হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

Deepsubhra Mahato
৬ মিনিট
হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

১৯৪৫ সালের ৬ অগাস্ট হিরোশিমাতে এবং ৯ অগাস্ট নাগাসাকিতে আর পাঁচটা দিনের মতোই সকালে সূর্যের আলো ফুটেছিল। আর পাঁচটা সাধারণ দিনের মতোই চলছিল সাধারণ মানুষের জীবন। তারপর হঠাৎ বিস্ফোরণ। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ছাই হয়ে গিয়েছিল দুটি শহর। তবে সেই ধ্বংসস্তূপেও ফিনিক্সের মতো বেঁচে গিয়েছিল কয়েকটি প্রাণ। ইতিহাস তাদের নাম দিয়েছে 'হিবাকুশা'—পারমাণবিক বোমার আঘাত পেরিয়ে বেঁচে যাওয়া মানুষ।

৮০ বছর পরও, সেই হিবাকুশাদের স্মৃতি থেকে মুছে যায়নি ওই দিনগুলির কথা।

এমিকো ইয়ামানাকা

১৯৪৫ সালের ৬ই অগাস্ট। হিরোশিমা। সকাল ৮টা ১৫ মিনিট। আকাশে আছড়ে পড়ল 'লিটল বয়' নামের পারমাণবিক বোমা।

বোমার বিকিরণ আর আগুন থেকে এমিকো সেদিন অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছিলেন। কিন্তু তাতে কী? যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও বেঁচে থাকার পথ মোটেই সহজ ছিল না। সেন্সরশিপের কারণে সরকারের বোমা নিয়ে কথা বলার কঠোর নিষেধাজ্ঞা, জাপানি সমাজে তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে তৈরি হওয়া প্রবল কুসংস্কার। 'হিবাকুশা'-দের ছোঁয়াচে রোগীর মতোই এড়িয়ে চলত সবাই। বিয়ে বা চাকরির ক্ষেত্রে কপালে জুটত চরম অবহেলা। এইসব এমিকোকে কেমন একটা নীরব করে দিল।

তারপর, বহু বছর পরে এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে। কাজুমি ৭২ ঘণ্টার সীমা পেরিয়ে বেঁচে উঠল। কিন্তু, পুরো শৈশব আর কৈশোর জুড়ে শারীরিক অসুস্থতা ছিল তাঁর ছায়াসঙ্গী। জীবনের প্রথম ২০টি বছর একের পর এক জটিল রোগের সঙ্গে লড়াই করে পার করতে হয়েছিল তাঁকে।

তারপর ২৫ বছর বয়সে কাজুমির পেটে এক মারাত্মক টিউমার ধরা পড়ল। সেটি বাদ দেওয়ার জন্য বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করতে হয়। হাসপাতালে যখন ব্যথায় কাতর কাজুমি শুয়ে আছেন, তখন তাঁর মাথার পাশে এসে দাঁড়ান ৯১ বছরের বৃদ্ধা দিদিমা এমিকো।

নাতনির এই করুণ দশা দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি বৃদ্ধা এমিকো। নাতনির হাতটা শক্ত করে ধরে, কাঁপা কাঁপা গলায় বলে উঠেছিলেন, "আমাকে ক্ষমা করে দিস রে কাজুমি... এ সব আমারই অপরাধ।"

ছোটবেলা থেকেই যখনই কাজুমি মারাত্মক কোনো অসুখে ভুগতেন, এমিকো বারবার এই একই কথা বলতেন—"আমাকে ক্ষমা করে দিস।" বৃদ্ধা দিদিমার মনে গভীর এই বিশ্বাস গেঁথে গিয়েছিল যে, ১৯৪৫ সালের ৬ অগাস্ট তাঁর শরীরে ঢুকে যাওয়া পরমাণুর বিষই আজ বংশানুক্রমে তাঁর আদরের নাতনির শরীরেও যন্ত্রণার আগুন জ্বালাচ্ছে। প্রতিটি চিকিৎসার বিল, প্রতিটি ইনজেকশনের সূচ যেন এমিকোর বুকে এসে বিঁধত অপরাধবোধ হয়ে।

আজ ২৯ বছর বয়সি কাজুমি বোঝেন—পারমাণবিক বোমা কেবল একটি নির্দিষ্ট দিনে একটি শহরকে জ্বালিয়ে শেষ করে দেয় না; তা বেঁচে যাওয়া মানুষদের রক্তে মিশে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে তাড়া করে ফেরে।

