ইংরেজি শিক্ষার মাধ্যমে যেভাবে জাতির ক্ষমতায়নের পথ দেখিয়েছিলেন সাবিত্রীবাই
Savitribai Phule: সাবিত্রীবাই ও ফতিমা শেখের এই শিক্ষার মডেল কিন্তু নিজের অজান্তেই গুরুচাঁদ ঠাকুর ব্যবহার করেছিলেন বাংলায়, যার ফলে নমঃশূদ্র মেয়েদের ইংরেজি শিক্ষায় জোর দেওয়াকে জাতির শক্তিশালী হওয়ার অন্যতম পথ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
সাবিত্রীবাই ফুলের জন্ম ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দে মহারাষ্ট্রের সাতারা জেলার নয়গাঁও গ্রামে, এক দলিত পরিবারে। মাত্র নয়-দশ বছর বয়সেই তাঁর বিয়ে হয় জ্যোতিরাও ফুলের সঙ্গে। পরবর্তী কালে তিনিই সমাজসংস্কারক ও দলিত আন্দোলনের অন্যতম মুখ ‘জ্যোতিবা’ ফুলে নামে পরিচিত হন। বিয়ের আগে সাবিত্রীবাই ছিলেন নিরক্ষর। বিয়ের পর জ্যোতিরাওয়ের সঙ্গে ক্ষেতখামারের কাজ করতে করতেই তাঁর শিক্ষাজীবনের সূচনা। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর নিজ উদ্যোগেই তিনি শিক্ষকতা প্রশিক্ষণের জন্য দু’টি কোর্সে ভর্তি হন। একটি আহমেদনগরে, মার্কিন মিশনারি সিন্থিয়া ফারারের পরিচালিত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে; অন্যটি তৎকালীন পুণা (আজকের পুণে)-র ‘নর্মাল স্কুলে’। প্রশিক্ষণ শেষে জ্যোতিবা ফুলের দিদি ও তাঁর মেন্টর সগুনাবাই-এর সঙ্গে মিলেই সাবিত্রীবাই পুণায় মেয়েদের শিক্ষাদানের কাজ শুরু করেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই জ্যোতিবা, সাবিত্রীবাই ও সগুনাবাই— তিন জনের যৌথ উদ্যোগে একটি পূর্ণাঙ্গ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮১৪ সালের ব্রিটিশ শিক্ষা ব্যবস্থার মডেল অনুসরণ করে বিদ্যালয়টির পাঠক্রম তৈরি করা হয়েছিল। এই উদ্যোগ দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে এবং ১৮৫১ সালের মধ্যেই পুণায় মেয়েদের জন্য তাঁদের পরিচালনায় তিনটি বিদ্যালয় চালু হয়।
সাবিত্রীবাই ফুলের বিদ্যালয়গুলির পাঠক্রম ও শিক্ষকতার মান এতটাই উন্নত ছিল যে সরকারি বিদ্যালয়ের তুলনায় সেখানে মেয়েদের উপস্থিতি ছিল বেশি। এই পথ মোটেও সুগম ছিল না। ব্রাহ্মণ সমাজের একাংশ তাঁদের বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিরোধিতায় নামে। সেই বিরোধিতা ক্রমে সহিংস ও অপমানজনক রূপ নেয়। বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে সাবিত্রীবাইয়ের দিকে গোবর ছোড়া হত, এমনকি মানুষের মল ছোড়া অবধিও পৌঁছায়। প্রায় প্রতিদিনই তাঁকে এই হেনস্থার শিকার হতে হত। তাই বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় তিনি সব সময় একটি অতিরিক্ত শাড়ি সঙ্গে রাখতেন। সমাজের এই চাপ ক্রমশ এতটাই বেড়ে ওঠে। এমন পরিস্থিতি হয় যে জ্যোতিবা ও সাবিত্রীবাইকে জ্যোতিবার পৈতৃক বাড়ি ছাড়তে হয়। জ্যোতিবার বাবা মনে করতেন, মেয়েদের শিক্ষাদান করে তাঁরা ‘মনুস্মৃতি’র অনুশাসন ভাঙেছেন এবং এটি পাপের কাজ। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি তাঁদের নিজের বাড়িতে থাকতে দেননি। বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে এসেও সাবিত্রীবাইরা থেমে যাননি। বরং আরও দৃঢ় প্রত্যয়ে তিনি ফতিমা বেগম শেখের সঙ্গে মিলিত হয়ে একটি শিক্ষা ট্রাস্ট গড়ে তোলেন।
