হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

Deepsubhra Mahato
৬ মিনিট
হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

১৯৪৫ সালের ৬ অগাস্ট হিরোশিমাতে এবং ৯ অগাস্ট নাগাসাকিতে আর পাঁচটা দিনের মতোই সকালে সূর্যের আলো ফুটেছিল। আর পাঁচটা সাধারণ দিনের মতোই চলছিল সাধারণ মানুষের জীবন। তারপর হঠাৎ বিস্ফোরণ। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ছাই হয়ে গিয়েছিল দুটি শহর। তবে সেই ধ্বংসস্তূপেও ফিনিক্সের মতো বেঁচে গিয়েছিল কয়েকটি প্রাণ। ইতিহাস তাদের নাম দিয়েছে 'হিবাকুশা'—পারমাণবিক বোমার আঘাত পেরিয়ে বেঁচে যাওয়া মানুষ।

৮০ বছর পরও, সেই হিবাকুশাদের স্মৃতি থেকে মুছে যায়নি ওই দিনগুলির কথা।

এমিকো ইয়ামানাকা

১৯৪৫ সালের ৬ই অগাস্ট। হিরোশিমা। সকাল ৮টা ১৫ মিনিট। আকাশে আছড়ে পড়ল 'লিটল বয়' নামের পারমাণবিক বোমা।

বোমার বিকিরণ আর আগুন থেকে এমিকো সেদিন অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছিলেন। কিন্তু তাতে কী? যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও বেঁচে থাকার পথ মোটেই সহজ ছিল না। সেন্সরশিপের কারণে সরকারের বোমা নিয়ে কথা বলার কঠোর নিষেধাজ্ঞা, জাপানি সমাজে তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে তৈরি হওয়া প্রবল কুসংস্কার। 'হিবাকুশা'-দের ছোঁয়াচে রোগীর মতোই এড়িয়ে চলত সবাই। বিয়ে বা চাকরির ক্ষেত্রে কপালে জুটত চরম অবহেলা। এইসব এমিকোকে কেমন একটা নীরব করে দিল।

তারপর, বহু বছর পরে এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে। কাজুমি ৭২ ঘণ্টার সীমা পেরিয়ে বেঁচে উঠল। কিন্তু, পুরো শৈশব আর কৈশোর জুড়ে শারীরিক অসুস্থতা ছিল তাঁর ছায়াসঙ্গী। জীবনের প্রথম ২০টি বছর একের পর এক জটিল রোগের সঙ্গে লড়াই করে পার করতে হয়েছিল তাঁকে।

তারপর ২৫ বছর বয়সে কাজুমির পেটে এক মারাত্মক টিউমার ধরা পড়ল। সেটি বাদ দেওয়ার জন্য বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করতে হয়। হাসপাতালে যখন ব্যথায় কাতর কাজুমি শুয়ে আছেন, তখন তাঁর মাথার পাশে এসে দাঁড়ান ৯১ বছরের বৃদ্ধা দিদিমা এমিকো।

নাতনির এই করুণ দশা দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি বৃদ্ধা এমিকো। নাতনির হাতটা শক্ত করে ধরে, কাঁপা কাঁপা গলায় বলে উঠেছিলেন, "আমাকে ক্ষমা করে দিস রে কাজুমি... এ সব আমারই অপরাধ।"

ছোটবেলা থেকেই যখনই কাজুমি মারাত্মক কোনো অসুখে ভুগতেন, এমিকো বারবার এই একই কথা বলতেন—"আমাকে ক্ষমা করে দিস।" বৃদ্ধা দিদিমার মনে গভীর এই বিশ্বাস গেঁথে গিয়েছিল যে, ১৯৪৫ সালের ৬ অগাস্ট তাঁর শরীরে ঢুকে যাওয়া পরমাণুর বিষই আজ বংশানুক্রমে তাঁর আদরের নাতনির শরীরেও যন্ত্রণার আগুন জ্বালাচ্ছে। প্রতিটি চিকিৎসার বিল, প্রতিটি ইনজেকশনের সূচ যেন এমিকোর বুকে এসে বিঁধত অপরাধবোধ হয়ে।

আজ ২৯ বছর বয়সি কাজুমি বোঝেন—পারমাণবিক বোমা কেবল একটি নির্দিষ্ট দিনে একটি শহরকে জ্বালিয়ে শেষ করে দেয় না; তা বেঁচে যাওয়া মানুষদের রক্তে মিশে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে তাড়া করে ফেরে।