দিদিমার সেই গভীর যন্ত্রণাকে আজ নিজের শক্তিতে রূপান্তর করেছেন কাজুমি। হিরোশিমায় নিজের ঘর ছেড়ে তিনি পাড়ি দিয়েছেন লন্ডনে, দাঁড়িয়েছেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে। বিশ্ববাসীকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিচ্ছেন, পারমাণবিক বোমার ধ্বংসলীলা কোনো ইতিহাস নয়—তা আজও তাঁদের মতো হাজারও পরিবারে জীবিত ও সত্য।

দিদিমা এমিকো ইয়ামানাকা এবং নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা [চিত্রঋণ: Soka Gakkai (global)]

দোহ্-ও মিনেকো

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নাগাসাকির নামই ছিল না মার্কিন-তালিকায়, তবু 'ফ্যাট ম্যান' ধ্বংস করেছিল গোটা শহর

World Nagasaki Day 2023: আজও সেই পারমাণবিক বোমার ভয়বহতা বুকে নিয়ে বসে রয়েছে জাপান। আজও তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবে জন্ম হয় বিকলাঙ্গ শিশুর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যে ভয়াবহতা বিশ্ব দেখেছিল, তা মুছে ফেলা কঠিন ছিল।

নাগাসাকির মিটসুবিশি টর্পেডো কারখানার ভিতরে কাজ করছিলেন কিশোরী দোহ্-ও। হঠাৎ বিস্ফোরণ। সঙ্গে সঙ্গে কংক্রিট আর ইস্পাতের বিশাল ছাদ ভেঙে পড়ে তাঁর এবং আরও হাজার হাজার মানুষের গায়ের উপর। অবিশ্বাস্যভাবে, তিনি কোনোমতে উঠে দাঁড়াতে পেরেছিলেন। ঘাড়ে গভীর ক্ষত নিয়ে তিনি দেখেন, চারপাশে আগুন জ্বলতে শুরু করেছে। যেকোনো মূল্যে সেখান থেকে পালিয়ে বাঁচার জন্য তিনি ব্যাকুল হয়ে পড়েছিলেন। বাইরে বেরোতে তাঁকে মৃতদেহের উপর পা দিয়ে হেঁটে যেতে হয়েছিল। বেরিয়ে তিনি তাঁর বাবাকে দেখতে পান।

পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের পর দো-ও-এর মাথার সব চুল পড়ে যায়। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তাঁর মাথায় নতুন করে কোনো চুল গজায়নি। ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি নিজেকে ঘরের চারদেওয়ালের মধ্যেই বন্দি করে রেখেছিলেন। অবশেষে তাঁর বাবা তাঁকে বুঝিয়ে বলেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হিসেবে নিজের পায়ে দাঁড়ানো এবং নিজের জীবন চালানোর পথ নিজেকেই বেছে নিতে হবে।

যুদ্ধের আগে থেকেই তাঁর ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে কাজের বড় স্বপ্ন ছিল। তাই তিনি নাগাসাকির একটি প্রসাধনী দোকানে পার্ট-টাইম কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে সেই কোম্পানি থেকেই তাঁকে টোকিওতে চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। বাবা-মায়ের অমত এবং তৎকালীন সমাজের প্রচলিত রীতিনীতি উপেক্ষা করে তিনি একাই টোকিওতে পাড়ি দেন এবং এক নতুন জীবন শুরু করেন।

সেখানে তিনি অমানুষিক পরিশ্রম করে কাজ করেন এবং পদোন্নতি পেয়ে জাপানের অন্যতম শীর্ষ প্রসাধনী প্রতিষ্ঠান 'উটেনা' (Utena)-র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে উন্নীত হন। সেই সময়ে একজন নারীর কোনো বড় প্রতিষ্ঠানের এমন উচ্চপদে আসীন হওয়া ছিল প্রায় অবিশ্বাস্য ও অভূতপূর্ব এক ঘটনা। জীবনের শেষভাগে নাগাসাকিতে ফিরে এসে এক ক্যানভাসে ছবি এঁকে তিনি লিখেছিলেন— "একটি সুন্দর জীবন উপহার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।"

১৪ বছরের দোহ্-ও মিনেকো (চিত্রঋণ: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক)

