কেন রাঘব চাড্ডাকে চুপ করাতে চায় আম আদমি পার্টি?
Raghav Chadha AAP controversy: এএপি রাজ্যসভা সচিবালয়কে চিঠি দিয়ে জানায়, পাঞ্জাবের সাংসদ অশোক কুমার মিত্তলকে ডেপুটি লিডার করা হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে রাঘব চড্ডাকে পার্টির নির্ধারিত বলার সময় না দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। পার্টির একাংশ এটাকে ‘রুটিন সাংগঠনিক পরিবর্তন’ বলে উড়িয়ে দিলেও, চড্ডার ঘনিষ্ঠ মহল একে ‘চুপ করানোর চেষ্টা’ হিসেবেই দেখছে।
আম আদমি পার্টির অভ্যন্তরীণ সংঘাত এবার প্রকাশ্যে চলে এল। রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চড্ডাকে ডেপুটি লিডারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার একদিনের মাথায় তিনিও প্রকাশ্যে নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে শুরু করেছেন। পার্টি তাঁকে সংসদে বলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় চড্ডা ‘চুপ করেছি, হারিনি’ শিরোনামে একটি ভিডিয়ো বার্তা দিয়েছেন। পুরনো সংসদ ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে তোলা এই বার্তায় তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন— সাধারণ মানুষের সমস্যা তুলে ধরা কি অপরাধ?
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার। এএপি রাজ্যসভা সচিবালয়কে চিঠি দিয়ে জানায়, পাঞ্জাবের সাংসদ অশোক কুমার মিত্তলকে ডেপুটি লিডার করা হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে রাঘব চড্ডাকে পার্টির নির্ধারিত বলার সময় না দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। পার্টির একাংশ এটাকে ‘রুটিন সাংগঠনিক পরিবর্তন’ বলে উড়িয়ে দিলেও, চড্ডার ঘনিষ্ঠ মহল একে ‘চুপ করানোর চেষ্টা’ হিসেবেই দেখছে।
শুক্রবার সকালে চড্ডা তাঁর ভিডিয়োয় বলেন,
যখনই সংসদে বলার সুযোগ পাই, আমি জনগণের সমস্যা তুলে ধরি। হয়তো এমন বিষয় যা সাধারণত সংসদে ওঠে না। কিন্তু জনগণের ইস্যু তুলে ধরা কি অপরাধ? আমি কি ভুল করেছি? আমি কি কোনও অন্যায় করেছি?
তিনি উল্লেখ করেন— বিমানবন্দরে খাবারের অত্যধিক দাম, জোম্যাটো-ব্লিঙ্কিট ডেলিভারি রাইডারদের দুর্দশা, খাদ্যে ভেজাল, টোল প্লাজায় লুট, ব্যাঙ্ক চার্জ, কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের উপর করের বোঝা, টেলিকম কোম্পানির ১২ মাসে ১৩ বার রিচার্জ বাধ্যতামূলক করা এবং ডেটা রোলওভার না দেওয়া— এসব ইস্যু তিনি তুলেছিলেন।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Narendra Modi popularity: নরেন্দ্র মোদিকে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে দেখানো সাম্প্রতিক মর্নিং কনসাল্ট সমীক্ষা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই রিপোর্টের পদ্ধতি, নমুনা নির্বাচন ও সীমাবদ্ধতা বিশ্লেষণ করে দেখা হয়েছে দাবিটির বাস্তব ভিত্তি কতটা শক্তিশালী এবং এটি সত্যিই বৈশ্বিক জনমতের প্রতিনিধিত্ব করে কিনা।
এসব তুলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হয়েছে। কিন্তু তাতে আম আদমি পার্টির কী ক্ষতি হয়েছে? তাহলে কেন আমাকে থামানোর চেষ্টা?
চড্ডা শেষে সতর্ক করে বলেন,
যাঁরা আজ আমার বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছেন, তাঁদের বলছি— আমার নীরবতাকে পরাজয় ভাববেন না। আমি সেই নদী, যা সময় এলে বন্যার রূপ নেবে।
আপ বিধায়ক সৌরভ ভরদ্বাজ এক্স-এ ভিডিয়ো পোস্ট করে ‘শোলে’র সংলাপ উদ্ধৃত করেন— “জো ডর গয়া, সমঝো মর গয়া”। তিনি চড্ডাকে ‘সফট পিআর’ করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। আপ আইটি সেল প্রধান অনুরাগ ধান্ডা আরও সরাসরি আক্রমণ করেন। তিনি বলেন,
সংসদে পার্টির খুব কম সময় পাওয়া যায়। সেখানে দেশ বাঁচানোর লড়াই করব, নাকি বিমানবন্দরের ক্যান্টিনে সামোসার দাম কমানোর দর কষব?
ধান্ডা অভিযোগ করেন, গুজরাটে পার্টি কর্মীদের গ্রেফতার, পশ্চিমবঙ্গে ভোটাধিকার, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে প্রস্তাব— এসব ইস্যুতে চড্ডা নীরব ছিলেন। তাঁর কথায়,
বছরের পর বছর ধরে তুমি ভয় পেয়ে গেছ রাঘব। তুমি মোদির বিরুদ্ধে বলতে ইতস্তত করো।
সংঘাতের মূল কারণ আরও গভীর। একসময় অরবিন্দ কেজরিওয়ালের অত্যন্ত বিশ্বস্ত সহযোগী ও পাঞ্জাবে এএপির বিস্তারের অন্যতম কারিগর হিসেবে পরিচিত চড্ডা ধীরে ধীরে দূরে সরে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। ফেব্রুয়ারিতে দিল্লি এক্সাইজ পলিসি মামলায় কেজরিওয়াল-সহ নেতাদের বেকসুর খালাসের পর তিনি কোনও বিবৃতি দেননি, সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু পোস্ট করেননি, বিজয় সমাবেশে যোগ দেননি। কেজরিওয়ালের গ্রেফতারের সময়ও তিনি লন্ডনে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে জানা গিয়েছিল। এছাড়া পার্টির ওয়াকআউটে যোগ না দেওয়া, জাতীয় ইস্যুতে আক্রমণাত্মক না হওয়া— এসব অভিযোগ জমতে জমতে পাহাড় হয়েছে। তারপরেই দল সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
একথা ঠিক চড্ডা ‘আম আদমি’র দৈনন্দিন সমস্যা নিয়ে কথা বলে জনপ্রিয়তা বাড়াতে চাইছেন, অন্যদিকে পার্টি নেতৃত্ব মনে করছে— সীমিত সময়ে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র লড়াইয়ের পরিবর্তে ‘সফট’ ইস্যু তুলে পার্টির মূল লাইন থেকে সরে যাওয়া হচ্ছে। স্বাতী মালিওয়ালের পর চড্ডা দ্বিতীয় বড় নেতা যিনি নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করলেন। প্রশ্ন উঠছে, চাড্ডা কি তবে দল ছাড়বেন?
বিজেপি এই ঘটনাকে ‘কেজরিওয়ালের অরাজকতা’র প্রমাণ বলে তুলে ধরেছে। পার্টি অবশ্য বলছে— পরিস্থিতি স্বাভাবিক। কিন্তু রাঘব চড্ডার মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, আপের অভ্যন্তরীণ সংঘাত এখন তীব্র।






