শরণার্থীদের জন্য কলোনি, আবার উচ্ছেদ বিলও, কেন বিতর্কে জড়িয়েছিলেন বিধান চন্দ্র রায়?

Bidhan Chandra Roy: ডা. বিধান চন্দ্র রায়কে সাধারণত আধুনিক পশ্চিমবঙ্গের রূপকার হিসেবে স্মরণ করা হয়। কেন দেশভাগ-পরবর্তী শরণার্থী সংকটে তাঁর ভূমিকা আজও বিতর্কের বিষয়? পুনর্বাসনের উদ্যোগের পাশাপাশি পুলিশি দমন, উচ্ছেদ আইন এবং সংবাদমাধ্যমের উপর নিয়ন্ত্রণ কি তাঁর উত্তরাধিকারকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে?

Atri Bhattacharya
১০ মিনিট
শরণার্থীদের জন্য কলোনি, আবার উচ্ছেদ বিলও, কেন বিতর্কে জড়িয়েছিলেন বিধান চন্দ্র রায়?

ডা. বিধান চন্দ্র রায় (১৮৮২-১৯৬২) বিংশ শতাব্দীর ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। একজন অসাধারণ চিকিৎসক, স্বাধীনতা সংগ্রামী ও রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি যেমন খ্যাতিমান, তেমনই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর ১৪ বছরের শাসনকাল (১৯৪৮-১৯৬২) রাজ্যের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়। ‘বাংলার রূপকার’ আখ্যায় ভূষিত এই নেতা একদিকে যেমন শিল্পায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অসামান্য অবদান রেখে গিয়েছেন, অন্যদিকে তেমনই দেশভাগ-উত্তর শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত জটিল ও বিতর্কিত।

বিধান রায় ১৮৮২ সালের ১ জুলি পাটনার বাঁকিপুরে জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবি পাস করার পর ইংল্যান্ড থেকে এমআরসিপি ও এফআরসিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। চিত্তরঞ্জন দাশের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯২০-এর দশকের গোড়ায় তিনি বাংলার রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯২৩ সালের নির্বাচনে ব্যারাকপুর পৌরসভা কেন্দ্র থেকে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন। মহাত্মা গান্ধীকে তিনি তাঁর দ্বিতীয় গুরু মনে করতেন। ১৯৩১ ও ১৯৩২ সালে তিনি কলকাতার মেয়র নির্বাচিত হন। ১৯৪৮ সালের ২৩ জানুয়ারি তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হন এবং ১৯৬২ সালের ১ জুলাই তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত এই পদে বহাল থাকেন।

ডা. বিধান চন্দ্র রায়ের শাসনামলের একটি বিশেষ দিক—দেশভাগোত্তর শরণার্থী পুনর্বাসন নীতি ও তাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত সংঘাতময় ঘটনাবলি নিয়ে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব। আমরা দেখব কী ভাবে শরণার্থী সমস্যা মোকাবিলায় তাঁর সরকার কঠোর থেকে কঠোরতর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল এবং কী ভাবে এই পদক্ষেপগুলি গণআন্দোলন, পুলিশি দমন ও বিতর্কের জন্ম দেয়। শিয়ালদহ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে নারী-শিশুদের উপর পুলিশি অত্যাচারের সেই কালো অধ্যায় আমাদের মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

শরণার্থী সংকট: পটভূমি ও প্রেক্ষাপট

১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে হিন্দু শরণার্থীদের আগমন পশ্চিমবঙ্গের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৪৯-৫০ সালের মধ্যে এই সংকট চরম আকার ধারণ করে। ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বরে পূর্ব পাকিস্তানের খুলনা জেলায় নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ব্যাপক সহিংসতা শুরু হয়। এই সহিংসতা রাজশাহী, ঢাকা, ফরিদপুর ও বরিশালে ছড়িয়ে পড়লে ১৯৫০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিমবঙ্গে সর্ববৃহৎ শরণার্থী অভিবাসন শুরু হয়।