সাবিত্রীবাই ও ফতিমা বেগম শেখের বিদ্যালয়গুলি ছিল মারাঠি ঐতিহ্যবাহী চতুষ্পাঠীগুলি থেকে একদম আলাদা। এই বিদ্যালয়ে ব্যাকরণ, গণিত, ইতিহাস, বিজ্ঞান পড়ানো হত সবাইকে একসঙ্গে। ইংরেজি ছিল মূল ভাষা। সাবিত্রীবাই ইংরেজিকে ‘মা ইংরেজি’ বলে ডাকতেন– যিনি অজ্ঞানতা দূর করেন এবং দলিতের ভালো করেন। এটা ঔপনিবেশিকতার কাছে সমর্পণ নয়, বরং নয়া ব্যবস্থাকে কৌশলে ব্যবহার করে দলিতের মূল শোষক ব্রাহ্মণ্যবাদকে প্রতিরোধ করারই একটা পথ। ইউরোপীয় শিক্ষার মডেল ছিল বৈদিক শিক্ষার চেয়ে পৃথক। ইউরোপীয় শিক্ষায় সাম্য, যুক্তি ও মানবিকতার ধারণা ছিল, যা বৈদিক ভাগ্যবাদকে ও জন্মান্তরবাদকে চ্যালেঞ্জ করত। দলিতদের কাছে এটা এমন এক জগত হয়ে ওঠার আশা দেখাচ্ছিল যেখানে যোগ্যতা ও অর্থনৈতিক অবস্থান মুখ্য, জাত নয়। অর্থাৎ এই শিক্ষা দলিতদের অবচেতনে প্রথমবারের জন্য সেই বীজতলা বুনে চলেছিল যেখানে একজন দলিত সচেতন ভাবে ভাবতে পারে নিজের ক্ষমতা নিজের হাতেই থাকবে যদি আর্থ-সামাজিক ভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠা যায়।
অবচেতনের এই পরিবর্তন নিঃসন্দেহে বৈপ্লবিক। এই অবচেতনের ধারা তৈরি না হলে কোনো ভাবেই একজন আম্বেদকর আসতে পারতেন না পরবর্তী সময়ে। সাবিত্রীবাই ও ফতিমা শেখের এই শিক্ষার মডেল কিন্তু নিজের অজান্তেই গুরুচাঁদ ঠাকুর ব্যবহার করেছিলেন বাংলায়, যার ফলে নমঃশূদ্র মেয়েদের ইংরেজি শিক্ষায় জোর দেওয়াকে জাতির শক্তিশালী হওয়ার অন্যতম পথ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। সাবিত্রীবাই-এর বিদ্যালয়ে সেই ক্ষমতায়নেরই সূচনা।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Constitutional Rights of Dalits: সংবিধানের রক্ষাকবচ না থাকলে ভারতীয় দলিত বহুজন যে বহু পরিসর থেকে আজও বহু দূরে থাকত তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
১৮৫১ সাল নাগাদ তিনটে বিদ্যালয়ে ১৫০-র বেশি মেয়ে পড়ত, অধিকাংশই দলিত। তারা পড়তে, লিখতে ও যুক্তি দিয়ে চিন্তা করতে শিখল। স্কুলে জাতভেদ ছিল না। ফলে শৈশব থেকেই অপর হওয়ার অভিজ্ঞতা হত না মেয়েদের, হীনমন্যতা গড়ত না। ব্যক্তিত্ব বিকাশে এই দু'টি ধাপই আত্মবিশ্বাসের দিকে মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এই আত্মবিশ্বাস কৌমগত ভাবে ছড়িয়ে পড়তে সময় লেগেছিল প্রায় পঞ্চাশ থেকে আশি বছর। এই সময়কাল থেকেই দলিত আন্দোলন শক্তিশালী হতে শুরু করে। ইংরেজি ভাষা ও পশ্চিমী শিক্ষার যুক্তিবাদ আজকের দলিত আন্দোলনের ভিত্তি। ইংরেজি দলিতদের পশ্চিমী সাহিত্য, দর্শন ও বিজ্ঞানের দরজা খুলে দিয়েছে— যেখানে জাতের ভার বইতে হয় না। সংস্কৃত থেকে জাত যে কোনো ভারতীয় ভাষা সচেতন ও অবচেতন ভাবে জাতের দাগ রেখে যায়।
