নবদ্বীপের নতুন বিধায়ক শ্রুতিশেখর গোস্বামীর থেকে যা চান এলাকাবাসী
এখন নবদ্বীপের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এখানকার ভেঙে পড়া রাস্তাঘাট। শহরের বহু এলাকার রাস্তা বছরের পর বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সামান্য একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তাগুলিতে জল জমে যায়, যার ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
নদিয়া জেলার প্রাচীন জনপদ নবদ্বীপ কেবল একটি বিধানসভা কেন্দ্র বা সাধারণ শহর নয়; এটি বাংলার সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও বৌদ্ধিক ইতিহাসের এক অনন্য প্রতীক। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান এই নবদ্বীপ ধাম থেকেই একসময় বৈষ্ণব ধর্ম ও ভক্তি আন্দোলনের ব্যাপক প্রসার ঘটেছিল। মধ্যযুগে ন্যায়শাস্ত্র, দর্শন ও সংস্কৃত শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে একে ‘বাংলার অক্সফোর্ড’ বলা হতো। বল্লাল সেন ও লক্ষ্মণ সেনের আমলের এই প্রাচীন রাজধানী আজ গঙ্গা ও জলঙ্গীর মোহনায় নয়টি দ্বীপের সমন্বয়ে এক জীবন্ত ইতিহাস। পোড়ামা কালী মন্দির, দ্বাদশ শিব মন্দির, বিখ্যাত রাস উৎসব আর লাল দইয়ের এই ঐতিহ্যবাহী শহরে প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্ত ও পর্যটক আসেন।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর এই ঐতিহাসিক শহরের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গিয়েছে। টানা দু’বারের তৃণমূল বিধায়ক পুণ্ডরীকাক্ষ্য সাহাকে পরাজিত করে নবদ্বীপ বিধানসভা (৮৪ নং আসন)-এর নতুন বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন বিজেপির শ্রুতিশেখর গোস্বামী।
নির্বাচনের মরসুম শেষ হতেই এলাকার বাসিন্দারা এখন ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি তাঁদের দৈনন্দিন সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধান চান। সাধারণ নাগরিকদের দাবি, নতুন বিধায়ক রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে তাঁদের রোজকার সমস্যাগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিন। দীর্ঘদিনের নাগরিক ক্ষোভের অবসান ঘটিয়ে এই ঐতিহাসিক জনপদের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করাই এখন নতুন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
বেহাল রাস্তাঘাট এবং বিপর্যস্ত নিকাশি
এখন নবদ্বীপের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এখানকার ভেঙে পড়া রাস্তাঘাট। শহরের বহু এলাকার রাস্তা বছরের পর বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সামান্য একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তাগুলিতে জল জমে যায়, যার ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৩৪০টি ভারতীয় গ্রাম ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তরেখা (জিরো লাইন) এবং কাঁটাতারের প্রাচীরের মাঝখানে আটকা পড়ে আছে। এই ‘অরক্ষিত’ ভূখণ্ডে বসবাস করেন প্রায় ৭০,০০০ মানুষ।
রাস্তার এই অবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শহরের দুর্বল নিকাশি বা ড্রেনেজ ব্যবস্থা। সঠিক নিকাশির অভাবে শহরের অনেক জায়গায় নোংরা জল দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকে। এর ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়ার মতো রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে। এলাকার মানুষের প্রশ্ন, কর দেওয়ার পরেও কেন তাঁরা ন্যূনতম এই নাগরিক পরিষেবাটুকু পাবেন না?
থমকে থাকা কর্মসংস্থান এবং সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার সংকট
নবদ্বীপে যুব সমাজের জন্য নতুন কোনো কাজের সুযোগও খুব সীমিত। নতুন বিধায়কের কাছে এলাকার তরুণ প্রজন্মের বড় দাবি, এখানে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হোক এবং ছোট ব্যবসায়ীদের সরকারিভাবে সাহায্য করার ব্যবস্থা করা হোক।
এর পাশাপাশি, শহরের সরকারি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য পরিষেবাগুলির মান আরও উন্নত করা দরকার। সাধারণ মানুষ যাতে কম খরচে এবং ঘরের কাছে ভালো চিকিৎসা পান, নতুন বিধায়ককে সেই বিষয়ে নজর দিতে হবে।
শিক্ষা এবং পর্যটন পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ
একটি ঐতিহ্যবাহী শহর হওয়া সত্ত্বেও নবদ্বীপের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির পরিকাঠামোয় তেমন বদল আসেনি। স্কুল ও কলেজগুলির আধুনিকীকরণ এবং ছাত্রছাত্রীদের জন্য নতুন সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো এখন অত্যন্ত জরুরি।
অন্য দিকে, নবদ্বীপের মূল চালিকাশক্তি হলো এর পর্যটন। প্রতি বছর এখানে দেশ-বিদেশ থেকে বহু পর্যটক ও ভক্ত আসেন। পর্যটন ব্যবস্থাকে আরও উন্নত এবং আধুনিক করতে পারলে শহরের অর্থনীতি অনেক বেশি শক্তিশালী হতে পারত।
রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে নাগরিক স্বার্থে কাজ করার আহ্বান
জনপ্রতিনিধি কোনো নির্দিষ্ট দলের নন, তিনি গোটা এলাকার মানুষের অভিভাবক। নবদ্বীপের সাধারণ মানুষের আশা, নতুন বিধায়ক শ্রুতিশেখর গোস্বামী সমস্ত রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে দলমত নির্বিশেষে সকলের পাশে দাঁড়াবেন। তিনি ক্ষমতা বা পদের অহংকার দূরে রেখে নবদ্বীপকে আরও সুন্দর, পরিষ্কার এবং একটি উন্নত আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করবেন, এটাই সকলের একমাত্র কাম্য।