দিদিমার সেই গভীর যন্ত্রণাকে আজ নিজের শক্তিতে রূপান্তর করেছেন কাজুমি। হিরোশিমায় নিজের ঘর ছেড়ে তিনি পাড়ি দিয়েছেন লন্ডনে, দাঁড়িয়েছেন আন্তর্জাতিক মঞ্চে। বিশ্ববাসীকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিচ্ছেন, পারমাণবিক বোমার ধ্বংসলীলা কোনো ইতিহাস নয়—তা আজও তাঁদের মতো হাজারও পরিবারে জীবিত ও সত্য।

দিদিমা এমিকো ইয়ামানাকা এবং নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা [চিত্রঋণ: Soka Gakkai (global)]

দোহ্-ও মিনেকো

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নাগাসাকির নামই ছিল না মার্কিন-তালিকায়, তবু 'ফ্যাট ম্যান' ধ্বংস করেছিল গোটা শহর

World Nagasaki Day 2023: আজও সেই পারমাণবিক বোমার ভয়বহতা বুকে নিয়ে বসে রয়েছে জাপান। আজও তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবে জন্ম হয় বিকলাঙ্গ শিশুর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যে ভয়াবহতা বিশ্ব দেখেছিল, তা মুছে ফেলা কঠিন ছিল।

নাগাসাকির মিটসুবিশি টর্পেডো কারখানার ভিতরে কাজ করছিলেন কিশোরী দোহ্-ও। হঠাৎ বিস্ফোরণ। সঙ্গে সঙ্গে কংক্রিট আর ইস্পাতের বিশাল ছাদ ভেঙে পড়ে তাঁর এবং আরও হাজার হাজার মানুষের গায়ের উপর। অবিশ্বাস্যভাবে, তিনি কোনোমতে উঠে দাঁড়াতে পেরেছিলেন। ঘাড়ে গভীর ক্ষত নিয়ে তিনি দেখেন, চারপাশে আগুন জ্বলতে শুরু করেছে। যেকোনো মূল্যে সেখান থেকে পালিয়ে বাঁচার জন্য তিনি ব্যাকুল হয়ে পড়েছিলেন। বাইরে বেরোতে তাঁকে মৃতদেহের উপর পা দিয়ে হেঁটে যেতে হয়েছিল। বেরিয়ে তিনি তাঁর বাবাকে দেখতে পান।

পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের পর দো-ও-এর মাথার সব চুল পড়ে যায়। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তাঁর মাথায় নতুন করে কোনো চুল গজায়নি। ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি নিজেকে ঘরের চারদেওয়ালের মধ্যেই বন্দি করে রেখেছিলেন। অবশেষে তাঁর বাবা তাঁকে বুঝিয়ে বলেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হিসেবে নিজের পায়ে দাঁড়ানো এবং নিজের জীবন চালানোর পথ নিজেকেই বেছে নিতে হবে।

যুদ্ধের আগে থেকেই তাঁর ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে কাজের বড় স্বপ্ন ছিল। তাই তিনি নাগাসাকির একটি প্রসাধনী দোকানে পার্ট-টাইম কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে সেই কোম্পানি থেকেই তাঁকে টোকিওতে চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। বাবা-মায়ের অমত এবং তৎকালীন সমাজের প্রচলিত রীতিনীতি উপেক্ষা করে তিনি একাই টোকিওতে পাড়ি দেন এবং এক নতুন জীবন শুরু করেন।

সেখানে তিনি অমানুষিক পরিশ্রম করে কাজ করেন এবং পদোন্নতি পেয়ে জাপানের অন্যতম শীর্ষ প্রসাধনী প্রতিষ্ঠান 'উটেনা' (Utena)-র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে উন্নীত হন। সেই সময়ে একজন নারীর কোনো বড় প্রতিষ্ঠানের এমন উচ্চপদে আসীন হওয়া ছিল প্রায় অবিশ্বাস্য ও অভূতপূর্ব এক ঘটনা। জীবনের শেষভাগে নাগাসাকিতে ফিরে এসে এক ক্যানভাসে ছবি এঁকে তিনি লিখেছিলেন— "একটি সুন্দর জীবন উপহার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।"

১৪ বছরের দোহ্-ও মিনেকো (চিত্রঋণ: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক)

