আপাতত ছাড় শিক্ষক-অধ্যাপকদের, অনুমতি ছাড়া সংবাদমাধ্যমে মন্তব্যে নয়া নির্দেশিকা নবান্নের

Bengal government order: সংবাদমাধ্যমে মন্তব্যে সরকারি নির্দেশিকায় কী বদল করা হলো? কারা থাকছেন এই নিয়মের আওতায়?

inscript
৩ মিনিট
আপাতত ছাড় শিক্ষক-অধ্যাপকদের, অনুমতি ছাড়া সংবাদমাধ্যমে মন্তব্যে নয়া নির্দেশিকা নবান্নের

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রশাসনিক ও কর্মিবিনিয়োগ দফতরের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর অবশেষে অবস্থান কিছুটা স্পষ্ট করল নবান্ন। প্রথমে যে নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়েছিল, সেখানে সরকারি কর্মচারীদের সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য করা, প্রশাসনিক তথ্য বাইরে প্রকাশ করা কিংবা প্রকাশ্যে সরকারবিরোধী মত দেওয়ার ক্ষেত্রে একাধিক কড়াকড়ির কথা বলা হয়েছিল। সেই নির্দেশিকা সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠেছিল, এই নিয়ম ঠিক কাদের জন্য প্রযোজ্য? শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক থেকে শুরু করে পুরসভা, অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ও স্বশাসিত সংস্থার কর্মীরাও কি এই তালিকার মধ্যে পড়ছেন?

এই বিতর্কের মধ্যেই ২১ মে নতুন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে সরকার জানিয়ে দিল, আগের নির্দেশিকার পরিধি এতটা বিস্তৃত নয়। নতুন ব্যাখ্যায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, এই নির্দেশিকা মূলত রাজ্য সরকারের নিয়মিত কর্মরত অফিসার ও কর্মচারীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, সরকারি দফতরের স্থায়ী কর্মী, বোর্ড, কর্পোরেশন, আন্ডারটেকিং এবং বিভিন্ন প্যারাস্ট্যাটাল সংস্থার কর্মীরা এই নিয়মের আওতায় থাকবেন। তবে আপাতত শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে বলেই প্রশাসনিক মহলে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।

আগের নির্দেশিকায় সরকারি কর্মচারীদের সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য করা নিয়ে কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছিল। সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনো সংবাদমাধ্যমে কথা বলা, টেলিভিশনের বিতর্কসভায় যোগ দেওয়া বা প্রশাসনিক তথ্য বাইরে প্রকাশ করার উপর নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ ছিল। এমনকি সামাজিক মাধ্যমেও সরকারি আচরণবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সরকারের যুক্তি ছিল, সরকারি কর্মীদের মন্তব্য যাতে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বা সরকারের অবস্থানকে প্রভাবিত না করে, সে কারণেই এই নিয়ম কঠোর ভাবে কার্যকর করা প্রয়োজন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সরকারি কর্মীদের মুখ বন্ধের ফরমান, প্রশাসনিক ও কর্মিবিনিয়োগ দফতরের তরফে কড়া নির্দেশিকা

West Bengal government employees: প্রশাসনিক ও কর্মিবিনিয়োগ দফতরের নতুন কড়া নির্দেশিকায় সরকারি কর্মীদের কোন কোন বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে? কাদের জন্য এই নির্দেশিকা প্রযোজ্য? নির্দেশিকা ভাঙলে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে?

কিন্তু প্রথম নির্দেশিকায় যেভাবে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পুরসভা, বিভিন্ন স্বশাসিত সংস্থা এবং বিস্তৃত প্রশাসনিক কাঠামোর প্রায় সব স্তরের কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, তাতেই বিভ্রান্তি তৈরি হয়। শিক্ষক সংগঠন ও সরকারি কর্মচারীদের একাংশ প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্র কি আরও সংকুচিত হতে চলেছে? বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অধ্যাপকদের ক্ষেত্রেও যদি একই নিয়ম কার্যকর হয়, তা হলে একাডেমিক পরিসর এবং জনপরিসরে মতামত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর তার প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

এই পরিস্থিতিতেই নতুন বিজ্ঞপ্তি এনে সরকার কার্যত আগের অবস্থান কিছুটা সংশোধন করল। নতুন বিজ্ঞপ্তিতে আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষাকর্মীদের সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। জোর দেওয়া হয়েছে নিয়মিত সরকারি প্রশাসনিক কাঠামোর উপর। নবান্নের বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমে তথ্য প্রচার সংক্রান্ত আচরণবিধি বহাল থাকছে ঠিকই, তবে তা সবার জন্য নয়। শুধুমাত্র সরকারি প্রশাসনের নির্দিষ্ট অংশের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম কার্যকর হবে।

