আজও দগদগে কমিউনিস্ট চিনের নারকীয় গণহত্যার ইতিহাস

চিনের এখনকার প্রজন্মের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ জানেই না তিয়েনআনমেন স্কোয়ারের সেদিনকার ঘটনা। কমিউনিস্ট শাসনব্যবস্থা ভুলিয়ে দিয়েছে ওই ছাত্রমেধ যজ্ঞের ইতিহাস।

Kanad Dasgupta
৬ মিনিট
আজও দগদগে কমিউনিস্ট চিনের নারকীয় গণহত্যার ইতিহাস

৩৩ বছর আগের কথা, ১৯৮৯-এর জুনের ৪-৫ তারিখ। চিনের বেজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কোয়ারের সেই ছাত্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে একটা ছবি বিংশ শতাব্দীর মর্মস্পর্শী ছবিগুলোর একটি হয়ে উঠেছিল। বিশ্বজুড়ে 'সুপার-ভাইরাল' হয় সেই ছবি। ৫ জুন প্রকাশিত ওই ছবিতে দেখা যায়, লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সেনা ট্যাঙ্কের সামনে একা দাঁড়িয়ে আছেন এক ছাত্র। তিয়েনআনমেন স্কোয়ারের দিকে মুখ করা ৪টি সেনা ট্যাঙ্কের যাত্রাপথে একাই পাঁচিল তুলে দাঁড়িয়ে আছেন ছাত্রটি৷ তাঁর হাতে দু'টি শপিং ব্যাগ। তিনি ট্যাঙ্কের সামনে দাঁড়িয়ে সেগুলিকে তিয়েনআনমেন স্কোয়ারের দিকে যেতে বাধা দিচ্ছেন। একটি ট্যাঙ্কও সামনে এগোতে পারছে না। পথ আগলে দাঁড়িয়ে আছে এক অকুতোভয় ছাত্র। কী সাংঘাতিক সাহস এই ছোকরার! যে ট্যাঙ্ক-বাহিনীর ভয়ে শক্তিশালী সেনাদল পর্যন্ত থর থর করে কাঁপে, আজ এক নিরস্ত্র সাধারণ ছাত্র সেই দর্পিত ট্যাঙ্ক-বাহিনীর পথ আগলে দাঁড়িয়ে আছেন। সামনের ট্যাঙ্ক একটু পিছিয়ে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করল। মুহূর্তে সেই ছাত্রও জায়গা বদলে ফের দাঁড়াল ট্যাঙ্কের সামনে। এখানেই শেষ নয়। সেই ছাত্র হাত নেড়ে ট্যাঙ্ক-বাহিনীকে ইশারা করল পিছু হটে যেতে। সম্ভবত ওই ছাত্রের সাহস দেখে বিস্মিতই হয়েছিলেন ট্যাঙ্ক-বাহিনীর কমান্ডার। গোটা বিশ্ব স্তম্ভিত হয়ে দেখল সেই দৃশ্য। খানিক পর দুই ফৌজি তাঁকে সরিয়ে নিয়ে যায়।

পরে তাঁর কী হয়েছে, কেউ জানে না। হয়তো সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে মেরে ফেলা হয়েছে। কিন্তু ততক্ষণেই তিনি হয়ে ওঠেন বিক্ষোভের এক প্রতীক। দুনিয়া ওই ছাত্রের নাম দেয় 'ট্যাঙ্ক- ম্যান'। চিনের তথা বিশ্বের ছাত্র আন্দোলনের প্রতীক সেই নাম না-জানা ছাত্রের বীরত্বে সেদিন পৃথিবী দেখেছিল নতুন এক চিনকে।

চিনের রাজধানী বেজিং শহরের প্রাণকেন্দ্রে তিয়েনআনমেন স্কোয়ার। এই স্কোয়ারের উত্তরদিকে 'তিয়েনআনমেন' নামে একটি 'সিংহদরজা' রয়েছে। 'তিয়েনআনমেন' কথার অর্থ ‘স্বর্গের দরজা’। 'স্বর্গ'-ই বটে। ওই 'সিংহদরজা'-র সঙ্গে মিলিয়ে চত্বরের নামকরণ করা হয় তিয়েনআনমেন স্কোয়ার। চিনের ইতিহাসে অসংখ্য ছোট-বড় আন্দোলনের স্মৃতিকে সঙ্গী করে দাঁড়িয়ে আছে এই চত্বর। কিন্তু সব ধরনের আন্দোলনের ইতিহাস ছাপিয়ে ’৮৯-এর ছাত্র আন্দোলন তিয়েনআনমেন স্কোয়ারকে বধ্যভূমি বানিয়ে স্বতন্ত্র জায়গা করে নিয়েছে ইতিহাসের পাতায়।

