ভক্তদের 'রামসেতু' আদৌ কি ছিল? কী রহস্য লুকিয়ে এই 'ভাসমান পাথরে'!

Truth of Ramsetu: রামভক্তদের বিশ্বাসে আঘাত লাগলেও ইহাই সত্য যে, এই পাথর বা শিলাখণ্ডগুলি ভাসমান নয়। কোনওদিন ছিলও না।

Madhurima Pattanayak
৪ মিনিট
ভক্তদের 'রামসেতু' আদৌ কি ছিল? কী রহস্য লুকিয়ে এই 'ভাসমান পাথরে'!

খুব সম্প্রতি ভারতব্যাপী বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে অভিষেক শর্মা পরিচালিত সিনেমা ‘রাম সেতু’। গল্পও ইতিমধ্যেই অনেকের জানা। তাও একটু সংক্ষেপে বলা যাক। সিনেমায় দেখা যায়, রামসেতুকে ‘শত্রুরা’ নিঃশেষ করার আগেই এক নাস্তিক প্রত্নতত্ত্ববিদ (অক্ষয় কুমার) রামসেতুর অস্তিত্ব প্রমাণ করতে কোমর বেঁধে লড়েন। খুব বেশি না, যদি বছর পনেরো আগেও ফিরে যাই, ভূগোলের আস্তিক মাস্টারমশাই জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “বল তো, এই যে রামসেতু, সেটা কি রামের বানানো?” ভয়ে ভয়ে ঘাড় নেড়ে বলেছিলাম, ‘না’। মাস্টারমশাই প্রসন্নচিত্তে বলেছিলেন, ‘গুড’! তখনও রামসেতু রামের হাতে তৈরি বললে স্রেফ লোক হাসানো হতো। এখন অবশ্য দেশবিরোধী তকমা, মৃত্যুর হুমকি, ভিসা বাতিলের ভয় কিংবা বাড়ির মা-বোন তুলে অশ্রাব্য গালিগালাজের আশঙ্কা মাথায় রেখেই বিজ্ঞান বা সত্য সম্পর্কে মুখ খুলতে হয়।

পাথর নির্মিত এই সেতুটির ভৌগোলিক উৎপত্তিকে নস্যাৎ করে, বর্তমানে সেই অবস্থান কেবল ধর্মীয়ই নয়, রাজনৈতিকও বটে। ভূগোল বলছে, রামসেতু আদতে তৈরি লাইমস্টোন বা চুনাপাথর থেকে এবং এর গড়ে ওঠা আদ্যোপান্ত প্রাকৃতিক। রামসেতু বা অ্যাডামস ব্রিজ ভারতের একদম দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত রামেশ্বরম দ্বীপ (বা পম্বন দ্বীপ) এবং শ্রীলঙ্কার একদম উত্তর-পশ্চিমের মান্নার দ্বীপের মাঝে অবস্থিত। এই দুই দ্বীপের মধ্যবর্তী পক প্রণালীর যে অংশ দিয়ে খণ্ড খণ্ড শিলাভূমি বিস্তৃত রয়েছে, সেই অংশের গভীরতা অত্যন্ত কম। এমনকী কোথাও কোথাও সেই গভীরতা এক থেকে দশ মিটার মাত্র। তাই সহজেই চোখে পড়ে পাথরের উপরিতল এবং সে জন্যেই এদের ভাসমান পাথর বলা হয়। রামভক্তদের বিশ্বাসে আঘাত লাগলেও ইহাই সত্য যে, এই পাথর বা শিলাখণ্ডগুলি ভাসমান নয়। কোনওদিন ছিলও না।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ব্রাজিলের গদি উল্টোনো কতটা বাঁচাবে পৃথিবীর ফুসফুস আমাজনকে

Amazon forest: বিশ্বজুড়ে পরিবেশবিদরা এবং বিজ্ঞানীরা এখন এই আশাতেই বুক বাঁধছেন, যে সুসময় আসবে, আমাজন আবারও স্বমহিমায় পৃথিবীর বুকে রাজত্ব করবে।

ভারতে যে কয়টি কোরাল রিফ বা প্রবালপ্রাচীর রয়েছে, তার মধ্যে একটি বিস্তৃত রয়েছে পম্বন দ্বীপ বা রামেশ্বরম দ্বীপ থেকে শুরু করে শ্রীলঙ্কা অবধি। যার মধ্যে পড়ছে মান্নার উপসাগর। এই তথাকথিত ‘ভাসমান পাথরের’ গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ প্রবাল দিয়ে তৈরি। আপাত দৃষ্টিতে শক্ত, কঠিন, পাথরের মতো দেখতে প্রবালে ছোটো ছোটো ছিদ্রও চোখে পড়ে। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এই ছিদ্রগুলি দেখে ভাববার কারণ নেই এরা যে জলে ভাসে বা ভাসতে পারে।

সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে প্রবাল। প্রবাল নিজে বংশ বিস্তার করে, গুল্মশাখার মতো ব্যপ্ত হয়ে বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীর মাথা গোঁজার জায়গা গড়ে তোলে। মান্নার উপসাগরকে বলা যেতে পারে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের স্বর্গ। প্রায় চার হাজার সামুদ্রিক প্রাণী ও উদ্ভিদের বাস মান্নার উপসাগর এবং তার সংলগ্ন অঞ্চলে। শুধু তাই নয়, এই অঞ্চলে ১১৭ টি কোরালের প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গেছে ২০২১ সালে। যার অন্তর্ভুক্ত রামসেতুও।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কাশ্মীর ফাইলসের পর রামসেতু! বিনোদনই তবে বিজেপির ব্রেনওয়াশের মূল অস্ত্র!

