কালিম্পংকে হারাল পুরুলিয়া, রাজধানী প্রায় হিমাঙ্কের কাছে, দিল্লিতে কি এবার বরফ পড়বে?

Cold Wave in North India West Bengal : ভয়াবহ শৈত্যপ্রবাহের দাপটে থরহরি কম্প দিচ্ছে আম জনতা। কুয়াশার জন্য রাস্তাঘাটে চলাই দায়। সেইসঙ্গে আছে প্রবল শীত।

inscript
৩ মিনিট
কালিম্পংকে হারাল পুরুলিয়া, রাজধানী প্রায় হিমাঙ্কের কাছে, দিল্লিতে কি এবার বরফ পড়বে?

“কোনওখানে জনমানব নাই”… রাস্তায় বেরোলে মনে হবে, আজ কি ভারত বনধ? দোকান বাজার সেভাবে খোলেনি। যেগুলো খুলেছে, তাড়াতাড়ি কাজ সেরে ঝাঁপ বন্ধ করে ফেলছে। রাস্তাঘাটে যেদিকে দু’চোখ যাচ্ছে, শুধুই ফাঁকা। বেশ খানিকটা সময় পেরলে এক-দু’জনকে দেখা যাচ্ছে। বাকি সময় ঘন কুয়াশা, আর হাড় কাঁপিয়ে দেওয়া ঠাণ্ডা হাওয়া। এই ছবিটা কেবল মধ্যপ্রদেশের নয়; গোটা উত্তর ভারত জুড়েই এমন অবস্থা। আগুনের কাছে দাঁড়ালেও যেন তাপ লাগছে না শরীরে।

বেশ কয়েকদিন ধরেই শীতের কামড়ে জবুথুবু গোটা উত্তর ভারত। দেশের রাজধানী দিল্লি থেকে শুরু করে পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, রাজস্থান, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু কাশ্মীর – সমস্ত জায়গায় জাঁকিয়ে বসেছে শীত। অবশ্য ‘জাঁকিয়ে বসা’ বোধহয় এর কাছে খুবই সামান্য শব্দ। ভয়াবহ শৈত্যপ্রবাহের দাপটে থরহরি কম্প দিচ্ছে আম জনতা। কুয়াশার জন্য রাস্তাঘাটে চলাই দায়। সেইসঙ্গে আছে প্রবল শীত।

Madhya Pradesh | Nowgong in Chhatarpur district recorded a record-low temperature of 0.5 degrees Celsius today, confirms MeT officer Dr Hemant Sinha.

Very few people seen on roads earlier this morning.

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এই কনকনে শীতে প্রাণ কাড়ছে কোল্ড স্ট্রোক! কোন উপসর্গগুলি দেখলেই সতর্ক হবেন?

Cold Stroke: ১৯৭০-১৯৮০ সালের তুলনায় ভারতে কোল্ড স্ট্রোকে মৃত্যুর হার দ্বিগুণ হয়েছে।

— ANI MP/CG/Rajasthan (@ANI_MP_CG_RJ)

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সাদা বরফে ঢেকে গিয়েছে ভিক্টোরিয়া, শ্যামবাজার, এবার তাহলে কলকাতায়ও তুষারপাত?

Snowfall in Kolkata : রাস্তায় চলা হলুদ ট্যাক্সির গায়েও জমেছে সাদা বরফের আস্তরণ! কলকাতা জুড়ে নাকি বরফ পড়েছে!

৭ জানুয়ারিতে উত্তর ভারতের অবস্থা কেমন? এর আগে রাজস্থানের বিকানেরে তাপমাত্রা শূন্যের কাঁটা ছুঁয়েছিল। তবে এখন মরুরাজ্য রাজস্থানের আরও বেশকিছু জায়গার তাপমাত্রা ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়েছে। বেশিরভাগ জায়গাতেই তাপমাত্রা ৬-র নিচে। বহু জায়গাতেই সর্বকালীন রেকর্ডে নেমেছে উষ্ণতা। যেমন মধ্যপ্রদেশ। এই মুহূর্তে এই রাজ্যের ছাতারপুর ও নওগংয়ের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস! এত নিচে এর আগে কবে পারদ নেমেছিল, মনে করতে পারছেন না বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে, মাউন্ট আবুর তাপমাত্রা -৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শ্রীনগরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে। জলের পাইপ জমে যাচ্ছে সেখানে।

রাজধানী দিল্লিতে কি এবার বরফ পড়বে? কনকনে ঠাণ্ডায় এই প্রশ্নটাই সবার মুখে মুখে ঘুরছে। দিল্লির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অবশ্য জায়গা অনুযায়ী এই তাপমাত্রা আরও নেমে গিয়েছে। যেমন, দিল্লি রিজে পারদ নেমে যায় ১.৫ ডিগ্রিতে। ঘন কুয়াশার পাশাপাশি দিল্লির দূষণও প্রবলভাবে জাঁকিয়ে বসে আছে। ঠাণ্ডা আর কুয়াশার জোড়া ফলায় ভর করে এই দূষণ নিজের শক্তি বাড়িয়েছে। দিল্লি প্রশাসন ইতিমধ্যেই বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু ঠাণ্ডা যত বাড়বে, পরিস্থিতি ততই সঙ্গিন হবে বলে জানা গিয়েছে।

