প্রচণ্ড গরমে আসছে না ঘুম, বিশ্বজুড়ে দানা বাঁধছে যে মারাত্মক সংকট

চিন্তাশক্তি, কার্যক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি হ্রাস পেতে থাকে ক্রমাগত, একটানা পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে।

Madhurima Pattanayak
৪ মিনিট
প্রচণ্ড গরমে আসছে না ঘুম, বিশ্বজুড়ে দানা বাঁধছে যে মারাত্মক সংকট

তাপপ্রবাহ এবার ঘুম কাড়ছে আবিশ্ব মানুষের। সম্প্রতি ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট অফ হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের গবেষক নিক ও-ব্র্যাডোভিকের তত্ত্বাবধানে করা একটি গবেষণা 'সেলপ্রেস' নামক বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার দরুন ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে দৈনিক ঘুমের সর্বমোট সময়। শুধু তাই নয়, রাতে ঘুম আসতেও সমস্যা হচ্ছে এবং তাড়াতাড়ি ঘুম ভেঙে যাচ্ছে অনেকেরই। সাম্প্রতিক এই গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্ব উষ্ণায়ন ও তাপপ্রবাহের দরুন সবথেকে বেশি ঘুমের ঘাটতি হচ্ছে বয়স্ক ও মহিলাদের মধ্যে।

গ্রীষ্মপ্রধান দেশে যাঁদের বসবাস, তাঁদের মধ্যে ঘুমের ঘাটতি শীতকালীন দেশগুলোর বাসিন্দাদের তুলনায় বেশি। তবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না শীতপ্রধান দেশের বাসিন্দাদের ঘুমও। এদিকে, রাত্রিকালীন তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে সারা বছর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলেও, গ্রীষ্মকালে ঘুমের ব্যাঘাত শীতকালের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি হারে ঘটছে বিভিন্ন দেশজুড়ে।

গবেষকরা বিশ্বব্যাপী মোট ৬৮টি দেশের সাত মিলিয়ন প্রাপ্তবয়স্কের রিস্ট-ব্যান্ড (এমন রিস্ট-ব্যান্ড, যেগুলো সারাদিনে কোনও ব্যক্তি কতটা ঘুমিয়েছেন, তা সেন্সরের মাধ্যমে নজরে রাখে) থেকে তাদের দৈনিক ঘুমের সময়-সংক্রান্ত তথ্য জোগাড় করেন। তারপর সেই ব্যক্তির বাসস্থানের সঙ্গে মেলানো হয় সেই অঞ্চলের দৈনিক তাপমাত্রা- বিশেষ করে দিন ও রাতের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা, দিন ও রাতের মোট তাপমাত্রার পার্থক্য এবং ঋতু-অনুযায়ী তাপমাত্রার পরিবর্তন। উক্ত গবেষণায় আন্টার্কটিকা বাদে সমস্ত মহাদেশের বাসিন্দাদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণেই চলতি বছরে ভারত ও পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলজুড়ে চলেছে অসহ্য তাপপ্রবাহ। গরমকালে সারাদিন তাপমাত্রার পারদ ওপরদিকে থাকলেও, রাতে অন্তত তাপমাত্রা সাধারণত কিছুটা আরামদায়ক হয়। কিন্তু এই বছর, রাতের, এমনকী ভোরবেলার তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে অনেকের রাতের ঘুমের ব্যঘাত ঘটছে, যা হয়তো অনেকেই ইতিমধ্যেই লক্ষ করে থাকবেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
প্রলয় আসছে, দায়ী আপনি, রাষ্ট্রনেতার চোখে চোখ রেখে বলে যান গ্রেটা

স্টকহোমের চেয়ে অনেক বেশি দূষিত শহর আমাদের দেশে অন্তত কয়েক ডজন আছে। বল্টিক সমুদ্রের চেয়ে বঙ্গোপসাগর বা আরব সাগরের দূষণ নিশ্চয়ই কম নয়। এ দেশে বায়ুদূষণে অফিস, স্কুল ছুটি দিতে হয়, ক্রিকেটাররা মুখোশ পরে মাঠে নামে। এ দেশের ছেলেমেয়েরাও টিভি চ্যানেলে ক্রমশ আরও উষ্ণ-হয়ে-ওঠা এই গ্রহটার পরিবেশের নানা বিপর্যয় সংক্রান্ত ছবি দেখে। কিন্তু দিল্লি, কানপুর বা কলকাতার কোনও ১৫ বছরের মেয়েকে স্কুল স্ট্রাইক করে প্ল্যাকার্ড হাতে দিনের পর দিন পার্লামেন্ট বা বিধানসভার সামনে বসে থাকতে দেখব, এ এক প্রকার অবাস্তব ভাবনা-চিন্তা।

দেখা যাচ্ছে, রাতের তাপমাত্রা তিরিশ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলেই, দৈনিক ঘুমের সময় অন্তত চোদ্দ মিনিট আট সেকেন্ড হ্রাস পায়। আর রাতের তাপমাত্রা পঁচিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়ালেই, ঘুম সাত ঘণ্টার কম হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক এই গবেষণা বলছে, প্রতি এক ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে, অন্যান্য বয়সের মানুষদের তুলনায় বয়স্কদের ঘুম দ্বিগুণ হারে কমছে।

