আসন্ন সুপার এল নিনো: ভারতীয় কৃষিতে বিপদের ঘনঘটা

Super El Nino India: সুপার এল নিনোর আশঙ্কায় কি ভারতের কৃষি বড় সংকটে? তাপপ্রবাহ, অনিয়মিত বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে আপেল, আম, গমের উৎপাদন কমছে কেন? এতে কি খাদ্যনিরাপত্তা হুমকির মুখে?

inscript
৩ মিনিট
আসন্ন সুপার এল নিনো: ভারতীয় কৃষিতে বিপদের ঘনঘটা

দেশের কৃষিক্ষেত্র বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। হিমালয়ের ফলের বাগান থেকে শুরু করে সমতলের গমের খেত—সর্বত্র তাপপ্রবাহ, অনিয়মিত বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার আঘাতে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। আর তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরে আসন্ন ‘সুপার এল নিনো’র আশঙ্কা। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, এই জলবায়ু বিপর্যয় যদি এভাবেই দেখা দেয়, তাহলে এবছরই ভারতের খাদ্যনিরাপত্তা চরম সংকটের মুখে পড়বে।

আপেল চাষে সংকট

হিমালয়ের পাদদেশে কাশ্মীর ও হিমাচল প্রদেশে এই শীতে তুষারপাতের অভাব দেখা দিয়েছে। আপেল, চেরি, নাশপাতির গাছগুলি প্রয়োজনীয় ‘চিলিং পিরিয়ড’ পায়নি। ফলে কুঁড়ি ফোটার সময় এগিয়ে এসেছে অসময়ে। কাশ্মীরের আপেল চাষিরা জানিয়েছেন, গাছগুলিতে অকাল বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে, যা পোকা ও রোগের আক্রমণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। হিমাচলের মাঝারি উচ্চতার আপেলের জন্য প্রয়োজন ৫০০ থেকে ১০০০ ঘণ্টা ঠান্ডা, আর পিচ-প্লামের জন্য ৫০০-৮০০ ঘণ্টা। কিন্তু উষ্ণতার কারণে সেই সময় পাওয়া যায়নি। ফলে উৎপাদন কমবে, গুণমান নষ্ট হবে। কাশ্মীরের আপেল অর্থনীতির পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা, হিমাচলের ৫ হাজার কোটি। ঝড়ো হাওয়া, বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে ফলের ক্ষতি হতে পারে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আলুর চেয়ে বস্তার দাম বেশি: ভোটের আগে ফুঁসছে কোচবিহার উত্তর

Cooch Behar Uttar election 2026: কোচবিহার উত্তরে কি আবার বদল আসছে? আলুর দামের চেয়ে বস্তার খরচ বেশি, এই সংকট কি ভোটে প্রভাব ফেলবে? তরুণ প্রার্থী কি ভরসা জাগাচ্ছেন? সংখ্যালঘু ও যুব ভোট কোনদিকে যাবে? উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও কৃষি সমস্যার সমাধান কে করবে?

সংকটে আমের ফলন

সমতলভূমিতে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। উত্তরপ্রদেশে আমের ফুল ফোটার মরসুম চলছে। অসময়ের বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে ফুল ও কচি ফল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গত বছরও উত্তরপ্রদেশ থেকে মহারাষ্ট্র পর্যন্ত আমের ক্ষতি হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ একাই ২ কোটি ৪০ লক্ষ টন আম উৎপাদন করে। ২০২৩ সালে দেশজুড়ে আমের উৎপাদন কমেছিল প্রায় ২০ শতাংশ। কোঙ্কণ অঞ্চলে গত বছর আম ও কাজু চাষিদের ক্ষতি হয়েছে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত। ম্যাঙ্গো বেল্টের চাষিরা ত্রস্ত হয়ে আছেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বৃষ্টির ফোঁটায় তেল আর অ্যাসিড! কেন তেহরানে অ্যাসিড বৃষ্টি?

Iran-Israel conflict: ৯ মার্চ সকাল থেকেই তেহরানের আকাশ জুড়ে কালো রঙের বৃষ্টি শুরু হয়; স্বচ্ছ বৃষ্টির ফোঁটার পরিবর্তে আকাশ জুড়ে নামতে থাকে তৈলাক্ত বারিধারা।

ক্ষতি গম চাষেও

রবি ফসলের ক্ষেত্রেও বিপর্যয় চলছে। পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় গমের খেতে তাপের দরুণ দানা বেগুনি হয়ে যাচ্ছে। ১৫ মার্চ পঞ্জাবে ৪০৮ শতাংশ অতিরিক্ত বৃষ্টি হয়েছে। গত বছরগুলিতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে গমের উৎপাদন কমেছে ১৫-২০ শতাংশ। উত্তরপ্রদেশের ২৫টি জেলায় গম, সরিষা ও ভুট্টার ক্ষতি হয়েছে। পশ্চিমী ঝড়ের প্রভাবে পাহাড়ি অঞ্চল থেকে বিহার-তেলেঙ্গানা পর্যন্ত ফসল নষ্ট হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রের তাপমাত্রা যদি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বেড়ে যায়, তাহলে তা হবে ‘সুপার এল নিনো’। অতীতে তিনবার এমন ঘটনা ঘটেছে, প্রতিবারই বৈশ্বিক আবহাওয়া বিপর্যস্ত হয়েছে। ভারতে খরা, মৌসুমি বৃষ্টির অনিয়ম, অতিরিক্ত তাপপ্রবাহ ও ঝড়ের সম্ভাবনা বাড়বে জানিয়ে রাখছেন আবহবিদরা। খরিফ বীজ বপনের সময় (এপ্রিল-জুলাই) জলের চাহিদা বাড়বে, ফলন কমবে। পোকার আক্রমণ বৃদ্ধি পাবে, কীটনাশকের খরচ বাড়বে, শেষ পর্যন্ত ভোক্তারা বেশি দাম দিতে বাধ্য হবেন।

