একদিনে প্রায় ৪০০ বজ্রপাত: কেন কলকাতায় এত বাজ পড়া বাড়ছে?

Kolkata Lightning: কলকাতায় ইদানীং আকাশ ভেঙে যে হারে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টি নামছে, তা আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনা আর হঠাৎ ধেয়ে আসা তীব্র বজ্রঝড় নিয়ে ইনস্ক্রিপ্ট কথা বলেছিল বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ডঃ স্বাতী নন্দী চক্রবর্তী-র সঙ্গে।

Deepsubhra Mahato
৩ মিনিট
একদিনে প্রায় ৪০০ বজ্রপাত: কেন কলকাতায় এত বাজ পড়া বাড়ছে?

মেট্রো রেলের লাইনে জল জমা, ব্যস্ত রাস্তায় আচমকা বিশালাকার গাছ উপড়ে পড়া কিংবা দিনের বেলাতেই ঘুটঘুটে অন্ধকার নেমে আসা— কলকাতার মানুষের কাছে জুন (২০২৬) মাসের স্মৃতিটা ঠিক এই রকমই। বিশেষ করে ২৩ এবং ২৫ জুনের সেই বিকেল দুটোর কথা শহরবাসী সহজে ভুলবেন না। একদিকে ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখীর মতো ঝড়, আর অন্যদিকে অবিরাম কানফাটানো বজ্রধ্বনি। স্থানীয় আবহাওয়া পর্যবেক্ষকরা একে স্রেফ বজ্রপাত বলতে নারাজ, তাঁদের মতে ওটা ছিল আক্ষরিক অর্থেই মেঘেদের “কার্পেট বম্বিং”। মাত্র কয়েক ঘণ্টায় কলকাতার বুকেই আছড়ে পড়েছিল ১৯৯টিরও বেশি জোরালো বজ্রপাত!

কিন্তু আমাদের প্রিয় তিলোত্তমা হঠাত্‍ এমন ভয়ংকর হয়ে উঠল কেন? কেনই বা শহর ও শহরতলির আকাশে ঘনিয়ে আসছে ১২ কিলোমিটার উঁচু মেঘের পাহাড়? এর পিছনে প্রকৃতির খামখেয়ালিপনা যতটা আছে, তার চেয়ে অনেক বেশি দায়ী আমরা নিজেরাই।

পরিবেশবিদ ডঃ স্বাতী নন্দী চক্রবর্তী কী বলছেন?

কলকাতা ও শহরতলির এই হঠাৎ তীব্র বজ্রপাত বৃদ্ধি প্রসঙ্গে পরিবেশবিদ ডঃ স্বাতী নন্দী চক্রবর্তী স্পষ্ট জানালেন, এর পিছনে লুকিয়ে আছে শহরের দূষণ এবং কংক্রিটের আগ্রাসন। তাঁর কথায়:

"আমরা এখন শহরতলির অনেক জায়গাতেই প্রচণ্ড পরিমাণে হঠাৎ বাজ পড়তে দেখছি, যা দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে। এর মূল কারণ হলো আমাদের বাতাসে দূষণ কণার মাত্রা ভয়ানক রকম বেশি। বছরের প্রায় ৮০% দিনই এই এয়ার প্যারামিটারগুলি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক উপরে (অ্যাবনরমাল রেঞ্জ) থাকছে। বাতাসে কার্বনের মাত্রাও খুব বেশি।"

"দ্বিতীয়ত, আমাদের শহরে যে পরিমাণ সবুজের ঘনত্ব থাকা উচিত, তা নেই। চারিদিক শুধু কংক্রিটের বহুতলে ভরে যাচ্ছে। এর ফলে শহরের আবহাওয়া বদলে যাচ্ছে। কোথাও হয়তো একদম বৃষ্টি নেই, আবার ঠিক ১০০ মিটার পরিধির মধ্যে মেঘ ফেটে অতিবৃষ্টি হচ্ছে— যাকে বলে মাইক্রো ক্লাউড বার্স্ট। এর পিছনে এল নিনোর প্রভাবও রয়েছে। বাতাসের এই ভারসাম্যহীনতার কারণেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ এই অতিবৃষ্টির প্রবণতা বেড়েই চলেছে।"

গবেষণার চোখে কলকাতার ‘বাজ’ পড়ার আসল রহস্য

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এই এল নিনো কেন প্রতিটি ভারতবাসীর জন্যে উদ্বেগের?

