না আছে ব্লুটুথ, না আছে ব্যাটারি—মাটির কলসিই হয়ে উঠল শক্তিশালী স্পিকার

Clay Speaker: কোনো তার নেই, কোনো ব্লুটুথ কানেকশন নেই, এমনকী চার্জ দেওয়ারও ঝক্কিও নেই। শুনতে একটু অবিশ্বাস্য হলেও, কেরলের এক প্রতিভাবান শিল্পী ঠিক এই জাদুটিই বাস্তবে ঘটিয়ে দেখিয়েছেন।

inscript
৩ মিনিট
না আছে ব্লুটুথ, না আছে ব্যাটারি—মাটির কলসিই হয়ে উঠল শক্তিশালী স্পিকার

ভাবুন তো, একটা মাটির পাত্রে আপনার মোবাইল ফোনটা রাখলেন, আর অমনি চারপাশ গমগম করে উঠল চমৎকার এক বেস-সমৃদ্ধ সুরে! কোনো তার নেই, কোনো ব্লুটুথ কানেকশন নেই, এমনকী চার্জ দেওয়ারও ঝক্কিও নেই। শুনতে একটু অবিশ্বাস্য হলেও, কেরলের এক প্রতিভাবান শিল্পী ঠিক এই জাদুটিই বাস্তবে ঘটিয়ে দেখিয়েছেন।

তিনি সিভাপ্রকাশ কে। কেরলের নিলম্বুরের এই ভূমিপুত্র মাটির তৈরি এক অভিনব স্পিকার বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন সবাইকে, যার নাম দিয়েছেন ‘কালিমান কোলাম্বি’ বা টেরাকোটা অ্যাকোস্টিক অ্যামপ্লিফায়ার।

সিভাপ্রকাশের বড় হয়ে ওঠা মাটির গন্ধ মেখেই। তাঁর বাবা চামি ছিলেন একজন ঐতিহ্যবাহী কুম্ভকার। বাবার চাক ঘুরোনো আর কাদা মাটি থেকে সুন্দর সুন্দর পাত্র তৈরি হওয়া দেখতে দেখতেই কেটেছে তাঁর শৈশব। তবে প্রথম থেকে সিভাপ্রকাশ মৃৎশিল্পকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে চাননি। কম্পিউটার হার্ডওয়্যারের একটা চাকরিও জুটিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু ভিতরের শিল্পী মন কি আর চার দেওয়ালে আটকে থাকে?

বেশিদিন লাগল না বুঝতে যে তাঁর আসল টান তো মাটিতেই। এই রূপান্তরের পিছনে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন তাঁর দাদা সিভাদাসন, যিনি নিজে একজন প্রোডাক্ট ডিজাইনার। ২০১৭ সালের একটি ক্রাফট এক্সপো সিভাপ্রকাশের চোখ খুলে দেয়। তিনি বুঝতে পারেন, মাটির এই চিলতে দলাটার ভিতরে লুকিয়ে আছে অফুরন্ত সম্ভাবনা। ব্যস, চাকরি ছেড়ে পাকাপাকিভাবে বসে পড়লেন বাবার সেই চাকার সামনে।

হাতের চেটোয় পুতুল রাজ্য: মিনিয়েচার পটারি

মাটির কাজে নেমে সিভাপ্রকাশ প্রথমেই নিজের দক্ষতার জানান দিলেন ‘মিনিয়েচার পটারি’ বা অতি ক্ষুদ্র শিল্প দিয়ে। মাত্র ৩ মিলিমিটার থেকে ১ সেন্টিমিটার সাইজের পুচকে সব কাপ, প্লেট, জগ কিংবা ছোট্ট ছোট্ট পশুপাখি তৈরি করতে শুরু করলেন তিনি।

এই কাজ যে কতটা কঠিন, তা কেবল একজন শিল্পীই জানেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এসি ছাড়াই ঠান্ডা! মুম্বইয়ের এই বাড়ি শেখাচ্ছে পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন

House without AC cooling: চেম্বুর এলাকার একটা বাড়ি যেন এক টুকরো ম্যাজিক! বাইরের তাপমাত্রা যখন ফুটছে, এই বাড়িটি তখন কোনো এসি বা ভারী যন্ত্রপাতি ছাড়াই চারপাশের চেয়ে প্রায় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ঠান্ডা থাকছে।

প্রখর দৃষ্টিশক্তি আর হাতের আঙুলের সূক্ষ্মতম ভারসাম্য ছাড়া এই কাজ অসম্ভব। কোনো ছাঁচ নয়, কাঠ আর বাঁশের বিশেষ কিছু ছোট ছোট টুলস দিয়ে ফ্রি-হ্যান্ডে তৈরি হয় এই একেকটি খুদে শিল্পকর্ম। প্রতিটি পিস তৈরি করতে সময় লেগে যায় কম করে দু’ঘণ্টা। এরপর সেগুলিকে লাল মাটির প্রলেপ দিয়ে ৮০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার চুল্লিতে (কিলন) পোড়ানো হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই পুতুল রাজ্য নিমেষেই ভাইরাল হয়ে যায়, দেশ-বিদেশের সংগ্রাহকদের কাছ থেকে আসতে থাকে বায়না।

