সৌরঝড় ধেয়ে এলে বিপর্যস্ত হবে দৈনন্দিন জীবন?

Madhurima Pattanayak
৩ মিনিট
সৌরঝড় ধেয়ে এলে বিপর্যস্ত হবে দৈনন্দিন জীবন?

১৮৫৯ সালের পয়লা এবং দোসরা সেপ্টেম্বর হঠাৎ করেই সারা বিশ্বে টেলিগ্রাফ পরিষেবা বিছিন্ন হয়। অদ্ভুত ভাবে এই ঘটনা ঘটার পরে টেলিগ্রাফের অপারেটররা হঠাৎ তড়িদাহত শুরু করেন, এদিকে আবার টেলিগ্রাপের পেপারে আগুন লেগে যায়। আরও মজার বিষয়, কিছু কিছু ব্যাটারিচালিত যন্ত্র, ব্যাটারি না থাকা অবস্থাতেই চলতে আরম্ভ করে।

এদিকে দক্ষিণ আমেরিকার কলোম্বিয়ায় সন্ধ্যে হতে আকাশ জুড়ে দেখা যায় রঙিন বর্ণচ্ছটা - সবুজ, গোলাপী রং মেশানো অরোরা বোরিয়ালিস। কিন্তু এই বর্ণচ্ছটা তো কলোম্বিয়ায় দেখা যাওয়ার কথা নয়। সাধারণত অবস্থায় অরোরা বোরিয়ালিস দেখা যায় কানাডার উত্তর ভাগে, এদিকে আলাস্কা, নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ডে। অর্থাৎ উত্তর মেরুর কাছাকাছি জায়গাগুলোতে।

এই দুই দিনের একগুচ্ছ ঘটনাকে নাম দেওয়া হয় ক্যারিংটন ইভেন্ট। ভাগ্যিস সেইদিন ইন্টারনেট পরিষেবা ছিলো না, নইলে আরও কিছু আশ্চর্যের সম্মুখীন হতে হতো ।

কিন্তু ঠিক দুই দিন আগেই পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়েছিলো সোলার স্টর্ম বা সৌরঝড়। আশঙ্কা করা হয়েছিলো ইন্টারনেট পরিষেবা বিপর্যস্ত হবে। ২০২১ সালের সেপ্টম্বর মাস নাগাদও এরকম বিধ্বংসী সোলার স্টর্ম আছড়ে পড়েছিল। তবে অল্পের জন্যে রক্ষা পেয়েছিল ইন্টারনেট পরিষেবা। তবে কিছু অদ্ভুত ঘটনা আবার ঘটতে শুরু করে। ক্যারিংটন ইভেন্টের মতই মেরু অঞ্চল থেকে সূদুরে থাকা ভূখন্ডের দেশগুলির আকাশেও দেখা গিয়েছিলো অরোরা বোরিয়ালিস।

ক্যারিংটন ইভেন্টের জন্যে তাহলে দায়ী কে?

কেন ঘটল ক্যারিংটন ইভেন্ট? তা-ও একদিনে, একসাথেই এত কিছু?

কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা গেল সৌরঝড়ের পাশাপাশি, এর পেছনে হাত আছে জিওম্যাগনেটিক স্টর্ম বা ভূ-চৌম্বকীয় ঝড়ের। জিওম্যাগনেটিসম বা ভূ-চৌম্বকত্ত্ব বলতে বোঝায় পৃথিবী পৃষ্ঠের নিজস্ব চৌম্বকীয় ক্ষমতা, ঠিক যার প্রভাবে কম্বাসের কাঁটা ঘুরে দিকনির্ণয়ে সাহায্য করে।

পৃথিবীর চৌম্বকত্ব দেখা যায় পৃথিবীকে বেষ্টন করে চৌম্বক ক্ষেত্র আছে বলেই। ভূ-চৌম্বকীয় ঝড় তখনই হয় যখন এই চৌম্বক ক্ষেত্র সাময়িক ভাবে বিপর্যস্ত হয়।

কিন্তু কীসের প্রভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে পৃথিবীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্র? এখানে দায়ী সেই সৌরঝড়।

সৌরঝড় কী? পৃথিবীর উপর তার প্রভাবই বা কী?

