আকস্মিক তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত সিকিম, নাথুলা, নিখোঁজ হয়ে আছেন বহু বাঙালি পর্যটকও?

Sikkim Avalanche Nathu La : এখনও অবধি পাওয়া খবর অনুযায়ী, সাতজন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। তবে এখনও অনেকেই সেখানে বরফের নিচে আটকে থাকতে পারেন

inscript
২ মিনিট
আকস্মিক তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত সিকিম, নাথুলা, নিখোঁজ হয়ে আছেন বহু বাঙালি পর্যটকও?

চারিদিকে পড়ে আছে সাদা বরফের চাদর। সামনে সুউচ্চ পাহাড়। এমন দৃশ্য দেখার জন্যই তো পাহাড়প্রেমী মানুষজন ভিড় করেন। কিন্তু সেই দৃশ্যই যখন আতঙ্কে বদলে যায়? এই মুহূর্তে সিকিমের ছবিটা ঠিক তেমনই। সিকিমের গ্যাংটক-নাথুলা রোডের কাছেই মঙ্গলবার দুপুরে ভয়াবহ তুষারঝড় হয়। আর তার জেরেই বিপর্যস্ত হয়ে যায় যাবতীয় পরিষেবা। আকস্মিক নেমে আসা এই তুষার ধসে ক্ষতির মুখে পড়েছেন বহু পর্যটক। এখনও অবধি পাওয়া খবর অনুযায়ী, সাতজন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। তবে এখনও অনেকেই সেখানে বরফের নিচে আটকে থাকতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। চারদিকে পুরু বরফের স্তূপ সরিয়ে দ্রুতগতিতে উদ্ধারকাজও শুরু করা হয়েছে।

মার্চ-এপ্রিল-মে, এই তিনমাস পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায় পর্যটকরা ভিড় জমান। আর যদি পাহাড়প্রেমী মানুষ হন, তাহলে তো কথাই নেই। ঝকঝকে রোদ, ঠাণ্ডা তো থাকেই; সুযোগ হলে বরফ পাওয়ার আশাও থাকে। দার্জিলিং, কালিম্পং, মানালির পাশাপাশি সিকিমেও ভিড় জমান পর্যটকরা। বিশেষ করে তাঁদের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকে নাথুলা পাস। সেই কারণে এবারও বহু মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন পাহাড়ে। কিন্তু আবহাওয়া আগের মতো ঠিক ছিল না। মেঘলা আকাশের সঙ্গে তুষারপাত তো ছিলই, দুর্যোগের আগাম পূর্বাভাসও ছিল।

মঙ্গলবার দুপুরেই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাটি ঘটে। মোটামুটি দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ নাথুলা ও সংমো লেক সংলগ্ন এলাকায় হঠাৎই তুষারঝড় নেমে আসে। সেইসঙ্গে বরফের স্তূপ আর ধসও নেমে আসে। মরসুম থাকার দরুণ সেই সময় ওই জায়গায় বেশ অনেক পর্যটকই ছিলেন। সেইসঙ্গে ছিল বেশ কয়েকটি গাড়ি ও বাস। বর্ডার রোড অর্গানাইজেশন ও প্রশাসন সূত্রে খবর, ওই রাস্তা দিয়েই নাথুলার দিকে জাচ্ছিল গাড়িগুলি। ধস নামার পর একটা বাস সঙ্গে সঙ্গে খাদে গড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি অন্যান্য গাড়ি ও পর্যটকরাও বরফের নিচে চাপা পড়েন। কেউ খাদের গভীরে চলে গিয়েছেন কিনা, তার খোঁজ চলছে।

Massive avalanche hits Sikkim; 6 tourists dead, 11 injured...more than 150 vacationers were reported to be in the area when the avalanche hit

— Varun SR Goyal (@varunmaddy)

