নবদ্বীপের নতুন বিধায়ক শ্রুতিশেখর গোস্বামীর থেকে যা চান এলাকাবাসী

এখন নবদ্বীপের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এখানকার ভেঙে পড়া রাস্তাঘাট। শহরের বহু এলাকার রাস্তা বছরের পর বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সামান্য একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তাগুলিতে জল জমে যায়, যার ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

Sudipta Debnath
২ মিনিট
নবদ্বীপের নতুন বিধায়ক শ্রুতিশেখর গোস্বামীর থেকে যা চান এলাকাবাসী

নদিয়া জেলার প্রাচীন জনপদ নবদ্বীপ কেবল একটি বিধানসভা কেন্দ্র বা সাধারণ শহর নয়; এটি বাংলার সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও বৌদ্ধিক ইতিহাসের এক অনন্য প্রতীক। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান এই নবদ্বীপ ধাম থেকেই একসময় বৈষ্ণব ধর্ম ও ভক্তি আন্দোলনের ব্যাপক প্রসার ঘটেছিল। মধ্যযুগে ন্যায়শাস্ত্র, দর্শন ও সংস্কৃত শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে একে ‘বাংলার অক্সফোর্ড’ বলা হতো। বল্লাল সেন ও লক্ষ্মণ সেনের আমলের এই প্রাচীন রাজধানী আজ গঙ্গা ও জলঙ্গীর মোহনায় নয়টি দ্বীপের সমন্বয়ে এক জীবন্ত ইতিহাস। পোড়ামা কালী মন্দির, দ্বাদশ শিব মন্দির, বিখ্যাত রাস উৎসব আর লাল দইয়ের এই ঐতিহ্যবাহী শহরে প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্ত ও পর্যটক আসেন।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর এই ঐতিহাসিক শহরের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গিয়েছে। টানা দু’বারের তৃণমূল বিধায়ক পুণ্ডরীকাক্ষ্য সাহাকে পরাজিত করে নবদ্বীপ বিধানসভা (৮৪ নং আসন)-এর নতুন বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন বিজেপির শ্রুতিশেখর গোস্বামী।

নির্বাচনের মরসুম শেষ হতেই এলাকার বাসিন্দারা এখন ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি তাঁদের দৈনন্দিন সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধান চান। সাধারণ নাগরিকদের দাবি, নতুন বিধায়ক রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে তাঁদের রোজকার সমস্যাগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিন। দীর্ঘদিনের নাগরিক ক্ষোভের অবসান ঘটিয়ে এই ঐতিহাসিক জনপদের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করাই এখন নতুন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

বেহাল রাস্তাঘাট এবং বিপর্যস্ত নিকাশি

এখন নবদ্বীপের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এখানকার ভেঙে পড়া রাস্তাঘাট। শহরের বহু এলাকার রাস্তা বছরের পর বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সামান্য একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তাগুলিতে জল জমে যায়, যার ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
১৫০ গজে আটকে জীবন, ওদের কথা কে ভাববে?

পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৩৪০টি ভারতীয় গ্রাম ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তরেখা (জিরো লাইন) এবং কাঁটাতারের প্রাচীরের মাঝখানে আটকা পড়ে আছে। এই ‘অরক্ষিত’ ভূখণ্ডে বসবাস করেন প্রায় ৭০,০০০ মানুষ।

রাস্তার এই অবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শহরের দুর্বল নিকাশি বা ড্রেনেজ ব্যবস্থা। সঠিক নিকাশির অভাবে শহরের অনেক জায়গায় নোংরা জল দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকে। এর ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়ার মতো রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে। এলাকার মানুষের প্রশ্ন, কর দেওয়ার পরেও কেন তাঁরা ন্যূনতম এই নাগরিক পরিষেবাটুকু পাবেন না?

