ইলেক্টোরাল বন্ড অসাংবিধানিক! মোদি সরকারের প্রকল্প খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

Electoral Bond Scheme: ইতিমধ্যেই ওই প্রকল্প বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI)-কে অবিলম্বে ইলেক্টোরাল বন্ড প্রদান বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে।

Sohini Das
২ মিনিট
ইলেক্টোরাল বন্ড অসাংবিধানিক! মোদি সরকারের প্রকল্প খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

ইলেক্টোরাল বন্ড প্রকল্প মামলায় সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা নরেন্দ্র মোদি সরকারের। মোদি সরকারের জারি করা ওই বন্ড প্রকল্প অসাংবিধানিক বলে জানিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ জানিয়েছে, বেনামি ইলেক্টোরাল বন্ডের ফলে সংবিধানের দেওয়া বাকস্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। এই মর্মে ওই ইলেক্টোরাল বন্ড প্রকল্পকেই খারিজ করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়েছে, বেনামি ইলেক্টোরালবন্ড প্রদান করা হলে সেটা তথ্য জানার অধিকার আইন এবং সংবিধানের ১৯ (১) (এ) ধারাকে ভঙ্গ করবে। কী এই ১৯ (১) (এ) ধারা? ওই ধারার আওতায় দেশের সব নাগরিককে বাকস্বাধীনতা দেওয়া হয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রাজনৈতিক দলগুলোর অনুদান আসে কোত্থেকে? সত্যিই জানার অধিকার নেই নাগরিকদের?

Electoral Bonds Case Hearing : যে দলগুলি বিরোধী, অর্থাৎ যারা কেন্দ্রে বা রাজ্যে কোথাও ক্ষমতায় নেই তাঁদের অনুদান প্রায় শূন্য।

ভোটে কালো টাকার খেলা বন্ধ করার কথা বলে ইলেক্টোরাল বন্ড চালু করেছিল মোদী সরকার। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন ২০১৮ সালে প্রয়াত অরুণ জেটলি নির্বাচনী বন্ডের কথা ঘোষণা করেছিলেন। ২০১৭-র অর্থ বিলের মাধ্যমে আইনে একগুচ্ছ সংশোধনী এনে মোদী সরকার ২০১৮ থেকে ইলেক্টোরাল বন্ড চালু করেছিল। ওই বছর ২ জানুয়ারি সেই নির্বাচনী বন্ড প্রকল্পের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল সরকার। রাজনৈতিক দলগুলির আর্থিক অনুদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে নগদ টাকার পরিবর্ত হিসেবে ইলেক্টোরালবন্ড চালু করা হচ্ছে। ওই ইলেক্টোরাল বন্ড প্রকল্পের আওতায় যে কোনও ভারতীয় নাগরিক ইলেক্টোরাল বন্ড কিনতে পারবেন। একাও বন্ড কেনার নিয়ম রাখা হয়েছিল। যৌথভাবে বন্ড কেনারও নিয়ম আছে ওই প্রকল্পে। দেশের বিভিন্ন সংস্থাও ইলেক্টোরাল বন্ড কিনে রাজনৈতিক দলগুলিকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে পারে। বলা হয়েছিল, ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ২৯এ ধারায় নথিভুক্ত রাজনৈতিক দল এবং শেষ লোকসভা নির্বাচন বা বিধানসভা নির্বাচনে যত ভোট পড়েছে, তার এক শতাংশের কম ভোট পায়নি, সেই দলগুলিকেই শুধুমাত্র ইলেক্টোরাল বন্ড দেওয়া হবে। সরকারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যোগ্য রাজনৈতিক দলগুলি শুধুমাত্র অনুমোদিত ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সেই টাকা ভাঙিয়ে নিতে পারবে। সেক্ষেত্রে কোন দলকে কে বা কারা কত টাকা দিচ্ছেন, সেটা কেউ জানতে পারবে না।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
স্মার্ট-দুর্নীতির দক্ষ খিলাড়ি মোদি সরকার

Modi Government Scam: 'বাংলা যা ভাবছে' অনুষ্ঠানে 'বিজেপি বনাম তৃণমূল | দুর্নীতিতে কে এগিয়ে?' সূচক আলোচনায় বক্তব্য রেখেছিলেন সাংবাদিক প্রতীক, কলামিস্ট সুমন সেনগুপ্ত, সাংবাদিক-অধ্যাপক সম্বিত পাল ও সাংবাদিক স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য। স্নিগ্ধেন্দুর বক্তব্যের লিখিত সংরূপ তুলে ধরা হল ইনস্ক্রিপ্টের পাতায়।

ইলেক্টোরাল বন্ড প্রকল্পের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলাগুলির শুনানিতে গত নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছিল, ইলেক্টোরাল বন্ডের মাধ্যমে কারা শাসক দলকে আর্থিক সাহায্য করছে, সেই তথ্য গোপন রাখা গেলেও একই প্রকল্পে বিরোধীদের পাওয়া টাকার সূত্র প্রকাশ পেয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে ‘রাজনৈতিক দলগুলোর আর্থিক অনুদানের উৎস সম্পর্কে ভোটারের কিছুই জানার অধিকার থাকতে পারে না’— মোদী সরকারের ওই যুক্তিও খারিজ করে দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। গত ২ নভেম্বরের শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকারের হয়ে সওয়াল করতে গিয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, বর্তমান ব্যবস্থায় অনুদানদাতা এবং অনুদানপ্রাপ্ত দল উভয়েই জানে দেওয়া-নেওয়ার কথা। বিচারপতি খন্না তখন মন্তব্য করেন, ‘‘শুধু ভোটারই জানেন না! এটা মেনে নেওয়া একটু কঠিন! সবটা খুলে দিচ্ছেন না কেন?’’

ইতিমধ্যেই ওই প্রকল্প বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI)-কে অবিলম্বে ইলেক্টোরাল বন্ড প্রদান বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। এসবিআই-কে নির্বাচন কমিশনের কাছে ২০১৯ সালের অন্তর্বর্তী নির্দেশ থেকে আজকের তারিখ পর্যন্ত ওই প্রকল্পের আওতায় রাজনৈতিক দলগুলির পাওয়া সমস্ত ইলেক্টোরাল বন্ডের বিস্তারিত হিসেব জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে ওই রিপোর্ট জমা দিতে হবে SBI-কে।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।

হুথিরা যেভাবে স্থানীয় বিদ্রোহী থেকে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিতে পরিণত হলো

Houthi Expansion in Yemen: ইয়েমেনে ফের কেন যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে? হুথিরা কীভাবে স্থানীয় জায়দি আন্দোলন থেকে শক্তিশালী সামরিক-রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হল? ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কতটা গভীর? মোখা ও হানিশ দ্বীপপুঞ্জ দখলের পর কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাব আল-মান্দাব? এই সংঘাতের প্রভাব কি শেষ পর্যন্ত বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহণ ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে পড়বে?