El Niño 2026: ২০২৬ সালের সুপার এল নিনো ভারতের বর্ষা, কৃষি ও অর্থনীতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে? প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মৌসুমি বৃষ্টির জটিল সম্পর্ক কী ভাবে খাদ্য উৎপাদন, জলসম্পদ ও মূল্যস্ফীতিকে প্রভাবিত করতে পারে?

বিজ্ঞানী ও গবেষকদের সাম্প্রতিক (২০১৬-২০২৬) বিভিন্ন গবেষণা কিন্তু ডঃ চক্রবর্তীর এই আশঙ্কাকেই সিলমোহর দিচ্ছে। মূলত চারটি কারণকে কলকাতার এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করা হচ্ছে:

১. মারাত্মক বায়ু দূষণ

আইআইটি খড়্গপুর এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নালের (যেমন: Science of the Total Environment) গবেষণা বলছে, বাতাসে যত বেশি ধূলিকণা, ধোঁয়া বা অ্যারোসল ভেসে বেড়ায়, মেঘের ভিতরে ঘর্ষণ তত বাড়ে এবং তার থেকে বেশি চার্জ তৈরি হয়।

  • লকডাউনের প্রমাণ: ২০২০ সালের একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, করোনাকালে লকডাউনের সময় কলকাতায় যখন দূষণ এক ধাক্কায় অনেক কমে গিয়েছিল, তখন প্রাক-বর্ষার বজ্রপাতও প্রায় ৪৯% কমে গিয়েছিল! অর্থাৎ, দূষণ সরাসরি বাজ পড়ার সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়।

২. আরবান হিট আইল্যান্ড (UHI) বা ‘উষ্ণতার দ্বীপ’

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভাঙতে চলেছে ১৫০ বছরের রেকর্ড, যে দুর্যোগ সংকেত দিচ্ছে সুপার এল নিনো

আমেরিকার আবহাওয়া সংস্থা 'নোয়া' (NOAA)-এর মে ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, মে থেকে জুলাই মাসের মধ্যেই এই এল নিনো তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৮২ শতাংশ। শুধু তাই নয়, বছরের শেষের দিকে এটি এতটা শক্তিশালী রূপ নিতে পারে যা গত ১৫০ বছরের ইতিহাসকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।

কলকাতা এখন একটা গরম কংক্রিটের দ্বীপ। গাছপালা কেটে পুকুর বুজিয়ে যেভাবে বহুতল আর পিচের রাস্তা তৈরি হচ্ছে, তা দিনের বেলার তাপ ধরে রাখছে। এই গরম বাতাস যখন হু হু করে উপরে উঠে যায় (কনভেকশন প্রক্রিয়া), তখন খুব দ্রুত আকাশজুড়ে তৈরি হয় দানবীয় কিলিং ক্লাউড বা কিউমুলোনিম্বাস মেঘ। যার ফল— হঠাৎ ধেয়ে আসা তীব্র ঝড়।

৩. জলবায়ু পরিবর্তন ও বঙ্গোপসাগর

বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে সমুদ্রের জল গরম হচ্ছে। ফলে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প বা আর্দ্রতা কলকাতার বাতাসে ঢুকছে। একদিকে দুপুরের চড়া রোদ ও গরম (৩৪° সেলসিয়াস+), আর অন্যদিকে এই বিপুল আর্দ্রতা— এই দুইয়ে মিলে তৈরি হচ্ছে এক বিস্ফোরক পরিস্থিতি। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এখন বজ্রপাতের নতুন ‘হটস্পট’।

ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহ খতিয়ান

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দিনের তুলনায় রাতের তাপমাত্রা বৃদ্ধিই বেশি ক্ষতি করছে আমাদের?

heatwave India: দিনের দাবদাহের চেয়ে কি রাতের বাড়তে থাকা তাপমাত্রাই এখন বেশি বিপজ্জনক? কেন শহরে গরমে বাড়ছে অসুস্থতা ও মৃত্যুহার?