Ram Setu Movie: এক নাস্তিক ইতিহাসবিদের রাম সেতুর অলৌকিকতা নস্যাতের দায়িত্ব পালন এবং ক্রমশ সেই দায়িত্ব পালনের মধ্যেই ফিরে পাওয়া আস্তিকতা এবং এক বিশ্বাসের আবহ তৈরি করেছে এই সিনেমা।

তবে দুঃসংবাদ এখানেই, এই প্রবালপ্রাচীর বা ভক্তদের রামসেতু কিন্তু ধ্বংস হচ্ছে দূষণের কারণে এবং সেই দূষণের নেপথ্যে, আর কেউ না, দায়ী কিন্তু আমি, আপনিই। প্রবাল প্রাচীর ধ্বংসের মূল কারণ সমুদ্রের সামগ্রিক তাপমাত্রার লাগামছাড়া বৃদ্ধি, সমুদ্রের জলে অ্যাসিডের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং অবশ্যই প্লাস্টিক দূষণ।

প্রথম দু’টি বিষয়ের জন্য ব্যপক হারে কোরাল ব্লিচিং শুরু হয়। কোরাল ব্লিচিং কী, খানিকটা বলা যাক সেই কথা। কোরাল বা প্রবাল সমুদ্রের কিছু কিছু অ্যালগির সঙ্গে মিথোজীবী বা সিম্বায়োটিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এই সম্পর্কে থাকাকালীন একে অপরের কিছু শারীরবৃত্তীয় প্রয়োজন পূরণ করে। এখানে অ্যালগি মূলত প্রবালের বাইরে আস্তরণ গঠন করে প্রবালকে তাপ, আলো, রাসায়নিক এবং সমুদ্রের জলের আঘাত থেকে রক্ষা করে। কোরাল ব্লিচিং হল এমন একটি অবস্থা, যখন কোরালের গা থেকে অ্যালগির আস্তরণ খসে গিয়ে, কোরাল ফ্যাকাসে বা ব্লিচড হতে শুরু করে। কোরাল ব্লিচিং শুরু হলেই যে কোরাল নষ্ট হয়ে যাবে তা কিন্তু না। তবে যদি দীর্ঘ সময় ধরে এই অবস্থা চলতে থাকে, অর্থাৎ এই প্রবালের প্রাচীর যদি দিনের পর দিন তাপ এবং জলে অ্যাসিডের প্রকোপ সহ্য করতে থাকে, তাহলে কিন্তু প্রবালগুলি একসময় মারা যাবে।

পম্বন দ্বীপ এমনিতেই সহজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার উপর ১৯১৪ সালে পম্বন এবং মণ্ডপম এই দু’টি স্থানের মাঝে পম্বন সেতু গড়ে তোলায় ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে পম্বন দ্বীপের যোগাযোগ আরও ভালো হয়েছে। রেললাইনের পাশাপাশি গড়ে উঠেছে জাতীয় সড়ক। ফলে পর্যটক এবং তীর্থযাত্রীদের আনাগোনা বেড়েছে। বিগত কয়েক বছরে পম্বন দ্বীপের ধনুশকোঠী থেকে আরিচল মুনাই অর্থাৎ ভারতের একদম শেষ প্রান্ত অবধি গড়ে তোলা হয়েছে জাতীয় সড়ক- যাকে বলে ‘দ্য লাস্ট রোড অব ইন্ডিয়া’। এর ফলে সারা বছর পর্যটক সমাগম লেগেই থাকে। আর তার সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলে প্লাস্টিকের ব্যবহার এবং সমুদ্র দূষণ।

বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে কেবল যে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বাড়ছে, তা নয়। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জলভাগের তাপমাত্রা। তার ধকলও সইতে হচ্ছে পৃথিবীর সমস্ত প্রবাল প্রাচীরকে। বাদ যাচ্ছে না তথাকথিত রামসেতু সহ মান্নার উপসাগরের প্রবালপ্রাচীর। এর পাশাপাশি পর্যটক বা মৎসজীবীদের নৌকা অনেক সময় এই কোরালগুলির গায়ে আঘাত খায় কিংবা নোঙর ফেলার সময় ক্ষত সৃষ্টি করে প্রবালের গায়ে। অবাধে মাছ ধরা কিংবা চোরাশিকারিদের কচ্ছপ শিকারের ঘটনাও নতুন নয়। যেহেতু বাস্তুতন্ত্রের একটি জীব ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার অল্প-বিস্তর কুপ্রভাব সেই বাস্তুতন্ত্রের সমস্ত জীবকূলকেই সইতে হয়, তাই মাছ বা কচ্ছপের মতো বিপন্ন প্রাণীদের ধরলে প্রবালও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বৈকি!