আম্বেদকর ফুলেদের এই শিক্ষা-মডেল থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ইংরেজি শিক্ষাকে দলিত মুক্তির জন্য অত্যাবশ্যক বলে মনে করতেন। আম্বেদকর বলতেন, ইংরেজি দলিতদের রাজনৈতিক ও সামাজিক লড়াইয়ে শক্তি দেয়, কারণ এতে জাতের ছাপ নেই এবং একই সঙ্গে একজন দলিতকে বিশ্বের বাকি নিপীড়তদের সঙ্গে যুক্ত করে। আধুনিক দলিত তাত্ত্বিকরা এই মডেলকে আরও জোর দিয়ে বলেন, ফুলেদের ইংরেজি-কেন্দ্রিক শিক্ষা আজকের দলিত মননের জন্য একদম জরুরি। চন্দ্রভান প্রসাদ নামে একজন দলিত চিন্তাবিদ ও লেখক ২০১০ সালে উত্তর প্রদেশের এক গ্রামে ‘দেবী ইংরেজি’-র মন্দির বানিয়েছিলেন। এই মূর্তি স্ট্যাচু অফ লিবার্টির মতো, হাতে বই আর কম্পিউটার নিয়ে দাঁড়িয়ে। প্রসাদ বলেন, ইংরেজি দলিতদের মুক্তির দেবী, কারণ এটি তাদের প্রথমত সরকারি চাকরি দিয়েছে যা সামাজিক ভাবে দলিতদের প্রতিরোধের প্রথম ধাপ। এই ধাপ না থাকলে একটি ঔপনিবেশিক কাঠামোর গণতন্ত্রে দলিতদের জন্য প্রায় কিছুই বরাদ্দ হত না। এটা সংস্কৃতের মতো জাত-বাহী ভাষা নয়, তাই দলিতরা এতে নিজেদের কথা স্বাধীন ভাবে বলতে পারে।
সাবিত্রীবাই-এর জন্যই দলিত প্রতিরোধে নারীবাদের ছায়া প্রথম থেকেই সুস্পষ্ট। তিনি ভারতের প্রথম দলিত নারীবাদী। দলিত মেয়েরা জাত ও লিঙ্গের দ্বৈত অত্যাচারের শিকার। সাবিত্রীবাই বাল্যবিবাহ, সতীদাহ, বিধবাদের উপর সংঘটিত অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ব্রাহ্মণ্যবাদী মননের বিরুদ্ধেও লড়েছেন। আজকের দলিত নারীবাদে এই ছাপ স্পষ্ট। শর্মিলা রেজে বলেন, উঁচু জাতের নারীবাদ জাতের কথা ভুলে যায়। দলিত মেয়েরা তিনটি অত্যাচারের শিকার— জাত, শ্রেণি, লিঙ্গ। মজার ব্যপার হলো #DalitWomenFight-এর মতো আন্দোলন ইংরেজি শিক্ষার জোরেই চলে। আর এই জায়গাটাই তৈরি করতে প্রাণপাত করেছিলেন সাবিত্রীবাই।
‘ক্রান্তিজ্যোতি’ সাবিত্রীবাই শিক্ষকতার পাশাপাশি লেখালেখিও করে গিয়েছেন নিয়মিত। সমাজচিন্তক ও দলিত রাজনীতির প্রথম ঢেউয়ের স্বর সাবিত্রীবাই প্রবন্ধ, নিবন্ধ লেখার পাশাপাশি কবিতা চর্চাও করেছেন। তাঁর কবিতার ধারা কিন্তু একদমই মারাঠি বা গুজরাটি ভক্তি কবিতার ধারা মেনে এগোয়নি। তাঁর কবিতা অনেক বেশি সোজাসুজি ও রোজকার জীবনের সমস্যাকে বিষয় করেছে। আপাত সরল ভাবে লেখার জন্য কিছু বছর আগে অবধি সাবিত্রীবাইয়ের কবিতা চর্চাকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি দলিত চিন্তক মহল। কিন্তু দলিত নারীবাদের ঢেউ তীব্র হতেই তাঁর কবিতাকে নতুন আলোয় দেখা হচ্ছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Dalit Movement of West Bengal: তিনি সর্বদাই বামপন্থী আন্দোলন এবং দলিত আন্দোলনের ঐক্য স্থাপনের চেষ্টা করতেন। তাঁর নেতৃত্বে DSP-এর অনুদানে দুর্গাপুরে গড়ে ওঠে 'আম্বেদকর ভবন'।
