এভাবেও ফিরে আসা যায়: স্বমহিমায় দময়ন্তী সেন

IPS Damayanti Sen: একসময় পার্ক স্ট্রিট ধর্ষণকাণ্ডের তদন্ত করে আলোচনায় উঠে এসেছিলেন দময়ন্তী সেন। তারপর দীর্ঘদিন ছিলেন আড়ালে। এবার নারী নির্যাতনের একাধিক আলোচিত ঘটনার তদন্তে তাঁকেই ফের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিল রাজ্য সরকার।

inscript
৩ মিনিট
এভাবেও ফিরে আসা যায়: স্বমহিমায় দময়ন্তী সেন

দীর্ঘদিন প্রায় আড়ালে থাকার পর আবারও দময়ন্তী সেন ফিরে এলেন রাজ্যের প্রশাসনিক আলোচনার কেন্দ্রে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে নারী ও শিশুদের উপর সংঘটিত নির্যাতনের অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য গঠিত বিশেষ তদন্ত কমিশনের সদস্য-সচিবের দায়িত্ব দিয়েছে।

বলে রাখা ভালো, দময়ন্তী সেন একসময় পার্ক স্ট্রিট ধর্ষণকাণ্ডের তদন্তে দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছিলেন, পরে তাঁকেই কার্যত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। প্রায় দেড় দশক পর সেই অফিসারকেই আবার রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানী দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

নতুন এই কমিশনটি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কাজ করবে। সদস্য-সচিব হিসেবে দময়ন্তী সেনের দায়িত্ব হবে তদন্তের প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা, তথ্য সংগ্রহ, সাক্ষ্য-প্রমাণ সমন্বয় করা এবং কমিশনের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। কমিশনটি পার্ক স্ট্রিট, কামদুনি, হাঁসখালি, সন্দেশখালি, ময়নাগুড়ি, কসবা আইন কলেজ, রামপুরহাট-সহ গত কয়েক বছরের বহুল আলোচিত নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলি খতিয়ে দেখবে। পাশাপাশি তফসিলি জাতি, ওবিসি, সংখ্যালঘু এবং অন্যান্য প্রান্তিক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সংঘটিত অভিযোগগুলিও পর্যালোচনার আওতায় আসবে। কমিশনের কাজ শুরু হওয়ার কথা ১ জুন থেকে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কলেজ ক্যাম্পাসের পাশেই গণধর্ষণ! আরজি করের ছায়া দুর্গাপুরেও?

Durgapur Medical Student Gang Rape: মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রীর সঙ্গে ঘটা এই ঘটনায় কলেজের সুরক্ষার বিষয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। নির্যাতিতার বাবা বলছেন, কলেজে কোনো সুরক্ষা নেই।

দময়ন্তী সেনের নাম উচ্চারিত হলেই ফিরে আসে ২০১২ সালের পার্ক স্ট্রিট ধর্ষণকাণ্ডের স্মৃতি। কলকাতার এক রাতের শহরে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। অভিযোগকারী সুজেট জর্ডনের পাশে দাঁড়িয়ে তদন্তকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন দময়ন্তী সেন। তখন তিনি কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ছিলেন।

সেই সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছিলেন, ঘটনাটি সরকারকে বদনাম করার জন্য 'সাজানো'। এই মন্তব্য নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলে এবং প্রশাসনের অন্দরে এই মন্তব্য নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগকারীকেও নানা কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়। কিন্তু তদন্তকারী দল নিজেদের কাজ চালিয়ে যায়। ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর কলকাতার কলকাতার দায়রা আদালত বা সিটি সেশন কোর্ট পার্ক স্ট্রিট ধর্ষণকাণ্ডে তিন অভিযুক্ত—রুমান খান, নাসের খান ও সুমিত বাজাজকে দোষী সাব্যস্ত করে। পরদিন আদালত তাঁদের প্রত্যেককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়। পরে ২০১৬ সালে মূল অভিযুক্ত কাদের খান ও মহম্মদ আলিকেও গ্রেফতার করা হয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ফের ক্যাম্পাসে ধর্ষণ! এবার কসবা! অভিযুক্ত কারা, ঠিক কী ঘটেছিল?

Law Student Gang-Raped : মূল অভিযুক্তর ফেসবুক প্রোফাইলে তৃণমূলের ছাত্র পরিষদের পরিচয় রয়েছে। সেখানে উল্লেখ রয়েছে তিনি দক্ষিণ কলকাতা জেলা টিএমসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক।

এই ঘটনার পর থেকেই দময়ন্তী সেনকে ঘিরে অন্য এক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাহিনি শুরু হয়। তাঁকে কলকাতা পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন দায়িত্বে থাকলেও, রাজ্যের সবচেয়ে আলোচিত বা স্পর্শকাতর তদন্তে তাঁকে খুব কমই দেখা গিয়েছে।

তবে তাঁর পেশাগত সাফল্যের তালিকা অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ১৯৯৬ ব্যাচের এই আইপিএস অফিসার পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের অন্যতম দক্ষ ও কঠোর পুলিশকর্ত্রী হিসেবে পরিচিত। তিনি কলকাতা পুলিশের ইতিহাসে প্রথম মহিলা যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, গোয়েন্দা কাজ এবং অপরাধ তদন্তে তাঁর দক্ষতা অনেক আগেই স্বীকৃতি পেয়েছে।