এই সংকটময় মুহূর্তে বিধান চন্দ্র রায় উদ্যোগী হন এবং শরণার্থীদের পশ্চিমবঙ্গে আনার জন্য ১৬টি চার্টার্ড বিমান ও ১৫টি বড় যাত্রীবাহী স্টিমার পাঠান। ১৯৫০ সালের মার্চের মধ্যে ২৫০,০০০-এরও বেশি শরণার্থী আকাশপথ, নদীপথ ও স্থলপথে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের আগমন প্রশাসনিক যন্ত্রপাতিকে চরম চাপের মুখে ফেলে দেয়। শরণার্থীদের বনগাঁ ও শিয়ালদহ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে জড়ো করে রাখা হতো এবং তাদের ‘সীমান্ত স্লিপ’ প্রদান করা হতো, যা তাদের সরকারি ত্রাণ শিবিরে আশ্রয়ের অধিকার দিত।

পশ্চিমবঙ্গ সরকার শরণার্থীদের জন্য কলকাতার বাইরে, বিশেষত বাঁকুড়া, বীরভূম ও মেদিনীপুর জেলায় শিবির স্থাপন করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রবাহিনীর জন্য নির্মিত সামরিক ব্যারাকগুলিকে শরণার্থী শিবিরে রূপান্তরিত করা হয়। সে সময় পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৩৮৯টি কলোনি তৈরি করা হয়েছিল।

শরণার্থী পুনর্বাসনের উদ্যোগ

বিধান রায় সরকার শরণার্থীদের পুনর্বাসনের জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। প্রদত্ত তথ্যসূত্র থেকে জানা যায়, বীরভূম ও বাঁকুড়ার ২০০টি গ্রামে মাত্র ১৯টি শিল্প-কলকাতার আশ্রয়ে থাকা ২,৬০০টি শরণার্থী পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হয়। পুরুষ-মহিলা-শিশু মিলিয়ে সর্বমোট ১৩,০০০ জনের থাকার ও কাজের ব্যবস্থা করা হয়। এই রাজ্যে আরও ৩,০০০ গ্রামে ৬ লক্ষ শরণার্থীর পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়। বাঁকুড়া-বীরভূমে দ্বিতীয় দফায় আরও ৪০,০০০ শরণার্থীকে পাঠানো হয়।

উল্লেখযোগ্য হলো, এই পুনর্বাসন কাজে সাধারণ মানুষ ও ছাত্ররা উদ্যোগী হয়েছিল। তথ্যসূত্রে উল্লেখ আছে, পূর্ব বাংলার মানুষ এতদিন নিঃস্ব মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা দূর থেকে শুনে শুধু কেঁদেছে; এবার তারা এগিয়ে এলেন। এতদিন পূর্ব বাংলার মানুষের সাথে কখনও সখনও চিঠিপত্রে যোগাযোগ করা হতো; এবার তারা শরণার্থীদের জড়িয়ে ধরলেন। শরণার্থীরা পশ্চিমবঙ্গের গ্রামে আসা মাত্র গ্রামের মানুষ কমিটি গড়ে তুললেন। জমিদার-জোতদারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কমিটি শরণার্থীদের জন্য জমির জন্য তদবির করতে লাগল। নাপিত, ছুতার, কামার, তাঁতীদের আগে থাকার ব্যবস্থা করা হলো।

পুনর্বাসনের কাজে যারা সবচেয়ে উৎসাহী ছিলেন—তারা ছিলেন কলেজের ছাত্ররা। শুধু বাঁকুড়া জেলাতেই ৩০০ ছাত্র স্বেচ্ছাসেবীর কাজ করেছিলেন। তারাই কুলি-খরচ বাঁচাতে শরণার্থীদের জিনিসপত্র ঘোড় করে নিয়ে এসেছিলেন।

সংঘাত ও দমন: শরণার্থী আন্দোলনের মুখোমুখি বিধান সরকার

শরণার্থী পুনর্বাসনের এই উদ্যোগ যদিও প্রশংসনীয় ছিল, কিন্তু বাস্তবে শরণার্থীদের দুর্ভোগ ও বঞ্চনার অবসান ঘটেনি। বরং, শরণার্থী আন্দোলন ও সরকারি দমনের মধ্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সূত্রপাত হয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আজীবন বিনেপয়সায় রোগী দেখেছেন, বাঙালির হৃদয়ে আজও আসন পাকা বিধান রায়ের