রাম ও রামসেতুর প্রতি ভয় ও ভক্তি অটুট রাখার ভাবনা চিন্তা তো অনেক হল। জলবায়ু পরিবর্তন এবং জীবজগতের ধ্বংস নিয়ে ভয় এবং সচেতনতা কবে জন্মাবে, সব শেষে সেই প্রশ্ন রয়েই যায়।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জলবায়ু বদলেছে, নদীর প্রবাহ বদলেছে: ৩০ বছরের পুরনো ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তিতে কোন কোন পরিবর্তন দরকার?

A Flawed Pact of Farakka: ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ। বাংলাদেশের নদী বিশেষজ্ঞ মনজুর এ চৌধুরীর মতে, চুক্তিটি 'ত্রুটিপূর্ণ', এতে নেই গ্যারান্টি ক্লজ, নেই পরিবেশগত প্রবাহের হিসাব, নেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিধান। তাঁর প্রস্তাব, তিন বছরের নতুন অন্তর্বর্তী চুক্তি হোক, তারপর নেপালকে যুক্ত করে তৈরি করা হোক ত্রিপাক্ষিক কাঠামো।

থালায় খাবার, নাকি বিষ? খাদ্যব্যবস্থার ভিতরে যেভাবে ঢুকছে কীটনাশক ও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ

Poison on the Plate: বায়ার-মনসান্টো ও সিনজেনটার মতো 'বিগ সিক্স' কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বিশ্বের বীজ বাজার। ২০২৩ সালে ভারতে ১০,৭৮৬ জন খাদ্য উৎপাদক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৮ শতাংশ খাদ্য নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত গ্লাইফোসেটকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্ষতিকারক ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও এর ব্যবহার থামেনি। অন্যদিকে, প্রচারের অন্তরালে সিকিম আমাদের দেশের প্রথম শতভাগ জৈব কৃষির রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সারা বিশ্বজুড়ে কৃষিবিদ বন্দনা শিবার ‘পয়জন-ফ্রি ফুড অ্যান্ড ফার্মিং ২০৩০’ অভিযানের ডাক আমাদের খাবারের থালাকে বিষমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

তেলের বদলে বিদ্যুৎ! আরব সাগরের তলায় ভারত-সৌদির ৯ বিলিয়ন ডলারের মহাপ্রকল্প

India Saudi Arabia submarine power link: আরব সাগরের তলদেশ দিয়ে ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রস্তাবিত ২১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সাবমেরিন বিদ্যুৎ সংযোগের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হচ্ছে, যার ক্ষমতা থাকবে ৩ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের। প্রযুক্তি হিসাবে ব্যবহৃত হবে HVDC, এর ফলে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ বিলিয়ন ডলার। আজ, ৫ অক্টোবর, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা হবে প্রকল্পটির ব্যয় কমানো, অর্থায়ন মডেল ও ঝুঁকি ভাগাভাগি নিয়ে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ভারতের ওয়ান সান ওয়ান ওয়ার্ল্ড ওয়ান গ্রিড প্রকল্প ও জি-২০ তে প্রস্তাবিত ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এই প্রকল্পটিকে চিনের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভের বিকল্প হিসেবে দেখা যেতে পারে।

কয়লার দেশ হয়েও কেন বিদ্যুৎ সংকটে ভারত?

India's energy crisis 2026: হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায়, ভারতের ৮০ শতাংশের বেশি জ্বালানি আমদানি ধাক্কা খেয়েছে। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এক সময় জ্বালানিক্ষেত্রে ‘ঘাটতি নেই’ বললেও সেপ্টেম্বরে স্বীকার করলেন, জ্বালানির পরিস্থিতি বর্তমানে ‘টানটান’। ৭৬টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংকটজনক ভাবে মজুত করা কয়লায় চলছে। চলছে এলপিজির কালোবাজারি। ডিসকমগুলির বকেয়া জমে রয়েছে প্রায়, ৩,৩৩০ কোটি টাকা।

প্রকৃতির কোলে পিকনিক, শেষে প্লাস্টিকের পাহাড়: মানুষ কি সত্যিই প্রকৃতিকে ভালোবাসে?

Environmental Pollution: প্রশাসনের তরফে অতিরিক্ত দূষণ ছড়ানো কলকারখানা সিল করে দেওয়ার মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ হয়তো নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এতেই কি সমস্যার সমাধান মিলবে? কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যক্তিগত যানবাহনের দাপট এবং বৈদ্যুতিন বর্জ্য। শ্রমবিমুখ হয়ে সবকিছু প্রস্তুত পাওয়ার মানসিকতা এবং দেশে সংস্কারের লড়াই না করে সহজে অন্য দেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতাও স্পষ্ট। এই দায় এড়িয়ে কি সার্বিক সমাধান সম্ভব?

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।