‘কালিমান কোলাম্বি’: বিদ্যুৎ ছাড়া মাটির স্পিকার

তবে সিভাপ্রকাশকে আসল খ্যাতি এনে দিয়েছে তাঁর এক অদ্ভুত আবিষ্কার। একদিন তিনি ইন্টারনেটে বাঁশের তৈরি ন্যাচারাল স্পিকারের কথা পড়েন। বাঁশের ফাঁপা অংশ যেভাবে কোনো বিদ্যুৎ ছাড়াই ফোনের আওয়াজকে বাড়িয়ে দেয়, সেটাই তাঁকে ভাবিয়ে তোলে। তিনি ভাবলেন—বাঁশ দিয়ে যদি হয়, তবে মাটি দিয়ে কেন নয়?

যেমন ভাবা তেমন কাজ। শুরু হলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা। অনেকবার ব্যর্থ হলেন, ফোনের আওয়াজ ঠিকমতো ছড়াচ্ছিল না। কিন্তু দমে যাননি তিনি। অবশেষে মিলল সাফল্য। তৈরি হলো ‘কালিমান কোলাম্বি’। দেখতে অনেকটা কলসি বা ফানেলের মতো।

কীভাবে কাজ করে এটি?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাড়িতে নেই কোনো ডাস্টবিন: যেভাবে পাঁচ বছর ধরে বর্জ্যহীন জীবন কাটাচ্ছেন সোনিকা

গত পাঁচ বছর ধরে তাঁর বাড়িতে কোনো ডাস্টবিন বা আবর্জনার বালতি নেই! শুনলে অবাক লাগাই স্বাভাবিক, কিন্তু এই ব্যস্ত শহরের বুকেই এক ফোঁটা আবর্জনা না জমিয়ে সম্পূর্ণ ‘জিরো-ওয়েস্ট’ বা বর্জ্যহীন জীবন কাটানো যে সম্ভব, তা হাতেনাতে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন এই মিডিয়া কর্মী।

এর ভিতরে কোনো ব্যাটারি বা ইলেকট্রনিক্স নেই। এর ভিতরের ফাঁপা অংশটি (acoustic cavity) এমন এক বৈজ্ঞানিক মাপে তৈরি, যা শব্দ তরঙ্গকে ভিতরে আটকে প্রতিধ্বনিত করে। আপনি শুধু আপনার মোবাইল ফোনের স্পিকারের অংশটি এর স্লটে গুঁজে দিন। ব্যস! মাটির প্রাকৃতিক গুণের কারণে শব্দ শুধু জোরেই হবে না, তার সঙ্গে যোগ হবে এক অদ্ভুত সুন্দর গভীর ‘বেস’ (Bass Effect), যা সাধারণত প্লাস্টিকের স্পিকারে পাওয়া যায় না।

কীভাবে তৈরি হয় এই সুরের কলসি?

সিভাপ্রকাশ নিজেই নবাগতদের শেখানোর জন্য এই স্পিকার তৈরির রহস্য ভাগ করে নিয়েছেন।

    মাটি তৈরি: প্রথমে স্থানীয় খাঁটি লাল মাটি সংগ্রহ করে তা ভিজিয়ে, ছেঁকে একদম মাখনের মতো নরম ও মসৃণ করা হয়। ভিতরের বাতাস বের করতে মাটি খুব ভালো করে চটকাতে হয়।

    কেরালার নিলম্বুর এলাকার ‘আরুভাকোড’ গ্রামটি এমনিতেই মৃৎশিল্পের জন্য বিখ্যাত। সিভাপ্রকাশ সেই পুরনো ঐতিহ্যকে শুধু বাঁচিয়েই রাখেননি, তাকে আধুনিক যুগের চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে দিয়েছেন। প্লাস্টিকের ভিড়ে তাঁর এই মাটির স্পিকার বা পুচকে মিনিয়েচারগুলি পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রার এক চমৎকার প্রতীক।

    বর্তমানে সিভাপ্রকাশ কোভালামের ‘কেরালা আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস ভিলেজ’ (KACV)-এ কাজ করছেন। তাঁর এই সুন্দর সুন্দর মাটির সৃষ্টিগুলি অনলাইন এবং অফলাইন—দুই মাধ্যমেই দেদার বিক্রি হচ্ছে। তিনি চান নতুন প্রজন্ম এই শিল্পে আসুক, তাই নিয়মিত ওয়ার্কশপ বা ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনাও করছেন।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ইনস্টাগ্রামে @iam_siva______ কিংবা @clay_hands_pottery হ্যান্ডেলে ঢুকলেই দেখা যাবে তাঁর জাদুকরী হাতের কাজ। মাটির তৈরি একটা স্পিকার আপনার বসার ঘরে রাখলে তা যেমন ঘরের সৌন্দর্য বাড়াবে, তেমনই কোনো দূষণ ছাড়াই আপনার প্রিয় গানগুলিকে দেবে এক মাটির ছোঁয়া, মেঠো সুর।

    লিখেছেন
    inscript
    inscript
    16 Followers
    column image
    রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
    Srikumar Chattopadhyay
    Srikumar Chattopadhyay
    column image
    আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
    column image
    দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
    column image
    আশমানদারি
    Aveek Majumdar
    Aveek Majumdar
    column image
    শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
    column image
    আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
    column image
    হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
    column image
    তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
    column image
    পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
    column image
    ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

    আরও পড়ুন

    জলবায়ু বদলেছে, নদীর প্রবাহ বদলেছে: ৩০ বছরের পুরনো ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তিতে কোন কোন পরিবর্তন দরকার?