Bidhan Chandra Roy: ভোর ছ’টা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত কাজ করতেন। দুপুরে বিশ্রাম নিতেন ঘন্টাখানেক। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরও কলকাতায় থাকলে রোজ সকালে নিজের বাড়িতে বিনা পয়সায় ১৬ জন করে রোগী দেখতেন বিধানচন্দ্র রায়।

১৯৫১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কাঁচরাপাড়ার গয়েশপুর কলোনি থেকে ৪০০-এর বেশি শরণার্থী শিয়ালদহ স্টেশনে আসেন। তারা চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে মিছিল করে তাঁর সঙ্গে কথা বলে তাদের অভিযোগ জানাবেন। তাদের অভিযোগ ছিল, কলোনিতে রেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, শুধু বাড়ি বানানোর জন্য সরকার টাকা ধার দেওয়া ছাড়া অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কিছু দেওয়া হয়নি।

তারা বিনা টিকিটে ট্রেনে আসায় রেল কর্তৃপক্ষ তাদের আটকে রাখে এবং স্টেশন থেকে বের হতে দেয় না। রেল কর্তৃপক্ষ তাদের বলে, হয় তারা ভাড়া দিন, নয়তো গয়েশপুরে ফিরে যান, রেল কর্তৃপক্ষ তাদের ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করবে। অর্থাৎ, কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন রেল কর্তৃপক্ষও শরণার্থীদের পেছনে আরও কিছু খরচ করে, বেআইনি সুযোগ দিয়ে তাদেরকে ফিরত পাঠাতে প্রস্তুত। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে দিতে চায়নি তারা।

শরণার্থীরা রাজি না হয়ে প্ল্যাটফর্মে বসলেন। দ্য স্টেটসম্যান-এর ১৯৫১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারির ছবিতে দেখা যায়, নারী শরণার্থীরা প্রিজন ভ্যানের সামনে উপবিষ্ট। বিধান রায় খবর পেয়ে টেলিফোনে জানান শরণার্থীদের মধ্যে থেকে পাঁচজন প্রতিনিধির সঙ্গে তিনি দেখা করবেন। কিন্তু শরণার্থীরা এতে রাজি না হয়ে জানান প্রথমে তারা মিছিল করে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে যাবেন। শরণার্থীদের কথায় আশেপাশের মানুষ সম্মতি জানান। তারাও শরণার্থীদের পাশে দাড়ান।‌

ইতোমধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট এসে প্ল্যাটফর্মে কোর্ট বসান। মহিলাদের সকলকে জড়ো করা হয়। পুলিশেরও অনেককে শাসিয়ে দেওয়া হয়। কয়েকজনকে পাঁচ টাকা জরিমানা করা হয় কিংবা অনাদায়ে দু'দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানায় কেউ রাজি না হলে তাদেরকে প্রিজন ভ্যানে তুলে নেওয়া হয়। এবার প্রচুর জনতা প্রিজন ভ্যানের সামনে বসলে, পুলিশ লাঠি চালায়।

শেষে প্রায় ২০০ শরণার্থী আবার জেগে ওঠে ওয়েলিংটন কক্ষায়ারে মিছিল করে বিধান রায়ের বাড়ি আসেন। তখন তাদের দাবি ছিল যাদের ধরা হয়েছে তাদের ছেড়ে দেওয়া হোক। বিধানবাবু তাদের সঙ্গে আর দেখা করলেন না! বরং লালবাজার থেকে আরও পুলিশ এনে তাদের ট্রাকে তুলে কাঁচরাপাড়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

এই ঘটনার দশদিন পর নদীয়া, কাঁচড়াপাড়া, হাওড়া থেকে প্রায় ৪,০০০ শরণার্থী শিবানন্দ পার্কে জমায়েত হন। তাদের মধ্যে মহিলা, শিশুও ছিলেন। তারা দাবি করেন, "Unauthorized Persons' Eviction Bill"-এর প্রত্যাহার, শরণার্থী শিশুদের লেখাপড়ার এবং পুনর্বাসনের ভালো ব্যবস্থা করা।