গত সাত বছর তিনি পুলিশ প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ডিরেক্টরেট অব ট্রেনিং-এ দায়িত্ব পালনকালে নতুন পুলিশকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আধুনিক তদন্ত কৌশল এবং প্রশাসনিক সংস্কারের নানা কাজে যুক্ত ছিলেন।

এখন নারী নির্যাতনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গঠিত এই কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দময়ন্তী সেনকে। বহু বিতর্কিত ঘটনার তথ্য-প্রমাণ পুনর্মূল্যায়নের কাজ সহজ নয়। এই কঠিন কাজের জন্য দময়ন্তী সেনের মতো অভিজ্ঞ অফিসারকে বেছে নেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই, কমিশনের কাজের দিকে এখন গোটা রাজ্যের নজর থাকবে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

গাজা ধ্বংসের তিন বছর: স্কুল নেই, শিক্ষক নেই, হারিয়ে যাচ্ছে একটি প্রজন্ম

Gaza education crisis: ইউনিসেফের হিসেব অনুযায়ী, গাজার ৪ থেকে ১৭ বছর বয়সি প্রায় ৭ লক্ষ শিশু টানা তিন শিক্ষাবর্ষ ধরে নিয়মিত স্কুলশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়েও গাজার প্রায় ৪ লক্ষ ২০ হাজার শিশু সরাসরি স্কুলে গিয়ে পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল।

এসআইআর: সর্বোচ্চ আদালতের ভূমিকা নিয়েও কথা হোক

SIR controversy: নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে যখন একের পর এক অভিযোগ উঠছে, তখন সুপ্রিম কোর্টের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও কি প্রশ্ন উঠবে না? ফর্ম ৬, ভোটার তালিকা থেকে বাদ এবং ট্রাইবুনালে দীর্ঘসূত্রিতার মতো ঘটনায় সর্বোচ্চ আদালত কি তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে?

নেহা বোরার সভার পরেই যাদবপুরে কমিটি ভাঙল! রাজনৈতিক অনুষ্ঠান ঘিরে কেন তুঙ্গে বিতর্ক?

Neha Bora Jadavpur University: আয়োজক ছাত্র সংগঠন আইসার যাদবপুর ইউনিট দাবি করেছে যে তারা যথাযথ নিয়ম মেনে ২০ সেপ্টেম্বরই আবেদনপত্র জমা দিয়েছিল এবং ২৫ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট কমিটি থেকে অনুষ্ঠানটির অনুমোদনও পেয়েছিল। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার দেবজিৎ দত্ত দাবি করেন, এই ধরনের কোনো ফাইল বা অনুমতির চিঠি তাঁর দপ্তরে পৌঁছয়নি।

এসআইআর ফর্ম ৭ বিতর্ক, ৩০ জন মুসলিম ভোটারের নাম বাদের অভিযোগে এফআইআর

SIR Form 7 Controversy: হায়দরাবাদে এসআইআর-এ ফর্ম ৭ নিয়ে বিতর্ক। ৩০ জন মুসলিম ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন করার অভিযোগে বিজেপির এক বুথ এজেন্টের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। নির্বাচন আধিকারিকদের যাচাইয়ে ওই ভোটারদের ঠিকানায় থাকার প্রমাণ মেলে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনায় ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বামের যে ভোট রামে গিয়েছে, তার অধিকাংশই ফেরানো যাবে বলে মনে করি: দীপ্সিতা

Dipsita Dhar Interview: ৮০ শতাংশ মানুষ মমতার বিরুদ্ধে ক্রোধ এবং ঘৃণায় বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলেন। বাকি ২০ শতাংশ দিয়েছিলেন ‘হিন্দুত্বের’ কারণে। সিপিএমের নেত্রী মনে করেন, সেই ৮০ শতাংশ মানুষকে বুঝিয়ে ফেরানো সম্ভব।

স্কুল বন্ধ, রাস্তায় বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ: ফ্রান্সে ছাত্র আন্দোলনের নেপথ্যে কী?

France Student Protests 2026: কেন উত্তাল ফ্রান্স? হাজার হাজার পড়ুয়া কেন স্কুল ছেড়ে রাজপথে? পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে কেন বাড়ছে উত্তেজনা?

জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে আট ঘণ্টা ধরে আকাশবাণী ভবনে বিরোধীদের অবস্থান

Gyanesh Kumar Resignation Demand: জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর বন্ধের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভে নামে ইন্ডিয়া জোট। নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে বিরোধী সাংসদদের মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। ব্যারিকেড টপকে আকাশবাণী ভবনে পৌঁছন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ নেতারা। অখিলেশ যাদব, ডেরেক ও’ব্রায়েন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক নেতাকে আটক করা হয়।

অভিজিৎ, সৌরভ, আশুতোষ গ্রেফতার হলেই থেমে যাবে আন্দোলন?

Possible detention of cockroaches:যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কে.পি. বসু মেমোরিয়াল হলে, বাম ছাত্রসংগঠনগুলির ‘জেন-জি আন্দোলন’ কনভেনশনে উপস্থিত হলেন, আইসা-র নেহা বোরা ও এসএফআই-এর সৃজন ভট্টাচার্য। তাঁদের দাবি, এসআইআর প্রত্যাহার, এনইপি বাতিল, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। অন্যদিকে ঘনাচ্ছে অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কার গ্রেফতারির আশঙ্কা। এরই মাঝে, ১০ অক্টোবর বড় সমাবেশের ডাক দিয়েছেন অভিজিৎ দীপকে। নেতৃত্বহীন জনগণ কি চালিয়ে যেতে পারবে আন্দোলন?