তানিগুচি সুমিতেরু

১৬ বছরের কিশোর তানিগুচি নাগাসাকিতে সাইকেলে করে চিঠি বিলি করছিলেন। হঠাৎ পিঠে গরম কিছুর একটা জোর ধাক্কা লাগল। সাইকেল থেকে ছিটকে পড়লেন তানিগুচি। ঘোরের মধ্যে বুঝতে পারেননি, তাঁর পিঠের পুরো চামড়া ঝলসে গিয়েছে। চারপাশের মাটি তখনও কাপছিল, তবুও তিনি কোনোমতে উঠে দাঁড়ান। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা চিঠিগুলি কুড়িয়ে নেন। যে ছোট ছেলেমেয়েরা কিছুক্ষণ আগেও তাঁর চারপাশে খেলাধূলা করছিল, তারা সবাই ততক্ষণে মারা গিয়েছে। এরপর তিনি কোনোক্রমে হাঁটতে হাঁটতে একটি কারখানার দিকে যান। সেখানকার কয়েকজন লোক তাঁকে পাহাড়ের ঢালে নিয়ে গিয়ে উপুড় করে শুইয়ে দেন। সেখানে তিনি দুই রাত এভাবে অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন। আর অন্যদিকে তাঁর দাদু তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছেন।

নাগাসাকিতে তখন কোনো হাসপাতাল বা ওষুধপত্রের সুবিধা বেঁচে ছিল না। তাই তাঁর দাদু তাঁকে নাগাসাকির বাইরের একটি গ্রামে নিয়ে যান এবং তিন মাস ধরে খুব সাধারণ উপায়ে তাঁর পরিচর্যা করা হয়। অবশেষে তাঁকে নাগাসাকির ২২ মাইল উত্তরে ওমুরা শহরের একটি নৌ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তিনি প্রথম সঠিক চিকিৎসার সুযোগ পান।

অসহ্য যন্ত্রণার মধ্যে তিনি টানা তিন বছর একভাবে উপুড় হয়ে শুয়ে ছিলেন। পিঠের উপর ভর দিয়ে শোয়ার মতো অবস্থা তাঁর ছিল না। তাঁর বুকে ও পেটে এতটাই গভীর বেডসোর (এক জায়গায় শুয়ে থাকার কারণে তৈরি হওয়া ক্ষত) হয়ে গিয়েছিল যে ডাক্তাররা শরীরের ভিতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, এমনকী তাঁর হৃৎপিন্ডের স্পন্দন পর্যন্ত দেখতে পেতেন। অবশেষে ১৯৪৯ সালের ২০ই মার্চ, যখন তাঁর বয়স ২০ বছর, তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান।

১৫ বছরের তানিগুচি সুমিতেরু (চিত্রঋণ: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক)

চিয়েকো

১৫ বছরের চিয়েকো ডাক্তারের কাছে যাচ্ছিলেন। পথে একটি গাছের নিচে একটু থামেন। তারপরই দেখতে পান, যে সেতুটি তিনি পার হতে যাচ্ছিলেন এরপর, সেটি চুরমার হয়ে যায় চোখের সামনে। তারপর সব অন্ধকার। যখন জ্ঞান ফেরে, তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর মাথায় কাচের অসংখ্য টুকরো ঢুকে গিয়েছে।

চিয়েকো যখন কোনোমতে নিজের স্কুলের খেলার মাঠে গিয়ে পৌঁছন, দেখতে পান, সেখানে লম্বা শুঁড়ের মতো কিছু অদ্ভুত আকৃতি। তারপরই, তিনি বুঝতে পারেন, এরা আর কেউ নয়, তাঁর সহপাঠী, যাদের গায়ের চামড়া গলে গলে শরীর থেকে খসে নিচে ঝুলছিল।

একে একে তাঁর চারপাশের অন্য সব ছেলেমেয়েরা মারা যেতে থাকে। তাঁকে মৃতদেহগুলি আগুনে পোড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। আগুনের শিখায় লাশগুলির কুঁকড়ে যাওয়া দেখে তিনি স্তব্ধ হয়ে যান। রাত পেরিয়ে ভোর হয়। ভোরের সূর্যের আলোয় ছাইয়ের ভিতরের হাড়গুলি যখন চেরি ফুলের মতো গোলাপি বর্ণ ধারণ করে, তখন স্তব্ধ চিয়েকো ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠেন।

চিয়েকো (অ্যাটোমিক পিপল-এর একটি দৃশ্য থেকে নেওয়া)