রিসার্চ পেপারটির ফার্স্ট অথর কেল্টন মাইনর একটি প্রকাশনায় জানিয়েছেন, আমাদের দেহ তার অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিশেষভাবে অভিযোজিত হয়েছে। তাই প্রতি রাতে দেহের অভ্যন্তর থেকে তাপমাত্রা নির্গত হয়ে দেহের বাইরে পরিবাহিত হয়। তার জন্য হাত ও পায়ের পাতায় রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়, আর সেখান থেকেই সবচেয়ে বেশি তাপ নির্গত হয়।

তিনি আরও জানাচ্ছেন, দেহের বাইরে তাপ নির্গমনের জন্য, পরিবেশের তাপমাত্রা, দেহের তুলনায় কম হওয়া আবশ্যক। তা না হলে পর্যাপ্তভাবে দেহ ঠান্ডা হয় না, যার প্রভাব গিয়ে পড়ে ঘুমের ওপর। পরিবেশের তাপমাত্রা অত্যধিক বেশি বা অত্যধিক কম হলেই, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। এবং তা যে গবেষণাগারে রাখা প্রাণীদের ওপর পরীক্ষা করে হাতেনাতে প্রমাণিত হয়েছে, এমনই তিনি জানাচ্ছেন। তবে তাপমাত্রার পরিবর্তন সত্ত্বেও, গরমের তুলনায়, ঠান্ডা পরিবেশে আমাদের শরীর অনেক সহজে ও ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারে।

বিশ্ব উষ্ণায়ন ও তাপপ্রবাহের কারণে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের বেশি ঘুমের ব্যঘাত ঘটার কারণ হিসেবে জানানো হচ্ছে, পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের দেহের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা সন্ধের দিকে কমতে থাকে। ফলে, দেহের তাপমাত্রা বাইরে নির্গমনের সময়, পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের বেশি সমস্যা হয়। পাশাপাশি, মহিলাদের ক্ষেত্রে ত্বকের সাবকিউটিনিয়াস স্তরে পুরুষদের তুলনায় বেশি ফ্যাট উপস্থিত। যার ফলে দেহের তাপমাত্রা বাড়লে, ফ্যাটের উপস্থিতির কারণে তা সহজে ত্যাগ করা যায় না।

পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে প্রবলভাবে যে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হয়, তা বোধহয় কখনও না কখনও আমরা নিজেদের ক্ষেত্রেই লক্ষ করেছি। ক্লান্তি, স্ট্রেস থেকে শুরু করে ডায়াবেটিস, হার্টের রোগ, উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যা, হজমের সমস্যা, ক্রমহ্রাসমান রোগ প্রতিরোধক্ষমতার মতো সমস্যা দেখা যায় পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে। কেবল শারীরিক ক্ষতি-ই নয়, মানসিক স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি হয়। মানসিক অবসাদ, দুশ্চিন্তা, রাগ, আগ্রাসী মনোভাব ইত্যাদি দেখা যায় দিনের পর দিন অপর্যাপ্ত ঘুমের ফলে।

শুধু তাই নয়, চিন্তাশক্তি, কার্যক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি হ্রাস পেতে থাকে ক্রমাগত, একটানা পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে। ফলে অপর্যাপ্ত ঘুম কর্মনাশের কারণ তো বটেই, কাজের গুণগত মান হ্রাস ও তার ফলে দেশের অর্থনৈতিক অবনতির কারণও বটে।

বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া দেশগুলি। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে তৈরি শারীরিক ক্ষতির বোঝাও গরীব দেশেরই বেশি। সাম্প্রতিক এই গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া দেশগুলোতেই বিশ্ব উষ্ণায়ন ও তাপপ্রবাহের ফলে সবথেকে বেশি ঘুমের ঘাটতি ঘটছে। ধনী দেশগুলোর তুলনায় অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া দেশের মানুষদের মধ্যে ঘুমের ঘাটতি তিনগুণ বেশি।

একজন মানুষের দৈনিক ঘুম গড়ে আট ঘণ্টা হওয়া উচিত, তাঁর বার্ষিক ঘুম হওয়া উচিত তিন হাজার ঘণ্টার কাছাকাছি। কিন্তু এই ভাবে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ঘুমের সময়ের দৈর্ঘ‍্য হ্রাস পেতে থাকলে, এই শতকের শেষে হয়তো ব্যক্তি-পিছু বার্ষিক ঘুমের সময় পঞ্চাশ থেকে আটান্ন ঘণ্টায় পরিণত হবে।

এই গবেষণা থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হচ্ছে, পরিবেশ-সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ পলিসিগুলো এবার আরও বেশি ভেবেচিন্তে গ্রহণ করতে হবে এবং বাস্তবে কার্যকর করতে হবে, অন্তত সরাসরি স্বাস্থ্যের ওপর পড়া জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কথা ভেবে।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।