আর পশ্চিমবঙ্গ? কয়েকদিন আগেও সেভাবে ঠাণ্ডা পড়ছে না বলে অভাব অভিযোগ করছিলেন বঙ্গবাসী। তবে এবার সেই অভিযোগ আর নেই। বরং উত্তর ভারতের কনকনে ঠাণ্ডা হাওয়া, শৈত্যপ্রবাহ এসে পড়েছে এই রাজ্যেও। পার্বত্য এলাকা কালিম্পংয়ের তাপমাত্রা প্রায় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু তাকেও হারিয়ে দিল পুরুলিয়া। পশ্চিমের এই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি! কলকাতায়ও তাপমাত্রা ১০-১২ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের অনেক জায়গাতেই তাপমাত্রা ১০-এর নিচে নেমেছে।

কী বলছে আবহাওয়া দফতর? শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা আগে থেকেই জারি করেছিল দিল্লির মৌসম ভবন। বেশকিছু জায়গায় জারি হয়েছে হলুদ, কমলা সতর্কতা। প্রবল শীতের দাপটে কয়েকজন মারাও গিয়েছেন। এই অবস্থায় এখনও কোনও আশার বাণী শোনাতে পারছে না আবহাওয়া দফতর। অন্তত ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত এই শৈত্যপ্রবাহ জারি থাকবে বলে জানিয়েছে মৌসম ভবন। উত্তর ভারত জুড়ে এমন অবস্থার এখনই কোনও পরিবর্তন হবে না বলে জানিয়েছে বিশেষজ্ঞরা। অবশ্য প্রবল ঠাণ্ডায় হাত জমে গেলেও, সোশ্যাল মিডিয়ায় মিম থামেনি। কলকাতা ও দিল্লির এমন তাপমাত্রা দেখে লোকে বলছে, বরফ এবার পড়ল বলে! সঙ্গে সঙ্গে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বরফাবৃত কলকাতা ও দিল্লির ছবি সামনে এনেছেন নেট নাগরিকরা। কেবল ভারত নয়; বাংলাদেশও ঠাণ্ডায় কাঁপছে। ঢাকার তাপমাত্রাও ক্রমশ কমছে। তাহলে ঢাকাও কি বরফে ‘ঢাকা’ পড়বে? এআই প্রযুক্তি সেই ছবিও তুলে এনেছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।

নেপাল বিপর্যয়ের ক্ষতিপূরণ দেবে কে?

Climate Justice for nepal: ২৬ অগাস্ট লাংটাং লিরুং-এর হিমবাহ ধসে নেপালের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়—নিহত ১,৩৪৪, নিখোঁজ ৪,৮৮৭। পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৪-৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডে আছে মাত্র ৮২২ মিলিয়ন ডলার।নেপালের দাবি, চিন-ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দায় আছে। জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক কাঠগড়ায়।

নেপালের হড়পা বান থেকে বেঁচে ফিরলেন যাঁরা, তাঁদের চোখে ২৬ অগাস্ট

Nepal flash floods 2026: ২৬ অগাস্ট, ২০২৬-এ নেপালের হড়পা বানে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও কিছু মানুষ বেঁচে ফিরেছেন। কেউ এক কাপ চায়ের বিরতির জন্য, কেউ গাড়ির একটা রিভার্স গিয়ারের কারণে, কেউ ডালপালা ছড়ানো একটা আমগাছ আঁকড়ে ধরে, আবার কেউ কেবল ১৫ সেকেন্ডের দৌড়ে ছিনিয়ে এনেছেন নিজের শ্বাস। মৃত্যু খুব কাছ থেকে অনুভব করে ফেরা সেই মানুষগুলির অভিজ্ঞতায় রইল রাসুয়া আর নুয়াকোটের সেই সকালের কথা।

হিমালয়ের বরফ গলছে দ্বিগুণ হারে, নেপালের বিপর্যয়ের বিজ্ঞান কী বলছে?

Nepal Flood 2026: বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছিলেন, ৪৫০০ থেকে ৬০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে থাকা হিমবাহ অঞ্চলের অন্তত ৭৮ শতাংশ উচ্চতা-নির্ভর উষ্ণায়নের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাঁচ মাস পর সেই সতর্কবাণীই যেন সত্যি হয়ে উঠল নেপালের উপত্যকায়।

ছয় দশকে কতটা সফল ভারত-নেপাল গান্ডাকচুক্তি?

Gandak dam history: নেপালের হিমবাহ থেকে পাথর ধসের পর জল নেমেছে ত্রিশূলী-কালীগণ্ডক হয়ে বিহারে। বাল্মীকিনগর বাঁধের ৩৬টি গেট খুলে প্রাণ বাঁচল বহু মানুষের। কিন্তু, ১৯৫৯ সালের গান্ডাক চুক্তি কি সত্যিই নেপাল ভারত দুই দেশের ‘সমন্বিত স্বার্থ’ রক্ষা করল? নেপালের তরাইয়ে জল মেলে না, ক্ষতিপূরণ মেলে না কৃষকদের। ৬০ বছরের পুরনো বাঁধ প্রকল্পকে নিয়েও নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

নেপালের বন্যায় সবচেয়ে বেশি বিপন্ন মহিলারাই, ঝুঁকিতে ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন

Nepal Flash Floods: নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে প্রায় ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন ঝুঁকিতে। বন্যার পর তাঁদের সামনে কী কী স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, খাদ্য ও জীবিকার সংকট তৈরি হয়েছে? রাষ্ট্রপুঞ্জের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, নারীদের সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ জরুরি?