মোহনবাগানের ১৯১১-র আইএফএ শিল্ড জয়, ব্রিটিশদের আত্মবিশ্বাস কীভাবে ভেঙেছিল শিবদাস ভাদুড়ীর দল?

Mohun Bagan Day : ম‍্যাকগ্রেগরের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল। তাঁর মনোভাব, এই নেটিভ টিমটা শিল্ডের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে এখন ধরাকে সরা জ্ঞান করতে শুরু করেছে!

Somak Roy Chowdhury
৬ মিনিট
মোহনবাগানের ১৯১১-র আইএফএ শিল্ড জয়, ব্রিটিশদের আত্মবিশ্বাস কীভাবে ভেঙেছিল শিবদাস ভাদুড়ীর দল?

ব‍্যাঙ্ক অফ ইংল‍্যান্ডে ঢোকার মুখে দেখা হয়ে গেল আইএফএ জয়েন্ট সেক্রেটারি ম‍্যাকগ্রেগর সাহেব আর মোহনবাগান সচিব শৈলেন বসুর। প্রথমে ম‍্যাকগ্রেগর সাহেব শৈলেনবাবুকে এড়িয়ে যেতে চাইলেন; তারপর মুখোমুখি হয়ে যাওয়ায় সৌজন্যতাবশত কুশল বিনিময় করতেই হল। ম‍্যাকগ্রেগরকে হাতের কাছে পেয়ে কাস্টমস মাঠে রেঞ্জার্সের সঙ্গে তাঁর টিমের আইএফএ শিল্ডের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম‍্যাচের রেফারিং নিয়ে শৈলেন বসু-ও একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দিতে ছাড়লেন না। শেষে, মোহনবাগানের সচিব এটাও মনে করিয়ে দিলেন যে হাজার হোক আইএফএ হল পেরেন্ট বডি, তাঁদের উচিত নয় খেলাকে রাজনীতির পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।

এবার ম‍্যাকগ্রেগরের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল। তাঁর মনোভাব, এই নেটিভ টিমটা শিল্ডের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে এখন ধরাকে সরা জ্ঞান করতে শুরু করেছে! তিনি একটু কড়াভাবে বলতে শুরু করলেন, "মি. বাসু, আপনি ইনজাস্টিসের অভিযোগ করছেন ঠিকই, কিন্তু আপনাদের বিরুদ্ধেও একটি মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে রেফারি ও পুলিশের পক্ষ থেকে। আপনারা ম‍্যাচের দিন বহু মানুষকে মোবিলাইজ করে মাঠে নিয়ে যাচ্ছেন। অল স্বদেশি এলিমেন্টস! এরা অহেতুক চেল্লামেল্লি করছে, মাঠে ঢুকে পড়ে রেফারি ও অপোনেন্ট টিমের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।" সাহেব একটু থেমে চাপা গলায় যোগ করলেন, "পরের খেলাটি কিন্তু ফোর্ট উইলিয়ামের সেনা-টিমের সঙ্গে। দয়া করে আপনাদের লোকেদের সংযত থাকতে বলবেন। মনে রাখবেন, তাঁদের সহকর্মীরাও মাঠে আসবেন। আমি আরও বেশি মাউন্টেড পুলিশ পাঠাব।" ম‍্যাকগ্রেগরের শেষ কথাটিতে ছিল প্রচ্ছন্ন হুমকির সুর। যথাসম্ভব সংযত থেকে মোহনবাগান সচিব বোঝানোর চেষ্টা করলেন যে, মাঠের এই দর্শক সমাগম সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত; ক্লাবের কোনও উদ‍্যোগ এর পেছনে নেই।