মিছিল শিবানন্দ পার্ক থেকে ধর্মতলায় আসে। সেখানে আরও কয়েকটা ছোটো ছোটো মিছিল এসে জড়ো হয়। এবার সকলে মিলে বিধানসভা অভিমুখে যাত্রা করেন। পুলিশ তাদের বাধা দেয়, বলে, বিধানসভার চারদিকে ১৪৪ ধারা জারি আছে। শরণার্থীরা দাবি করেন তাহলে বিধানবাবু তাদের সঙ্গে এসে দেখা করুন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী দেখা করলেন না।

পুলিশ লাঠি চালায় ও মিলিটারিদের দ্বারা তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

বিধানসভা অভিমুখে দ্বিতীয় যাত্রা

শরণার্থীরা 'Unauthorized Persons' Eviction Bill'-এর বিরুদ্ধে আবারও ওয়েলিংটন কক্ষায়ারে জমায়েত হন এবং ধর্মতলায় আসেন। তারা বিধানসভা অভিমুখে যাত্রা করছিলেন। তাদের শ্লোগান ছিল: 'ইনকিলাব জিন্দাবাদ', 'পুলিশি জুলুম চলবে না', 'এভিকশন বিল জ্বালিয়ে দাও'।

বিরাট পুলিশ বাহিনী তাদের আটকায়। এপারের মানুষ শরণার্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। এপারের মানুষ তৃষ্ণার্ত আন্দোলনকারীদের জন্য জলের ব্যবস্থা করেন। শরণার্থীরা রাস্তায় বসলেন। পুলিশের সামনে ধোঁধি, ইট কোট্থি মিশিয়ে কামান চালালে পুলিশ আহত হন।

শরণার্থীদের কয়েকজন প্রতিনিধি বিধানসভায় গিয়ে আধঘণ্টার মধ্যে ফিরে আসেন। তাদের সামনে মুখ্যমন্ত্রী দেখা করলেন না। এরপর শরণার্থীরা ফিরে যান। পরের দিন ছাত্ররা পুলিশি আক্রমণের প্রতিবাদে ধর্মতলা ময়দানে এক জনসভা করেন।

'Unauthorized Persons' Eviction Bill'-এর পাস

দশদিন পর বিলটি পাশ হয় অন্য নামে। 'Unauthorized Persons' Eviction Bill'-এর নাম পরিবর্তন করে 'Eviction of Persons in Unauthorized occupation of Land Bill' (জমিতে অননুমোদিত ভোগদখলকারীদের উচ্ছেদ বিল) বিধানসভায় পাশ করা হয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভুলতে পারেননি নিজের প্রথম প্রেমিকাকে, এই শহরের নামে তাঁকে অমর করে গেলেন বিধান চন্দ্র রায়

D. Bidhan Chandra Roy: দুর্গাপুর, সল্টলেক, শকুন্তলা পার্কের মতো একাধিক টাউন তৈরি করা হলো কলকাতার আশেপাশে বেশ কিছু জায়গায়। সেরকম ভাবেই নদিয়ার রুজভেল্ট টাউন নতুন করে তৈরি করলেন ডঃ বিধান চন্দ্র রায়।

রানাঘাটের কুপার্স ক্যাম্পের ঘটনা (১৯৫৩)

রানাঘাটের কুপার্স ক্যাম্পের শরণার্থীরা বসবাসযোগ্য পুনর্বাসন, জল সরবরাহ, নিকাশি ব্যবস্থা, রেশন কমিয়ে রেওয়া খাদ্যের বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিতে ২ দিন পরপর রেললাইন অবরোধ করেন। বিরাট পুলিশ বাহিনী গিয়ে তাদের হটাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে যুদ্ধ বেধে যায়। যুদ্ধে ৮০ জন পুলিশ আহত হয়।

পরদিন সকাল আটটায় আবার দু'জন পুলিশকে শরণার্থীরা জোর করে ধরে। কিছুক্ষণ বাদে দু'জন ইন্সপেক্টর সেখানে গেলে তাদেরও আটকে রাখা হয়। এদের একজনও ফিরে আসেনি দেখে এস.ডি.ও. সেখানে আরও কিছু পুলিশ ও পুলিশ সুপারকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। শরণার্থীরা তাদেরও আটকে রাখেন। বিকেল চারটের সময় পুলিশ সুপারকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে এস.ডি.ও.-র গাড়ির চাকা ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপর পুলিশ গিয়ে ক্যাম্পে লাঠি চালায়, কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। গুলিতে কেউ হতাহত হননি। কিন্তু পুলিশ শরণার্থী ক্যাম্পে ২৭৫টি ঘরে ভাঙচুর করে।