১৯৭৬ সালে চিনের ঘোষিত 'জনক' মাও সে-তুং প্রয়াত হন। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই চিনা সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সূর্যও অস্তমিত হয়ে যায়। মাও সে-তুং যে দর্শন নিয়ে চিনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, তার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তিনি ব্যর্থ হন। মৃত্যুর ফলে ব্যর্থতার দায় থেকে তিনি রেহাই পেলেও চিনের আর্থ-সামাজিক কাঠামো তখন মৃতপ্রায়। দারিদ্র, দুর্নীতি, বেহাল অর্থনীতি, বেকারত্ব ইত্যাদি কারণে চিনে দেখা দেয় চরম খাদ্যাভাব। প্রয়োজনীয় খাদ্য না পেয়ে মৃত্যু ঘটে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের। চিনের চারদিকে তখন শুধু অভাব আর অভাব। এমন অ-স্থিতিশীল অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে ১৯৮৬-র দিকে চিনজুড়ে আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনে অংশ নেয় চিনের ছাত্রসমাজ।

ওদিকে আটের দশকে চিন শুরু করেছিল নানা ধরনের পরিবর্তন-প্রক্রিয়া। বিদেশি বিনিয়োগকারী তথা বেসরকারি সংস্থাকে বাণিজ্য করার অনুমোদন দিতে শুরু করেছিল ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি। তৎকালীন চিনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা দেং জিয়াও পিং তখন প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, বিদেশি বিনিয়োগের দরজা খুলে দেওয়ার ফলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে, মানুষের জীবনযাত্রারও উন্নতি হবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সত্যিই এসএসসি মামলা থেকে সরলেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়? যে সত্যি চাপা পড়ে যাচ্ছে

জনপ্রিয়তায় এই মুহূর্তে যে কোনও সেলিব্রিটিকে দশ গোল দেওয়া বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিচার্য বিষয়ে বদল ঘটানো হয়েছে‌। জানানো হয়েছে, বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে ৬ জুন থেকে SSC-সংক্রান্ত নতুন কোনও মামলার আর শুনানি হবে না।

এই সিদ্ধান্তে উন্নয়নের পাশাপাশি সমান্তরালভাবে দেশে দুর্নীতিও বাড়ছিল। ওদিকে একইসঙ্গে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উদারতার একটা আশাও তৈরি হয়। অন্যদিকে এই সিদ্ধান্তে কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যেও মতাদর্শগত বিভেদ তৈরি হয়। দলের একাংশ দ্রুত পরিবর্তনের আওয়াজ তোলে, অন্য পক্ষ তখনও চাইছিল, এভাবে ঢাকা খোলা ঠিক নয়, অতীতের মতোই বাজার অর্থনীতিতে বজায় থাকুক রাষ্ট্রের কঠোর নিয়ন্ত্রণ।

এরই মাঝে শুরু হয়ে যায় ছাত্রদের বিক্ষোভ আন্দোলন। দ্রুত তা বড় আকার নেয়।আন্দোলনকারীদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন যাঁরা একটা সময় বিদেশে কাটিয়েছেন। এঁরা বিশ্বজুড়ে জাঁকিয়ে বসা নতুন চিন্তাভাবনা, উন্নত জীবনযাত্রার সঙ্গে পূর্বপরিচিত। ছাত্ররা চাইছিল, চিনও সেই পথেই হাঁটুক। একই সঙ্গে ছাত্ররা আওয়াজ তোলে, সাধারণের হাতে আরও বেশি রাজনৈতিক স্বাধীনতা দেওয়া হোক। বিক্ষোভ ক্রমশই দানা বেঁধে ওঠে। ১৯৮৯-এর বসন্তে ছাত্র-নির্ঘোষ কার্যত সপ্তমে পৌঁছে যায়।

প্রতিবাদের ভাষা আরও জোরালো হওয়ার অন্য কারণও ছিল। আন্দোলন যখন মধ্যগগণে তখনই হু ইয়াও বাং নামে এক প্রথম সারির কমিউনিস্ট নেতার মৃত্যু হয় হঠাৎ। এই ইয়াও বাং কমিউনিস্ট পার্টির অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের বিষয়গুলি দেখার দায়িত্বে ছিলেন। মাওবিরোধী সংস্কারপন্থীদের আন্দোলনে প্রেরণা ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির মহাসচিব এই হু ইয়াও বাং। দলীয় কোন্দলের জেরে ১৯৮৭ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তিনি ১৯৮৬ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদের উসকানি দিয়েছেন। ইয়াও বাং-কে দলের তরফে ডেকে পাঠিয়ে বারবার অপমান করা হয়। কিন্তু তিনি থেমে যাননি। তাকে ঘিরে চিনে বড় আকারের সংস্কারপন্থী ছাত্র সংগঠন গড়ে উঠতে থাকে।

