এভাবেও ফিরে আসা যায়: স্বমহিমায় দময়ন্তী সেন
IPS Damayanti Sen: একসময় পার্ক স্ট্রিট ধর্ষণকাণ্ডের তদন্ত করে আলোচনায় উঠে এসেছিলেন দময়ন্তী সেন। তারপর দীর্ঘদিন ছিলেন আড়ালে। এবার নারী নির্যাতনের একাধিক আলোচিত ঘটনার তদন্তে তাঁকেই ফের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিল রাজ্য সরকার।
দীর্ঘদিন প্রায় আড়ালে থাকার পর আবারও দময়ন্তী সেন ফিরে এলেন রাজ্যের প্রশাসনিক আলোচনার কেন্দ্রে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে নারী ও শিশুদের উপর সংঘটিত নির্যাতনের অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য গঠিত বিশেষ তদন্ত কমিশনের সদস্য-সচিবের দায়িত্ব দিয়েছে।
বলে রাখা ভালো, দময়ন্তী সেন একসময় পার্ক স্ট্রিট ধর্ষণকাণ্ডের তদন্তে দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছিলেন, পরে তাঁকেই কার্যত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। প্রায় দেড় দশক পর সেই অফিসারকেই আবার রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানী দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
নতুন এই কমিশনটি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কাজ করবে। সদস্য-সচিব হিসেবে দময়ন্তী সেনের দায়িত্ব হবে তদন্তের প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা, তথ্য সংগ্রহ, সাক্ষ্য-প্রমাণ সমন্বয় করা এবং কমিশনের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। কমিশনটি পার্ক স্ট্রিট, কামদুনি, হাঁসখালি, সন্দেশখালি, ময়নাগুড়ি, কসবা আইন কলেজ, রামপুরহাট-সহ গত কয়েক বছরের বহুল আলোচিত নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলি খতিয়ে দেখবে। পাশাপাশি তফসিলি জাতি, ওবিসি, সংখ্যালঘু এবং অন্যান্য প্রান্তিক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সংঘটিত অভিযোগগুলিও পর্যালোচনার আওতায় আসবে। কমিশনের কাজ শুরু হওয়ার কথা ১ জুন থেকে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Durgapur Medical Student Gang Rape: মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রীর সঙ্গে ঘটা এই ঘটনায় কলেজের সুরক্ষার বিষয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। নির্যাতিতার বাবা বলছেন, কলেজে কোনো সুরক্ষা নেই।
দময়ন্তী সেনের নাম উচ্চারিত হলেই ফিরে আসে ২০১২ সালের পার্ক স্ট্রিট ধর্ষণকাণ্ডের স্মৃতি। কলকাতার এক রাতের শহরে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। অভিযোগকারী সুজেট জর্ডনের পাশে দাঁড়িয়ে তদন্তকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন দময়ন্তী সেন। তখন তিনি কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ছিলেন।
সেই সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছিলেন, ঘটনাটি সরকারকে বদনাম করার জন্য 'সাজানো'। এই মন্তব্য নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলে এবং প্রশাসনের অন্দরে এই মন্তব্য নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগকারীকেও নানা কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়। কিন্তু তদন্তকারী দল নিজেদের কাজ চালিয়ে যায়। ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর কলকাতার কলকাতার দায়রা আদালত বা সিটি সেশন কোর্ট পার্ক স্ট্রিট ধর্ষণকাণ্ডে তিন অভিযুক্ত—রুমান খান, নাসের খান ও সুমিত বাজাজকে দোষী সাব্যস্ত করে। পরদিন আদালত তাঁদের প্রত্যেককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়। পরে ২০১৬ সালে মূল অভিযুক্ত কাদের খান ও মহম্মদ আলিকেও গ্রেফতার করা হয়।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Law Student Gang-Raped : মূল অভিযুক্তর ফেসবুক প্রোফাইলে তৃণমূলের ছাত্র পরিষদের পরিচয় রয়েছে। সেখানে উল্লেখ রয়েছে তিনি দক্ষিণ কলকাতা জেলা টিএমসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক।
এই ঘটনার পর থেকেই দময়ন্তী সেনকে ঘিরে অন্য এক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাহিনি শুরু হয়। তাঁকে কলকাতা পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন দায়িত্বে থাকলেও, রাজ্যের সবচেয়ে আলোচিত বা স্পর্শকাতর তদন্তে তাঁকে খুব কমই দেখা গিয়েছে।
তবে তাঁর পেশাগত সাফল্যের তালিকা অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ১৯৯৬ ব্যাচের এই আইপিএস অফিসার পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের অন্যতম দক্ষ ও কঠোর পুলিশকর্ত্রী হিসেবে পরিচিত। তিনি কলকাতা পুলিশের ইতিহাসে প্রথম মহিলা যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, গোয়েন্দা কাজ এবং অপরাধ তদন্তে তাঁর দক্ষতা অনেক আগেই স্বীকৃতি পেয়েছে।
গত সাত বছর তিনি পুলিশ প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ডিরেক্টরেট অব ট্রেনিং-এ দায়িত্ব পালনকালে নতুন পুলিশকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক তদন্ত কৌশল এবং প্রশাসনিক সংস্কারের নানা কাজে যুক্ত ছিলেন।
এখন নারী নির্যাতনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গঠিত এই কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দময়ন্তী সেনকে। বহু বিতর্কিত ঘটনার তথ্য-প্রমাণ পুনর্মূল্যায়নের কাজ সহজ নয়। এই কঠিন কাজের জন্য দময়ন্তী সেনের মতো অভিজ্ঞ অফিসারকে বেছে নেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই, কমিশনের কাজের দিকে এখন গোটা রাজ্যের নজর থাকবে।