এই ঘটনার পর বিধান রায় বিবৃতি দেন:

সরকারের হাতে একটি প্রচারপত্র এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে প্রয়োজনে শরণার্থীরা তাদের দাবি আদায়ে বলপ্রয়োগ করবে। যারা সরকারি অনুদান, রেশনের ওপর বেঁচে আছে তারা যদি বলপ্রয়োগের ক্ষমতা হাতে তুলে নেয়, তাহলে আইন-মেনে চলা নাগরিকরা এর প্রতিবাদ করবে।

যতীন সাহা ও রতীশ মন্ত্রীর অনশন

রানাঘাটের কুপার্স ক্যাম্পে পাকিস্তান থেকে আসা শরণার্থী যতীন সাহা ও রতীশ মন্ত্রী অনশন করছিলেন। সরকারকে জানানো হয়েছিল ক্যাম্পের কিছু মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নিতে চাইলে মানুষ রাজি হয় না। তাই সরকার যে অনুদান দিত তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে তারা অনশনে বসেন। তিন সপ্তাহ অনশন চলার পর টি.এস.পি.-র নেতৃত্বে এক বিরাট পুলিশবাহিনী অস্ত্রশস্ত্র-সহ কুপার্স ক্যাম্পে গিয়ে প্রায় ২,০০০ মানুষকে আটকান। পুলিশ লাঠি চালায়। পাল্টা আঘাত আসে শরণার্থীদের কাছ থেকে। টি.এস.পি-সহ অনেক পুলিশ আহত হন। পুলিশ ৩৩ জনকে গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে যতীন সাহা ছিলেন। রতীশ মন্ত্রীকে খুঁজে না পেয়ে পুলিশ তার খবর দেওয়ার জন্য ৫০ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে। এক গুপ্তচরের সাহায্যে পুলিশ মন্ত্রীকে গ্রেফতার করে।

দক্ষিণ কলকাতার লেকের ধারে সংঘর্ষ

দক্ষিণ কলকাতার লেকের ধারে ও যাদবপুরের যৌনীলে শরণার্থীরা থাকতেন। তাদের মধ্যে ২০০ জন টালিগঞ্জের লেকের ধারে কলেজ হাসপাতালের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে আক্রমণে নেন। বাড়িটিতে আগে হাসপাতালের মেস ও ময়লা স্টোর ছিল। বাড়িটি অনেকদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিল। সি.পি. ডব্লিউ.ডি.-র বাড়িটা ভাঙার কথা ছিল। শরণার্থীরা এসে দেখেন কয়েকজন পুলিশ বাড়িটাতে ঘুমিয়ে আছে। শরণার্থীরা তাদের উঠে যেতে বললে তারা চলে যায়। এরপর শরণার্থীরা বাড়িটির দখল নেয়। খবর পেয়ে বিরাট পুলিশবাহিনী এসে শরণার্থীদের চলে যেতে বলে। তাদের যাওয়ার কোনো জায়গা ছিল না। তাই তারা যেতে চাননি। তখন পুলিশ তাদের জোর করে বের করে দেয়। ওই এলাকায় আরও শরণার্থী একসাথে হয়ে লাঠি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে যুদ্ধ করে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস চালায়। একটি সরাসরি এক শরণার্থীর বুকে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। তাকে শান্তিনাথ পশ্চিত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনায় ৯ জন পুরুষ পুলিশ, ৩ জন মহিলা পুলিশ-সহ মোট ১৯ জন আহত হন।

গণমাধ্যমের উপর নিয়ন্ত্রণ: তথ্য অবরোধের রাজনীতি

বিধান রায় সরকার শরণার্থী আন্দোলনের খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছিল। একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সরকার জানায়:

খবরের কাগজগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারা যেন এমন কিছু না ছাপেন যাতে গণ্ডগোল বাড়তে পারে। আমি তাদেরকে বলেছি আগামী কিছুদিন কাগজ ছাপার আগে সরকারকে দেখিয়ে নিতে। আমি মনে করি এসব ছাপলে কাগজের কোনো ভালো হতে পারে না।