সাহেব চলে যেতে শৈলেন বসু একটু পরিতৃপ্তি পেলেন। সাহেবরা কি তাঁর নেটিভ টিমকে মনে-মনে রীতিমতো সমীহ করছেন? লোকমুখে তিনি শুনেছেন তাঁর দলে এমন একটি অস্ত্র রয়েছে, যা সাহেবদের টিমগুলোর ঘুম কেড়ে নিচ্ছে। লেফট-আউট শিবদাস ভাদুড়ী (লেফট আউটে বেশির ভাগ খেলেছেন, ইনেও খেলতেন জায়গা বদলে) বয়স অপেক্ষাকৃত কম হওয়া সত্ত্বেও শিবদাসকে তিনি ক‍্যাপ্টেন করেছেন। তাঁর হাতেই ছেড়ে দিয়েছেন টিমের যাবতীয় ভার! নানা জায়গা থেকে জুনিয়র প্লেয়ার তুলে এনে শিবদাস একটা দারুণ কম্বিনেশন তৈরি করেছেন। ম‍্যাকগ্রেগরের আশঙ্কা অমূলক ছিল না! কোয়ার্টার ফাইনালে মোহনবাগানের খেলা দেখতে আরও বেশি জনসমাগম হয়। সেই রেঞ্জার্স ম‍্যাচ থেকে শিল্ডের দিকে যত একধাপ করে এগিয়েছেন শিবদাস-বিজয়দাসরা, ততই জনজোয়ারে ভেসে গিয়েছে মাঠ! আর ১৯১১-র ২৯ জুলাই ফাইনাল তো ইতিহাস!

২

পূবের আকাশ সবে রাঙা হচ্ছে। ফড়েপুকুরের বিপ্রদাস কুটিরের ছাদের কার্নিশ থেকে একটা-একটা করে টব নামিয়ে মাটিতে রাখছেন এক যুবক। আর মাঝে-মাঝে আকাশের দিকে চেয়ে দেখছেন। অন্ধকার ভেদ করে ভোরের আলো ফুটছে সবে; আকাশে এখনও লালচে আভা। মেঘ নেই আপাতত। এই মেঘ আর বৃষ্টি এখন ওই যুবকের সবথেকে বড় শত্রু। টব সাজানো হয়ে গেলে, মাটিতে একটু জল ঢেলে বল নিয়ে এঁকেবেঁকে ড্রিবলিং প্র‍্যাকটিস শুরু করে দিলেন তিনি। আগামীকাল তাঁর জীবনের সবথেকে বড় পরীক্ষা, তাঁর টিমেরও। ইনসাইড-আউটসাইড করে টবগুলোকে কাটিয়ে এগোচ্ছেন, যেন তাঁকে ছিটকে যাচ্ছেন জ‍্যাকসন-স্কালি-মার্টিন... ঘোর কাটল দাদা বিজয়দাসের ডাকে। “শিবে, এই শিবে, তোকে খুঁজতে এক ছোকরা গোছের সাংবাদিক এয়েচে। বৈঠকখানায় বসিয়েচি, বলছে কী ইন্টারভিউ নেবে। গিয়ে দেকা কর একবার!” দাদার কথায় প্র‍্যাকটিস থামিয়ে নীচে নেমে এলেন শিবদাস।

শিবদাস ভাদুড়ী

এক বছর সাতাশের যুবক প্রতিবেদকের মুখোমুখি বসে শিবদাস। যুবক দেখল প্রায় যুদ্ধের পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়া এই শিল্ড ফাইনালের আগের দিন মোহনবাগান অধিনায়ক শিবদাস ভাদুড়ি কী অদ্ভুত রকমের শান্ত। তিনি কথা শুরু করলেন, “আজ্ঞে আমাদের বাংলা পাক্ষিক পত্রিকা। শহরের বাইরে মফস্‌সল ও গ্রামেও পাঠক রয়েছে। তাঁরা আপনাকে বিশেষ করে জানতে চান। আপনার তো কোনও ইন্টারভিউ এখনও কোথাও বেরোয়নি...” শিবদাস এবার যুবককে থামিয়ে বললেন, “আমাদের তো আজ টিম মিটিং আছে শৈলেনবাবুর বাড়ি, যা জিজ্ঞেস করার একটু তাড়াতাড়ি করুন।” “একদম। বেশি সময় নেব না আপনার” বলে যুবক সাক্ষাৎকার শুরু করে দিল। যুবকের নোটবুক থেকে সেই সাক্ষাৎকার এখানে তুলে দেওয়া হল:

প্র:

আপনাকে নিয়ে, আপনার টিমকে নিয়ে পাহাড়প্রমাণ প্রত‍্যাশা তৈরি হয়েছে; শুধু বাংলা নয়, আশে-পাশের রাজ‍্যেও। কাল আপনাদের প্র‍্যাকটিস দূর থেকে দেখে মনে হল, পুরো দলের ওপর এটা একটা বাড়তি চাপ তৈরি করেছে!

