শাসকের বিরুদ্ধে গলা তুলে আজ শাসকের ঘরেই কেন রাঘব চাড্ডা?

রাঘব চাড্ডার মতে, যে স্বপ্ন নিয়ে ১২ বছর আগে আম আদমি পার্টি গঠিত হয়েছিল, তা আজ ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা রাজনীতিতে কেরিয়ার গড়তে আসেননি, বরং কেরিয়ার ছেড়ে দেশসেবা করতে এসেছিলেন।

inscript
৪ মিনিট
শাসকের বিরুদ্ধে গলা তুলে আজ শাসকের ঘরেই কেন রাঘব চাড্ডা?

আম আদমি পার্টির (আপ) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং রাজ্যসভার গুরুত্বপূর্ণ মুখ রাঘব চাড্ডা তাঁর দলের আরও ৬ জন সাংসদকে নিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দিয়েছেন। রাজ্যসভায় আপ-এর মোট ১০ জন সাংসদের মধ্যে ৭ জন (অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশের বেশি) দল ছাড়ায় সংবিধানের দশম তফসিল বা দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুসারে তাঁদের সদস্যপদ বহাল থাকছে এবং তাঁরা বিজেপির সঙ্গে মিশে যেতে পারছেন।

কেন দল ছাড়লেন রাঘব চাড্ডা?

১. আদর্শগত বিচ্যুতি ও দুর্নীতির অভিযোগ: রাঘব চাড্ডার মতে, যে স্বপ্ন নিয়ে ১২ বছর আগে আম আদমি পার্টি গঠিত হয়েছিল, তা আজ ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা রাজনীতিতে কেরিয়ার গড়তে আসেননি, বরং কেরিয়ার ছেড়ে দেশসেবা করতে এসেছিলেন। কিন্তু বর্তমান 'আপ' আর আগের সেই দল নেই। দল এখন দুর্নীতির জালে আটকে পড়েছে এবং আপসকামী ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। চাড্ডার ভাষায়,

যে দল দুর্নীতিমুক্ত ভারত গড়তে এসেছিল, আজ তারাই দুর্নীতিতে ডুবে গিয়েছে।

রাঘব চাড্ডা অভিযোগ করেছেন, সাধারণ মানুষের ইস্যু নিয়ে কথা বলতে গেলে পুরনো দল তাঁর কণ্ঠরোধ করত। সম্প্রতি পঞ্জাব ইস্যু এবং রাজ্যসভায় ডেপুটি লিডার পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছয়। পার্টির অভ্যন্তরীণ কোন্দল জনসমক্ষে চলে আসে। তাঁদের সামনে দুটি পথ খোলা ছিল—হয় রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া, নয়তো রাজনীতিতে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অন্য কোথাও থেকে জনসাধারণের জন্য কাজ করা। আর তাই তাঁরা দ্বিতীয়টি বেছে নিয়েছেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেন রাঘব চাড্ডাকে চুপ করাতে চায় আম আদমি পার্টি?

Raghav Chadha AAP controversy: এএপি রাজ্যসভা সচিবালয়কে চিঠি দিয়ে জানায়, পাঞ্জাবের সাংসদ অশোক কুমার মিত্তলকে ডেপুটি লিডার করা হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে রাঘব চড্ডাকে পার্টির নির্ধারিত বলার সময় না দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। পার্টির একাংশ এটাকে ‘রুটিন সাংগঠনিক পরিবর্তন’ বলে উড়িয়ে দিলেও, চড্ডার ঘনিষ্ঠ মহল একে ‘চুপ করানোর চেষ্টা’ হিসেবেই দেখছে।

চাড্ডা তাঁর বিবৃতিতে বিজেপির গত ১২ বছরের কাজের প্রশংসা করেছেন। তিনি মনে করেন, বিজেপি এমন অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা অন্য দলগুলো নিতে ভয় পেত। দেশের স্বার্থে এবং সাধারণ মানুষের কথা সাহসের সঙ্গে বলার জন্যই তিনি বিজেপিকে বেছে নিয়েছেন।

রাঘব চাড্ডার নেতৃত্বে যে ৭ জন সাংসদ আজ রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে সই করা চিঠি জমা দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

  • রাঘব চাড্ডা: রাজ্যসভায় দলের প্রাক্তন ডেপুটি লিডার ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।

  • হরভজন সিং: বিশ্বখ্যাত ক্রিকেটার।

  • স্বাতী মালিওয়াল: বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও দিল্লির প্রাক্তন মহিলা কমিশন প্রধান।

  • সন্দীপ পাঠক: আপ-এর প্রধান নির্বাচনী কৌশলবিদ।

  • অন্যান্যরা: রাজিন্দর গুপ্ত, বিক্রম সাহনি এবং অশোক মিত্তল (পদ্মশ্রী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব)।

রাঘব চাড্ডা বলেন, "আপনাদের প্রশ্ন ছিল, গত এক বছর ধরে আমি নিজেকে দলের গতিবিধি থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছি কেন? আজ আমি এর উত্তর দিচ্ছি, আমি পরিস্থিতি ভালো করার চেষ্টা করছিলাম। তাই, আমি চুপ ছিলাম এতদিন। আমি ওঁদের অপরাধের অংশ হতে চাইনি।"

মার্চ-এপ্রিল ২০২৬ থেকেই চাড্ডার বিজেপিতে যাওয়ার জল্পনা শুরু হয়েছিল। বিশেষ করে আবগারি দুর্নীতি বা 'শরাব ঘোটালা' মামলায় দলের অবস্থানের বিষয়ে তাঁর দীর্ঘ নীরবতা, বিজেপির বিরুদ্ধে কোনো কথা না বলা এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পুরনো পোস্ট ডিলিট করা এই সন্দেহকে আরও উসকে দিয়েছিল। আপ নেতারাও তাঁর বিরুদ্ধে 'পার্টি-বিরোধী' কার্যকলাপের অভিযোগ তুলেছিলেন।

এই দলবদলের ফলে রাজ্যসভায় আম আদমি পার্টি কার্যত শক্তিহীন হয়ে পড়ল। অন্যদিকে, বিজেপির শক্তি আরও বৃদ্ধি পেল। রাঘব চাড্ডার মতো একজন শিক্ষিত এবং তরুণ নেতাকে পাশে পাওয়া বিজেপির জন্য দিল্লির আসন্ন রাজনৈতিক লড়াইয়ে বড় অস্ত্র হতে পারে।

রাঘব চাড্ডার এই পদক্ষেপ কেবল একটি দলবদল নয়, বরং এটি আম আদমি পার্টির ভিতরকার গভীর ফাটলের বহিঃপ্রকাশ। একজন 'ফাউন্ডার মেম্বার' যখন বলেন

আমি ওঁদের বন্ধুত্বের যোগ্য ছিলাম না। কারণ ওঁদের অপরাধে আমি শামিল ছিলাম না।

তখন তা অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও তাঁর দলের নৈতিকতার উপর বড় প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়ে দেয়। এখন দেখার বিষয়, রাঘব তাঁর কথা মতো বিজেপির পতাকাতলে দাঁড়িয়ে তাঁর সেই পুরনো 'জোশ' এবং 'কমিটমেন্ট' নিয়ে সাধারণ মানুষের সাধারণ সমস্যার কথা গলা তুলে পারেন কি না?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।