষকে একসঙ্গে বসিয়েও যে তাঁদের পৌঁছে দেওয়া যায় ভিন্ন ভিন্ন জগতে, তৈরি করে দেওয়া যায় মানসিক দূরত্ব—তা তো টেলিভিশনেরই অবদান। বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে টেলিভিশন মূলত জমি তৈরি করে দিয়েছিল একুশ শতকের এই নতুন ‘ভার্চুয়াল’ খেলার জন্য। বর্তমানের এই ডিজিটাল বাস্তবতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আজ আর লাভ নেই; কারণ এটাই এখনকার ধ্রুব ‘সত্য’।

স্কুলে শিশুদের আজও দশ নম্বরের রচনার জন্য লিখতে দেওয়া হয়—‘টেলিভিশন আশীর্বাদ না অভিশাপ’। মুখস্থ করা বাক্যে তারা লেখে—বিজ্ঞাপনের ভাষার ক্ষতিকর দিক কিংবা চোখে ও মস্তিষ্কে টিভির রশ্মির কুপ্রভাবের কথা। কিন্তু এভাবে তো আর কোনো বস্তুর ভালো-মন্দের বিচার করা যায় না, বিশেষত যেখানে সেই বস্তুটি গোটা মানবজাতির কিছু মৌলিক পরিবর্তনকে আহ্বান জানাল।

আজকের দিনে মোবাইলের অতিরিক্ত ‘স্ক্রিন টাইম’ নিয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং তার ফলে ক্রমশ ‘ক্যালাস’ বা অনুভূতিহীন হতে থাকা প্রজন্মের প্রথম ভার্চুয়াল বিশ্বের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে এই টেলিভিশন নামক গ্যাজেটটির হাত ধরেই। কিন্তু প্রযুক্তির মজাটা এখানেই—সমস্ত ঋণাত্মক দিক সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হওয়া সত্ত্বেও একে অস্বীকার করতে না পারা। এটাই মানব সভ্যতার ভবিতব্য।

সভ্যতার ইতিহাসে টেলিভিশন কত বড় একটি বাঁক ছিল, তা আজ প্রশ্নাতীত। আজ টেলিভিশনের একশো বছরে দাঁড়িয়ে আমরা বুঝতে পারি—এটি সভ্যতার মুখোমুখি এমন এক চ্যালেঞ্জিং গ্যাজেট ছিল, যা আমাদের নিজেদের অবস্থান ও অস্তিত্বের অনুভবহীনতাকে পর্যন্ত চিহ্নিত করে দিয়ে যায়। আমাদের যাপিত জীবনের এই পরিবর্তনকে অস্বীকার করার কোনো উপায় আর অবশিষ্ট নেই।

লিখেছেন
Ayan Santra
Ayan Santra
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।