শরণার্থীদের উপর অত্যাচার চলবে, তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হবে, তাদের কথা কান দেওয়া হবে না — কিন্তু এসব কথা সংবাদপত্রে ছাপানো যাবে না। বিধানবাবু গণমাধ্যমের টুটি চেপে ধরেছিলেন। ডাঃ বিধান চন্দ্র রায়ের শরণার্থী নীতি ও তার বাস্তবায়ন পদ্ধতি একটি জটিল ও দ্ব্যর্থতাপূর্ণ অধ্যায়। একদিকে যেমন তিনি শরণার্থীদের উদ্ধার ও পুনর্বাসনের জন্য প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন, অন্যদিকে তেমনই শরণার্থী আন্দোলন দমনে তিনি অত্যন্ত কঠোর ও নিষ্পেষণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।

শরণার্থী নীতির দ্বৈততা

বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা যায়, বিধান রায় প্রাথমিকভাবে পূর্ব বাংলার হিন্দুদের পশ্চিমবঙ্গে আসতে নিরুৎসাহিত করেছিলেন এবং যারা ইতোমধ্যে এসে গিয়েছিলেন তাদের ন্যূনতম ত্রাণ বা 'ডোল' দিয়েছিলেন। তাঁর সরকার এই শরণার্থীদের প্রধানত পশ্চিমবঙ্গের বাইরে এবং বিশেষত কলকাতার বাইরে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু ১৯৪৯-৫০ সালের সংকটের মুখে এই নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়।

শরণার্থীদের পুনর্বাসনের জন্য সরকার প্রায় ৩৮৯টি কলোনি তৈরি করেছিল, কিন্তু তার একটি কলকাতায়। বাঁকুড়া, বীরভূম ও মেদিনীপুরের মতো দূরবর্তী জেলাগুলিতে শরণার্থীদের 'ডাম্প' করা হয়েছিল এই আশায় যে তারা তাদের শ্রম দিয়ে এলাকাটিকে রূপান্তরিত করবে। এই নীতি যদিও কলকাতার ভিড় কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় ছিল, কিন্তু শরণার্থীদের জন্য তা ছিল অত্যন্ত কষ্টকর।

দণ্ডকারণ্য প্রকল্প: স্বপ্ন বনাম বাস্তবতা

শরণার্থী পুনর্বাসনের জন্য সরকার দণ্ডকারণ্য প্রকল্প গ্রহণ করেছিল, যা অন্ধ্র, মধ্যপ্রদেশ ও ওড়িশার কিছু অংশ নিয়ে গঠিত হয়েছিল। এই প্রকল্পে জমি পুনরুদ্ধার ও শরণার্থীদের মধ্যে বিতরণের কথা ছিল। কিন্তু শরণার্থীরা সেখানে প্রতিকূল পরিবেশ পেয়েছিলেন। পূর্ব পাকিস্তানের উর্বর ও নরম মাটিতে চাষের অভিজ্ঞতা থাকা শরণার্থীদের জন্য দণ্ডকারণ্যের উৎপাদন ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। সরকারের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের মধ্যে ব্যাপক ফারাক ছিল। প্রাথমিকভাবে ৩৫,০০০ পরিবারকে পুনর্বাসিত করার কথা থাকলেও ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত সেখানে মাত্র ৬,৫০০ পরিবার বসতি স্থাপন করতে পেরেছিল। শরণার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে বিক্ষোভ ও মিছিলের মাধ্যমে তাদের অভিযোগ জানাতে শুরু করে।

পুলিশি দমন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন

শরণার্থী আন্দোলন দমনে পুলিশি বর্বরতার অভিযোগ বিধান রায়ের শাসনামলের কলঙ্কজনক অধ্যায়। ১৯৫৯ সালের ৩১ অগাস্টের পুলিশি অত্যাচারের প্রেক্ষিতে 'ডাউন উইথ কিলার বিধান' স্লোগান উঠেছিল। শরণার্থীদের উপর পুলিশি অত্যাচার, লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও গুলিবর্ষণের ঘটনা প্রদত্ত তথ্যসূত্রে বারবার উঠে এসেছে।