রেইকো য়ামাডা

১১ বছরের রেইকো তখন স্কুলছাত্রী। তিনি জানেন জাপানি রাজকীয় বাহিনী যুদ্ধে জিতে চলেছে; তবে তারপরই তিনি লক্ষ করেন, মিষ্টির দোকানগুলি থেকে মিষ্টি উধাও হয়ে যাচ্ছে। পুরুষদের একে একে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সেদিন ছোট্ট রেইকো তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে স্কুলের খেলার মাঠে বসে ছিলেন। কয়েকজন ছেলে আকাশে একটি আমেরিকান বিমান দেখে চিৎকার করে ওঠে। তিনিও উপরের দিকে তাকান কৌতূহলে। নীল আকাশে উজ্জ্বল রুপোলি রঙের একটি বিমান ঝলমল করতে দেখতে পান। বিমানটি যখন যাচ্ছে, পিছনে একটি সুন্দর সাদা বাষ্পের রেখা তৈরি হচ্ছে— রেইকোর তা দেখে মনে হচ্ছিল, “কী সুন্দর!” ঠিক সেই মুহূর্তের পর আর কিছুই দেখতে পাননি। তিনি মাটিতে পড়ে যান। গড়িয়ে যেতে থাকেন। ওঠার চেষ্টা করতে থাকেন ক্রমাগত। কিন্তু একটি ভেঙে পড়া উইলো গাছের নিচে আটকে পড়েন। কিন্তু উঠতে পারেন না।

বিস্ফোরণের পর, রেইকো জানান, শিক্ষকেরা তাঁকে এবং তাঁর বেঁচে যাওয়া সহপাঠীদের বলেছিলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা ঠিকমতো পরিশ্রম করেনি বলেই নাকি জাপান যুদ্ধে হেরে গিয়েছে।

রেইকোর মনে আছে, বছরের পর বছর ধরে তাঁর বাবাকে বারবার 'অ্যাটমিক বম্ব ক্যাজুয়াল্টি কমিশন' (ABCC)-এ যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

বেঁচে যাওয়া মানুষদের উপর গবেষণা চালানোর জন্য 'ABCC' নামের সংস্থায় ডেকে নিয়ে যাওয়া হতো। কিন্তু মারাত্মক রোগ শনাক্ত হলেও তাদের চিকিৎসা দেওয়া হতো না, শুধু পর্যবেক্ষণ করা হতো।

তাঁর বাবা মারা যান ফুসফুসের ক্যান্সারে। তখন কমিশন থেকে তাঁর দেহটি ব্যবচ্ছেদ (পোস্টমর্টেম) করার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। রেইকোর স্পষ্ট মনে পড়ে, তাঁর মা সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে কেঁদে ফেলে বলেছিলেন, “দয়া করে ওঁকে আর কষ্ট দেবেন না।”

রেইকোর পরিবার চিত্র (চিত্রঋণ: পিবিএস)

আট দশক পার হলেও সেই দুই দিনের অভিশাপ মুছে যায়নি। পারমাণবিক অগ্নিকুণ্ডে সেদিন ভস্মীভূত হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ, আর যাঁরা অলৌকিকভাবে বেঁচে গিয়েছিলেন—তাঁদের জীবন হয়ে উঠেছিল এক দীর্ঘস্থায়ী নরক। যুদ্ধের সেই ভয়াবহতা কেবল কাগজের পাতায় লেখা কোনো দূর অতীতের গল্প নয়; নিজেদের শরীরে, জিনের অন্দরে আর সন্তানদের ব্যথায় হিবাকুশারা বাস্তব জীবনে তার আঁচ টের পেয়েছেন প্রতিটা মুহূর্তে।

তথ্যসূত্র

১।"হাউ ফাইভ পিপল সারভাইভড নাগাসাকি'স নিউক্লিয়ার হেল" শীর্ষক প্রতিবেদন (ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, অগাস্ট ৯, ২০১৫)

২। "হিবাকুশা স্টোরিজ অফ সারভাইভারস অফ হিরোশিমা অ্যান্ড নাগাসাকি" শীর্ষক প্রতিবেদন (পিবিএস, জুলাই ২৩, ২০২৫)

৩। "দেন দ্য সিটি স্টার্টেড টু বার্ন, দ্য ফায়ারস ওয়ের চেজিং মি'– এইট্টি ইয়ারস অন, হিরোশিমা সারভাইভারস ডেসক্রাইব হাউ দ্য অ্যা টো মিক ব্লাস্ট ইকোড ডাউন জেনারেশনস" শীর্ষক প্রতিবেদন ( ইয়াহু নিউজ, জুলাই ২৫, ২০২৫)