এই তীব্র বজ্রঝড়ের খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। গত ২৩ জুনের ঝড়ে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে গঙ্গা নদীতে নৌকো চড়ার সময় বজ্রপাতে ৪ জন মারা যান, আহত হন ১৫ জন। রাজ্যজুড়ে এই সংখ্যাটা ছিল আরও বেশি।

পরিসংখ্যান বলছে, ভারতে যত প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয় (বন্যা বা ভূমিকম্প), তার মধ্যে বজ্রপাতেই সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যান।

সরকারি হিসেব অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই বজ্রপাতে ১২৫৯ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৪ সালে পুরো ভারতে এই সংখ্যাটা ছিল প্রায় ২৮২৫।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, মৃতদের মধ্যে প্রায় ৭৭%-ই হলেন গ্রামীণ এলাকার মানুষ ও কৃষক, যাঁরা মাঠে কাজ করার সময় খোলা আকাশের নিচে এই বিপদের মুখে পড়েন। আর শহরে এর প্রভাব পড়ছে মূলত উপড়ে যাওয়া গাছ, ট্রাফিক জ্যাম ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের উপর।

বাঁচার উপায় কী? গবেষক ও আবহাওয়াবিদদের পরামর্শ

আবহাওয়া দপ্তর (IMD) জানাচ্ছে, আগামী দিনগুলিতেও দক্ষিণবঙ্গে এই ধরনের হঠাৎ ঝড়ের দাপট বজায় থাকবে। এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে বিশেষজ্ঞরা মূলত দুটি দিকে নজর দিতে বলছেন:

  • শহরের জন্য: অবিলম্বে দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং শহর ও শহরতলিতে সবুজের পরিমাণ (গাছপালা) বহুগুণ বাড়াতে হবে, যাতে এই স্থানীয় তাপমাত্রা বা হিট আইল্যান্ড এফেক্ট কমানো যায়।

  • সচেতনতা ও প্রযুক্তি: গ্রামীণ এলাকায় ‘লাইটনিং অ্যারেস্টার’ (বজ্রনিরোধক দণ্ড) বসানো দরকার। সাধারণ মানুষকে সরকারি ‘দামিনী’ (Damini) অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে, যা আগে থেকেই বাজের সতর্কতা দেয়।

ঝড়-বৃষ্টির আভাস পেলেই খোলা মাঠ, নদী বা বড় গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া বন্ধ করতে হবে। পাকা বাড়ির নিচে দাঁড়ান এবং ঘরের ভিতরের সমস্ত দামি ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতির প্লাগ খুলে রাখুন।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

মধু সংগ্রহে ‘দাদাগিরি’! উষ্ণ পৃথিবীতে বাড়ছে বিপদ

Honeybee Behaviour: উষ্ণ পৃথিবীতে ফুলের দখল নিতে মধুমৌমাছির আগ্রাসী আচরণ কি বন্য পরাগবাহী পতঙ্গদের খাবারের সংকট আরও বাড়িয়ে তুলবে? গবেষণায় উঠে এসেছে, তাপমাত্রা বাড়লে ফুলের মধুরস নিয়ে প্রতিযোগিতা তীব্র হতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে ভোমরা, একা মৌমাছি ও হোভারফ্লাইয়ের মতো পতঙ্গদের উপর।

নেপালের জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জের ২ কোটি ডলার কি যথেষ্ট?

FRLD fund for Nepal: ২৬ অগাস্ট ভোটকোশিতে গ্লেসিয়াল লেকে ধস নামলে নেপালে ১,৫০০ জনের মৃত্যু হয় এবং নিখোঁজ হন ৫,০০০ জন। ক্ষতি হয় ২.৬৯ বিলিয়ন ডলারের। ২২ অক্টোবর এফআরএলডি বোর্ড প্রথমবার কোনো দেশকে ২০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করল। কিন্তু, এই টাকা নেপালের প্রাথমিক ক্ষতির ১ শতাংশেরও কম।

দেড় মাসের মধ্যে ফের জোড়া ভূমিকম্প, মৃত ১৮, কতটা ক্ষতিগ্রস্ত তিব্বত?

Tibet Earthquake: দেড় মাসের মধ্যে ফের জোড়া ভূমিকম্প তিব্বতে। বাড়িঘর ধসে পড়া, রাস্তা অবরোধ, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া-সহ কী কী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে? এই অঞ্চলে বারবার প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আসল কারণটা ঠিক কী?

জলবায়ু বদলেছে, নদীর প্রবাহ বদলেছে: ৩০ বছরের পুরনো ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তিতে কোন কোন পরিবর্তন দরকার?