এই পরিস্থিতিতে, সরকারের উচিত এখনই পদক্ষেপ নেওয়া। জলবায়ু সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার করা, একফসলি চাষের বদলে বহুমুখী চাষে উৎসাহ দেওয়া, সেচ পরিকাঠামো উন্নত করা, ফসলবীমা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার—এসব জরুরি। অন্যথায় কৃষকের আয় কমবে, খাদ্যমূল্য বাড়বে, পকেটে টান পড়বে মধ্যবিত্তর। এবং দেশের খাদ্যনিরাপত্তা বিপন্ন হবে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জলবায়ু বদলেছে, নদীর প্রবাহ বদলেছে: ৩০ বছরের পুরনো ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তিতে কোন কোন পরিবর্তন দরকার?

A Flawed Pact of Farakka: ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ। বাংলাদেশের নদী বিশেষজ্ঞ মনজুর এ চৌধুরীর মতে, চুক্তিটি 'ত্রুটিপূর্ণ', এতে নেই গ্যারান্টি ক্লজ, নেই পরিবেশগত প্রবাহের হিসাব, নেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিধান। তাঁর প্রস্তাব, তিন বছরের নতুন অন্তর্বর্তী চুক্তি হোক, তারপর নেপালকে যুক্ত করে তৈরি করা হোক ত্রিপাক্ষিক কাঠামো।

থালায় খাবার, নাকি বিষ? খাদ্যব্যবস্থার ভিতরে যেভাবে ঢুকছে কীটনাশক ও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ

Poison on the Plate: বায়ার-মনসান্টো ও সিনজেনটার মতো 'বিগ সিক্স' কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বিশ্বের বীজ বাজার। ২০২৩ সালে ভারতে ১০,৭৮৬ জন খাদ্য উৎপাদক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৮ শতাংশ খাদ্য নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত গ্লাইফোসেটকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্ষতিকারক ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও এর ব্যবহার থামেনি। অন্যদিকে, প্রচারের অন্তরালে সিকিম আমাদের দেশের প্রথম শতভাগ জৈব কৃষির রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সারা বিশ্বজুড়ে কৃষিবিদ বন্দনা শিবার ‘পয়জন-ফ্রি ফুড অ্যান্ড ফার্মিং ২০৩০’ অভিযানের ডাক আমাদের খাবারের থালাকে বিষমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

তেলের বদলে বিদ্যুৎ! আরব সাগরের তলায় ভারত-সৌদির ৯ বিলিয়ন ডলারের মহাপ্রকল্প

India Saudi Arabia submarine power link: আরব সাগরের তলদেশ দিয়ে ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রস্তাবিত ২১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সাবমেরিন বিদ্যুৎ সংযোগের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হচ্ছে, যার ক্ষমতা থাকবে ৩ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের। প্রযুক্তি হিসাবে ব্যবহৃত হবে HVDC, এর ফলে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ বিলিয়ন ডলার। আজ, ৫ অক্টোবর, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা হবে প্রকল্পটির ব্যয় কমানো, অর্থায়ন মডেল ও ঝুঁকি ভাগাভাগি নিয়ে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ভারতের ওয়ান সান ওয়ান ওয়ার্ল্ড ওয়ান গ্রিড প্রকল্প ও জি-২০ তে প্রস্তাবিত ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এই প্রকল্পটিকে চিনের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভের বিকল্প হিসেবে দেখা যেতে পারে।

কয়লার দেশ হয়েও কেন বিদ্যুৎ সংকটে ভারত?

India's energy crisis 2026: হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায়, ভারতের ৮০ শতাংশের বেশি জ্বালানি আমদানি ধাক্কা খেয়েছে। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এক সময় জ্বালানিক্ষেত্রে ‘ঘাটতি নেই’ বললেও সেপ্টেম্বরে স্বীকার করলেন, জ্বালানির পরিস্থিতি বর্তমানে ‘টানটান’। ৭৬টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংকটজনক ভাবে মজুত করা কয়লায় চলছে। চলছে এলপিজির কালোবাজারি। ডিসকমগুলির বকেয়া জমে রয়েছে প্রায়, ৩,৩৩০ কোটি টাকা।

প্রকৃতির কোলে পিকনিক, শেষে প্লাস্টিকের পাহাড়: মানুষ কি সত্যিই প্রকৃতিকে ভালোবাসে?

Environmental Pollution: প্রশাসনের তরফে অতিরিক্ত দূষণ ছড়ানো কলকারখানা সিল করে দেওয়ার মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ হয়তো নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এতেই কি সমস্যার সমাধান মিলবে? কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যক্তিগত যানবাহনের দাপট এবং বৈদ্যুতিন বর্জ্য। শ্রমবিমুখ হয়ে সবকিছু প্রস্তুত পাওয়ার মানসিকতা এবং দেশে সংস্কারের লড়াই না করে সহজে অন্য দেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতাও স্পষ্ট। এই দায় এড়িয়ে কি সার্বিক সমাধান সম্ভব?

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।