তানিগুচি সুমিতেরু

১৬ বছরের কিশোর তানিগুচি নাগাসাকিতে সাইকেলে করে চিঠি বিলি করছিলেন। হঠাৎ পিঠে গরম কিছুর একটা জোর ধাক্কা লাগল। সাইকেল থেকে ছিটকে পড়লেন তানিগুচি। ঘোরের মধ্যে বুঝতে পারেননি, তাঁর পিঠের পুরো চামড়া ঝলসে গিয়েছে। চারপাশের মাটি তখনও কাপছিল, তবুও তিনি কোনোমতে উঠে দাঁড়ান। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা চিঠিগুলি কুড়িয়ে নেন। যে ছোট ছেলেমেয়েরা কিছুক্ষণ আগেও তাঁর চারপাশে খেলাধূলা করছিল, তারা সবাই ততক্ষণে মারা গিয়েছে। এরপর তিনি কোনোক্রমে হাঁটতে হাঁটতে একটি কারখানার দিকে যান। সেখানকার কয়েকজন লোক তাঁকে পাহাড়ের ঢালে নিয়ে গিয়ে উপুড় করে শুইয়ে দেন। সেখানে তিনি দুই রাত এভাবে অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন। আর অন্যদিকে তাঁর দাদু তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছেন।

নাগাসাকিতে তখন কোনো হাসপাতাল বা ওষুধপত্রের সুবিধা বেঁচে ছিল না। তাই তাঁর দাদু তাঁকে নাগাসাকির বাইরের একটি গ্রামে নিয়ে যান এবং তিন মাস ধরে খুব সাধারণ উপায়ে তাঁর পরিচর্যা করা হয়। অবশেষে তাঁকে নাগাসাকির ২২ মাইল উত্তরে ওমুরা শহরের একটি নৌ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তিনি প্রথম সঠিক চিকিৎসার সুযোগ পান।

অসহ্য যন্ত্রণার মধ্যে তিনি টানা তিন বছর একভাবে উপুড় হয়ে শুয়ে ছিলেন। পিঠের উপর ভর দিয়ে শোয়ার মতো অবস্থা তাঁর ছিল না। তাঁর বুকে ও পেটে এতটাই গভীর বেডসোর (এক জায়গায় শুয়ে থাকার কারণে তৈরি হওয়া ক্ষত) হয়ে গিয়েছিল যে ডাক্তাররা শরীরের ভিতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, এমনকী তাঁর হৃৎপিন্ডের স্পন্দন পর্যন্ত দেখতে পেতেন। অবশেষে ১৯৪৯ সালের ২০ই মার্চ, যখন তাঁর বয়স ২০ বছর, তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান।

১৫ বছরের তানিগুচি সুমিতেরু (চিত্রঋণ: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক)

চিয়েকো

১৫ বছরের চিয়েকো ডাক্তারের কাছে যাচ্ছিলেন। পথে একটি গাছের নিচে একটু থামেন। তারপরই দেখতে পান, যে সেতুটি তিনি পার হতে যাচ্ছিলেন এরপর, সেটি চুরমার হয়ে যায় চোখের সামনে। তারপর সব অন্ধকার। যখন জ্ঞান ফেরে, তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর মাথায় কাচের অসংখ্য টুকরো ঢুকে গিয়েছে।

চিয়েকো যখন কোনোমতে নিজের স্কুলের খেলার মাঠে গিয়ে পৌঁছন, দেখতে পান, সেখানে লম্বা শুঁড়ের মতো কিছু অদ্ভুত আকৃতি। তারপরই, তিনি বুঝতে পারেন, এরা আর কেউ নয়, তাঁর সহপাঠী, যাদের গায়ের চামড়া গলে গলে শরীর থেকে খসে নিচে ঝুলছিল।

একে একে তাঁর চারপাশের অন্য সব ছেলেমেয়েরা মারা যেতে থাকে। তাঁকে মৃতদেহগুলি আগুনে পোড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। আগুনের শিখায় লাশগুলির কুঁকড়ে যাওয়া দেখে তিনি স্তব্ধ হয়ে যান। রাত পেরিয়ে ভোর হয়। ভোরের সূর্যের আলোয় ছাইয়ের ভিতরের হাড়গুলি যখন চেরি ফুলের মতো গোলাপি বর্ণ ধারণ করে, তখন স্তব্ধ চিয়েকো ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠেন।

