আসন্ন সুপার এল নিনো: ভারতীয় কৃষিতে বিপদের ঘনঘটা
Super El Nino India: সুপার এল নিনোর আশঙ্কায় কি ভারতের কৃষি বড় সংকটে? তাপপ্রবাহ, অনিয়মিত বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে আপেল, আম, গমের উৎপাদন কমছে কেন? এতে কি খাদ্যনিরাপত্তা হুমকির মুখে?
দেশের কৃষিক্ষেত্র বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। হিমালয়ের ফলের বাগান থেকে শুরু করে সমতলের গমের খেত—সর্বত্র তাপপ্রবাহ, অনিয়মিত বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার আঘাতে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। আর তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরে আসন্ন ‘সুপার এল নিনো’র আশঙ্কা। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, এই জলবায়ু বিপর্যয় যদি এভাবেই দেখা দেয়, তাহলে এবছরই ভারতের খাদ্যনিরাপত্তা চরম সংকটের মুখে পড়বে।
আপেল চাষে সংকট
হিমালয়ের পাদদেশে কাশ্মীর ও হিমাচল প্রদেশে এই শীতে তুষারপাতের অভাব দেখা দিয়েছে। আপেল, চেরি, নাশপাতির গাছগুলি প্রয়োজনীয় ‘চিলিং পিরিয়ড’ পায়নি। ফলে কুঁড়ি ফোটার সময় এগিয়ে এসেছে অসময়ে। কাশ্মীরের আপেল চাষিরা জানিয়েছেন, গাছগুলিতে অকাল বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে, যা পোকা ও রোগের আক্রমণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। হিমাচলের মাঝারি উচ্চতার আপেলের জন্য প্রয়োজন ৫০০ থেকে ১০০০ ঘণ্টা ঠান্ডা, আর পিচ-প্লামের জন্য ৫০০-৮০০ ঘণ্টা। কিন্তু উষ্ণতার কারণে সেই সময় পাওয়া যায়নি। ফলে উৎপাদন কমবে, গুণমান নষ্ট হবে। কাশ্মীরের আপেল অর্থনীতির পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা, হিমাচলের ৫ হাজার কোটি। ঝড়ো হাওয়া, বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে ফলের ক্ষতি হতে পারে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Cooch Behar Uttar election 2026: কোচবিহার উত্তরে কি আবার বদল আসছে? আলুর দামের চেয়ে বস্তার খরচ বেশি, এই সংকট কি ভোটে প্রভাব ফেলবে? তরুণ প্রার্থী কি ভরসা জাগাচ্ছেন? সংখ্যালঘু ও যুব ভোট কোনদিকে যাবে? উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও কৃষি সমস্যার সমাধান কে করবে?
সংকটে আমের ফলন
সমতলভূমিতে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। উত্তরপ্রদেশে আমের ফুল ফোটার মরসুম চলছে। অসময়ের বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে ফুল ও কচি ফল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গত বছরও উত্তরপ্রদেশ থেকে মহারাষ্ট্র পর্যন্ত আমের ক্ষতি হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ একাই ২ কোটি ৪০ লক্ষ টন আম উৎপাদন করে। ২০২৩ সালে দেশজুড়ে আমের উৎপাদন কমেছিল প্রায় ২০ শতাংশ। কোঙ্কণ অঞ্চলে গত বছর আম ও কাজু চাষিদের ক্ষতি হয়েছে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত। ম্যাঙ্গো বেল্টের চাষিরা ত্রস্ত হয়ে আছেন।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Iran-Israel conflict: ৯ মার্চ সকাল থেকেই তেহরানের আকাশ জুড়ে কালো রঙের বৃষ্টি শুরু হয়; স্বচ্ছ বৃষ্টির ফোঁটার পরিবর্তে আকাশ জুড়ে নামতে থাকে তৈলাক্ত বারিধারা।
ক্ষতি গম চাষেও
রবি ফসলের ক্ষেত্রেও বিপর্যয় চলছে। পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় গমের খেতে তাপের দরুণ দানা বেগুনি হয়ে যাচ্ছে। ১৫ মার্চ পঞ্জাবে ৪০৮ শতাংশ অতিরিক্ত বৃষ্টি হয়েছে। গত বছরগুলিতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে গমের উৎপাদন কমেছে ১৫-২০ শতাংশ। উত্তরপ্রদেশের ২৫টি জেলায় গম, সরিষা ও ভুট্টার ক্ষতি হয়েছে। পশ্চিমী ঝড়ের প্রভাবে পাহাড়ি অঞ্চল থেকে বিহার-তেলেঙ্গানা পর্যন্ত ফসল নষ্ট হচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রের তাপমাত্রা যদি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বেড়ে যায়, তাহলে তা হবে ‘সুপার এল নিনো’। অতীতে তিনবার এমন ঘটনা ঘটেছে, প্রতিবারই বৈশ্বিক আবহাওয়া বিপর্যস্ত হয়েছে। ভারতে খরা, মৌসুমি বৃষ্টির অনিয়ম, অতিরিক্ত তাপপ্রবাহ ও ঝড়ের সম্ভাবনা বাড়বে জানিয়ে রাখছেন আবহবিদরা। খরিফ বীজ বপনের সময় (এপ্রিল-জুলাই) জলের চাহিদা বাড়বে, ফলন কমবে। পোকার আক্রমণ বৃদ্ধি পাবে, কীটনাশকের খরচ বাড়বে, শেষ পর্যন্ত ভোক্তারা বেশি দাম দিতে বাধ্য হবেন।
এই পরিস্থিতিতে, সরকারের উচিত এখনই পদক্ষেপ নেওয়া। জলবায়ু সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার করা, একফসলি চাষের বদলে বহুমুখী চাষে উৎসাহ দেওয়া, সেচ পরিকাঠামো উন্নত করা, ফসলবীমা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার—এসব জরুরি। অন্যথায় কৃষকের আয় কমবে, খাদ্যমূল্য বাড়বে, পকেটে টান পড়বে মধ্যবিত্তর। এবং দেশের খাদ্যনিরাপত্তা বিপন্ন হবে।