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

মাত্র ১০০ বই থেকে ১০ হাজার! অসমের চা-বাগানের শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ছেন অনিন্দিতা

Assam Library Initiative: মাত্র ১০০টি বই নিয়ে ২০২০ সালে অসমের চা-বাগান এলাকার শিশুদের জন্য লাইব্রেরি শুরু করেছিলেন অনিন্দিতা গগৈ। আজ তিনটি লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। পরিবারের ৪০ লক্ষ টাকারও বেশি বিনিয়োগে এগিয়ে চলেছে এই উদ্যোগ। কীভাবে শিশুদের পড়াশোনা ও সৃজনশীলতার সুযোগ তৈরি করছেন অনিন্দিতা?

Cyclone Arnab: কোথায় আছড়ে পড়ল অর্ণব, কতটা ক্ষয়ক্ষতি? বাংলায় কতটা প্রভাব?

Cyclone Arnab: অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া, ভারী বৃষ্টি ও জল জমার জেরে বিপর্যস্ত একাধিক এলাকা। ৮৪ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হয়েছে। বাংলার কোন কোন জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, আর কতটা প্রভাব পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়ের?

অ্যানথ্রোপিকের মতো এআই সংস্থাগুলি যেভাবে হয়ে দাঁড়াচ্ছে জলবায়ু সংকটের কারণ

The AI Carbon Bill: অ্যানথ্রোপিকের আইপিও ফাইলিংয়ে জলবায়ু পরিবর্তনকে বড় ব্যবসায়িক ঝুঁকি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো। ডেটা সেন্টার ঠান্ডা করতে বিদ্যুৎ-জলের ব্যয় বাড়ছে। ২০২৫-এ ডেটা সেন্টারগুলিতে ঘণ্টা প্রতি বিদ্যুৎ ব্যবহার, ৪৪৮ টেরাওয়াটে পৌঁছবে।

লুলার জয়ের পরেও কেন স্বস্তিতে নেই 'পৃথিবীর ফুসফুস' আমাজন?

lula's amazon policy: প্রথম পর্বে পিছিয়ে থাকার পর, কুড়ি দিনে এক কোটিরও বেশি ভোট বাড়িয়ে লুলা দা সিলভা চতুর্থবার ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন। লুলার আমলে, আমাজনের জঙ্গল উজাড় হওয়া ৭১% কমেছে, তবু আইনসভায় ডানপন্থীদের শক্তিবৃদ্ধি হওয়ায়, আমাজনের সংকটজনক সীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কা রয়ে গেলই।

ঘূর্ণিঝড় অর্ণব : কোথায় রয়েছে, বাংলায় কতটা দুর্যোগের আশঙ্কা?

Cyclone Arnab: বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়িয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে অর্ণব। বুধবার অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে এই ঝড়। সরাসরি বাংলায় আঘাত না হানলেও মঙ্গলবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টি হতে পারে। কোন কোন জেলায় দুর্যোগের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি?

রেকর্ড ভাঙা সমুদ্রের উষ্ণতা: কতটা বিপদের মুখে পৃথিবী?

super el nino 2026: অক্টোবরে নিনো ৩.৪ অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার পার্থক্য, ২০১৫-১৬-র রেকর্ড ভেঙে ৩.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়াতে চলেছে। ডব্লিউএমও বলছে, এই এল নিনো ২০২৭ পর্যন্ত প্রভাব ফেলবে। ভারতে বর্ষায় ১৩% ঘাটতি, ৩৯.৮% কৃষিজমিতে খরা, ফসল উৎপাদন ৪% কমার আশঙ্কা রয়েছে।

ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’? কোন কোন জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস?

Cyclone Arnab: ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে বুধবার ও বৃহস্পতিবার দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে বৃষ্টি বাড়তে পারে। উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলাতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। কলকাতা-সহ বিভিন্ন জেলায় বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া। কোন উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে?

এগোচ্ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, কোথায় ল্যান্ডফল, কতটা ভয়ংকর হবে?

Cyclone Arnab: বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। ২৮ অক্টোবর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঝড়ের গতিপথ ও শক্তির দিকে নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদরা। বাংলার আবহাওয়ায় কি পড়বে অর্ণবের প্রভাব?