সেই হু ইয়াও বাং-এর আকস্মিক মৃত্যুতে দেশজুড়েই শোরগোল ওঠে। এত বড় রাষ্ট্রীয় নেতার মৃত্যুর পরেও সরকারের তরফে হু-কে কোনও ধরনেরই শ্রদ্ধা জানানো হয়নি। সরকার-নিয়ন্ত্রিত বেতার থেকে ঘোষণা করা হয়নি তার মৃত্যুসংবাদও। ২২ এপ্রিল লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাধিস্থ করা হয় হু ইয়াও বাংকে। শেষকৃত্যে শামিল হয়ে হাজার হাজার মানুষ বাকস্বাধীনতা এবং সেন্সরশিপ হ্রাস করার দাবি জানাতে থাকেন। ওই দিনই ছাত্ররা সরকারের কাছে তাদের আন্দোলনের দাবিদাওয়া-সংবলিত এক স্মারকলিপি পেশ করে। কিন্তু চিন কমিউনিস্ট পার্টির নতুন মহাসচিব ঝাও ঝিয়াং ছাত্রদের ওই স্মারকলিপিকে আমলই না দিয়ে রাষ্ট্রীয় সফরে উত্তর কোরিয়া চলে গেলেন। এই ঘটনায় ছাত্রদের ক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পায়। আন্দোলনের আগুনে যেন ঘি ঢেলে উত্তর কোরিয়া পাড়ি দেন ঝাও ঝিয়াং। কমিউনিস্ট সরকারের এই আচরণের বিরুদ্ধে তখন ছাত্ররা প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু করে। বিভিন্ন দিক থেকে সরকারকে চাপ দিতে থাকে ছাত্ররা। ছাত্র নেতারা সরকারের সঙ্গে কথা বলার জন্য গ্রেট হলে সমাবেশের আয়োজন করে। কিন্তু সরকারের তরফে কেউই ছাত্রদের ওই সমাবেশেও অংশ নেননি। ফলে ছাত্রদের ক্ষোভ শতগুণে বৃদ্ধি পায়। আন্দোলন চলতে থাকে। এর পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে বিক্ষোভকারী ছাত্ররা দলে দলে তিয়েনআনমেন স্কোয়ারে জড়ো হতে শুরু করে। সেই সংখ্যা এক সময়ে ১০ লক্ষে পৌঁছেছিল বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিতও হয়।

এই তিয়েনআনমেন স্কোয়ারটি প্রশাসনিকভাবে চিন সরকারের নজরে খুবই স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকার মধ্যেই অবস্থিত। এর একদিকে মাও সে তুং-এর সমাধিস্থল এবং অন্যদিকে চিনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সভাস্থল, 'গ্রেট হল অফ দ‍্য পিপল'৷ ওই স্কোয়ারে এত বিশাল জমায়েতে সরকারের অস্বস্তি বাড়তে থাকে। ছাত্র-বিক্ষোভের মুখে বেসামাল হয় মাওবাদী চিন সরকার। কয়েক মাস ধরে চলতে থাকা ছাত্র আন্দোলন ক্রমশ রূপ নেয় জাতীয় বিক্ষোভে। ক্রমেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। চিন সরকার শক্ত হাতে আন্দোলন দমন করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু এক্ষেত্রে কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে দলের অন্দরে নেতাদের মধ্যেই মতভেদ তৈরি হয়েছিল।কিছু নেতা এই ছাত্র-জমায়েতকে কিছুটা ছাড় দেওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন, উল্টোদিকে অনেকেই ছিলেন কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহণের পক্ষে। দীর্ঘ আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত কট্টরপন্থীরাই জয়ী হন। এদের চাপেই মে মাসের শেষ সপ্তাহে বেজিংয়ে জারি করা হয় মার্শাল ল।