    A Flawed Pact of Farakka: ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ। বাংলাদেশের নদী বিশেষজ্ঞ মনজুর এ চৌধুরীর মতে, চুক্তিটি 'ত্রুটিপূর্ণ', এতে নেই গ্যারান্টি ক্লজ, নেই পরিবেশগত প্রবাহের হিসাব, নেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিধান। তাঁর প্রস্তাব, তিন বছরের নতুন অন্তর্বর্তী চুক্তি হোক, তারপর নেপালকে যুক্ত করে তৈরি করা হোক ত্রিপাক্ষিক কাঠামো।

    থালায় খাবার, নাকি বিষ? খাদ্যব্যবস্থার ভিতরে যেভাবে ঢুকছে কীটনাশক ও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ

    Poison on the Plate: বায়ার-মনসান্টো ও সিনজেনটার মতো 'বিগ সিক্স' কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বিশ্বের বীজ বাজার। ২০২৩ সালে ভারতে ১০,৭৮৬ জন খাদ্য উৎপাদক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৮ শতাংশ খাদ্য নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত গ্লাইফোসেটকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্ষতিকারক ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও এর ব্যবহার থামেনি। অন্যদিকে, প্রচারের অন্তরালে সিকিম আমাদের দেশের প্রথম শতভাগ জৈব কৃষির রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সারা বিশ্বজুড়ে কৃষিবিদ বন্দনা শিবার ‘পয়জন-ফ্রি ফুড অ্যান্ড ফার্মিং ২০৩০’ অভিযানের ডাক আমাদের খাবারের থালাকে বিষমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

    তেলের বদলে বিদ্যুৎ! আরব সাগরের তলায় ভারত-সৌদির ৯ বিলিয়ন ডলারের মহাপ্রকল্প

    India Saudi Arabia submarine power link: আরব সাগরের তলদেশ দিয়ে ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রস্তাবিত ২১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সাবমেরিন বিদ্যুৎ সংযোগের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হচ্ছে, যার ক্ষমতা থাকবে ৩ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের। প্রযুক্তি হিসাবে ব্যবহৃত হবে HVDC, এর ফলে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ বিলিয়ন ডলার। আজ, ৫ অক্টোবর, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা হবে প্রকল্পটির ব্যয় কমানো, অর্থায়ন মডেল ও ঝুঁকি ভাগাভাগি নিয়ে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ভারতের ওয়ান সান ওয়ান ওয়ার্ল্ড ওয়ান গ্রিড প্রকল্প ও জি-২০ তে প্রস্তাবিত ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এই প্রকল্পটিকে চিনের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভের বিকল্প হিসেবে দেখা যেতে পারে।

    কয়লার দেশ হয়েও কেন বিদ্যুৎ সংকটে ভারত?

    India's energy crisis 2026: হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায়, ভারতের ৮০ শতাংশের বেশি জ্বালানি আমদানি ধাক্কা খেয়েছে। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এক সময় জ্বালানিক্ষেত্রে ‘ঘাটতি নেই’ বললেও সেপ্টেম্বরে স্বীকার করলেন, জ্বালানির পরিস্থিতি বর্তমানে ‘টানটান’। ৭৬টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংকটজনক ভাবে মজুত করা কয়লায় চলছে। চলছে এলপিজির কালোবাজারি। ডিসকমগুলির বকেয়া জমে রয়েছে প্রায়, ৩,৩৩০ কোটি টাকা।

    প্রকৃতির কোলে পিকনিক, শেষে প্লাস্টিকের পাহাড়: মানুষ কি সত্যিই প্রকৃতিকে ভালোবাসে?

    Environmental Pollution: প্রশাসনের তরফে অতিরিক্ত দূষণ ছড়ানো কলকারখানা সিল করে দেওয়ার মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ হয়তো নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এতেই কি সমস্যার সমাধান মিলবে? কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যক্তিগত যানবাহনের দাপট এবং বৈদ্যুতিন বর্জ্য। শ্রমবিমুখ হয়ে সবকিছু প্রস্তুত পাওয়ার মানসিকতা এবং দেশে সংস্কারের লড়াই না করে সহজে অন্য দেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতাও স্পষ্ট। এই দায় এড়িয়ে কি সার্বিক সমাধান সম্ভব?

    বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

    Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

    সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

    Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

    জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

    climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।