শিবদাস:

দেখুন, শিল্ড ফাইনাল খেলতে নামছি প্রথমবার। একটা আলাদা অনুভূতি তো থাকবেই। তবে চাপ নয়, আমি বলব: উত্তেজনা। আবার একটা নেটিভ দল প্রথমবার ফাইনাল খেলছে, ইস্টইয়র্ককে ব‍্যাপারটা ভাবাবে। চাপ ওঁদের ওপরও...

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ফুটবল জানে এক আশ্চর্য জাদুকরের নাম ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো

Cristiano Ronaldo: আছে শুধু একটাই জিনিস, অদম্য জেদ, হাল না ছেড়ে লড়াই করে যাওয়ার একটা অদম্য মানসিকতা। পুরো দেশের ভরসা একা কাঁধে বয়ে নিয়ে চলার ক্ষমতা।

প্র:

বিশেষ ট্রেন-স্টিমারের ব‍্যবস্থা করেছে সরকার। এত লোক আসছে চারিদিক থেকে! এই খেলা মিশে গেছে বঙ্গভঙ্গবিরোধী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে। বিষয়টা কি উপভোগ করছেন?

শিবদাস:

অত জানি না। তবে এত দূর আসতে পেরেছি, এর পেছনে মাঠের দলগত লড়াই আর সমর্থকদের অনুপ্রেরণা, দুটোই রয়েছে। সাহেবদের বিরুদ্ধে চাপা ক্ষোভ তো বাঙালির মধ‍্যে দেখছি বেশ কয়েক বছর ধরেই...।

প্র:

মোহনবাগান কি সেই ক্ষোভে প্রলেপ দেওয়ার কাজ করছে; আপনার টিমের দু-একজন গুপ্ত সমিতির সঙ্গে যুক্ত...।

শিবদাস:

(থামিয়ে দিয়ে) তা বলতে পারব না। আমি রাজনীতির লোক তো নই। আমার কাজ খেলা। এখন আমাদের পাখির চোখ, শিল্ড ফাইনাল জেতা। সবাই সেটাই ভাবছে।

প্র:

মাত্র ছাব্বিশ বছর বয়সে আপনাকে ক‍্যাপ্টেন করে ক্লাব। আপনার কোনও সমস্যা হয়নি? প্র‍্যাকটিসে দেখলাম সুধীর চ‍্যাটার্জি বা নীলমাধব ভট্টাচার্যের মতো সিনিয়রদের কাছে আপনি ‘শিবে’, আবার অভিলাষের মতো জুনিয়রদের কাছে ‘শিবে দা’!

শিবদাস:

না। ক্লাবসচিব শৈলেনবাবু আমাকে দায়িত্ব নিতে বলেন। টিম তৈরির স্বাধীনতাও দেন। আমি, অভিলাষ, মনমোহন, কানুদের মতো জুনিয়রদের খেলা পছন্দ হওয়ায় ওদেরকে দলে নিই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বন্দুকের নলের মুখে অসহায় সাংবাদিক! সাক্ষাৎ মৃত্যুর হাত থেকে ফিরিয়েছিলেন এই ফুটবলার

Last World Cup of Maradona: মারদোনা এবং গতির রাজা কানিহিয়াকে [ক্যানিজিয়া] ছাড়া আরহেন্তিনা ছিটকে পড়ল।

প্র:

সাহেবরাই ফুটবল শিখিয়েছে ভারতীয়দের। আর এখন, মোহনবাগান পরপর চারটে দুঁদে সাহেব-দলকে হারিয়ে দিল! কোথাও কি ওঁদের জাত‍্যাভিমানে আঘাত লেগেছে? তাই আপনাদের থামাতে নানা ষড়যন্ত্র করা হয়েছে?