চিয়েকো (অ্যাটোমিক পিপল-এর একটি দৃশ্য থেকে নেওয়া)

রেইকো য়ামাডা

১১ বছরের রেইকো তখন স্কুলছাত্রী। তিনি জানেন জাপানি রাজকীয় বাহিনী যুদ্ধে জিতে চলেছে; তবে তারপরই তিনি লক্ষ করেন, মিষ্টির দোকানগুলি থেকে মিষ্টি উধাও হয়ে যাচ্ছে। পুরুষদের একে একে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সেদিন ছোট্ট রেইকো তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে স্কুলের খেলার মাঠে বসে ছিলেন। কয়েকজন ছেলে আকাশে একটি আমেরিকান বিমান দেখে চিৎকার করে ওঠে। তিনিও উপরের দিকে তাকান কৌতূহলে। নীল আকাশে উজ্জ্বল রুপোলি রঙের একটি বিমান ঝলমল করতে দেখতে পান। বিমানটি যখন যাচ্ছে, পিছনে একটি সুন্দর সাদা বাষ্পের রেখা তৈরি হচ্ছে— রেইকোর তা দেখে মনে হচ্ছিল, “কী সুন্দর!” ঠিক সেই মুহূর্তের পর আর কিছুই দেখতে পাননি। তিনি মাটিতে পড়ে যান। গড়িয়ে যেতে থাকেন। ওঠার চেষ্টা করতে থাকেন ক্রমাগত। কিন্তু একটি ভেঙে পড়া উইলো গাছের নিচে আটকে পড়েন। কিন্তু উঠতে পারেন না।

বিস্ফোরণের পর, রেইকো জানান, শিক্ষকেরা তাঁকে এবং তাঁর বেঁচে যাওয়া সহপাঠীদের বলেছিলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা ঠিকমতো পরিশ্রম করেনি বলেই নাকি জাপান যুদ্ধে হেরে গিয়েছে।

রেইকোর মনে আছে, বছরের পর বছর ধরে তাঁর বাবাকে বারবার 'অ্যাটমিক বম্ব ক্যাজুয়াল্টি কমিশন' (ABCC)-এ যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

বেঁচে যাওয়া মানুষদের উপর গবেষণা চালানোর জন্য 'ABCC' নামের সংস্থায় ডেকে নিয়ে যাওয়া হতো। কিন্তু মারাত্মক রোগ শনাক্ত হলেও তাদের চিকিৎসা দেওয়া হতো না, শুধু পর্যবেক্ষণ করা হতো।

তাঁর বাবা মারা যান ফুসফুসের ক্যান্সারে। তখন কমিশন থেকে তাঁর দেহটি ব্যবচ্ছেদ (পোস্টমর্টেম) করার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। রেইকোর স্পষ্ট মনে পড়ে, তাঁর মা সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে কেঁদে ফেলে বলেছিলেন, “দয়া করে ওঁকে আর কষ্ট দেবেন না।”

রেইকোর পরিবার চিত্র (চিত্রঋণ: পিবিএস)

আট দশক পার হলেও সেই দুই দিনের অভিশাপ মুছে যায়নি। পারমাণবিক অগ্নিকুণ্ডে সেদিন ভস্মীভূত হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ, আর যাঁরা অলৌকিকভাবে বেঁচে গিয়েছিলেন—তাঁদের জীবন হয়ে উঠেছিল এক দীর্ঘস্থায়ী নরক। যুদ্ধের সেই ভয়াবহতা কেবল কাগজের পাতায় লেখা কোনো দূর অতীতের গল্প নয়; নিজেদের শরীরে, জিনের অন্দরে আর সন্তানদের ব্যথায় হিবাকুশারা বাস্তব জীবনে তার আঁচ টের পেয়েছেন প্রতিটা মুহূর্তে।

তথ্যসূত্র

১।"হাউ ফাইভ পিপল সারভাইভড নাগাসাকি'স নিউক্লিয়ার হেল" শীর্ষক প্রতিবেদন (ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, অগাস্ট ৯, ২০১৫)

২। "হিবাকুশা স্টোরিজ অফ সারভাইভারস অফ হিরোশিমা অ্যান্ড নাগাসাকি" শীর্ষক প্রতিবেদন (পিবিএস, জুলাই ২৩, ২০২৫)

৩। "দেন দ্য সিটি স্টার্টেড টু বার্ন, দ্য ফায়ারস ওয়ের চেজিং মি'এইট্টি ইয়ারস অন, হিরোশিমা সারভাইভারস ডেসক্রাইব হাউ দ্য অ্যা টো মিক ব্লাস্ট ইকোড ডাউন জেনারেশনস" শীর্ষক প্রতিবেদন ( ইয়াহু নিউজ, জুলাই ২৫, ২০২৫)

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।

নেপাল বিপর্যয়ের ক্ষতিপূরণ দেবে কে?