থমকে থাকা কর্মসংস্থান এবং সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার সংকট

নবদ্বীপে যুব সমাজের জন্য নতুন কোনো কাজের সুযোগও খুব সীমিত। নতুন বিধায়কের কাছে এলাকার তরুণ প্রজন্মের বড় দাবি, এখানে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হোক এবং ছোট ব্যবসায়ীদের সরকারিভাবে সাহায্য করার ব্যবস্থা করা হোক।

এর পাশাপাশি, শহরের সরকারি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য পরিষেবাগুলির মান আরও উন্নত করা দরকার। সাধারণ মানুষ যাতে কম খরচে এবং ঘরের কাছে ভালো চিকিৎসা পান, নতুন বিধায়ককে সেই বিষয়ে নজর দিতে হবে।

শিক্ষা এবং পর্যটন পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ

একটি ঐতিহ্যবাহী শহর হওয়া সত্ত্বেও নবদ্বীপের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির পরিকাঠামোয় তেমন বদল আসেনি। স্কুল ও কলেজগুলির আধুনিকীকরণ এবং ছাত্রছাত্রীদের জন্য নতুন সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো এখন অত্যন্ত জরুরি।

অন্য দিকে, নবদ্বীপের মূল চালিকাশক্তি হলো এর পর্যটন। প্রতি বছর এখানে দেশ-বিদেশ থেকে বহু পর্যটক ও ভক্ত আসেন। পর্যটন ব্যবস্থাকে আরও উন্নত এবং আধুনিক করতে পারলে শহরের অর্থনীতি অনেক বেশি শক্তিশালী হতে পারত।

রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে নাগরিক স্বার্থে কাজ করার আহ্বান

জনপ্রতিনিধি কোনো নির্দিষ্ট দলের নন, তিনি গোটা এলাকার মানুষের অভিভাবক। নবদ্বীপের সাধারণ মানুষের আশা, নতুন বিধায়ক শ্রুতিশেখর গোস্বামী সমস্ত রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে দলমত নির্বিশেষে সকলের পাশে দাঁড়াবেন। তিনি ক্ষমতা বা পদের অহংকার দূরে রেখে নবদ্বীপকে আরও সুন্দর, পরিষ্কার এবং একটি উন্নত আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করবেন, এটাই সকলের একমাত্র কাম্য।

লিখেছেন
Sudipta Debnath
Sudipta Debnath
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ছদ্ম-বিরোধী তৈরিই কি তবে ভারতের রাজনীতিতে ক্ষমতার নতুন কৌশল?

Indian opposition politics: বিরোধীদের সরাসরি নিষিদ্ধ না করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চাপ, আইনি ফাঁকফোকর এবং সুপরিকল্পিত দল ভাঙার মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে অনুগত ‘ছদ্ম-বিরোধী’।

EXCLUSIVE: কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদে ভোট না-করানো তৃণমূলের বড় ভুল, নিজেদের ভুল নিয়েও আলোচনার দরকার ছিল: কুণাল

Kunal Ghosh on Mamata Banerjee: ইনস্ক্রিপ্টে ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে তিনি একদিকে যেমন দাবি করেছেন মমতাকে ভয় পেয়েই তাঁকে বারবার নিশানা করা হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে দলের ভুলত্রুটি স্বীকার করে আত্মসমালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন।

EXCLUSIVE: শেষদিকে দল পরিচালনায় গ্যাপ ছিল, অভিষেকের অফিসও ঠিকঠাক ম্যানেজ করা হয়নি: কুণাল

Kunal Ghosh on Abhishek Banerjee: ইন্সক্রিপ্টের ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে অভিষেক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কুণাল জানিয়েছেন, শেষ পর্যায়ের দল পরিচালনায় আরও ‘সতর্কতা’ প্রয়োজন ছিল। তাঁর দাবি, অভিষেকের অফিসও সব সময় ঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।

মমতা-অভিষেকের দল পরিচালনায় বিরাট গ্যাপ তৈরি হয়েছিল: ইনস্ক্রিপ্ট পডকাস্টে আর কী বললেন কুণাল?

Kunal Ghosh Interview: বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পরে প্রতীক, নাম হারিয়ে কার্যত দিশাহারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। তার মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই জারি রয়েছে। যদিও দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহে মমতার কাছাকাছির বৃত্ত ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়েছে। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে মুখ পুড়েছে। এই প্রেক্ষিতে আসন্ন পুরভোটে কেমন করবে তৃণমূল? ঘুরে দাঁড়ানোর কোনও সম্ভাবনা আছে? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী? বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে যা বললেন দলের বিধায়ক এবং অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?