A Flawed Pact of Farakka: ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ। বাংলাদেশের নদী বিশেষজ্ঞ মনজুর এ চৌধুরীর মতে, চুক্তিটি 'ত্রুটিপূর্ণ', এতে নেই গ্যারান্টি ক্লজ, নেই পরিবেশগত প্রবাহের হিসাব, নেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিধান। তাঁর প্রস্তাব, তিন বছরের নতুন অন্তর্বর্তী চুক্তি হোক, তারপর নেপালকে যুক্ত করে তৈরি করা হোক ত্রিপাক্ষিক কাঠামো।

থালায় খাবার, নাকি বিষ? খাদ্যব্যবস্থার ভিতরে যেভাবে ঢুকছে কীটনাশক ও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ

Poison on the Plate: বায়ার-মনসান্টো ও সিনজেনটার মতো 'বিগ সিক্স' কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বিশ্বের বীজ বাজার। ২০২৩ সালে ভারতে ১০,৭৮৬ জন খাদ্য উৎপাদক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৮ শতাংশ খাদ্য নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত গ্লাইফোসেটকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্ষতিকারক ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও এর ব্যবহার থামেনি। অন্যদিকে, প্রচারের অন্তরালে সিকিম আমাদের দেশের প্রথম শতভাগ জৈব কৃষির রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সারা বিশ্বজুড়ে কৃষিবিদ বন্দনা শিবার ‘পয়জন-ফ্রি ফুড অ্যান্ড ফার্মিং ২০৩০’ অভিযানের ডাক আমাদের খাবারের থালাকে বিষমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

তেলের বদলে বিদ্যুৎ! আরব সাগরের তলায় ভারত-সৌদির ৯ বিলিয়ন ডলারের মহাপ্রকল্প

India Saudi Arabia submarine power link: আরব সাগরের তলদেশ দিয়ে ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রস্তাবিত ২১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সাবমেরিন বিদ্যুৎ সংযোগের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হচ্ছে, যার ক্ষমতা থাকবে ৩ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের। প্রযুক্তি হিসাবে ব্যবহৃত হবে HVDC, এর ফলে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ বিলিয়ন ডলার। আজ, ৫ অক্টোবর, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা হবে প্রকল্পটির ব্যয় কমানো, অর্থায়ন মডেল ও ঝুঁকি ভাগাভাগি নিয়ে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ভারতের ওয়ান সান ওয়ান ওয়ার্ল্ড ওয়ান গ্রিড প্রকল্প ও জি-২০ তে প্রস্তাবিত ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এই প্রকল্পটিকে চিনের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভের বিকল্প হিসেবে দেখা যেতে পারে।

কয়লার দেশ হয়েও কেন বিদ্যুৎ সংকটে ভারত?

India's energy crisis 2026: হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায়, ভারতের ৮০ শতাংশের বেশি জ্বালানি আমদানি ধাক্কা খেয়েছে। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এক সময় জ্বালানিক্ষেত্রে ‘ঘাটতি নেই’ বললেও সেপ্টেম্বরে স্বীকার করলেন, জ্বালানির পরিস্থিতি বর্তমানে ‘টানটান’। ৭৬টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংকটজনক ভাবে মজুত করা কয়লায় চলছে। চলছে এলপিজির কালোবাজারি। ডিসকমগুলির বকেয়া জমে রয়েছে প্রায়, ৩,৩৩০ কোটি টাকা।

প্রকৃতির কোলে পিকনিক, শেষে প্লাস্টিকের পাহাড়: মানুষ কি সত্যিই প্রকৃতিকে ভালোবাসে?

Environmental Pollution: প্রশাসনের তরফে অতিরিক্ত দূষণ ছড়ানো কলকারখানা সিল করে দেওয়ার মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ হয়তো নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এতেই কি সমস্যার সমাধান মিলবে? কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যক্তিগত যানবাহনের দাপট এবং বৈদ্যুতিন বর্জ্য। শ্রমবিমুখ হয়ে সবকিছু প্রস্তুত পাওয়ার মানসিকতা এবং দেশে সংস্কারের লড়াই না করে সহজে অন্য দেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতাও স্পষ্ট। এই দায় এড়িয়ে কি সার্বিক সমাধান সম্ভব?