Climate Justice for nepal: ২৬ অগাস্ট লাংটাং লিরুং-এর হিমবাহ ধসে নেপালের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়—নিহত ১,৩৪৪, নিখোঁজ ৪,৮৮৭। পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৪-৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডে আছে মাত্র ৮২২ মিলিয়ন ডলার।নেপালের দাবি, চিন-ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দায় আছে। জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক কাঠগড়ায়।

নেপালের হড়পা বান থেকে বেঁচে ফিরলেন যাঁরা, তাঁদের চোখে ২৬ অগাস্ট

Nepal flash floods 2026: ২৬ অগাস্ট, ২০২৬-এ নেপালের হড়পা বানে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও কিছু মানুষ বেঁচে ফিরেছেন। কেউ এক কাপ চায়ের বিরতির জন্য, কেউ গাড়ির একটা রিভার্স গিয়ারের কারণে, কেউ ডালপালা ছড়ানো একটা আমগাছ আঁকড়ে ধরে, আবার কেউ কেবল ১৫ সেকেন্ডের দৌড়ে ছিনিয়ে এনেছেন নিজের শ্বাস। মৃত্যু খুব কাছ থেকে অনুভব করে ফেরা সেই মানুষগুলির অভিজ্ঞতায় রইল রাসুয়া আর নুয়াকোটের সেই সকালের কথা।

হিমালয়ের বরফ গলছে দ্বিগুণ হারে, নেপালের বিপর্যয়ের বিজ্ঞান কী বলছে?

Nepal Flood 2026: বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছিলেন, ৪৫০০ থেকে ৬০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে থাকা হিমবাহ অঞ্চলের অন্তত ৭৮ শতাংশ উচ্চতা-নির্ভর উষ্ণায়নের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাঁচ মাস পর সেই সতর্কবাণীই যেন সত্যি হয়ে উঠল নেপালের উপত্যকায়।

ছয় দশকে কতটা সফল ভারত-নেপাল গান্ডাকচুক্তি?

Gandak dam history: নেপালের হিমবাহ থেকে পাথর ধসের পর জল নেমেছে ত্রিশূলী-কালীগণ্ডক হয়ে বিহারে। বাল্মীকিনগর বাঁধের ৩৬টি গেট খুলে প্রাণ বাঁচল বহু মানুষের। কিন্তু, ১৯৫৯ সালের গান্ডাক চুক্তি কি সত্যিই নেপাল ভারত দুই দেশের ‘সমন্বিত স্বার্থ’ রক্ষা করল? নেপালের তরাইয়ে জল মেলে না, ক্ষতিপূরণ মেলে না কৃষকদের। ৬০ বছরের পুরনো বাঁধ প্রকল্পকে নিয়েও নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

নেপালের বন্যায় সবচেয়ে বেশি বিপন্ন মহিলারাই, ঝুঁকিতে ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন

Nepal Flash Floods: নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে প্রায় ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন ঝুঁকিতে। বন্যার পর তাঁদের সামনে কী কী স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, খাদ্য ও জীবিকার সংকট তৈরি হয়েছে? রাষ্ট্রপুঞ্জের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, নারীদের সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ জরুরি?

নেপালের হড়পা বান: হিমালয়ে কেন বাড়ছে হিমবাহধস ও আকস্মিক বন্যা?

Nepal glacier disaster: নেপাল-তিব্বত সীমান্তের লাংতাং উপত্যকায় হিমবাহ ধসে প্রাণহানি ৩৮৯ জনের, নিখোঁজ ১,৪০০-র বেশি। ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্প নয়, বরফের স্তূপ ভেঙেই বিপর্যয়। আইসিআইএমওডির তথ্য বলছে, প্রতি ৩০ মিনিটে নদীর জল ৯ মিটার বেড়ে গিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের এই প্রত্যক্ষ ফল আজ হিমালয় থেকে সারা বিশ্বকে সতর্ক করছে।