সৌরঝড়ের উৎস সূর্যের বাইরের অংশের অর্ধ-তরল প্লাজ়মার মত অংশ দিয়ে তৈরি, এই অংশটিকে বলে করোনা (নাহ, এই করোনা সেই করোনা নয়। তবে এই গঠনের সাথে মিল দেখেই ভাইরাসটির এই রকম নামকরণ)। সৌরঝড় হলে আলোড়িত হয় করোনা, আর যার কারণে শুরু হয় করোনাল মাস ইজেকশন যার মধ্যে থাকে প্রোটোন এবং ইলেক্ট্রন কণা। এই দুইটি কণা আয়নিত বা চার্জড অবস্থায় থাকে, ফলে এদের শক্তিও প্রচুর। সূর্যের বাইরের অংশে ঘটে চলা এই ঝড়ের আঁচ পড়ে পৃথিবীতেও - আয়নিত প্রোটোন এবং ইলেক্ট্রন আছড়ে পড়ে পৃথিবীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের উপর। আর তখনই ভূ-চৌম্বকীয় ঝড় শুরু হয়।

https://svs.gsfc.nasa.gov/vis/a020000/a020000/a020057/what_is_a_cme1.webmhd.webm

কিন্তু সৌরঝড় আর ভূ-চৌম্বকীয় ঝড় মিলে তড়িৎপ্রবাহকে কেন ক্ষতিগ্রস্থ করবে?

জিওম্যাগনেটিক স্টর্ম বা ভূ-চৌম্বকীয় ঝড়ের ফলে ইন্ডিউসড কারেন্ট তৈরি হয়, সেটি প্রবাহিত হতে শুরু করে বৈদ্যুতিক গ্রিডের মধ্যে দিয়ে। আর ভূ-চৌম্বকত্বের জন্যে তৈরি কারেন্টের শক্তি একশো অ্যাম্পিয়ারকেও ছাড়িয়ে যায়। সহজ কথায় বললে একশো অ্যাম্পিয়ার বেশ কিছু বাড়িতে সরবরাহ করা সামগ্রিক বিদ্যুৎপ্রবাহের সমান। আর এই কারেন্ট ছড়িয়ে পড়তে থাকে বৈদ্যুতিক গ্রিড, ট্রান্সফর্মার, রিলে এবং সেন্সরের মধ্যে দিয়ে। এত বৈদ্যুতিক শক্তি, এত দ্রুত বেগে প্রবাহিত হলে বিপর্যস্ত হয় বিদ্যুৎ পরিষেবা।

ক্যারিংটন ইভেন্টে টেলিগ্রাফ অপারেটরদের তড়িদাহত হওয়া কিংবা ব্যাটারি-বিহীন অবস্থাতেও ব্যাটারিচালিত যন্ত্রদের হঠাৎ চলতে শুরু হওয়ার কারণ কিন্তু এই ইন্ডিউসড কারেন্ট।

সৌরঝড় আর ভূ-চৌম্বকীয় ঝড় ইন্টারনেট পরিষেবাকে কেন বিপর্যস্ত করবে?

বিদ্যুৎসরবরাহ বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি, সৌরঝড় আর ভূ-চৌম্বকীয় ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ইন্টারনেট পরিষেবা। কারণ ইন্টারনেট সরবরাহের জন্যে ব্যবহৃত টাওয়ার, স্যাটেলাইট ইত্যাদি থেকে তৈরি হয় ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভ বা তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ। ভূচৌম্বকীয় ঝড়ের কারণে তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ ক্ষতিগ্রস্থ হয়, ফলে বিপর্যস্ত হয় ইন্টারনেট পরিষেবা।

এর পাশাপাশি আরও একটি কারণে ব্যহত হতে পারে ইন্টারনেট পরিষেবা। জিওম্যাগনেটিক স্টর্ম শুরু হলে বায়ুমন্ডলের পরিসীমা বৃদ্ধি পায়, ফলে বায়ুমন্ডলের ঘনত্ব বাড়ে। এর ফলে স্যাটেলাইট পরিষেবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কারণ স্যাটেলাইটগুলি থাকে বায়ুমন্ডলের উর্দ্ধস্তরে। এর ফলে ইন্টারনেট পরিষেবা তো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ই, সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হয় জিপিএস পরিষেবা।

পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় অরোরা বোরিয়ালিস কেন দেখা গেল?