বিশেষত উল্লেখযোগ্য হলো, বিধান রায় সরকার শরণার্থীদের বিরুদ্ধে 'Unauthorized Persons' Eviction Bill' পাস করেছিল। এই বিলটি শরণার্থীদের জমি থেকে উচ্ছেদের আইনি ভিত্তি তৈরি করেছিল, যা ছিল তাদের পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতির সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।

গণমাধ্যমের উপর নিয়ন্ত্রণ: গোপনীয়তার রাজনীতি

বিধান রায় সরকার সংবাদপত্রের উপর যে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছিল, তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। শরণার্থীদের উপর অত্যাচারের খবর যাতে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ না পায়, সে জন্য সরকার প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। 'উন্নততর' বামফ্রন্টের আমলেও এই সেন্সরশিপের ধারা অব্যাহত ছিল।

ডা. বিধান চন্দ্র রায় ছিলেন একজন অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী নেতা। চিকিৎসক হিসেবে তাঁর খ্যাতি ছিল বিশ্বব্যাপী। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে যে অবদান রেখে গিয়েছেন, তা অনস্বীকার্য। তিনি দুর্গাপুর, কল্যাণী, বিধাননগর, অশোকনগর ও হাবড়ার মতো পাঁচটি শহর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ১৯৬১ সালে তিনি ভারতরত্নে ভূষিত হন।

কিন্তু শরণার্থী পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে তাঁর নীতির দ্বৈততা ও শরণার্থী আন্দোলন দমনে পুলিশি বর্বরতা ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়। একদিকে যেমন তিনি শরণার্থীদের উদ্ধারে বিমান ও স্টিমার পাঠিয়েছিলেন, অন্যদিকে তেমনই তাদের আন্দোলন দমন করতে তিনি কঠোর থেকে কঠোরতর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। শরণার্থীদের জন্য পুনর্বাসন কলোনি স্থাপন করা হয়েছিল, কিন্তু সেগুলি ছিল কলকাতার দূরবর্তী, অনুন্নত এলাকায়। দণ্ডকারণ্য প্রকল্পের মতো উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবে ব্যর্থ হয়েছিল।

শরণার্থীদের বৈধ দাবি— যেমন রেশন, আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা পূরণের পরিবর্তে তাদের উপর 'Eviction Bill' চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। গণমাধ্যমের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে শরণার্থীদের দুর্ভোগের খবর জনসমক্ষে আসতে দেওয়া হয়নি। শিয়ালদহ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে উপবিষ্ট নারী-শিশুরা, রানাঘাটের পোড়া ঘর, টালিগঞ্জের আহত শরণার্থী, ওয়েলিংটনের ক্ষোভ—এই ঘটনাগুলি বিধান রায়ের 'উন্নয়নের' অপর পাশের নির্মম সত্যকে তুলে ধরে।

শরণার্থী আন্দোলন ও তার দমনের এই ইতিহাস আজও প্রাসঙ্গিক, কারণ এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় কী ভাবে একটি রাষ্ট্র তার নিজের নাগরিকদের—যারা নিঃস্ব ও অসহায় অবস্থায় তার দ্বারস্থ হয়েছিল, তাদের প্রতি কঠোর ও নিষ্পেষণমূলক হতে পারে।

সূত্র:

আজকের উন্নয়ন: বিধান রায়ের ভূমিকা-সমীর সাহা পোদ্দার

লিখেছেন
Atri Bhattacharya
Atri Bhattacharya
10 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ব্রিকস: অর্থনীতির হিসেব-নিকেশ

BRICS Economic Power: মার্কিন শুল্কনীতি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, ডলারের আধিপত্য ও পশ্চিমী নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে কি ব্রিকস সত্যিই বিকল্প অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবে? গ্লোবাল সাউথের স্বার্থ রক্ষায় ব্রিকসের ঘোষিত নীতিগুলি কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে? নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক, ডি-ডলারাইজেশন, বৈশ্বিক করব্যবস্থা এবং সদস্য দেশগুলির পারস্পরিক স্বার্থের সংঘাত কি ব্রিকসের সেই সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করছে? ভবিষ্যতে এর ভূমিকা কতটা কার্যকর হবে?