ইতোমধ্যেই এই নির্দেশ জেলার জেলাশাসক, পুলিশ প্রশাসন এবং বিভিন্ন দফতরের কর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সমস্ত দফতরকে নিজেদের অধীনস্থ কর্মীদের এই নতুন ব্যাখ্যা জানিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে বিতর্ক পুরোপুরি থেমে যায়নি। প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করিয়ে দিচ্ছে, সরকারি কর্মচারীদের জন্য আচরণবিধি নতুন কিছু নয়। কেন্দ্র ও রাজ্য—দুই স্তরেই পরিষেবা নিয়মে সরকারি তথ্য প্রকাশ, সংবাদমাধ্যমে অবস্থান জানানো বা রাজনৈতিক মন্তব্য নিয়ে আগেও বিধিনিষেধ ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এই নির্দেশিকাকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা থেকে স্পষ্ট, সরকারি কর্মীদের মতপ্রকাশের সীমা কোথায় শেষ হবে, সেই প্রশ্ন এখনও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রয়েছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

প্রেস কার্ড গলায়, তবু আটক! দিল্লিতে SIR-বিরোধী আন্দোলন কভার করতে গিয়ে পুলিশের জালে সাংবাদিকরা

Journalists detained in Delhi: নিউজলন্ড্রির বিবৃতি অনুযায়ী, তাঁদের তিন রিপোর্টার অনমোল প্রীতম, অশ্বিনী কুমার সিং এবং আস্থা সব্যসাচী ও তাঁদের এক ইন্টার্নের অফিসিয়াল ফোনগুলি পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হয়। সাংবাদিকরা যখন নিজেদের গণমাধ্যমের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন, তখন পুলিশ সরাসরি বলে ওঠে— “এখানে কোনো মিডিয়া নেই!” (কোই মিডিয়া নেহি হ্যায়)

জ্ঞানেশ বিতর্ক: সিআইএ থেকে জর্জ সোরোস, বিজেপির ন্যারেটিভ কাজ করছে না?

The Narrative structure of BJP Breaks: ২০২৬-এর অক্টোবরে, জ্ঞানেশ কুমার-বিরোধী আন্দোলনে উত্তাল ভারত। ১৩ কোটি জনতার ভোটাধিকার হরণের অভিযোগে সরব বিরোধীরা। জবাবে বিজেপির পাল্টা ন্যারেটিভে কখনও উঠে আসছেন দুবাইয়ের পাইলট, ইলন মাস্কের USAID দাবি, জর্জ সোরোস, অথবা ‘বিদেশি ফান্ডিং’ এর পুরনো গল্প। কিন্তু, একথা প্রমানিত সত্য, USAID-র ২১ মিলিয়ন ডলার বাংলাদেশে গিয়েছিল, আর এবার ভোটাধিকারের প্রশ্নে বিজেপির ন্যারেটিভ কন্ট্রোল কাজ করছে না।

সিজেপি আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ সোনম ওয়াংচুক কোথায়?

Sonam Wangchuk: সিজেপি আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ সোনম ওয়াংচুক কোথায়? দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে তাঁকে দেখা গেল না কেন?

বিশ্বমঞ্চ যেভাবে দেখছে ভারতের নির্বাচন কমিশনারকে

Global Spotlight on Gyanesh Kumar: ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে, জেন-জি আন্দোলন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে কভার হয়েছে। বিবিসি, রয়টার্স, গার্ডিয়ান, আল জাজিরা, ডিডাব্লিউ, এপি, নিউ ইয়র্ক টাইমস, আরএফআই, ফ্রান্স ২৪, ডন, সবাই জানিয়েছে, এসআইআরে ১৩ কোটি নাম বাদের কথা, ভারতের মুসলিম নাগরিকদের এসআইআরের মাধ্যমে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানোর কথা, রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী সাংসদরা বারবার আটকের কথা।

সিইসি-র পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ, রাজধানীতে বিক্ষোভ শুরুর আগেই ৫০০ আটক, ৪০,০০০-এরও বেশি নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন

Delhi’s October 10 protest: যন্তর মন্তর ও কনট প্লেসের আশপাশ থেকে আন্দোলনকারীদের আটক করা হয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ৫০০। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিও।

বিক্ষোভের আগেই কড়াকড়ি: দিল্লিতে ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ, দেশজুড়ে পুলিশি তৎপরতা

Cockroach Janata Party: এই বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা, ট্রেন বাতিল এবং ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যেই দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে খবর আসছে, বহু আন্দোলনকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, আটক করা হচ্ছে কিংবা বিক্ষোভে যোগ না দেওয়ার জন্য বলা হচ্ছে।

শুভেন্দুর নৌকোয় মুসলিম ভোট?

Nandigram, Rejinagar Bypolls: ভোটগণনার শেষে হাসিরানি রথ পেয়েছেন ১ লক্ষ ৬৪ হাজার ৪২৭টি ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের মিলন প্রধান পেয়েছেন ৪১ হাজার ৬৭৪টি ভোট। বামফ্রন্ট, ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) এবং তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীরাও অনেক পিছিয়ে রয়েছেন।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাভি পিল্লাই কেন পেলেন নোবেল শান্তি পুরস্কার?

Navi Pillay Nobel Peace Prize 2026: ১৯৪১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে এক দরিদ্র ভারতীয় তামিল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন নাভি পিল্লাই। তাঁর ঠকুমা-ঠাকুরদা ১৮৯০-এর দশকে ভারত থেকে চুক্তিবদ্ধ শ্রমিক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার নাতাল প্রদেশের চিনি বাগানে কাজ করতে এসেছিলেন।