সাধারণ অবস্থাতে অরোরা বোরিয়ালিস দেখা যায় উত্তর মেরুতে, দক্ষিণ মেরুতে আবার এর নাম অরোরা অস্ট্রালিস। কেন তৈরি হয় এরা? সূর্যের প্লাজ়মা থেকে সবসময়েই কিছু পরিমাণ ইলেক্ট্রন বাতাসের মত করে ধেয়ে আসে পৃথিবীর দিকে। এই ইলেক্ট্রন এসে ধাক্কা খায় পৃথিবীকে বেষ্টন করে থাকা ম্যাগনেটিক ফীল্ড বা চৌম্বকক্ষেত্রতে। পৃথিবীর অন্যান্য অংশে ম্যাগনেটিক ফীল্ড ছুটে আসা এই ইলেক্ট্রনগুলিকে ছিটকে সরিয়ে দিলেও, মেরু অঞ্চলে তা সম্ভব হয় না। কারণ দুই মেরুতেই ম্যাগনেটিক ফীল্ড দূর্বল। এই সুযোগে ছুটে আসা ইলেক্ট্রনগুলি পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে উপস্থিত অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেনের সাথে ধাক্কা খেয়ে এই ধরণের আলো তৈরি করে আকাশের বুকে।

কিন্তু সোলার স্টর্ম বা সৌরঝড় শুরু হলে যে পৃথিবীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্র বিপর্যস্ত হয় আগেই আলোচনা হয়েছে। তাই স্বাভাবিক ভাবে পৃথিবীর যে অংশে সেই সময় চৌম্বকক্ষেত্র দূর্বল হয়, সেখানেই তৈরি হয় অরোরা বোরিয়ালিস।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?

৩ অগাস্ট থেকে বদলে যাচ্ছে শেয়ার বাজারের নিয়ম!

Stock Market India: নতুন ব্যবস্থার অধীনে শেয়ার বাজার বন্ধের সময়কে তিনটি আলাদা অংশে ভাগ করা হয়েছে। তবে নন-এফএন্ডও (Non-F&O) স্টকগুলির ক্ষেত্রে আগের মতোই বিকেল ৩:৩০টা পর্যন্ত স্বাভাবিক লেনদেন চালু থাকবে, এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। কিন্তু এফএন্ডও স্টকগুলির ক্যাশ মার্কেটে প্রতিদিন একটানা লেনদেন চলবে বিকেল ৩:১৫ মিনিট পর্যন্ত।

আইআইটি-র দুই প্রাক্তনীর বৈদ্যুতিক কৃষিযন্ত্রে একরপ্রতি খরচ মাত্র ৪০ টাকা

Electric Power Tiller: বাজারে যেসব ট্র্যাক্টর পাওয়া যায়, তা হয় বিশাল বড় জমির উপযোগী, না হয় কেনা ও চালানো দুটোই খুব ব্যয়বহুল। ভারতে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কৃষকের জমিই ছোট ও খণ্ড-বিখণ্ড, যেখানে বড় যন্ত্র ঢোকানোই সম্ভব নয়। আবার চিন থেকে আমদানি করা ছোট ছোট সস্তা মেশিনগুলিতে যন্ত্রাংশ ও সার্ভিসিংয়ের চূড়ান্ত সমস্যা তৈরি হয়। তাই বিদেশ থেকে আমদানির কথা না ভেবে, আইআইটি বোম্বের দুই প্রাক্তনী ঐশ্বর্য রামকৃষ্ণন ও কেদার গোখলে সিদ্ধান্ত নেন খাঁটি দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারতের মাটির উপযোগী সমাধান তৈরি করার।

মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও উষ্ণ থাকে সোনাম ওয়াংচুকের বাড়ি

Sonam Wangchuk House: সোনম ওয়াংচুক মানেই পাহাড়ঘেরা লাদাখের ছবি, বরফে ঢাকা জীবন আর নতুন এক ভাবনার আলো। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং উদ্ভাবক। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তিনি যেন রূপকথার সেই মানুষটি, যিনি পাহাড়ের রুক্ষ জীবনের কঠিন সমস্যাগুলিকে বিজ্ঞানের সহজ ছোঁয়ায় অত্যন্ত সহজ করে তুলেছেন।

মহাকাশে মিলল চিনির সন্ধান, কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?

natural sugar in space: ছায়াপথের কেন্দ্রের একটি আণবিক মেঘে প্রথমবারের মতো প্রকৃত মনোস্যাকারাইড ‘এরিথ্রুলোজ’-এর সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কার জানাচ্ছে, নক্ষত্র ও গ্রহ তৈরির আগেই মহাকাশে জটিল জৈব অণু তৈরি হতে পারে। ফলে পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি এবং মহাবিশ্বে জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে গবেষণার আগ্রহ বেড়েছে।

কর্মদক্ষতা মাপল এআই, চাকরি হারালেন কর্মীরা? মেটার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা

Meta mass layoffs: কর্মীদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেবে? মেটার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ, এআই-নির্ভর মূল্যায়নের কারণে মাতৃত্বকালীন ও চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকা কর্মীরা অন্যায্যভাবে চাকরি হারিয়েছেন।