শিবদাস:

তা তো লাগবেই। সেখানেই তো মোহনবাগানের সাফল‍্য! আবার ওঁরা খেলার প্রচলন করলেন, অ্যাংলো ইন্ডিয়ান ইস্কুলগুলোয় ওঁরাই খেলা শেখালেন বাঙালিকে, এটা যেমন ঠিক, তেমন দেখবেন এটাও ঠিক যে, ওঁদের স্টাইল আর আমাদের স্টাইলের মধ‍্যে একটা সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। ইংরেজরা ফুটবল খেলে কিক অ্যান্ড রান স্টাইলে, শক্তির প্রয়োগ ওতে বেশি। আর মোহনবাগান খেলে মূলত ড্রিবলিং আর পাসিং নির্ভর স্টাইলে। কাল মাঠেও সেটা দেখতে পাবেন! আর কী বলছিলেন, ষড়যন্ত্র? ও নিয়ে এখন বলতে চাই না কিছু। প্রথম ম‍্যাচে আমরা দশজনে জিতেছিলাম সেন্টজেভিয়ার্সের বিরুদ্ধে। অধ‍্যাপক সুধীরকে ওঁর কলেজ আটকে দিয়েছিল, আবার কলেজ ছাত্র কানুকেও পাইনি। রেফারিং-এর কিছু সিদ্ধান্ত... যাক সে-কথা। কাল পুলার সাহেব ম‍্যাচ খেলাবেন। উনি ভালো রেফারি। আশা করি ভালো খেলা হবে।

প্র:

আপনাদের অভিলাষও তো মিডলসেক্স গোলকিপার পিগটকে বিশ্রি ফাউল করেন। পিগট চোখ জখম, নাহলে আপনারা অত সহজে সেমিফাইনাল জিততে পারতেন?

শিবদাস:

(হাসেন) অভিলাষ তরুণ ও ছটফটে স্ট্রাইকার। গোলের জন‍্য সবসময় ঝাঁপায়। খেলায় চোট হতেই পারে। আমাদের গোলকিপারেরও তো হয়েছে! সেমিফাইনালের প্রথম ম‍্যাচে ওঁরা হীরালালকে বল শুদ্ধু লাথি মেরে গোলে ঢুকিয়ে দিয়ে গোল আদায় করেননি? মনে রাখবেন গোরাদের এগারোজন বুট পরে খেলেন, আর আমাদের বুট পরে খেলা প্লেয়ার একমাত্র সুধীর!

প্র:

ফাইনালে ইস্টইয়র্কশায়ারের বিরুদ্ধেও কি ওই এক স্ট্র‍্যাটেজি? অ্যান আই ফর আ্যন আই?

শিবদাস:

ইস্টইয়র্ক খুব ব‍্যালেন্সড দল। আমরাও পরিকল্পনা করেছি, আমাদের লক্ষ্য ভালো ফুটবল খেলে ওঁদের ছাপিয়ে যাওয়া...

প্র:

খালি পায়ে বুটের বিরুদ্ধে লড়ে চলেছেন। অনেকেই বলছেন বৃষ্টি কম হওয়ায় আপনারা এত দূর আসতে পেরেছেন?

শিবদাস:

খালি পায়ে বৃষ্টি হলে খুব সমস্যা, দেহের ভারসাম্য রাখা যায় না কাদামাঠে। আমরা অনেকে পায়ে শাড়ির পাড় জড়িয়ে খেলতে নামি! তবে রেঞ্জার্স ম‍্যাচ আমরা প্রবল বৃষ্টির মধ‍্যেও জিতেছি কিন্তু! তাই পুরোটা ঠিক নয়।

প্র:

শেষ প্রশ্ন। আপনাকে নিয়ে ইতিমধ‍্যেই তৈরি হয়ে গেছে নানা লোককথা। আপনার নাকি সব বিশেষ ক্ষমতা আছে, সারা দেশের মধ‍্যে আপনাকেই নাকি ব্রিটিশরা দারুণ ভয় পাচ্ছে...

শিবদাস:

(আবার হাসি) তাই? বললাম না এখন পাখির চোখ, ফাইনাল। ম‍্যাচটা জিতে ব্রিটিশদের অহমিকায় একটা প্রবল ধাক্কা দিতে চাই। অন‍্য কিছু নয় পরেও ভাবা যাবে। অনেক হল উঠি এবার!