সিকিম প্রশাসন জানিয়েছে, এখনও অবধি সাতজন এই ঘটনায় মারা গিয়েছেন। এখনও তাঁদের পরিচয় জানা যায়নি। তবে মৃতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। যে সময় এই ঘটনাটি ঘটে, তখন অন্তত ১৫০ জন পর্যটক এই এলাকায় ছিলেন। কাজেই মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে প্রশাসন। ইতিমধ্যেই বর্ডার রোড অর্গানাইজেশন এবং সেনার তরফে উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। অন্তত ২২ জনকে উদ্ধারও করা হয়েছে। ওই জায়গার আশেপাশে থাকা ৩০০-রও বেশি পর্যটককে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারেরও আশঙ্কার জায়গা তৈরি হয়েছে। এই মুহূর্তে অনেক বাঙালিই ছুটি নিয়ে পাহাড়ে বেড়াতে গিয়েছেন। আর সিকিম, নাথুলা পাস তাঁদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ। কাজেই নিখোঁজদের মধ্যে বাঙালিরাও থাকতে পারেন।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।

নেপাল বিপর্যয়ের ক্ষতিপূরণ দেবে কে?

Climate Justice for nepal: ২৬ অগাস্ট লাংটাং লিরুং-এর হিমবাহ ধসে নেপালের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়—নিহত ১,৩৪৪, নিখোঁজ ৪,৮৮৭। পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৪-৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডে আছে মাত্র ৮২২ মিলিয়ন ডলার।নেপালের দাবি, চিন-ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দায় আছে। জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক কাঠগড়ায়।

নেপালের হড়পা বান থেকে বেঁচে ফিরলেন যাঁরা, তাঁদের চোখে ২৬ অগাস্ট

Nepal flash floods 2026: ২৬ অগাস্ট, ২০২৬-এ নেপালের হড়পা বানে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও কিছু মানুষ বেঁচে ফিরেছেন। কেউ এক কাপ চায়ের বিরতির জন্য, কেউ গাড়ির একটা রিভার্স গিয়ারের কারণে, কেউ ডালপালা ছড়ানো একটা আমগাছ আঁকড়ে ধরে, আবার কেউ কেবল ১৫ সেকেন্ডের দৌড়ে ছিনিয়ে এনেছেন নিজের শ্বাস। মৃত্যু খুব কাছ থেকে অনুভব করে ফেরা সেই মানুষগুলির অভিজ্ঞতায় রইল রাসুয়া আর নুয়াকোটের সেই সকালের কথা।

হিমালয়ের বরফ গলছে দ্বিগুণ হারে, নেপালের বিপর্যয়ের বিজ্ঞান কী বলছে?

Nepal Flood 2026: বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছিলেন, ৪৫০০ থেকে ৬০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে থাকা হিমবাহ অঞ্চলের অন্তত ৭৮ শতাংশ উচ্চতা-নির্ভর উষ্ণায়নের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাঁচ মাস পর সেই সতর্কবাণীই যেন সত্যি হয়ে উঠল নেপালের উপত্যকায়।

ছয় দশকে কতটা সফল ভারত-নেপাল গান্ডাকচুক্তি?

Gandak dam history: নেপালের হিমবাহ থেকে পাথর ধসের পর জল নেমেছে ত্রিশূলী-কালীগণ্ডক হয়ে বিহারে। বাল্মীকিনগর বাঁধের ৩৬টি গেট খুলে প্রাণ বাঁচল বহু মানুষের। কিন্তু, ১৯৫৯ সালের গান্ডাক চুক্তি কি সত্যিই নেপাল ভারত দুই দেশের ‘সমন্বিত স্বার্থ’ রক্ষা করল? নেপালের তরাইয়ে জল মেলে না, ক্ষতিপূরণ মেলে না কৃষকদের। ৬০ বছরের পুরনো বাঁধ প্রকল্পকে নিয়েও নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

নেপালের বন্যায় সবচেয়ে বেশি বিপন্ন মহিলারাই, ঝুঁকিতে ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন

Nepal Flash Floods: নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে প্রায় ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন ঝুঁকিতে। বন্যার পর তাঁদের সামনে কী কী স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, খাদ্য ও জীবিকার সংকট তৈরি হয়েছে? রাষ্ট্রপুঞ্জের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, নারীদের সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ জরুরি?