১৯৮৯ সালের মে মাসের শেষ, জুনের প্রথম সপ্তাহ। চরম উত্তেজনায় থরথর করে কাঁপছে বেজিং শহর। প্রবল ছাত্র-বিক্ষোভের মুখে চিনের কমিউনিস্ট সরকার। মাসকয়েক ধরে চলতে থাকা ছাত্র আন্দোলন ক্রমশই এক জাতীয় আন্দোলনের চেহারা নিয়েছে। ক্রমেই পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। কমিউনিস্ট সরকার শক্ত হাতে আন্দোলন দমন করার সিদ্ধান্ত নিল। প্রশাসনিক নির্দেশে ৩-৪ জুন সুসজ্জিত ট্যাঙ্কবাহিনী রওনা দিল তিয়েনআনমেন স্কোয়ারের দিকে। ওই স্কোয়ারে তখন দু'মাস ধরেই চিনের ছাত্রসমাজের আন্দোলন চলছে। ১৯৮৯-এর মে মাসের শেষ সপ্তাহ, বেজিংয়ে তখন মার্শাল ল। ৩-৪ জুন তিয়েনআনমেন স্কোয়ারের দিকে এগোতে শুরু করে চিনা সেনাবাহিনী। ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে হাজার হাজার সেনা ট্যাঙ্ক ঘিরে ফেলে স্কোয়ারের চারদিক। নির্বিচারে গুলি চালায় আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর। সবকিছু ভেঙেচুরে ছাত্রদের তাজা, গরম রক্তে ধুয়ে দেয় আন্দোলনের চিহ্ন। আজও কারও জানা নেই, তিয়েনআনমেন স্কোয়ারের ছাত্র বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার 'অপরাধে' চিনের কমিউনিস্ট সরকার কত জনকে হত্যা করেছে। ১৯৮৯ সালের জুনের শেষ নাগাদ চিন সরকার জানিয়েছিল, তিয়েনআনমেন স্কোয়ারে অসামরিক কিছু লোকজন এবং সেনা মিলিয়ে বিক্ষোভে ২০০ জনের মতো নিহত হয়েছে। চিরাচরিত কমিউনিস্ট-সুলভ এই তথ্যে সারা পৃথিবী হেসেছে। ২০১৭ সালে এক ব্রিটিশ কূটনৈতিক নথিতে জানা যায়, সেসময় চিনে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত স্যার অ্যালান ডোনাল্ড যে বার্তা পাঠিয়েছিলেন, সেখানে তিনি বলেছিলেন, ওই ঘটনায় চিনে কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, যাঁদের ৮০ শতাংশই ছাত্র।

তিয়েনআনমেন স্কোয়ারের ঘটনা নিয়ে আলোচনা করা আজও চিনে অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়, অপরাধও বটে। ওই হত্যাকাণ্ড নিয়ে, ছবি বক্তব্য বা পোস্ট ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিয়মিত সরিয়ে দেওয়া হয়। সরকার নিজেই কঠোরভাবে এই 'সরিয়ে দেওয়ার' কাজটি নিয়ন্ত্রণ করে।

চিনের এখনকার প্রজন্মের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ জানেই না তিয়েনআনমেন স্কোয়ারের সেদিনকার ঘটনা। কমিউনিস্ট শাসনব্যবস্থা ভুলিয়ে দিয়েছে ওই ছাত্রমেধ যজ্ঞের ইতিহাস। কমিউনিস্ট শাসকরা তো কোনওকালে কোনও দেশেই সমালোচনা সহ্য করতে পারেনি। প্রতিটি সমালোচনার জবাব দিয়েছে রক্তনদী তৈরি করে।

এই মুহূর্তে একের পর এক নিশ্চিহ্ন হয়ে চলেছে কমিউনিস্ট-বিশ্ব৷ দ্বীপের মতো কিছু জায়গায় ভেসে আছেন কমিউনিস্টরা। ভারত তথা এই বাংলাতেও তো একই ছবি। তবু প্রতি বছরের ৪ জুন, বাংলার কমিউনিস্টরা অন্তত ওই একদিন নারকীয় ছাত্রমেধ-যজ্ঞের নিন্দা করুন, শোকপ্রকাশ করুন, পারলে একবার অন্তত দু'ফোঁটা চোখের জল ফেলুন।

লিখেছেন
Kanad Dasgupta
Kanad Dasgupta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।

কেন মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

US Midterm Elections 2026: মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা। কেন ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

রামলীলার পর কী? কী করবেন বিরোধীরা?

INDIA bloc Unity Under strain: ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ২১ দল একজোট হলেও মঞ্চ শেষেই ভেতরের টানাপোড়েন স্পষ্ট। বাম নেতাদের বক্তৃতায় প্রাধান্য, ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী সুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জাতীয় ভূমিকা’র সতর্কবার্তা। প্রিয়াঙ্কা, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত বক্তৃতার সুযোগ না পাওয়ায় শরিক-অসন্তোষ।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বিপাকে ভারতীয়রা, মিডটার্ম নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে?

US Midterm Elections 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের ৬২% ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক নীতির জেরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানাল কার্নেগির সমীক্ষা।

রামলীলার সভার জন্য ক্ষতি হয়েছে ছোট দোকানদারদের, কতটা প্রচার, কতটা সত্যি?

loss claim for Ramlila rally: রামলীলা ময়দানের সমাবেশ ঘিরে ছোট দোকানদারদের ‘২.৫ লক্ষ দোকান বন্ধ’ ও ‘১০-১১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি’র দাবি আসলে, দিল্লির ব্যবসায়ী সংগঠন সিটিআই-এর অনুমান আসলে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের হিসাবের ভিত্তিতে করা হয়েছে। বিজেপি-কংগ্রেস পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এই সংখ্যাগুলি এখন রাজনৈতিক হাতিয়ার।