প্রতিবেদক লক্ষ্য করেন এতক্ষণে একটু কঠিন হয়ে উঠেছে শিবদাস ভাদুড়ীর চোয়াল। তাঁকে এক নামে সবাই চেনেন, আবার কেউই ঠিক চেনেন না! জানেন না তাঁর খেলার স্টাইল বা জীবনশৈলী ঠিক কেমন ছিল! যাঁকে নিয়ে সৃষ্টি হয়েছিল এত লোককাহিনি, তাঁর কোনও একান্ত সাক্ষাৎকার নিয়ে রাখেননি কোনও সাংবাদিক! ওপরের সাক্ষাৎকারটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। সে-যুগের ‘ইংলিশম‍্যান’-সহ ইংরেজি দৈনিকগুলো মোহনবাগানের এই জয়কে ‘বাবুদের জয়’ আখ্যা দিয়েছিল। একমাত্র ব‍্যতিক্রম ঘোষদের ‘অমৃতবাজার পত্রিকা’।

আইএফএ শিল্ড জেতার পর, শৈলেন বসু ও শিবদাস ভাদুড়ী

রেভারেন্ড সুধীর চ‍্যাটার্জি বা হাবুল সরকারের সাক্ষাৎকার থাকলেও, ঐতিহাসিক শিল্ডজয় নিয়ে তাঁদের কোনও লেখা পাওয়া যায় না। ১৯১১-র মোহনবাগান অধিনায়ক শিবদাস ভাদুড়ী আশ্চর্য এক চরিত্র। তিনি কালজয়ী, আবার কালের গহ্বরে হারিয়ে গিয়েছে তাঁর অনেক কিছুই। এই কিংবদন্তি ফুটবলারকে কাছ থেকে দেখেছেন এমন ব‍্যক্তি গত অর্ধশতাব্দীতে আর পাওয়া যায়নি। কারণ ভেটারনরি কলেজের ইন্সপেক্টর শিবদাস প্রয়াত হন ১৯৩২-এ, মাত্র ৪৭ বছর বয়সে। ওই অমর এগারোর মধ‍্যে প্রথম প্রয়াত হন তিনিই।

শিবদাস কোনওদিন রাজনীতি করেননি, কিন্তু বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের আবহে, তাঁর অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী ইংরেজ শাসকদের জাত‍্যাভিমান ও অহমিকায় দিয়েছিল এক প্রবল ধাক্কা; আর আপমোর জনগণকে দিয়েছিল এক যুগান্তরের বার্তা, সবার মধ্যে সঞ্চারিত করেছিল ঔপনিবেশিক শাসকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আত্মবিশ্বাস। যে-বার্তা বহু সভা-সমিতি-মেলা ও বিপ্লবী-প্রচেষ্টাও দিতে ব‍্যর্থ হয়। বঙ্গভঙ্গের আগে সমগ্র বাঙালি জাতিকে ‘এফিমিনেট’ তকমা দিয়েছিলেন ব্রিটিশ শাসকরা— যাঁরা করণিক হতে পারেন, কিন্তু লড়াই বা সংঘর্ষের সামনের সারিতে তাঁদের আনা যায় না! ১৯১১-র শিল্ড জয়ের পর তাই মোহনবাগান হয়ে ওঠে পরাধীন ভারতের মুমুক্ষার মন্ত্রধ্বনি। যা নিয়ে কবিতা লিখেছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কাকতালীয় হলেও ইতিহাস যে ওই বছরই প্রবল জনরোষের মুখে পড়ে ইংরেজ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করে ও রাজধানী দিল্লিতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়!

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নারী টেস্টে এত অনীহা কেন, লর্ডসের ইতিহাসও বদলাবে না সেই ছবি?

Women’s Test Cricket: লর্ডসে ভারতের নারী ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক জয় নারী টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ বদলানোর সুযোগ এনে দিয়েছে? এত সাফল্য ও জনপ্রিয়তার পরও কেন এই ফরম্যাটে নিয়মিত ম্যাচ নেই?

শিব-পরশুরামের যুদ্ধবিদ্যা কালারিপায়াট্টু থেকেই জন্ম কুংফুর!

Kalaripayattu Indian Martial Art: ভারতীয় পৌরাণিক ঐতিহ্যে কালারিপায়াট্টুকে স্রেফ যুদ্ধের কৌশল হিসেবে দেখা হয়নি, বরং এটিকে মানব শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রাণশক্তিকে জাগিয়ে তোলার এক মহান সাধনা বলে মনে করা হয়।

দু'হাজার বছর পুরনো ‘আত্য পাত্যা’: এই খেলাই শিখিয়েছিল যুদ্ধের কৌশল!