১৯৬৯-এর কংগ্রেস থেকে ২০২৬-এর তৃণমূল: যেভাবে ভারতে দল ভেঙেছে বারবার

Politics of Party Splits in India: ১৯৬৯ সালে কংগ্রেস ভাঙার মধ্য দিয়ে যে প্রক্রিয়া শুরু, ২০২৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙন তারই ধারাবাহিকতা। নেতৃত্বের লড়াই, মতাদর্শিক সংঘাত ও নির্বাচনী কৌশল—প্রতিটি ভাঙনের পিছনে একাধিক কারণ। দশম তফসিল ও নির্বাচন কমিশনের নিয়ম ভাঙনকে আইনি কাঠামোয় বাঁধতে চেয়েছে, তবুও 'প্রকৃত দল' বা আদি প্রতিষ্ঠাতা নির্ণয়ে বিভ্রান্তি রয়ে গিয়েছে বহুবার।

মমতা ফিরে পাবেন তাঁর আঁকা জোড়াফুল?

Mamata Banerjee TMC Symbol: তৃণমূল কংগ্রেসের ঐতিহ্যবাহী জোড়াফুল প্রতীক কি শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে ফিরবে? জোড়াফুলের ভবিষ্যৎ কী? কী বলছে আইন?

EXCLUSIVE: দলের নেতাদের উপর নজর রাখতে আমায় ব্যবহার করেছেন মমতা : ঋতব্রত

Ritabrata Banerjee: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তৃণমূল নেতাদের উপর আড়ি পাতার কাজে তাঁকে ব্যবহার করা হয়েছিল। কাদের কাছে সেই তথ্য পৌঁছে দিতেন তিনি? ২০২১-এর ভোট পর্যন্ত চলা সেই নজরদারির নেপথ্যে কারা ছিলেন?

EXCLUSIVE: ১৪ জনকে হারাতে চেয়েছিল ক্যামাক স্ট্রিট, তালিকায় প্রথম মমতা: ঋতব্রত

Ritabrata Banerjee: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেই ১৪ জনকে নির্বাচনে হারিয়ে দেওয়ার তালিকা তৈরি হয়েছিল। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, সেই তালিকায় প্রথম নাম ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আর কারা ছিলেন ওই তালিকায়? নির্দেশ এসেছিল কোথা থেকে?

তিন মাসে ২৬ নির্যাতনের ঘটনা, খ্রিস্টানদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে কে?

মুখ্যমন্ত্রী ও সংখ্যালঘু দফতরের মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বঙ্গীয় খ্রিস্টীয় পরিষেবা। স্মারকলিপিতে গত তিন মাসে অন্তত ২৬টি নির্যাতনের ঘটনা এবং ১১টি এফআইআর নথিভুক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সংগঠনের অভিযোগ, আরও বেশ কিছু ঘটনা ভুক্তভোগীদের ভয় বা নানা কারণে পুলিশের কাছে নথিভুক্ত হয়নি। অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে প্রার্থনা সভায় হামলা, উপাসনাস্থলে ভাঙচুর, ধর্মীয় সামগ্রী নষ্ট করা এবং খ্রিস্টান ধর্মযাজক ও উপাসকদের হেনস্থা।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।

কর্নওয়ালিস স্ট্রিট থেকে বিধান সরণি, ধর্মতলা থেকে লেনিন সরণি: যেভাবে ক্ষমতাসীনরা বদলেছে কলকাতার রাস্তার নাম

Renaming politics of kolkata's street: লটারি কমিটির কর্নওয়ালিস স্ট্রিট নির্মাণ থেকে বামফ্রন্টের লেনিন সরণি, হো চি মিন সরণি—কলকাতার রাস্তার নামকরণ প্রথম থেকেই রাজনৈতিক ছিল। ২০২৬ সালে, বিজেপি সরকারের উৎসাহে দশ সদস্যের কমিটি গঠিত হয়েছে লেনিন, কার্ল মার্কস ও হো চি মিন সরণির নাম বদলের সুপারিশ করতে। কিন্তু নাম বদলালেই কি মানুষের স্মৃতি বদলায়?