আকস্মিক তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত সিকিম, নাথুলা, নিখোঁজ হয়ে আছেন বহু বাঙালি পর্যটকও?
Sikkim Avalanche Nathu La : এখনও অবধি পাওয়া খবর অনুযায়ী, সাতজন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। তবে এখনও অনেকেই সেখানে বরফের নিচে আটকে থাকতে পারেন

চারিদিকে পড়ে আছে সাদা বরফের চাদর। সামনে সুউচ্চ পাহাড়। এমন দৃশ্য দেখার জন্যই তো পাহাড়প্রেমী মানুষজন ভিড় করেন। কিন্তু সেই দৃশ্যই যখন আতঙ্কে বদলে যায়? এই মুহূর্তে সিকিমের ছবিটা ঠিক তেমনই। সিকিমের গ্যাংটক-নাথুলা রোডের কাছেই মঙ্গলবার দুপুরে ভয়াবহ তুষারঝড় হয়। আর তার জেরেই বিপর্যস্ত হয়ে যায় যাবতীয় পরিষেবা। আকস্মিক নেমে আসা এই তুষার ধসে ক্ষতির মুখে পড়েছেন বহু পর্যটক। এখনও অবধি পাওয়া খবর অনুযায়ী, সাতজন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। তবে এখনও অনেকেই সেখানে বরফের নিচে আটকে থাকতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। চারদিকে পুরু বরফের স্তূপ সরিয়ে দ্রুতগতিতে উদ্ধারকাজও শুরু করা হয়েছে।
মার্চ-এপ্রিল-মে, এই তিনমাস পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায় পর্যটকরা ভিড় জমান। আর যদি পাহাড়প্রেমী মানুষ হন, তাহলে তো কথাই নেই। ঝকঝকে রোদ, ঠাণ্ডা তো থাকেই; সুযোগ হলে বরফ পাওয়ার আশাও থাকে। দার্জিলিং, কালিম্পং, মানালির পাশাপাশি সিকিমেও ভিড় জমান পর্যটকরা। বিশেষ করে তাঁদের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকে নাথুলা পাস। সেই কারণে এবারও বহু মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন পাহাড়ে। কিন্তু আবহাওয়া আগের মতো ঠিক ছিল না। মেঘলা আকাশের সঙ্গে তুষারপাত তো ছিলই, দুর্যোগের আগাম পূর্বাভাসও ছিল।

মঙ্গলবার দুপুরেই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাটি ঘটে। মোটামুটি দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ নাথুলা ও সংমো লেক সংলগ্ন এলাকায় হঠাৎই তুষারঝড় নেমে আসে। সেইসঙ্গে বরফের স্তূপ আর ধসও নেমে আসে। মরসুম থাকার দরুণ সেই সময় ওই জায়গায় বেশ অনেক পর্যটকই ছিলেন। সেইসঙ্গে ছিল বেশ কয়েকটি গাড়ি ও বাস। বর্ডার রোড অর্গানাইজেশন ও প্রশাসন সূত্রে খবর, ওই রাস্তা দিয়েই নাথুলার দিকে জাচ্ছিল গাড়িগুলি। ধস নামার পর একটা বাস সঙ্গে সঙ্গে খাদে গড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি অন্যান্য গাড়ি ও পর্যটকরাও বরফের নিচে চাপা পড়েন। কেউ খাদের গভীরে চলে গিয়েছেন কিনা, তার খোঁজ চলছে।
Massive avalanche hits Sikkim; 6 tourists dead, 11 injured...more than 150 vacationers were reported to be in the area when the avalanche hit
— Varun SR Goyal (@varunmaddy)
সিকিম প্রশাসন জানিয়েছে, এখনও অবধি সাতজন এই ঘটনায় মারা গিয়েছেন। এখনও তাঁদের পরিচয় জানা যায়নি। তবে মৃতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। যে সময় এই ঘটনাটি ঘটে, তখন অন্তত ১৫০ জন পর্যটক এই এলাকায় ছিলেন। কাজেই মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই বর্ডার রোড অর্গানাইজেশন এবং সেনার তরফে উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। অন্তত ২২ জনকে উদ্ধারও করা হয়েছে। ওই জায়গার আশেপাশে থাকা ৩০০-রও বেশি পর্যটককে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারেরও আশঙ্কার জায়গা তৈরি হয়েছে। এই মুহূর্তে অনেক বাঙালিই ছুটি নিয়ে পাহাড়ে বেড়াতে গিয়েছেন। আর সিকিম, নাথুলা পাস তাঁদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ। কাজেই নিখোঁজদের মধ্যে বাঙালিরাও থাকতে পারেন।