Atya Patya Traditional Indian Game: আনুমানিক ১০০ থেকে ৩০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত প্রাচীন তামিল সাঙ্গম সাহিত্য ‘নাটতৃণৈ’-তে এই খেলার প্রথম লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়। অতএব, এই খেলার বয়স প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি। সেখানে বলা আছে, প্রাচীন চোল রাজবংশের সেনারা যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার আগে নিজেদের ক্ষিপ্রতা, দ্রুত দৌড়ানোর ক্ষমতা আর শরীরকে এক নিমেষে বাঁকানোর চপলতা বাড়াতে এই খেলায় মেতে উঠত।

১৬ বছর পর ফের ভারতের পথে ললিত মোদী

Lalit Modi return to India: দীর্ঘ সময় পর দিল্লির আপিল ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আর্থিক অনিয়মের বড় অভিযোগ ও জরিমানা বাতিল করে দেওয়ার পরেই এই আলোচনার সূত্রপাত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ললিত মোদী নিজেই স্পষ্ট করেছেন, সমস্ত বড়সড় আইনি জটিলতা কাটার পর ২০২৬ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৭-এর শুরুতেই ফের তিনি ভারতে পা রাখতে চলেছেন।

গোলের আড়ালে ঘৃণার খেলা: ২০২৬ বিশ্বকাপে ট্রাম্প, ফিফা আর ফুটবলের পরাজয়

Trump FIFA World Cup: এই বিশ্বকাপ শুধুই একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; মাঠের লড়াই ছাপিয়ে তা হয়ে উঠেছে ভূ-রাজনীতি, বর্ণবিদ্বেষ এবং বাণিজ্যিক আধিপত্যের এক জটিল ময়দান।

একটা রাজপুত্তুর যার মুকুট হারিয়ে গিয়েছে

Lionel Messi Retirement: তিনটে ফাইনালের বোঝা। একে একে ছেড়ে যায় সহযোদ্ধারা। রক্তাক্ত মাসচেরানো চলে যান, কুন আগুয়েরোর অসুখ... তবু লিও পড়ে থাকে, আমরা পড়ে থাকি আর কিছুদিন। বৃত্ত সম্পূর্ণ করতে প্রয়োজন ছিল একজন স্ক্যালোনির, তিনি সেটুকু সেতু নির্মাণের দায়িত্ব নিলেন। আমরা অপেক্ষা করলাম লুসাইলে। আমরা তো কবেই হেরে গিয়েছিলাম, সৌদি আরব শুধু চিনিয়ে দিয়েছিল আশপাশটা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: যেভাবে ১৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায় পরিণত হল ফুটবল

FIFA Revenue 2026: 'কুইন্টেট প্রাইভেট ব্যাংক'-এর সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের অনুঘটক হওয়ার চেয়ে বিশ্বকাপ আসলে একটি শক্তিশালী স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক উদ্দীপক হিসেবেই বেশি কাজ করে। ফিফা, সম্প্রচারকারী সংস্থা, স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড এবং আতিথেয়তা (হসপিটালিটি) ক্ষেত্রগুলি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করলেও, কোম্পানির শেয়ারের দামে সেই ইতিবাচক প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে রাখা বেশ কঠিন।

যখন ইউরোপে নারীরা গৃহবন্দি, তখন অসমে মেয়েরা খেলছিলেন ধোপখেল

Dhop Khel Assam: আহোম রাজাদের রাজপ্রাসাদ থেকে বিহুর মেঠো মাঠ—অসমের মাটিতে একসময় গমগম করত ধোপখেলের আওয়াজ। ফুটবল, কাবাডি আর দূরন্ত নিশানার এই অদ্ভুত রোমাঞ্চকর খেলাটি শুধু পুরুষদের বীরত্ব প্রমাণের লড়াই ছিল না; যখন ইউরোপে নারীদের জীবন ছিল চার দেওয়ালে বন্দি, তখন অসমে মেয়েরাও মাঠে নেমে মেতে উঠতেন ধোপখেলে।