১৮৫৪ সালে তার কাব্যসংকলন 'কাব্যফুলে'র ('কবিতার ফুলগুলি') শেষ কবিতাটির এগারো নম্বর লাইনে জ্যোতিরাও ফুলের পার্সোনার মুখে ব্যবহৃত ‘দীন’ ও ‘দলিত’ শব্দ দু'টি সম্ভবত ভারতের শূদ্রদের প্রথম দলিত পরিসরের সম্ভাবনা দেখায়। ১৮৯০ সালে জ্যোতিরাওয়ের মৃত্যুর পরে ১৮৯১ সালে সাবিত্রীবাই প্রকাশ করেন তাঁর শেষ কাব্যসংকলনঃ 'বাভান্নক্ষী সুবোধা রত্নাকর' ('বাহান্নটি জ্ঞানের রত্নমালা')। এখানেও তিনি দলিতের অপরায়ন ও তা থেকে মুক্তির পথ নিয়েই কবিতা লিখেছেন , ব্যক্তিগত শোক প্রকাশের পাশাপাশি। আমরা তাঁর কয়েকটি কবিতা পড়লে সাবিত্রীবাইয়ের মননের রূপরেখাটিও বুঝতে পারব। নিচে কয়েকটি কবিতা অনুবাদ করে দেওয়া হলো।
শূদ্রদের দুর্দশা
শিকার হয়েছে “মাটি দিয়ে চলাফেলা করা ভগবানদের” হাতে
দু’হাজার বছর ধরে,
বামুণদের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তই,
শূদ্রদের দুর্দশা হয়ে গেছে।
তাদের অবস্থা দেখে
মন করে চিৎকার করে প্রতিবাদ করি,
মন ফাঁকা হয়ে যায়্
কোনো একটা পথ খুঁজতে ছটপট করে।
শিক্ষাই সেই পথ,
যা দিয়ে শূদ্রদের হাঁটতে হবে,
শিক্ষাই মানবতা আনে
জন্তুসম বেঁচে থাকা থেকে মুক্ত করে।
মনু এমনটা বলেন…
“ বোকাহদ্দ তারা
যারা জমিতে হাল দেয়,
বোকাহদ্দ সেইগুলো
যারা সেই জমি চাষ করে”,
মনু এমনটাই বলেন।
ধর্মীয় ডিক্রি জারি করে,
মনুস্মৃতি ব্রাহ্মণদের বলে,
“চাষবাস করে শক্তি নষ্ট করো না!”
“যেগুলো শূদ্র হয়ে জন্মেছে,
এইসব শূদ্রগুলো!
এই জন্মে ঋণ শুধছে
অতীতের বহুজন্মের পাপের”
তাই তারা বানালো
অসাম্যের এই সমাজ,
এই বাঁচা এই অমানবিক
ধূর্তগুলোর চাল।
যাও, লেখাপড়া শেখো
আত্মনির্ভরশীল হও, হও পরিশ্রমী
কাজ করো, জ্ঞান সংগ্রহ করো,
জ্ঞান ছাড়া যা পেয়েছো সব হারাবে
জ্ঞান ছাড়া পশু হয়ে যাব,
অলস ভাবে বসে থেকো না, যাও, লেখাপড়া শেখো
দলিত ও দীনের দুর্দশা দূর করো,
পড়াশোনার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছো
যাও ভেঙে ফেলো বর্ণবাদের শেকল।
ব্রাহ্মণদের শাস্ত্রগুলো দ্রুত ছুঁড়ে ফেলো।
ইংরেজি শেখো
নিজ পেশায় স্বনির্ভর হও,
শিক্ষার সম্পদ আরোহণে যাও,
শিক্ষা ছাড়া পশুদের মতোই বোকা থাকবে,
বিশ্রাম নিও না! নিজেকে শিক্ষিত করে তোলো।
এখনই সুযোগ,
শূদ্র ও অতি শূদ্রদের,
ইংরেজি শিখে
সমস্ত যাতনা দূর করার।
ব্রাহ্মণদের কর্তৃত্ব আর তার যত শিক্ষা,
সবকিছু ছুঁড়ে ফেলার।
বর্ণবাদের শেকল ভাঙো
ইংরেজি শিখে।
সুতরাং এটা সবিশেষ উল্লেখযোগ্য যে ‘দলিত’ পরিসরের সম্ভাবনা সর্বপ্রথম উচ্চারণ করেছেন একজন নারী। সাবিত্রীবাইয়ের কবিতা খুব সচেতন ভাবেই দলিত প্রোপাগাণ্ডা। দলিতের ক্ষমতায়নের জন্য যেখানে ইংরেজি শিক্ষাকেই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার বলা হয়েছে। এই উচ্চারণের প্রায় দেড় শতাব্দী পার করে প্রখ্যাত দলিত চিন্তাবিদ কাঞ্চা ইলাইয়া শেফার্ড (বলবেন) ভারতীয় ভাষাগুলির চেয়ে ইংরেজি ভাষা চর্চা করা একজন দলিতের পক্ষে স্বস্তির কারণ ভারতীয় ভাষাগুলির শব্দভাণ্ডার কোনো না কোনো ভাবে দলিতকে অবমাননা করেই চলে।








